বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
""""পূর্নতা কিংবা অপূর্নতা""""
.
.
.
.
--জানিস, আমার আম্মু রেগে গেলে আমাকে বলে, "তুই আর আমাকে মা বলবি না"
আমি তখন আম্মুকে বলি, "ওকে আন্টি"
.
উপরোক্ত কথাটা একটা পিচ্চি ছেলের; বড়জোর হয়তো ৫ বছর হবে ওর বয়স।
কথাটা বলেছিল ওর মতোই আরো কয়েকটা পিচ্চিকে উদ্দেশ্য করে। বলা শেষ হওয়া মাত্রই মুখে হাত চাপা দিয়ে খিলখিল করে দুষ্টুমির হাসিতে ভেঙে পড়ল।
ওর কথা আর হাসিটা আমাকে ভীষণ চমকে দিল। কারন এ কথাটা আমি আগে শুনেছিলাম অন্য একজনের মুখে, আর হাসিটাও আমার খুব পরিচিত।
কৌতুহল দমন করতে না পেরে কাছে গিয়ে ওকে আদর করে জিজ্ঞাসা করলাম, "বাবু, তোমার নাম কি?"
পিচ্চিটা আমাকে আরেকবার চমকে দিয়ে বলল, "মুগ্ধ.."
*
পার্ক থেকে চলে এসেছি বেশ কিছুক্ষন আগে।
পিচ্চিটাকে দেখে আর নাম শুনে পুরোনো স্মৃতি মনে পরে যাচ্ছিল। বলতে গেলে পালিয়ে এসেছি ওখান থেকে। অন্যের সন্তানকে দেখে স্মৃতিকাতর হতে চাই নি, তবুও মনে পড়ে যাচ্ছে অনেক কিছুই।
ও হয়তো ভালোই আছে। এরকম একটা ফুটফুটে ছেলে থাকলে কেই বা কষ্টে থাকে?!
বিশ্বাসঘাতকতা করেও ও সুখী, আর আমি বিশ্বাস রেখে চলেও ভালো নেই। নিয়তির কি নির্মম রসিকতা.....!!
*
আসব না ভেবেও চলে এসেছি সেই পার্কটাতে ;উদ্দেশ্য পিচ্চিটার দেখা পাওয়া। আর কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজা।
একদিনের দেখায়ই আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছে আমার মনে। কিসের টানে এসেছি এখানে নিজেও জানি না।
পিচ্চিটা আজকেও এসেছে পার্কে, তবে সাথে একটা মেয়েও আছে। হয়তো পিচ্চিটার মা-ই হবে মেয়েটা। অস্পষ্টভাবে দেখছি মেয়েটাকে।
পিচ্চিটা আমার সামনে এসে হাপাতে হাপাতে বলল, "আম্মু আপনাকে ডাকছে।"
কিসের যেন অদৃশ্য আকর্ষনে এগিয়ে গেলাম সামনে। পিচ্চিটা আমাকে দেখিয়ে বললো, "এই আঙ্কেলটার কথাই বলেছিলাম তোমাকে.. "
মেয়েটার দিকে তাকিয়ে খুব অবাক হলাম।
আমি ভেবেছিলাম "মুগ্ধ" স্বর্নালীর ছেলে। কারন মুগ্ধর মুখে শোনা প্রথম কথাগুলো আমাকে স্বর্নালী-ই বলেছিল অনেক বছর আগে। সেই কথা বলার ভঙ্গি, হাসি, চোখদুটো সবই স্বর্নালীর মতো। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো স্বর্নালী বলেছিল আমাদের ছেলে হলে নাম রাখবে "মুগ্ধ"।
কিন্তু পিচ্চিটা তো স্বর্নালীর ছোট বোন বর্নালীকে আম্মু ডাকছে!!
মনের মধ্য তোলপাড় হওয়া কিছু প্রশ্নের খুঁজতে এসে যে গভীর রহস্যের চোরাবালিতে আটকে যাব, এটা আমার ধারনার বাইরে ছিলো....
*
আমি গালিব। পেশায় ইন্জিনিয়ার।
মনের মধ্য চাপা অভিমান নিয়ে প্রায় ৫বছর আগে দেশের বাইরে চলে গিয়েছিলাম। অভিমানের কারনটা স্বর্নালীই ছিল।
দেশে ফিরেছি বেশ কয়েকদিন হলো। সময়ের স্রোতে প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম সব। কিন্তু মুগ্ধকে দেখে আবার সব স্মৃতি জেগে উঠেছে মনে...
প্রায় ৩বছর প্রেম করার পর উভয় পরিবারের সম্মতি নিয়েই বিয়ে করেছিলাম আমরা।
খুব ভালবেসে ফেলেছিলাম ওকে। ভেবেছিলাম স্বর্নালীও আমাকে ভালবাসে। প্রোপোজাল তো ওইই দিয়েছিল আমাকে।
ওর পাগলামিগুলো উপভোগ করতাম আমি। দুষ্টু বুদ্ধি সবসময় ওর মাথায় গিজগিজ করত মনে হয়। আমাদের রিলেশনের প্রথম দিকে ও একদিন হুট করে বলল,
--এই শোনো, তোমাদের বাসায় পিছনের দরজা আছে??
আমি বেশ অবাক হয়ে বলেছিলাম,
--নাহ নেই। পিছনের দরজা দিয়ে কি করবে??
ও বলল,
--আম্মু বলেছে আমাকে নাকি বিয়ের পরদিনই শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দিবে পিছনের দরজা দিয়ে।তাই ঠিক করেছি এমন একটা ছেলেকে বিয়ে করব, যার বাসায় পিছনের দরজা-ই নেই।
আমি ওর কথা শুনে হেসে ফেলেছিলাম।
আর স্বর্নালী তো ওর কথা শেষ হওয়া মাত্র নিজেই খিলখিল করে হাসতে হাসতে মুখ লাল করে ফেলেছিল।
প্রায় সারাক্ষণ-ই হাসতো ও। আর রেগে গেলে তো একদম চুপ হয়ে যেত, কোনো কথাই বলত না। আমিও জোর করতাম না কথা বলাতে, কারন রাগের মাথায় ও কথা বললে উল্টাপাল্টা বলে। আমার খেয়াল রাখতো ভালোই। সুখীই তো ছিলাম আমরা। কখনো ওর অযত্ন করেছি বলেও মনে পড়ছে না। তবুও ওর বিশ্বাসঘাতকতার জন্য সম্পর্কটার বিচ্ছেদ ঘটাতে বাধ্য হয়েছিলাম। ওর কোনো চাওয়া তো অপূর্ণ রাখিনি, তাও অবৈধ সম্পর্ক রাখার মতো পাপটা কেন করেছিল সেটা ওইই জানে..
*
অনেকক্ষন হয়ে গেছে এ বাসার ড্রয়িংরুমে বসে আছি।
বর্নালী বললো আমার জন্য কিছু স্পেশাল জিনিস নাকি গচ্ছিত আছে ওর কাছে। জিনিসগুলো যে স্বর্নালীর দেওয়া সেটা না বললেও, আমার বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না।
একটা পুরোনো ডায়েরী আর সাথে একটা বড় খাম হাতে নিয়ে আমার সামনে এসে দাড়ালো।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও জিনিসগুলো হাতে নিলাম।
ফিরে আসার আগে আরেকবার জিজ্ঞাসা করলাম,
--মুগ্ধ কি সত্যিই তোমার ছেলে?
বর্নালী কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বলল
--আশা করি ডায়েরীটা আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে সফল হবে।
*
জিনিসগুলো নেওয়ার সময় অনীহা কাজ করলেও,এখন খুব কৌতুহল বোধ করছি দেখার জন্য। কি ভেবে যেন আগে ডায়রিটাই হাতে নিয়ে পড়া শুরু করলাম...
.
"এতটা অবিশ্বাসী মন ওর যে, একটা বাইরের লোকের কথায় নিজের স্ত্রীকে ভুল বুঝলো! আমাকে কিছু বলার সুযোগটুকুও দিলো না। আমি ওকে এতবার বললাম আমার কথাটা একটু শুনতে,কিন্তু গালিব কোনো সাড়াই দিলো না। ওই ছেলেটা একসময় আমার জীবনের স্পেশাল কেউ ছিল, অনেক নোট, চিরকুট দিয়েছিলাম তখন। এসব থেকে তো আমার হাতের লেখা নকল করাই যায়, এটাও কি গালিবের মাথায় আসে নি একবারও!! ও তো আমাকে জিজ্ঞাসা করতে পারত এ ব্যাপারে। কিন্তু সেটা না করে আমার আব্বু আম্মুকে ডেকে নিয়ে বলল ও নাকি আর আমাকে চায় না! আব্বু আম্মু যেন আমাকে সাথে করে নিয়ে যায়!
অথচ এই গালিব-ই সবসময় আমাকে বলত 'পাগল,তোকে তো সবসময় বুকে জড়িয়ে রাখবো'।
লাজ লজ্জা ভুলে সবার সামনেই ওর পা ধরে বলেছিলাম আমাকে যাতে বাসা থেকে বের না করে দেয়। কিন্তু ও একটা কথাও বলে নি আমার সাথে। শুধু আব্বু আম্মুকে উদ্দেশ্য করে বলেছিল-আপনাদের মেয়েকে নিয়ে যান, আমি কিছুদিনের মধ্য ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিব।
নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার একটা সুযোগ তো আমাকে দিতে পারত অন্তত। তবে কি ও আমাকে সত্যিই আর চায় না! এজন্যই কি কোনো ছুতো খুঁজছিল আমাকে দূরে সরানোর?! ড্রাগ এডিক্টেড বিএফকে যখন অনেক চেষ্টায়ও ভালো করতে পারি নি,বরং ড্রাগ নিতে বারন করায় নিজের সঙ্গীসাথিদের নিয়ে মাঝরাস্তায় আমার শ্লীলতাহানি করতে চেয়েছিল, তখন ব্রেকআপ ছাড়া আর কোনো উপায়ও ছিল না। শাসিয়েছিল আমাকে এটা বলে যে কোনো একটা ক্ষতি করবেই। অনেক বছর পর যে আমার বিবাহিত জীবনে ভাঙন ধরাতে উদয় হবে এটা আমার কল্পনায়ও আসে নি।
ওই ছেলেটা তো খারাপ, তাই খারাপ কিছু করাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গালিব কিভাবে পারলো মাঝরাতে আননোন নাম্বার থেকে হুট করে আসা কয়েকটা কলে সন্দেহ পোষন করতে! তারপর সেই কলদাতা যখন বলল আমার সাথে তার পরকীয়া আছে আর এটার প্রমান সরূপ কয়েকটা চিরকুট দেখালো এতেই ও নিজের স্ত্রীর উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলল?! আমি যদি সত্যিই ওসব করতাম তাহলে আমার আচরনে কি কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পরত না ওর বা ওর পরিবারের কোনো সদস্যের চোখে?"
.
এক গ্লাস পানি খেয়ে আবার পড়া শুরু করলাম ডায়রিটা....
" চারপাশের পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে এতটা ভেঙে পরেছি যে নিজের শরীরের খেয়াল রাখার কথাও ভুলে গেছি। বেখেয়ালী আমি না বুঝলেও, আম্মুর চোখে ব্যাপারটা ঠিকই ধরা পরেছে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু টেস্ট করে বুঝতে পারলাম আমার কোল আলো করে কেউ একজন আসতে চলেছে। প্রথম যখন সংবাদটা শুনি, মনে ভিতর এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করেছিল, মনের অজান্তেই হাত রেখেছিলাম নিজের পেটে। উদ্দেশ্য ছিল ছোট্ট সোনাটার স্পর্শ পাওয়া। ভেবেছিলাম এ সংবাদে গালিব খুব খুশি হবে, আমার উপর আর রাগ নিয়ে থাকতে পারবে না। কিন্তু ওকে যখন ফোনে এ সুসংবাদটা দিলাম, ও বলল যে আমাকে নাকি প্রমান দিতে হবে যে আমার গর্ভের সন্তানটা ওর!! কোনো মেয়ের জন্য এরচেয়ে লজ্জাজনক আর অপমানজনক কাজ আর কিছু হতে পারে বলে আমার মনে হয় না। মনে মনে ঠিক করে নিয়েছি ওকে কোনো প্রমান দিবো না। নিজের সন্তানকে নিয়ে যদি ওর সন্দেহ থাকে, তাহলে ও নিজেই সন্দেহমুক্ত হোক।"
ডায়রিটা এটুকু পড়েই আমার ঘাম ছুটে গেছে। বাকিটা পড়ার সাহস করতে পারছি না। কিছুটা অপরাধবোধ জন্মাচ্ছে মনে। এখনো আমি মুগ্ধর ব্যাপারটা বুঝতে পারি নি, আর তাছাড়া স্বর্নালীর ব্যাপারেও বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া এখনো বাকি, তাই সিদ্ধান্ত নিলাম পুরো ডায়রিটাই পড়ব।
রাতের খাবার খেয়ে ঘুমানোর বৃথা চেষ্টা করছিলাম। ঘুম না আসায় বালিশের নিচ থেকে ডায়রিটা বের করে পড়তে শুরু করলাম...
"আমার মন বলছিলো অনাগত বাচ্চাটা মুগ্ধ-ই হবে। আলট্রাসনোগ্রাফি করে ডাক্তারও এটাই বলেছে। এটা নিঃসন্দেহে আমার জন্য খুশির সংবাদ। কিন্তু তাও আজকের দিনটা আমার আনন্দে কাটে নি। হসপিটাল থেকে বাসায় ফিরে দেখি গালিবের পাঠানো একটা খাম হাতে নিয়ে আব্বু বসে আছে। নিজের রুমে এসে খামটা খুলে দেখি ওতে ডিভোর্স লেটার, নিচে গালিবের সই দেওয়া। এখন শুধু আমার সই করার অপেক্ষা মাত্র..
আমি একটা সই দিলেই নাকি আমার আর ওর বিচ্ছেদ হয়ে যাবে সারাজীবনের জন্য! তারপর নাকি গালিব আর আমার থাকবে না, পরপুরুষ হয়ে যাবে! এটা পাঠানোর আগে ওর কি একবারও মনে হয় নি যে আমি না থাকলে মুখে তুলে খাইয়ে দেওয়ার ফ্যান্টাসিটা কাকে দিয়ে পূরণ হবে?! কোথায় গেল ওর এত এত প্রতিশ্রুতি, ভালবাসা?!
.
সবাই জিজ্ঞাসা করছে গালিবের কথা। গালিব যে আমাকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছে এটা এখন সবার আলোচনার খোরাক যোগাচ্ছে। কেউ কেউ সমবেদনা জানাচ্ছে, আর কেউ কেউ বলছে তারা নাকি আগেই জানতো এমনটা হবে! আমার সবাইকে অসহ্য লাগে এখন। মুগ্ধ যখন আমার শরীরের ভিতর হাত পা ছুড়ে, তখন আমার আনন্দ হওয়ার বদলে ভয় লাগে। আমি একা একা কিভাবে বড় করব আমার ছেলেটাকে এ চিন্তা সর্বদা আমাকে ভোগাচ্ছে। তাছাড়া মুগ্ধ কে কি বলব আমি ওর বাবার ব্যাপারে, আমার ছেলেটা কি বাবার আদর পাওয়ার ভাগ্য নিয়ে জন্মাবে না? কে দিবে এসব প্রশ্নের উত্তর? মাঝে মাঝে ইচ্ছা হয় সব কিছু ছেড়ে মরে যাই। এভাবে চলতে থাকলে আমার বেঁচে থাকাটা কঠিন হবে খুব। এতটা সাহসী নই আমি যে একটা সন্তানকে নিয়ে একা থাকবো তার বাবা বেঁচে থাকা সত্ত্বেও। গালিব তো আমার সাথে কথা বলবে না আর, মেনেও নিবে না আমাকে ;এরপরও কিভাবে স্বাভাবিক থাকবো?""
ডায়রির বাকি পাতাগুলোতে আর কিছু লেখা নেই। আমি এবার খামটা খুললাম। আমার পাঠানো ডিভোর্স লেটারটাই ছিল খামটায়। স্বর্নালীর সই নেই এতে..!
*
সকাল সকালই চলে এসেছি বর্নালীদের বাসায়। দরজা খুললো বর্নালীর স্বামী। একটু পর বর্নালীও চলে এলো ড্রয়িংরুমে। ওকে দেখে মনে হচ্ছে আমার এখানে আবার আসাটাই স্বাভাবিক, বরং না আসাটা অস্বাভাবিক ছিল।
আমি কোনোমতে ওকে জিজ্ঞাসা করলাম "স্বর্নালী কোথায়?"
.
অনেকদিন পর আবার পাগলিটাকে দেখছি সামনাসামনি। চেহারায় তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখছি না। আমাকে না বলে দিলে বুঝতেই পারতাম না যে ও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। কি যেন বলছে বিরবির করে, আবার পরমুহূর্তে মুচকি মুচকি হাসছে। আমাকে মনে হয় চিনতে পারে নি ও।
নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ডেলিভারি পেইন না হওয়ায় অপারেশন করতে হয়েছিল ওর। এরপর জ্ঞান ফিরলেও ও আর স্বাভাবিক ছিলো না। আমাদের ছেলেটার নাকি মুখ-ই দেখে নি ও!
*
স্বর্নালীকে আমি সাথে করে নিয়ে এসেছি বাসায়। চুপচাপ-ই ছিলো ও। মুগ্ধ-র উপর কোনো দাবী রাখি নি আমি। বর্নালী আর ওর স্বামী নিজেদের সন্তানস্নেহে বড় করেছে মুগ্ধকে। আমাদের বাচ্চার যাতে অযত্ন না হয়, তাই নিজেরা কোনো সন্তানও নেয় নি। ওদের কোল খালি করে মুগ্ধকে কেড়ে নেওয়ার অমানবিকতাটা করতে ইচ্ছা হলো না।
স্বর্নালীকে সুস্থ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব আমি আমার সবটুকু দিয়ে। আশা করি এতে আমার ভুলটার কিছুটা হলেও প্রায়শ্চিত্ত হবে। আমাদের উপর যদি আল্লাহ্ -র রহমত থাকে, তাহলে স্বর্নালী সুস্থ হয়ে উঠবে তাড়াতাড়ি ইনশাল্লাহ্। আর স্বর্নালী সুস্থ হওয়ার পর আমাদের কোল আলো করে আরেকটা ফুটফুটে মুগ্ধ তো আসতেই পারে....
.
উৎসর্গ:--Abrar Fahad Galib
.
.
লেখা:-- মুমতাহিনা মেহ্জাবিন (ছদ্মবেশী লেখিকা)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now