বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিনিদ্র রজনী

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X বিনিদ্র রজনী।প্রতিটা রাত কেটে যায় হাসপাতাল এর করিডোর এ রাখা বসার জায়গা টায় বসে।আমি বসে আছি আমার জীবনের উজ্জ্বল আলোর ছটা হয়ে আসা এক আলোর রেখার দ্যুতি মাঝে ।তার বর্ণিল আলোর মাঝে বেঁচে থেকে অন্ধকারের ভয়াল থাবা থেকে কিছুটা সময় নিজেকে বাঁচাতে। . ও ছিল অতি সাধারনের মাঝে থেকেও অসাধারণ কিছু আমার জন্য।ওর নাম মিম।নামের মতই দ্যুতি ছড়ানো মেয়ে মিম।মিম সাথে আমার দেখা হওয়াটা অন্য সবার মতই ছিল স্বভাবিক।আমি বরং মাঝে মাঝে ভাবি ওর সাথে আমার এত পরে দেখা হওয়াটাই ছিল অস্বাভাবিকতা।হয়ত আমার জীবনে তখন অস্বভাবিকতার নীতি ছিল বহমান।মিম জীবনে আসার পর থেকেই পাল্টাটে লাগল চারপাশের পরিবেশ।জীবনের কথা।জীবনের অর্থটাও খুজে পেয়েছিলাম তার চন্ধলা হাসি মাখা মুখ দেখে। . ওর সাথে আমার প্রেমটা আর ৮-১০ প্রেমের মত ছিল না।ওর সাথে আমি পারতাম না কখনই ভালভাবে সামনাসামনি কথা বলতে।কিন্তু ওর প্রতিটা পথচলা ছিল আমার মুখস্তের মত।ও কখন কোন সময়, কোথায় থাকে তা ছিল আমার মস্তিকে গাথা।ও যখন ক্যান্টিন এ বসে আড্ডা দেয় তখন আমি তার চারপাশে ঘোরাঘুরি করি।ওর বসে থাকার ভাঙ্গিমা, পা চেন্জ করা,এসব ই দেখি ।কখনও সামনাসামনি গিয়ে ওর পাশে বসতে পারি নি।আচছা ও কি কখনও দেখতো??হয়ত বা হ্যা,কিংবা না।তবু ও আমি দেখতাম।ভালবাসি তাই দেখতাম।ভালবেসে যাব বলেই দূরে থেকেই বাসতাম। কিন্তু দেখো না সময় টা কত নির্মম।এখন আর মিম কে দেখতে দূর থেকে এ কোথায় যায় তা দেখতে হয় না।শুধু মাএ মাথাটা একটু উচিয়ে দেখলেই দেখা যায়,ওই তো মুখে মাস্ক লাগিয়ে শীতল চোখ যুগল বন্ধ করে শুয়ে আছে সে।আমার মাঝে মাঝে মনে হয় সময় বড়ই প্রেমহীন, নির্দয়।ভালবাসার কথা গুলো শোনে না।মায়ার কথা গুলো বোঝে না। . প্রতিদিন যতটা সময় সম্ভব বসে থাকি আমি মিম কাছে।হয়ত ও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ও বুঝতে পেরেছে কত ভালবাসি আমি ওকে।আমি সবসময় শুধু এইটুক ই চাইতাম।মিম মাঝে মাঝেই বলত শুনো তোমার ভালবাসা আমার চাই না।তুমি যে ভালবাসার কথা বলো ওসব গল্পের ভালবাসা।গল্পের ভালবাসার কথা ছোট বাচ্চাদের সাথে গল্পেরর সময় বলিও।আমাকে নাহ।ভালবাসার নিয়ম আমি মানি নাহ। ।আমি চাইতাম মিম বুঝতে পারুক সত্যিকার ভালবাসা গল্পেই না শুধু বাস্তবেও আছে।ভালবাসা আছে বলেই সন্তান এখনও মায়ের বুকের দুধ খেতেতে পারে।ভালবাসা আছে বলেই ভালবাসার মানুষ টা কে দেখার জন্য মনের ভিতর এক গভীর এক আকুলতার সৃষ্টি হয়।আমি আমার বন্ধুরা যখন বলত মিমকে সময় দেওয়া বন্ধ করতে তখন বন্ধুদের আমি বলতাম, আমি তো কিছুর প্রাপ্তির আসায় ভালবাসি না। আমি ভালবাসি,আর ওকে ভালবাসি বলেই সবার আগে ওর ভালবাসার প্রতি শ্রদ্ধবোধ টা জাগাতে চাই।কারন আমি জানি ভালবাসা টা পেলে আমি হয়ত মারা যাব না কিন্তু ভালবাসার উপর শ্রদ্ধাবোধ হারিয়ে গেলে পৃথিবী যে বাঁচতে পারবে না। কেন জানি আমার এখন মনে হয় আমি ব্যার্থ হই নি।আমি ব্যার্থ হই নি বলেই মিমের চোখের নিরব কান্না আমার রিদয় কে আবার ছিন্ন করে।এই কান্না অপ্রাপ্তির কান্না।নিরবতার কান্নার মাঝে লুকিয়ে থাকে অপ্রাপ্তির বেদনা। . একদিন মিম আমাকে প্রশ্ন করেছিল,আমি কেন ওকে ভালবাসি??আমি বলেছিলাম জানো সায়মা আমি কখনই কিছু প্রাপ্তির আসায় ভালবাসি নি।প্রাপ্তির আসায় ভালবাসা মানে তো স্বার্থের জন্য ভালবাসা।স্বার্থ থাকে বলেই ভালবাসায় তিক্ততা বলে একটা কথা আসে।আমি আমাদের মাঝে কখনও এই কথা শুনতে চাইতাম না।মিম তারপর আর কিছু বলে নি।শুধু বলেছিল,যাও। আমি একটু একা থাকতে চাই।আমি জানি মিম এখন কাদবে।ফুরিয়ে যাওয়া চোখের পানি আবার জমাতে চেষ্টা করবে।কাঁদুক।কান্না মানুষকে মুক্ত করে অপ্রাপ্তির গ্লানি থেকে। . তারপর দিন মিম আবার বলেছিল,জানো আমার এখন খুব বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় পৃথিবীতে মিরাকল বলে কিছু আছে।আমার বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয় ভালবাসা হারিয়ে যায় না কখন ও।জানো এখন আমি বিশ্বাস করি আপেক্ষা ভালবাসার।ভালবাসা মানুষকে বাচতে শেখায়।জীবনকে ভালবাসতে শেখায়।আমি এখন ভালবাসি আমার জীবন কে।জীবনে স্বপ্ন দেখানো মানুষ গুলোকে।আমি মিম কে শুধু তখন মুচকি হেসে বলেছিলাম,তুমি বিশ্বাস করেছে বলেই আরও একবার মিরাকেল ঘটবে।তুমি আবশ্যই আবার ফিরবে।মিম আবার ওর প্রান খোলা হাসি হেসে বলেছিল,হ্যা আমি ও বিশ্বাস করি। . ওই তো আমার মিম কে আবার দেখা যাচ্ছে ।চোখটা বন্ধ।মিটি মিটি করে হাসছে।হয়ত স্বপ্ন দেখছে।বেঁচে ফিরার স্বপ্ন।ভালবাসায় প্রপ্তির স্বপ্ন।আমি মুগ্ধ নয়নে চেয়ে আছি তার হাসির পানে।তীর্থের কাকের মত অপেক্ষায় আছি একটি মিরাকেল এর আসায়।একটি বার জড়িয়ে ধরে ভালবাসি শোনার আসায়।হয়ত কোন এর রোদ্দুর বিকেলে মিম ডেকে বলবে শুনছ গো,ভালবাসি তোমায়.......... [বাস্ববতার অবলম্ববনে] লেখা:রং এর মানুষ..


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now