বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#অর্ধাঙ্গিণী
.
-- আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাইনি। বাধ্য হয়ে করতে হয়েছে।
.
বিয়ের প্রথম রাতেই ফারিহার মুখে কথাটা শুনে চমকে উঠলাম।দুই পরিবারের ইচ্ছেতেই বিয়েটা হয়েছে। প্রথম দেখাতেই ওকে ভাল লেগেছিল আমার। ফারিহাও তো তখন কোন আপত্তি করেনি।মনে সংশয় দানা বাঁধতে লাগল।ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলাম ওর দিকে। পাশে বসে ওর দিকে তাঁকিয়ে বুঝতে চাইলাম ও মজা করছে কিনা।
.
-- একদম কাছে আসার চেষ্টা করবেন না। আপনাকে স্বামী হিসেবে মানি না আমি।
-- তুমি বিয়েতে রাজি নও সেটা আগে আমাকে জানাওনি কেন??
-- আপনার মত ছেলেদের আমার জানা আছে। বললেও কোন লাভ হতনা। আপনাদের ভালবাসার দরকার নেই, দরকার কেবল একটা শরীরের।
.
স্তব্ধ হয়ে গেলাম ওর কথা শুনে। এতটা নিকৃষ্ট ভাবে ও আমাকে!! কিন্তু কেন??
.
-- তুমি কি কাউকে পছন্দ কর??
--হ্যা করি।
-- কে ছেলেটা?
-- জেনে কি করবেন? হুমকি দেবেন ওকে? আপনি ভালবাসার কি বুঝবেন। স্বামীত্ব ফলাতেই তো এখানে এসেছেন, তাই করুন। ভালবাসা পাবেন না কখনো,,,,
.
অবাক হয়ে তাঁকিয়ে রইলাম ওর দিকে। বুঝতে চেষ্টা করছি কতটুকু ঘৃণা করে ও আমাকে।
.
--হা করে তাঁকিয়ে কি দেখছেন? জানোয়ারের মত ঝাপিয়ে পড়ুন আমার উপর।এছাড়া আর কিইই বা করতে পারেন।
.
কোন জবাব দিলাম না ওর কথার। একের পর এক কথার আঘাতে ততক্ষণে আমার হৃদয়টা জর্জরিত হয়ে গেছে।দাঁড়িয়ে থাকতেই কষ্ট হচ্ছে এখন। সারা পৃথিবীটা যেন বনবন করে ঘুরছে। চোখ তুলে দেখলাম ওকে একবার। এখনো জ্বলন্ত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাঁকিয়ে আছে। যেন ওর সামনে কোন মানুষ নয় সত্যি কোন পশু দাঁড়িয়ে আছে। চোখ নামিলে নিলাম আবার। এতটা ঘৃণা সহ্য করার ক্ষমতা আমার নেই। ওর দৃষ্টি থেকে বাঁচতে চাই এখন আমি। কোনরকমে টলতে টলতে বেলকনি পর্যন্ত পৌঁছালাম। আটকে দিলাম দরজাটা। আকাশের চাঁদটার মতই নিজেকে বড্ড বেশি একা মনে হচ্ছে। বাবা মায়ের মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠল। তারা যদি ব্যাপারটা জানতে পারেন তাহলে কতটা কষ্ট পাবেন। বেলকনির জানালা দিয়ে আরেকবার তাঁকালাম ওর দিকে। এখনো ওভাবেই বসে আছে ফারিহা। কিছুক্ষণ পর রুমের লাইটটা বন্ধ হয়ে গেল। হয়তো শুয়ে পড়েছে ও। আর আমি এভাবেই তারা গুণে রাতটা পার করে দিলাম।
.
ফারিহার ডাকে ঘুম ভাঙল আমার। ভোরের দিকে হয়তো চেয়ারেই একটু ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘাড়টা ব্যাথা করছে খুব।ফারিহার দিকে তাঁকিয়েই চমকে উঠতে হল আমাকে। এককাপ চা হাতে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটা। নীল একটা শাড়ি পড়েছে ও, হাতে চুড়ি, কপালে টিপ আর ভেজা চুলে অপূর্ব লাগছে ওকে। অপ্সরী কতটা সুন্দর হয় জানিনা তবে ওর চেয়ে সুন্দর হবেনা এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। তবে ভাবতে পারিনি ও আমার জন্য চা নিয়ে আসবে। তবে কি ও আমাকে মেনে নিয়েছে-
.
--এত খুশি হবার কিছু নেই। পারলে আপনাকে বিষ দিতাম, চা নয়। মা দিতে বলল বলে দিয়ে গেলাম। আর ভুল করেও নিজেকে আমার স্বামী ভাবতে যাবেন না।
.
খুশিগুলো যেন মুহূর্তে কর্পূরের মত উড়ে গেল। চা টা পাশে রেখেই হন হন করে হেঁটে চলে গেল ও। হতাশ চোখে ওর গমন পথের দিকে তাঁকিয়ে আছি আমি।
.
আজ বিয়ের তৃতীয়দিন। ফারিহাকে নিয়ে ওদের বাসায় যেতে হচ্ছে।বিয়ের কয়েকদিনের মাথায় সব মেয়েরাই বাপের বাড়ি যায়। তবে আমাদেরটা তো বিয়ে নামের প্রহসন। তবু যেতে তো হবেই। পাশেই চুপচাপ বসে আছে ও। গতদুদিনে ওর চোখে কেবল ঘৃণাই দেখেছি। কিন্তু প্রথমরাতের চেয়ে কিছুটা যেন কম। গতদুদিন আমার বেলকনিতে থাকতে হয়নি। রুমেই থেকেছি, তবে ফ্লোরে। ওর দিকে তাঁকালাম একবার। গাঁড়ির কাঁচ নামিয়ে একমনে বাইরের দিকে তাঁকিয়ে আছে সে।
.
-- ফারিহা, কিছু কথা বলার ছিল
-- কি বলবেন??
-- আমাদের এই ব্যাপারটা যেন তোমার বা আমার বাবা মা না জানেন। উনারা খুব কষ্ট পাবেন।
.
কিছুক্ষণ আমার দিকে তাঁকিয়ে রইল ও।প্রথমবারের মত ঐ চোখে কোন ঘৃণা ছিলনা।কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে কেবল একটা কথাই বলল ও--
.
-- আমি জানি আপনার সাথে অন্যায় হচ্ছে। আপনি খুব ভাল মানুষ। কিন্তু আমি নিরুপায়,আরেকজনকে ভালবাসি আমি
.
একথার জবাবে বলার মত কিছু খুঁজে পেলাম না। চুপ করে রইলাম। কিন্তু এই নীরবতার আড়ালে বুকের ভেতরের কষ্টগুলো হাহাকার করে উঠছিল।আরো কিছুক্ষণ এদিকে তাঁকিয়ে থেকে আবারো বাইরের দিকে তাঁকাল ফারিহা।
.
শ্বশুড়বাড়ির প্রথমদিনটা আদর যত্নেই কাঁটল। যদিও সারাদিনে ফারিহার দেখা পেয়েছি মাত্র একবার। সেটাও একটু আগে আর ও আমাকে ছাদের মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছে। এখন সেখানেই দাঁড়িয়ে আছি আমি। ছাদে ও তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছে। না, ফোনে নয়, সরাসরি কথা বলছে। আমি পাহাড়াদারের কাজ করছি। কেউ ছাদে উঠতে গেলে ওদেরকে সতর্ক করে দেয়াটাই আমার কাজ। মনে আছে, যখন স্কুলে পড়তাম তখন এক বন্ধুকে এভাবে পাহাড়া দিয়েছিলাম। আর আজ দিচ্ছি নিজের স্ত্রীকে। কত মহৎ স্বামী আমি! উপর থেকে থেমে থেমে প্রাণখোলা হাসির আওয়াজ আসছে।ছেলেটা ফারিহাদের পাশের বাসায় থাকে, নাম রুশান। ওদের রিলেশনের নাকি দু বছর চলছে। এরকম অনেক খুঁটিনাটি অনেক কথাই ফারিহা আজ আমাকে বলেছে।
.
অনেকক্ষণ হয়ে গেল, এখনো কথা শেষ হয়নি ওদের। একটা সিগারেট ধরালাম। আমি আগে স্মোক করতাম না,ইদানিং করছি।অনেকের মুখে শুনেছি সিগারেটের ধোঁয়ার সাথে সাথে নাকি কষ্টগুলোও উড়ে চলে যায়।কিন্তু কই, কষ্টগুলো তো আরো বেশি জমাট বাঁধছে। প্রায় ৪৫ মিনিট পর ফারিহাকে আসতে দেখলাম। আমার সাথে কোন কথা না বলেই পাশ কাঁটিয়ে নিচে নেমে গেল। আমিও পিছু পিছু নেমে এলাম।
.
সবার সাথে কথা বলতে বলতে অনেকটাই রাত হয়ে গেল। রুমে ঢুকে দেখলাম ফারিহা এখনো জেগে আছে। মুখে দুঃশ্চিন্তার ছাপ ওর। ফ্লোরে বিছানা করতে করতে আবারো তাঁকালাম ওর দিকে। চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে যেন একদমই উদাসীন ও।
.
-- ফারিহা, তুমি ঠিক আছ তো??
--হ্যা, আমি ঠিক আছি।
-- কোন সমস্যা হলে আমাকে বলতে পার।
.
কিছুক্ষণ ইতস্তত করল সে। হয়তো বুঝতে চাইছে আমাকে বলা উচিত হবে কিনা। অবশেষে বলল ও--
.
-- রুশান একটা ব্যবসা দাঁড় করাতে চাইছে।সে জন্য কিছু টাকার দরকার।
-- তুমি রুশানকে বিয়ে করনি কেন??
-- ওকে আব্বু আম্মুর পছন্দ নয়। তাইতো জোর করে আপনার সাথে বিয়ে দিল। এখন ব্যবসাটা দাঁড় হয়ে গেলেই আপনাকে ডিভোর্স দিয়ে ওকে বিয়ে করব। কিন্তু টাকাটাই তো ম্যানেজ হচ্ছেনা।
-- চিন্তা করোনা, টাকার ব্যবস্থা হয়ে যাবে। তুমি ঘুমাও এখন।
.
শুয়ে পড়ল ফারিহা।কিন্তু আমার চোখ দুটোতে ঘুম নেই।ঘুরেফিরে ওর বলা"ডিভোর্স" শব্দটাই কানে বাজছে।
.
কত সহজে ও ডিভোর্সের কথা বলে দিল। আর বলবেই তো, বিয়েটা তো ওর ইচ্ছেমত হয়নি।ওতো ভালবাসে রুশানকে। সারাটারাত চোখের পাতাদুটো এক করতে পারিনি। ঘুমন্ত ফারিহার দিকে তাঁকিয়ে "এতকাছে তবু এতদূরে" কথাটার মর্মার্ত বুঝতে পারলাম।ধর্মমতে আমি ওর স্বামী কিন্তু মনের দিক থেকে ও আমার নয়। নির্ঘুম এই রাতেই জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তটা নিতে হল আমাকে।ওকে সুখী করব আমি, বিনিময়ে যা করতে হয় সব করব।
.
সকালবেলায় ছাদেই পেয়ে গেলাম রুশানকে।ওকেই খুঁজছিলাম আমি।পকেট থেকে চেকটা বের করে বাড়িয়ে ধরলাম ওর দিকে।
.
--ফারিহার কাছে শুনলাম তুমি ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছ। এটা রাখ, কাজে লাগবে তোমার। আর ফারিহাকে বিয়ে করছ কবে?
-- কিসের বিয়ে?? (অবাক হল রুশান)
-- ফারিহা তো বলল ব্যবসা দাঁড় করিয়েই বিয়ে করবে।
-- হা হা হা,, আসলে আমার টাকার খুব দরকার ছিল তাই এটা বলেছিলাম।আর আপনিও তো চান আমি ফারিহার জীবন থেকে সরে যাই। তাহলে এক কাজ করুন,আরো কিছু টাকা দিন আমাকে।একেবারে চলে যাব আমি
--কিন্তু ফারিহা তো তোমাকে ভালবাসে।
-- ভালবাসা তো ছিল বিয়ের আগে। বিয়ের পর সেটা শেষ। সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস পার্টটাইম ইউজ করা যায় পার্মানেন্ট না।
.
মাথায় যেন রক্ত চড়ে গেল ওর কথা শুনে। কোনকিছু না ভেবেই ঠাস করে একটা চড় মেরে বসলাস রুশানের গালে।নিজের রাগটাকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেরার পথ ধরলাম। সিড়ির গোঁড়ায় আসতেই থমকে দাঁড়ালাম।ফারিহা দাঁড়িয়ে আছে এখানে। চোখে জল টলমল করছে। আমি কিছু বলার আগেই ঘুরে চলে গেল মেয়েটা। নিজেকে অপরাধী লাগছে। রুশানকে চড় মারাটা হয়তো সহ্য করতে পারেনি ও।
.
সারাটাদিন বাইরে বাইরে কাঁটালাম। ফারিহার সামনে যাবার সাহস করতে পারলাম না। ওর ঘৃণার দৃষ্টির সামনে আমি অসহায়।কিন্তু রাতে তো বাইরে থাকা যাবেনা। রাত ১০ টার দিকে রুমে ঢুকলাম। ফারিহা বসে আছে এখনো। আমি ওকে না দেখার ভান করলাম। কিন্তু ওর প্রশ্ন থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারলাম না--
.
-- সারাদিন কোথায় ছিলে??
-- এইতো একটা কাজ ছিল, তাই
--সকালে ছাদে--
--আসলে আমি জানতাম না তুমি ওখানে ছিলে। আর হঠাৎ মাথাটা গরম হয়ে গেল তাই একটা চড় মেরেছি। সরি
--(অপলক দৃষ্টিতে) আজকের আগে আমি বুঝিনি কতটা ত্যাগ করছেন আপনি আর আমি কতটা অন্যায় করছি আপনার সাথে। প্রথমদিন থেকেই যা ইচ্ছে বলে গেছি কিন্তু আপনি একদিনও খারাপ আচরণ করেননি। নিজের স্ত্রীকে অন্যপুরুষের সাথে গল্প করতে দিয়ে নিজে পাহাড়া দেয়াটা কতটা কষ্টের তা বুঝিনি আমি।আমি ভুল ছিলাম।
.
কি বলব বুঝতে পারছি না।অবাক হয়ে খেয়াল করলাম ওর সম্বোধনটা তুমিতে নেমে এসেছে। ফারিহা হয়তো তাঁকিয়ে আছে আমার দিকে। চুপচাপ ফ্লোরে বিছানা করতে শুরু করলাম। হঠাৎ হাতে কোমল একটা স্পর্শ পেলাম।হাত ধরে আমাকে আটকাল ফারিহা।
.
-- ফ্লোরে বিছানা করার আর দরকার হবেনা। আজ থেকে খাটেই শুবে। আর শোন, আমি তোমার মত এত মহৎ নই। আমি ছাড়া আর কোন মেয়ের দিকে তাঁকালে চোখ গেলে দেব। ♥
.
#সমাপ্ত
#লেখাঃ Sharif ahmed
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now