বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
Melon Gunguly
বেচারাম বটগাছ
APRIL 21 · PUBLIC
বেশির ভাগ সময়ই মোটা নাদুস নুদুস আর লম্বা চওড়া লোক জন বেশ ভদ্রলোক হয়।
গাছের জগতেও তাই। বট গাছ হচ্ছে একদম ভদ্রলোক। বেচারাম বলা যায় ।
শহরে আজকাল খুব একটা বট গাছ কিন্তু চোখে পড়ে না।কারন এই গাছটা বেশ বড় সড় জায়গা নিয়ে থাকতে পছন্দ করে। নিজের শিকড় বাকর ঝুড়ি ডালা পালা মিলিয়ে বেশ রাজকীয় ভাবে সে থাকে।
কিন্তু শহরে তো আমাদের নিজেদের থাকারই জায়গা নেই। কাজেই বেচারাম বট গাছের টিকে থাকার কোন সুযোগই নেই।এমনিতেও প্রায় তিন তলা দালানের সমান জায়গা লাগে এক একটা বট গাছ থাকার জন্য। কাজেই ওরা নামকরা কিছু পার্কে আর গ্রামের হাট বাজারে টিকে আছে কোন মতে।
বট ডুমুর প্রজাতির গাছ। বট গাছের যে জিনিসটা ভাল সেটা হল গাছের উপর থেকে শিকড় নেমে আসাটা। ঝুড়ি বলে যেটাকে। কিছুদিনের মধ্যেই ঝুড়ি আর শিকড় বাকর মিলে এক দারুন ব্যাপার হয়ে যায়। সহজেই অনুমান করা যায় হিন্দুরা কেন যে বট গাছকে শিবের মাথা বলে ।তবে বটের ঝুড়ি পিলার হিসাবে কাজ করে। বিশাল গাছটাকে শক্ত ভাবে দাঁড়াতে সাহায়্য করে । বটের মূল শরীর মাটির খুব গভীরে থাকে না। কাজেই কোন ভাবে ঝুড়ি কেটে ফেললেই গাছটা দুর্বল হয়ে যায়।বাড়ির খুব কাছে বটের চারা পুঁতলে ফল ভাল হবে না।একদিন দেখবে বেডরুমের দেয়াল ভেঙ্গে ওটা ভেতরে ঢুঁকে গেছে।
একটা বট গাছ থাকলে কত রকম পাখী, পোকা, কাঠবিড়ালী আর বাদুরের আশ্রয় যে হয় সেটা বলার মত না।
বটগাছ যেন ঠিক একটা হোটেল বা বোডিং হাউজের মত। এর নানান ফোঁকরে, নানান জায়গায় অনেক জীবজন্তু যার যার মত পরিবার প্রিয়জন নিয়ে থাকতে পারে। ঠিক যেন বনমালী লস্কর লেনের কোন মেসবাড়ি।
অন্যের বিন্দু মাত্র বিরক্তি বা ঝামেলার কারন হয় না কেউই। যার যার মত থাকে সবাই।
বেশির ভাগ বট গাছ নিয়ে হাজার রকম আজগুবি গল্প চালু থাকে। কিছু বট গাছ তো বেশ পবিত্র । যেমন , এহলাবাদে নদীর তীরে যে বট গাছটা আছে সেটা দেখার জন্য প্রতি দিন লক্ষ লক্ষ তীর্থ যাত্রী আসে।অনেক পুরানো গাছ ওটা।
হিউয়েন সাং নামের এক চাইনিজ ভদ্রলোক ওই গাছের কথা তার ভ্রমন কাহিনিতে লিখে গেছেন প্রথম। অথচ উনি ভারতে এসেছিলেন এক হাজার বছর আগে।
বটের ছায়া সব চেয়ে ঠাণ্ডা। গরমের দিনে একটা বট গাছের নীচে বসে যে কত লোক আড্ডা দেয় বিশ্রাম করে যদি দেখতে।গাছের কাঠ বেশ কাজে লাগে। ডাল আর পাতা হাতির প্রিয় খাবার।
সব মিলিয়ে বট গাছকে বেশ মহান একটা গাছ বলেই মনে হয়।
সে আমাদের জন্য বুক ভরা ভালবাসা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
রাস্কিন বন্ড -এর The Gentle Banyan অবলম্বনে
——Melon Gunguly
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now