বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাস্তবতা বাধ্যতার

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X বাস্তবতা বাধ্যতার এক নিদারুণ দৃষ্টান্ত যা ইচ্ছা-অনিচ্ছা মানে না।বেপরোয়া মন মানুষের বাধ্য নয় বরং মানুষ মনের কাছে পরাজিত তাই আমিও হেরে গেলাম।মনের মানুষের জন্য হয়তো নিঃস্ব হওয়া যায় কিন্তু তার অবহেলা-ছলনা বা দয়া নিয়ে এক সাথে থাকা যায় না।ভালোবেসে তারই প্রসন্নে নিবেদিত প্রাণের কাছে তিন কবুলের কোন দামই নেই তখন বিয়ে মানে শুধুই স্বাক্ষর দেওয়া বুঝায় অথচ বৈবাহিক সুত্রে সমাজ দুজনের এক সাথে চলার স্বীকৃতি দেয়।সমাজ বোধয় জানেই না একই ঘরে থাকলেই সংসার বলে না। . তিথি এবং আমার বিয়ের দুই বছর পর উভয়ের ইচ্ছাতেই আজ ডিভোর্স হলো।তিথির কাছে বিয়ে মানে সংসার নয় স্বাধীনতা তাই দিনের পর দিন সরলতার সুযোগ নিয়েছে।মাঝে মাঝে নিজেকে দুর্দান্ত লেবেলের স্বার্থপর মনে হয় কিন্তু বিবেকের কাছে হেরে গেলাম। . বিয়ের আগে শুনেছি, বউয়ের বন্ধুদের সাথে পরিচিত না হওয়াই শ্রেয় কিন্তু আজ বুঝলাম বউয়ের মোবাইলের কল হিস্টোরি দেখা মহাপাপ।এক মাস আগের কথা, কাস্টমার কেয়ারে আমার এবং তিথির মোবাইলের কল হিস্টোরি প্রিন্ট করে দেখলাম।তিথি নিয়মিত একটা নাম্বারে বেশি কথা বলেছে তখন সেই নাম্বারের ডিটেইলস নিলাম আর খুঁজতে গিয়ে দেখলাম প্রান্ত তিথির পুরনো প্রেমিক। . তিথি আমার থেকে পনের বছরের ছোট তাই আমাকে ধরার জ্ঞানই ছিল না কিন্তু স্ত্রীর পরকীয়া দুরারোগ্য ব্যাধির চেয়েও বেদনার।অবিশ্বাস যখন দুয়ারে দাঁড়ায় ভালবাসা তখন বাষ্প হয়ে ঘৃণার সাথে বিলীন হয়।বোকা মানুষগুলো ভাবে, অভাব এলে ভালবাসা পালায় অথচ দুর্ভিক্ষ এলে এক সাথে ভিক্ষাবৃত্তি করতেও দ্বিধা করে না।স্বার্থপর মানুষ সর্বদাই সুখের মোহে থাকে তাই অভাবকে ভয় পায়, সেই ভয় চাপিয়ে দেয় ভালোবাসার কাঁদে। . চিত্তের চিৎকার বুকের মাঝে ধাক্কা খেয়ে কবে জেনো পাঁজর ভেঙ্গে বেড়িয়ে আসে।বিচিত্র জীবনের গল্পটা নিষুতি রাত আর অন্তর্যামী জানে।মনের খেয়ালে ভুলের ভেলায় পত্নীর ডিঙ্গি নায়ে জীবন নাটকের স্ক্রিপটা অযত্নে ধুলোয় লুটোপুটি খায়।আজ কোথায় অভিভাবক, কোথায় সমাজ যাকে সাক্ষী রেখে শুরু হয়েছিল মিথ্যে সম্পর্ক? . অদৃষ্টের লেখনীতে এমন গল্প সমাজ আর অভিভাবকের সম্মান অপ্রকাশিত রাখে কিন্তু মেনে নেওয়া একজনের হৃদয় নিঙড়ানো ভালোবাসার অবমাননার যন্ত্রণা অত্যন্ত প্রখর?তিথিকে দোষ দিচ্ছি না কারন সবাই অপ্রিয়ের সংসার করে না।সে বোধয় অপারক নয়তো আমারই ভুল ছিল। . সহিষ্ণুতা ভুলে সেদিন তিথিকে বলেছিলাম............ আমি...হৃদয়ের ব্যথা যদি বড় হয়ে বাজে স্মৃতিকে রেখো তবে হৃদয়ের কাছে।অসম্ভবকে তাড়িয়ে দেওয়া যায় কিন্তু মেনে নেওয়া দুরূহ। তিথি...মানতে পারিনি বলেই অতীতকে বেঁচে নিয়েছি তাছাড়া আমিও হাঁপিয়ে গেছি। আমি...বিয়ে মানে একটা নতুন সম্পর্কের শুরু যেখানে পিছুটান রাখতে নেই কারন জীবনটাই পুনরায় শুরু করতে হয় তাই আজকের দিনকে কখনো অতীত মনে করে ভাবনায় স্থান দিয়ো না।আমি চাই সারা জীবন সুখেই থাকো। তিথি...অনায়াসে বলা যায় আপনি অনেক ভালো মানুষ কিন্তু মন যে সায় দেয় না। আমি...দুই বছরে যা হয়নি তা হওয়ার সম্ভাবনাও দেখি না তার চেয়ে আলোকিত পথে অগ্রসর হও, আমি না হয় একটু এগিয়ে দিবো। তিথি...আমি এমনিতেই কৃতজ্ঞ তার পর কিছু চাই না। আমি...তোমার নতুন জীবন সুখের এবং সাফল্যের হোক। . অতঃপর প্রণয়ে অভিগ্রস্ত সত্তার বিসর্জন দিতে দেশ ছেঁড়ে এসেছি এক নতুন রাষ্ট্রের দ্বারে, আশ্রয়ের অনুনয়ে অপেক্ষার প্রহর বিষাদের চিরন্তন মঞ্চে।অতীত ছেঁড়ে পালানো যায় কিন্তু অতীতের সঙ্গ ছাড়া যায় না।সন্ধির মাঝে বিচ্ছেদের যে অভিনয় দেখেছি তা ভীতু করে দিয়েছে।মন যে আর সংসার ধর্মে যেতে চায় না, বিবাগীর স্বপ্নে সংসারও স্থান পায় না। . মনের বিরুদ্ধে যেতে বলছি না কিন্তু বিয়ের আগে মনকে অবশ্যই জিজ্ঞেস করবেন আজ পরিবারের কথার কাছে নিজে কতটা অটুট?মন, অনুভূতি, আবেগ যতদিন থাকবে, ততদিন ভালো লাগা থাকবে।মনের সব চাওয়া পূরণ করতে নেই তাতে সুখের বিপরীত হতে পারে তাই যাই হোক খুব ভেবে করবেন জেনো পস্তাতে না হয়।কারো মাথায় থাকার চেয়ে তাকে মাথায় নেওয়ার ইচ্ছা রাখাই উত্তম। লেখা... রবিউল ইসলাম


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now