বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"নিকোলা ও নেমেসিসের রাজপুত্র"
.
নিকোলা, আমার জুতাজোড়া পরিষ্কার করে দাও এক্ষুণি। গতকাল কাঁদায় জুতাজোড়া একেবারে নোংরা হয়ে গেছে।
.
নিকোলা কিচেন রুমে তার মা মিসেস রামিস কে হেল্প করছিল। সে তক্ষুনি ছুটে এলো সোনিয়ার জুতাজোড়া পরিস্কার করতে। সোনিয়া নিকোলার বড় সিস্টার। সোনিয়া সুন্দরি ও জেদি মেয়ে। নিকোলার আরও এক সিস্টার আছে। কিন্তু সে বোকা টাইপের। তবে সে সোনিয়ার থেকেও অনেক বেশি সুন্দরি। দুবোনেরই খুব রূপের দেমাক। তারা তাদের রূপের অহংকারে মাটিতে পা ফেলেনা।
.
কিন্তু মিসেস রামিসের তৃতীয় কন্যা নিকোলা তার বড় দুমেয়ের মত সুন্দরি হয়নি। তাই তাকে দুবোনের মত মিসেস রামিসও দেখতে পারেন না।
.
কোনো অনুষ্ঠান কিংবা ভোজ উতসবে দাওয়াত পেলে মিসেস রামিস ও তার বড় দুকন্যা সোনিয়া ও সোমালিয়া সেজেগুজে নিজেদের টমটমে চড়ে রওনা হয়। আর নিকোলা ঘরে বসে আগুন পোহাতে থাকে কিংবা জুতা সেলাই করে বোনদের জন্য। কখনও কখনও সে পেস্ট্রিও বানায়। সে খুব টেস্টি পেস্ট্রি বানাতে পারে।
.
নিকোলাকে কোথাও তারা সাথে নেন না। এর কারণ একটায়। নিকোলা অসুন্দরি। তার চেহারা কাউকে আকর্ষণ করে না বলে মিসেস রামিস ভাবেন তার জন্য তাকে লোকের কাছে অপমানিত হতে হবে।
..
কিন্তু নিকোলা বুদ্ধিতে ও গুণে তার বড় দুবোনের থেকে এগিয়ে। কিন্তু সে বুদ্ধির প্রশংসা মূর্খ ও সুন্দরি মিসেস রামিস ও তার দুই অহংকারী বোনেরা করেনা।
..
নিকোলা অসুন্দর বলে তার কোন বন্ধুও তেমন স্কুলে নেই। তাতে অবশ্য তার ভালই হয়েছে। সে অনেক ভাবনা করার সুযোগ পায় যখন অন্য মেয়েছেলেরা ক্যাফেতে বসে আড্ডা দেয়।
.
নিকোলার ভাবনা গুলোই গানের লিরিক হয়ে যায়। নিকোলা ভাবতে থাকে তার এ লেখা গানগুলা নিয়েই কোন এক মিউজিসিয়ান কাজ করবে। তার গানগুলা হয়ত অনেক লোকের জীবনের সাথেই মিলে যাবে। কত লোকে তাকে ভালোবাসবে । তকে এখন কেউ ভালবাসেনা যে।
.
মনে পড়ে খুব ছোটবেলায় নিকোলা ওর বাবার সাথে পায়ের উপর পা রেখে হেঁটেছে। বাবা এখন দূর ওই নীলিমায় এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়েছে।
...বাবাকে হারিয়ে যেন নিকোলা সব ভালবাসার মানুষকেই হারিয়ে ফেলেছে।
...
কিন্তু লেখা গানগুলা ওর ভালবাসা...সবুজ প্রকৃতি ওর ভালবাসা... শীতকালের তুষারগুলা ওর ভালবাসা....
.
নিকোলা যখন স্কুল থেকে ফিরে রাস্তার ধারের সেই দীর্ঘ গাছটাকে কত না আদুরে ভাবে জড়িয়ে ধরে।ভালবেসে মনের অনেক কথা বলে।
....কিন্তু গাছ রয় নিরুত্তর।
..আচ্ছা নিরব গাছ কি তবে ওর ভালবাসা বুঝেনা? নিজেই নিজেক প্রশ্ন করে নিকোলা।
কিন্তু পরক্ষণেই আবার বলে উঠে-
পার্থিবের এই জীবন্ত মানুষগুলাই যখন তাকে ভালবাসে না তখন সে আর কার ভালবাসাই বা চাইতে পারে?
...
কিন্তু নিকোলার খুব ইচ্ছে করে তার একজন ভালবাসার মানুষ হোক...যেন সে তার হাতটা ধরে হারিয়ে যেতে পারে কোন এক অজানায়...যেখানে বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নিয়ে বাঁচতে পারে...একটা ছোট কুঁড়েঘরে বিছানা পেতে শুতে পারে...ফুটো চাল দিয়ে রাতের আকাশের তারাগুলা গুণতে পারে....!
..
কিন্তু এই কুতসিত চেহারার মেয়েটাকে কে বা ভালবাসবে? ভাবতে ভাবতে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিকোলা।
.....
....
ভাবনা ছেড়ে মায়ের কাজ,বোনদের কাজ সে করতে শুরু করে। কিন্তু এরই মাঝে এক অদ্ভুত কান্ড ঘটে।
.
...
একদিন সে বাড়ির সামনের জমা বরফগুলা পরিষ্কার করছিল। ডিসেম্বর মাস। সামনেই বড়দিন। উতসবের আমেজে নিকোলার মনটাও ফুরফুরে ও আনন্দে মেতে ছিল।
...সে আনন্দে গুনগুনিয়ে গান গাইছিল বরফ পরিষ্কার করতে করতে।
.
আর এক চাঁই বরফের নিচেই পেল একটা জুয়েলারি বক্স।বক্সটা আকারে ক্ষুদ্র কিন্তু সে ক্ষুদ্র পেয়েই নিমেষেই নিকোলার মনে আরও আনন্দের জোয়ার বয়ে গেল। এটাই তার বড়দিনের গিফট সে ভেবে তা তুলে নিল তার পুটলিতে।
....বরফ পরিস্কার শেষে সে ঘরে ফিরে এলো। বোনরা বড়দিনের জন্য মার্কেটে যাচ্ছে কেনাকাটা করতে। কিন্তু নিকোলাকে তারা সাথে নিল না
.....
অন্যদিন হলে নিকোলার খুব মন খারাপ হত কিন্তু আজ কেন জানি হল না।
সে সেই জুয়েলারি বক্স টা নিয়ে আগুনের ধারে গিয়ে বসল।
......
সে জুয়েলারি বক্সটা চারপাশে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে লাগল এবং ভাবতে লাগল কি আছে এতে? সে হঠাত খুলে ফেলল এবং একটা হীরের আংটি পেল।
.....
তার বোনদের অনেক হীরের গয়না রয়েছে। কিন্তু তার নেই। তাই সে এই ক্ষুদ্র আংটি পেয়েও এত খুশি হল যে সেটা নিকোলা ছাড়া আর কেউ অনুভব করতেই পারেনা!
....
নিকোলা অনেক খুশিতে ঘুরে ঘুরে নাচতে লাগল। কিন্তু সে এত উচ্ছ্বসিত ছিল যে নাচতে নাচতে বেখেয়ালে তার গাউনের সাথে ঝটকা লেগে পড়ে গেল একেবারে আগুনের কাঠকয়লার ভিতর উপুড় হয়ে।
....মুহুর্তেই ঝলসে গেল তার হাত ও মুখের কতক অংশ। সে আর্তনাদ করে উঠল। মিসেস রামিস ও পুরানা চাকর মাস্তিরি দৌড়ে এল। মাস্তিরিই তাকে টেনে তুলল ও যত্নের সাথে সেবা করতে লাগল। অন্যদিকে মিসেস রামিস তাকে একটানা বকাঝকা ও তিরস্কার করতে লাগলেন। বলতে লাগলেন-
.
"একে ত শ্রী নেই, তার উপর এখন আবার পোড়া চামড়া তৈরি করল। বিয়ে ত তোমার কখনও হবেনা! কি করে খাবে? বোনদের ঝি গিরি করেই খেয়ো আজীবন। "
...
মিসেস রামিসের কথায় নিকোলা এতটাই যন্ত্রণা পেল যে তার আগুনে পোড়ার ব্যথাটা একেবারে প্রশমিত হয়ে গেল!
....তার মনে হতে লাগল এ কি তার নিজের মা? সে দুঃখে বিছানায় শুয়ে শুয়ে পাশের ফাঁকা বালিশটার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে এক রাজপুত্রের ভাবনায় বিভোর হয়ে গেল। ভাবতে থাকল...ইসস এই বালিশটায় যদি সে রাজপুত্র ঘুমিয়ে থাকত তার পাশে তবে সে তাকে জড়িয়ে ধরত...ভালবেসে বুকে জড়িয়ে নিত...মনের সব গল্প করত।
...
আচ্ছা সে যেমন এক ভালবাসার রাজপুত্রকে কল্পনা করে তেমন কি কোন এক রাজপুত্র নিকোলার মত কোন এক মেয়ের কথা ভাবে.....নিকোলার হাতটা ধরে বাঁচতে চায় অনেকটা দিন..নিকোলা ভাবতে থাকে।
...
ভাবতে ভাবতে ভাবনার প্রহর কেটে যায়...মাস্তিরা তার জন্য খাবার নিয়ে আসে। খাবার খেতে খেতে হঠাত নিকোলার নজরে পড়ে আগুনের পোহানোর সে জায়গার পাশে পড়ে থাকা সেই হীরার আংটির দিকে।
...
...খেতে খেতেই উঠে যায় মলম মাখা যন্ত্রণার শরীরে নিকোলা আংটিটি নিতে। সে আংটিটি পরম আদুরে হাতে তার ডানহাতের অনামিকা আংগুলে ঢুকিয়ে দেয়। আর তাতে হঠাত নিকোলাকে অবাক করে দিয়ে কি সুন্দর এক আলোকরশ্মি বিচ্ছুরিত হতে থাকে আংটি থেকে। মনে হতে থাকে যেন নিকোলার হাত থেকেই আলো বেরুচ্ছে। এ যেন এক স্বর্গীয় আলো।
....
এত আলো যে নিকোলা নিজেকে আলোর মাঝে হারিয়ে ফেলে। এমনকি আগুনে পোড়া ক্ষতগুলাও তার শরীর থেকে হারিয়ে ফেলে সে।
...আলো একসময় মিলিত হয়ে গেল এবং নিকোলা নিজেকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এক অন্য নিকোলাকে আবিষ্কার করল। নিকোলার চুলগুলো শাইনি ও লম্বা হয়ে গেছে। মাথায় যদি তার মুকুট পরিহিত থাকত তবে সে সত্যিই যেন এক রাজ্যের রাজকুমারী হয়ে যেত নিকোলার মনে ভাবনা হতেই সে আয়নায় লক্ষ্য করল তার মাথায় একটা হীরের মুকুট। পরনে সাদা গাউন। একেবারে রাজকন্যার মত যেন লাগছে তাকে সে ভাবতে থাকে।
......
কিন্তু এখন আগের সেই কুতসিত নিকোলাকে সুন্দরি রূপকথার যেন সেই রাজকন্যা লাগছে। মনে হচ্ছে সে যেন এতদিন হারিয়ে ছিল আধারে। এখন এসেছে আলোতে।
.....
সে মনের আনন্দে ঘুরে ঘুরে নাচতে লাগল আর গুনগুনিয়ে গান গাইতে শুরু করল। কিন্তু সে গান শুনে মিসেস রামিস ও তার দুইবোন সোনিয়া ও সোমালিয়া সহ্য করতে না পেরে দৌড়ে তার রুমে এল এবং বলতে লাগল-
"এই তোমার কাজ নেই,সারাদিন গান গাওয়া আর নাচা। যাও কাপড়গুলা ওয়াশ কর।"
...কিন্তু কথা বলা শেষ হতে না হতেই তিন মা মেয়ের চোখে চড়কগাছ উঠে গেল।
....
তারা নিকোলাকে জিজ্ঞেস করল এটা কি করে হল? নিকোলা হীরের আংটির কথাটা তাদের বলে দিল। দুই বোন হিংসেই বলে উঠল-
তবে দাও আমাদের সে আংটি। আমরাও তা পড়ব।
-কিন্তু তোমরা ত এমনিতেই সুন্দরি। তবে কেন পড়বে? হিতে কোন বিপরীত ঘটতে পারে।
....
"বলেছে"- এই বলে সোনিয়া আংটিটা নিকোলার আংগুল থেকে টেনে হিচড়ে বের করে নিজের হাতে পড়ে নিল। আর অমনি তার চুলগুলো কেমন কোঁকড়া হয়ে গেল। সোনিয়া আয়নার তার চুলের এই পরিবর্তন দেখে চিতকার করে নিকোলাকে বাড়ি থেকে বের করে দিল।
....
বাড়ির পুরানা চাকর মাস্তিরা অনেক বিনয় করল কিন্তু মিসেস রামিস কোন অনুরোধই গ্রহণ করল না।
....রাগে দুঃখে নিকোলা খুব কেঁদে দিল।
সে এখন অনেক সুন্দরি। রাস্তা দিয়ে যখন সে হাঁটতে লাগল তখন কতক ছেলে তার দিকে কেমন ভাবে যেন তাকালো।
...সে ভয়ে খুব জোরে জোরে হাঁটা শুরু করল। প্রায় সন্ধ্যে ঘনিয়ে এসেছে। সে এখন কই আশ্রয় নিবে সেটা ভাবতে লাগল। স্কুলের বন্ধুরা হঠাত পাশ কাটিয়ে গেল আর বলে উঠল কি সুন্দর মেয়ে! নিশ্চয় কোন রাজকন্যা হবে।
....নিকোলাকে তারা কিছুতেই আর নিকোলা ভাবল না। কিন্তু নিকোলা এখন অন্য ভাবনায় বিভোর। তার যে এখন এক আশ্রয় দরকার। সে আশ্রয়ের খোঁজে হাঁটতে হাঁটতে পথ হারিয়ে ফেলল। সে নিজের অজান্তেই বনের মধ্যে ঢুকে পড়ল।
...
কিন্তু সে প্রথমে বুঝতে পারল না। কিন্তু কিছুক্ষণ পর পর হিংস্র জন্তুদের সে ডাক শুনতে পেল। সে খুব ভয় পেয়ে গেল।
....আকাশের দিকে তাকিয়ে কোন নক্ষত্রও আজ সে দেখতে পেল না। সারা বন লম্বা লম্বা গাছে ছেয়ে আছে। আকাশই ঠিকমত দেখা যায় না।
....
সে ভাবল তার এই দুঃখের দিনে তার ভালবাসার একটামাত্র মানুষ বাবাটাও তার থেকে দূরে সরে গেছে। তার খুব কান্না পেল।
....
সে কাঁদতে গেল এবং খুব খুব জোরে জোরে কেন জানি তার কান্না পেল।
.........
হঠাত ঘুম ভেংগে গেল রাজকুমার ফ্রোডিনের। সে নেমেসিস রাজ্যের রাজার একমাত্র রাজপুত্র। বড়দিনের ছুটিতে সে এবার তার দলবল নিয়ে এক বনভোজনে এসেছে।
সারাদিন ঘন বনের সৌন্দর্যে তার ভালই সময় উপভোগ হয়েছে।
অবশ্য একটা হরিণ শিকার এ বনভোজনের আনন্দের মাত্রাটা একটু বেসিই বাড়িয়ে দিয়েছে।
...রাতে অনেক ক্লান্ত হয়ে গভীরে ঘুমে মগ্ন ছিল রাজকুমার। কিন্তু কোত্থেকে যেন একটা নিরবিচ্ছিন্ন কান্নার আওয়াজ কানে আসছে তার। ঘুমটা ভেংগে গেল।
....
সে খুব মনোযোগ দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করল কান্নার আওয়াজটা ঠিক কার আর কোথা থেকে আসছে? কিন্তু ঘুমঘুম চোখে ক্লান্ত মনে সে কিছুতেই মনোযোগ সহকারে ব্যাপারটা অনুধাবন করতে পারছেনা!
....
তবুও রাজকুমার ফ্রোডিন অনেক কষ্ট করে ঘুমঘুম চোখে তার কোণের মশালটা নিয়ে বনের পথে বেরিয়ে এলো।
....এদিকে কেঁদেই চলছে নিস্তব্ধ রাতে অবিচল ভাবে রাজকন্যা রূপী নিকোলা। বনের পশুরাও বুঝি তার কান্নায় নিশ্চুপ হয়ে গেছে। এত মায়াবী কান্না যে রাজকন্যারা ছাড়া কাঁদতেই পারেনা।
.
নিকোলা কাঁদতে থাকে আর ভাবতে থাকে যতদোষ সব ঐ কুড়িয়ে পাওয়া আংটিটার! কি দুঃখে যে আংটিটা নিতে গেল সে? আংটি না নিলে সে একদিনে এমন সুন্দর কন্যা হতে পারত না আর তাকে বাড়ি থেকে বোনেরা বেরও করে দিত না হিংসেই।
...তার আগের রূপ নিয়েই ত সে সুখি ছিল। তবে কেন এ অঘটন তার জীবনে ঘটে গেল?
.....
এদিকে মশাল হাতে হাঁটতে হাঁটতে ফ্রোডিন খুব নিকটে চলে আসে এক গাছের। আর সে গাছের নিচেই বসে নিকোলা কাঁদে।
...
নিকোলা আগুনের আলোয় ভয় পেয়ে যায়। তার মনে হয় এ বনে তাদের বাস না ত! জংলীদের কথা মনে পড়ে যায়। ভয়ে সে চুপসে যায়।
কিন্তু মশালের আলো মিলিয়ে এলে দেখতে পায় একটা হাত তার দিকে বাড়িয়ে দেওয়া, যে হাতটা দেখলে নির্ভয়ে বিশ্বাস করে আঁকড়ে ধরা যায়।
....
কিন্তু সুন্দর মানুষগুলার আড়ালেই যে লুকিয়ে থাকে হিংস্রতার ছাপ যেমন তার দুই বোন ও মায়ের ছিল। তাই সে ঠিক ফ্রোডিন কে বিশ্বাস করেও বিশ্বাস করতে পারছেনা। মন সায় দিলেও তার মুখ সায় দিচ্ছেনা যেন!
.....
কিন্তু ভালবাসা চিনে ত মন। মনেই ত ভালবাসা লুকায়িত। চিনে ফেলল যেন নিকোলার মন এক নিমেষেই সে চিরচেনা কিন্তু যেন অজানা এক ভালবাসার সন্ধান সে রাজকুমারের!
...
রাতের বেলা কিছুটা দ্বিধাজড়িত মনেই নিকোলা কাটিয়ে দেয়। ফ্রোডিন কিছু জিগ্যেস করেনা কিন্তু মনে মনে নিকোলাকে ঘিরে অনেক প্রশ্নের পাহাড় তুলে কিন্তু তা আর সমান্তরাল করতে পারেনা কেটে!
......
তবে নিকোলা যখন ক্লান্ত হয়ে একসময় ঘুমিয়ে পড়ে তখনও ফ্রোডিন জেগে থাকে। হঠাত চোখ পড়ে নিকোলার মাথার মুকুটে। মুকুট দেখে বুঝতে পারে নিকোলা নিশ্চয় কোন রাজকন্যা হবে! না হলে ত এ দেশে মেয়েদের মাথায় মুকুট পরার নিয়ম নেই।
.
...সকালবেলা নিকোলার ঘুম ভাংল বনের পাখির কিচিরমিচির শব্দে। নিকোলার দিকে চেয়ে আছে সব!
...
রাজকুমার ফ্রোডিনই নিরবতা ভেংগে রাজকুমারী ভেবে নিকোলাকে তার রাজ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল।
...কিন্তু অসহায় নিকোলা কিছুই বলতে পারল না।
...
কিন্তু সে কুড়িয়ে পাওয়া আংটির কথা বলে দিল। তার এই সুন্দর রূপের জন্য আজ ঘরছাড়া হতে হয়েছে তাই সে তার পুরানা রূপ আবার ফিরে পেতে চায় ও তার ঘরেই ফিরে যেতে চায়।
....কিন্তু বিদীর্ণ মুখে রাজকুমার ফ্রোডিন বলে উঠে-
"তোমায় ত ওরা ভালবাসেনা! তবে কেন ফিরে যাবে ঘরে?"
.
-ভালবাসা না পায়, আশ্রয় ত পাবো।
.
-আমি তোমায় আমার রাজ্যের রানী করে আশ্রয় দিব। তুমি কি তা গ্রহণ করবে?
.
নিকোলার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। তার ভাগ্যে কি এই সুখ লেখা ছিল। হ্যাঁ সে রাজকন্যা না হোক, রাজকন্যার মত যে একটা সুন্দর মন ছিল। তাইত বড়দিনের উতসবে আজ সে হাতির পিঠে চড়ে রাজদরবারে প্রবেশ করছে।
....
... ... চারিদিকে লোক লোকারণ্যে ভরে উঠেছে। ঢাকঢোল বাজছে। সুন্দর সুন্দর রমণীরা গাইছে,নাচছে। রাজা তার একমাত্র রাজপুত্রের অভিষেকে পুরো নেমেসিস রাজ্যের প্রজাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
.....
দেখা গেল ভিড়ের মধ্যে কারা যেন ঠেলে এসে চিতকার করে বলছে -
"নিকোলা বোনটি আমার!" "নিকোলা ছোট মেয়ে আমার!"
.....কিন্তু নিকোলার সেদিকে খেয়াল নেই। সে তার রাজকুমারের সাথে ঘুরে ঘুরে নেচে চলছে আর গুনগুনিয়ে তার লেখা গানগুলা গাইছে।
.......
......Written by Sumaiya Lim (নিমপাতা)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now