বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জঙ্গলের একরাত্রিঃ পর্ব ৪

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ।। জঙ্গলের একরাত্রীঃ ৪র্থ পর্ব ।। সবাই প্রাণপনে দৌড়াচ্ছে তো দৌড়াচ্ছেই।মুহুর্তেই একটা আর্তনাদ করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো পলাশ।তারেক পিছনে ফিরে দেখলো পলাশের বুক ভেদ করেছে একটা বল্লম। তারেক সবাইকে বললো,তোরা থাম। পলাশ আঘাতপ্রাপ্ত। সবাই একটু থামলে জেমি ডুকরে কেদে উঠলো। ও ফুপিয়ে ফুপিয়ে বলতে লাগলো,একে একে সবাইকে হারাচ্ছি। সহসা পলাশ কাতরাতে কাতরাতে বললো,আমার জন্য চিন্তা করিস না,তোরা পালিয়ে যা।তারেক বললো, তোকে আমরা কিছুতেই ছেড়ে যেতে পারি না।তুই শুধু আমাদের বন্ধুই না আমাদের ভাইয়ের মতো। কথাটা শুনে পলাশের দুই গাল বেয়ে পানি ঝড়তে লাগলো,ওদিকে সুমন বলে ফেললো,ওরা আমাদের কাছাকাছি চলে এসেছে চল পালা।তারেক রেগে বললো,পলাশ আমাদের বন্ধু! ওকে কিছুতেই একলা রেখে যেতে পারিনা। ok, তোরা সবাই এখানে মর আমি চললাম বলেই দৌড় শুরু করলো সুমন।সবাই কয়েকবার চিৎকার করে থামতে বললো সুমনকে। কিন্তু সুমন কারোও কথা না শুনে আরো জোড়ে দৌড়াতে লাগলো। পলাশ কান্নাঝড়িত কণ্ঠে বললো,তোরা আমাকে যে সম্মান দিলি তাতে আমি মরে গিয়ে শান্তি পাবো।তারেক বললো,এই শোন না! শোন না! তোর কিছুই হবেনা। নারে দোস্ত আমার সময় ফুরিয়ে এসেছে,আঃ। পলাশ চাপা গগলায় বললো। জেমি, পাখি ডুকরে ডুকরে কাদতে লাগলো।পলাশ বললো,ধ্যাৎ পাগলীরা কাদছিস কেন? সবাই কি আর সবসময় বেঁচে থাকে। আমার কথা বাদ দে, তোরা পালা পালা। বন্ধুত্বের কসম দিচ্ছি পালা। বারবার অনুরোধ করার পর অগত্য ওকে ফেলে রেখে সবাই প্রানপণে দৌড়াতে লাগল।মুহুর্তেই আরেকটা আর্তনাদ।কারোও বুঝতে বাকি রইলো না যে পলাশ আর এ দুনিয়াতে নেই। ওরা সবাই দৌড়াচ্ছে তো দৌড়াচ্ছে।সবাই লক্ষ্য করলো ওরা দৌড়াতে দৌড়াতে ডেরা পার করে এসেছে।সবাই কিছু সময়ের জন্য একটু বিশ্রাম নিতে মাটিতে এলিয়ে পড়ে। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার।টর্চের সামান্য আলো ছাড়া আর কিছু চোখে পড়ছেনা।হঠাৎ টপ টপ করে কি জানি তারেকের মুখে পড়তে লাগলো।তারেক লাইট উচিয়ে যা দেখলো তাতে ওর সাড়া শরীর কাটা দিয়ে উঠলো,ও একটা চিৎকার দিতেই সবাই উপরে চেয়ে দেখে। পাখি নিজেকে সামলাতে না পেরে ওয়াক ওয়াক করে বমি করে ফেললো। ওহ! নো এটা যে সুমন ভাইয়া বলে উঠলো জেমি। ও আরো বললো,কি জঘন্য ভাবে মেরেছে ওনাকে নাড়ি ভুড়ি গুলো বাহিরে গাছের সাথে ঝুলে আছে আর মাথাটা কিভাবে থেতলিয়েছে। মনে হচ্ছে যেন নরখাদকের কাজ। হরি দা এতক্ষন চুপ ছিলেন।তিনি বলে উঠলেন বাবু আপনাদের আমি আগেই বলেছিলাম রাতে জঙ্গলে থাকবেন না থাকবেন না।লেকিন আপনারা আমার কথা শুনলেন না।যদি শুনতেন তাহলে এই প্রাণগুলো এখনো বেঁচে থাকতো। কথাটা বলতে না বলতেই হরিদার মাথাটা মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি করতে লাগলো।আর তার গলাকাটা শরীর থেকে রক্তের ফোয়ারা উঠতে লাগলো। রক্তের প্রবল বেগে সামনে বসা তারেকের সমস্ত শরীর রক্তে ভীজে লাল হয়ে গেল।তারেক মাথাটা উচিয়ে দেখতে পেল একটা বড় বড় দাতওয়ালা মুর্তি হাতে একটি চাপাতি ধরে দাড়িয়ে আছে।হঠাৎ ঐ নরখাদকটি তারেকের উপর আক্রমন করতে যাবে এই সময় তারেক দুই হাত পিছিয়ে একটা ডিগবাজি খেয়ে কোনরকমভাবে নিজেকে সামলিয়ে নিল। সে বলে উঠলো,ওহ! নো আমাদের এখান থেকে পালাতে হবে।বলেই তারেক,পাখি জেমি দৌড়াতে লাগলো। নরখাদকটি ওদের পিছু পিছু ধাওয়া করতে লাগলো।কি জানি মনে করে তারেক একবার পিছোনে ফিরে দেখলো,হরিদার কাটা মুন্ডুটা ওর দিকে তাকিয়ে বলছে,আমাকছেড়ে যেওনা। তারেক একটু বিচলিত হয়ে সামনের দিকে মুখ করে আবার দৌড়াতে লাগলো। সবাই নরখাদকের ভয়ে দৌড়াচ্ছে তো দৌড়াচ্ছে।হঠাৎএক টা পাথরের সাথে আঘাত পেয়ে পড়ে গেল জেমি।আর একটা করুন সুরে বলে উঠলো,উহ্!আর পারছিনা।ওর করুন অবস্থা দেখে দাড়িয়ে পড়লো পাখি ও তারেক। যেইনা পাখি ওকে দাড়াতে সাহায্য করতে যাবে তখন কিসের উপর জানি চোখ আটকে গেল পাখির। সে একটু দম নিয়ে বললো, ওহ্ নো! এটাতো সেই কবরস্থান। কি! তারেক বিস্ময়ের সাথে বললো। ও আরো বললো এটা আমাদের সাথে কি হচ্ছে।একে একে সবাই মারা পড়ছি। জেমির মুখে একটু হাসি ফুটলো।সে বললো,আমরা কবরস্থানে, মানে আমাদের বাঙলো আর দুরে নেই।এবার আমরা বাড়ি ফিরতে পারবো। বলতে না বলতেই জেমিকে হুড় হুড় করে টেনে নিয়ে গেল একটা কাটা হাত। আর মুহুর্তেই জেমি উধাও। মাঝে মধ্যে জেমির আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিল। তারেক সাহস সঞ্চার করে বললো,সবাইকে হারিয়েছি আর কাউকে হারাতে চাইনা।চল পাখি।বলেই আর্তনাদের শব্দটা যেদিক থেকে আসতে শুরু করেছিলো সেদিকে ছুটতে লাগলো পাখি আর তারেক। ভোর হতে আর দেরি নেই।দৌড়াতে দৌড়াতে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে পাখি বললো, ৩:৪৫ মিনিট। আর প্রায় আড়াই ঘন্টা তাহলেই ভোর হবে। তারেক আর পাখি দৌড়াচ্ছে তো দৌড়াচ্ছে হঠাৎ একটা শব্দে থামতে বাধ্য হলো ওরা দুজন। কাছেই একটা কবর। পাখি বললো, শব্দটা বোধ হয় কবরের ভিতর থেকে আসছে। তারেক আর পাখি চুপি চুপি কবরের কাছে গিয়ে দেখলো কবরের ঢাকনাটা খোলা আর ভিতর থেকে চপ চপ শব্দ হচ্ছে।লাইট টা জালিয়ে দুজনে মিলে যেই না উকি দিল, ওরা দেখতে পেল একটা লোক লাশের পাশে বসে আছে।লাইট টা লোকটার চোখে মারতেই পাখি চাপা গলায় বলে উঠলো, আরে আরে আরে এ....টা তো ম্যানেজার সাহেব।কিন্তু এত রাতে এই কবরস্থানে কি করছেন তিনি। তারেক বললো, একি!! নো! এ....টা হতে পারেনা। তিনি এটা করতে পারেন না।ওহ! নো...... (চলবে) -আগামীকাল শেষ পর্ব শেয়ার করা হবে ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জঙ্গলের একরাত্রিঃ পর্ব ৫ শেষ
→ জঙ্গলের একরাত্রিঃ পর্ব ৩
→ জঙ্গলের একরাত্রিঃ পর্ব ২
→ জঙ্গলের একরাত্রিঃ পর্ব ১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now