বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিশরীয় গুপ্তধন-শেষ পর্ব শেষ অংশ

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X তবে রক্ষে, গুরুত্বপূর্ণ কিছু নষ্ট হয়নি। থ্রটল পুরোপুরি খুলে দিল সাইফ। সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষ্যাপা ষাঁড়ের মত ব্লু-নাইল ছুটল সী- গালের দিকে। মাঝখানে প্রায় সত্তর গজের মত ব্যবধান। মাপতে গেল না সাইফ। ব্লু-নাইলকে ছুটিয়ে দিয়ে সী-গাল থেকে ছুটে আসা বুলেটকে সম্পুর্ণ অগ্রাহ্য করে নিজেও ছুটল জাহাজের পেছন দিকে। আকিলকে পড়ে থাকতে দেখা গেল রেলিং-এ হেলান দিয়ে। অচেতন। বেঁচে আছে না মরে গেছে দেখার মত কয়েকটা সেকেন্ডও সাইফের হাতে নেই। আর মাত্র বিশ সেকেন্ড। দুটো জাহাজের ব্যবধানও কমে এসেছে অনেকটা। যেকোনো মুহূর্তেই সংঘর্ষ ঘটবে। আকিলকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিল সাইফ। মারাত্মক ভারী লোকটা। দুটো জাহাজের সংঘর্ষের ঠিক আগ মুহূর্তে জাহাজ থেকে লাফ দিল সাইফ। ও শূন্যে থাকা অবস্থাই ব্লু-নাইল গিয়ে ধাক্কা মারল সী-গালের পেটে। সী-গালের মাস্টার কল্পনাও করতে পারেনি ব্লু- নাইল থেকে এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ষাটফুটি জাহাজকে সে আসতে দেখল বটে কিন্তু সময়মত সরিয়ে নেবার সুযোগটা পেল না। ব্লু-নাইল প্রচন্ড গতি নিয়ে ধাক্কা মারল চল্লিশ ফুটি সী- গালকে। প্রচন্ড ঝটকায় ভুমি শয্যা নিল সী-গালের সবাই। গোলাগুলি বন্ধ হয়ে গেল। ব্লু-নাইল যেন তবু অপ্রতিরোধ্য। সী-গালকে তখনও ঠেলে নিয়ে চলছে, সংঘর্ষের ফলে গতি কমে গেছে অনেকটাই। প্রথম ধাক্কায়ই ইউরি কোলম্যান পানিতে পড়ে যায়। চলমান সী-গাল কয়েক টন ওজন নিয়ে উঠে পড়ল তার মাথায়। আক্ষরিক অর্থেই চূর্ণ হয়ে গেল মাথাটা। এদিকে সাইফ আকিলকে জড়িয়ে ধরে প্রাণপনে দূরে সরে যেতে চাইছে জড়াজড়ি করে থাকা জাহাজ দুটো থেকে। আর মাত্র পাঁচ সেকেন্ড। সী-গালের আর সবার মত শাইলকও মাটিতে পড়ে গেছে। বুঝতে পারছে কোথাও একটা গড়বড় হয়ে গেছে। সাইফের কাছে হেরে গেছে সে। উঠে দাঁড়াতে শুরু করল, ঠিক সেই মুহূর্তে ঘটল বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণের প্রথম ধাক্কাতেই মারা পড়ল সী- গালের বেশিরভাগ আরোহী। যাদের মধ্যে শাইলকও রয়েছে। শত টুকরো হয়ে তার দেহটা ছড়িয়ে পড়ল সাগরের অশান্ত পানিতে। ব্লু-নাইল থেকে বেরিয়ে আসা লেলিহান শিখা এবার গ্রাস করল সী-গালকে। মরিয়া হয়ে সাঁতরাতে থাকা সাইফ শকওয়েভের ফলে সৃষ্ট বিরাট ঢেউয়ের ধাক্কায় পুতুলের মত অনেকটা সামনে চলে গেল। ডুবছে আর ভাসছে। বিষের মত লবণাক্ত পানি পেটে যেতেই কেশে উঠল। তখনও অচেতন আকিলকে ছাড়েনি। হাতের পেশি অসার হয়ে আসতে চাইছে। চারপাশটা মশালে পরিণত হওয়া দুই জাহাজের আলোয় দিনের মতই উজ্বল। সেই আলোতে বাকি সঙ্গীদের দেখতে পেল সাইফ। ঢেউটা কমে আসতেই এগোতে শুরু করল ওদের দিকে। আকিলের দায়িত্ব অন্য কারো হাতে না দিলে লোকটাকে আর ভাসিয়ে রাখতে পারবে না। ঠিক তখনই ভোজবাজির মতই উদয় হল দুটো স্পিডবোট। সবাই হলফ করে বলতে পারবে এক মিনিট আগেও কেউ দেখেনি ওগুলো। *** বিলাসবহুল ইয়টের হুইল হাউসে বসে কফি খাচ্ছে সাইফ। শান্ত ভঙ্গি দেখে বোঝার উপায় নেই একটু আগে কী ঘটে গেছে ওর উপর দিয়ে। পোর্টহোল দিয়ে সাগর দেখছে। আকিলকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তেমন গুরুতর নয় আঘাতটা। কেবিনে উপস্থিত বাকি সবাই মুখ গোমড়া করে বসে আছে। সুমাইয়ার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে কেঁদেই ফেলবে। মনে অনেক প্রশ্ন জমে থাকলেও করার মত মানসিক অবস্থা নেই ওদের। কিছুক্ষণ আগেই ট্রেজার ভর্তি ছয়টা বাক্স বিসর্জন দিয়ে এসে থাকার কথাও না। ইয়টটা আলী আহমাদের। স্পিডবোটদুটো ওদের নিয়ে এসেছে এখানে। মালিক স্বয়ং ইয়টে দাঁড়িয়ে স্বাগত জানিয়েছেন ওদের। ইয়টটা এখন ফিরে যাচ্ছে পোর্ট সাঈদে। ‘সবাই এমন গোমড়া মুখে বসে আছেন কেন?’ সাইফ সমূদ্র থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে আনল। ‘ছয়টা ট্রেজারের বাক্স সমুদ্রে ফেলে দিয়ে আমার অন্তত খুশিতে নাচতে ইচ্ছে করছে না।’ ‘সমুদ্রে সেঁচে যদি ওগুলো উদ্ধার করে আনি তাহলে নাচবেন?’ সুমাইয়া কটমট করে তাকাল সাইফের দিকে। ‘ওকে গাইজ, একটা ব্যাখ্যা আপনাদের পাওনা হয়েছে। সবার আগে বলে নেই, ট্রেজার আমরা হারাইনি। ওটা এখন বাংলাদেশের পথে।’ কেবিনে মিসাইল এটাক হলেও কেউ এতটা অবাক হত না। বিস্ময়ের আতিশয্যে কেউ কথাই বলতে পারল না। সাইফকেই আবার শুরু করতে হল। ‘পুরো ব্যাপারটাই ছিল একটা প্ল্যান। ট্রেজার নিরাপদে মিশর থেকে বের করে নিয়ে যাবার জন্য একটা ডাইভার্শনের প্রয়োজন ছিল। ট্রেজার পাবার কিছুক্ষণ পরই আমি কর্ণেল আজহার চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করে তাকে একটা টিম পাঠাতে বলি। কর্ণেল ছয়জনের একটা টিম পাঠান। তারা এসে পৌঁছায় গতকাল বিকেলে। এদিকে মোসাদ নিজেই নিজেদের ঘোল খাবার ব্যবস্থা আমার হাতে তুলে দেয় আমার রুমে বাগ বসিয়ে। আমি তাদের জানিয়ে দেই ট্রেজার বের হবে আজ। ওরা নিশ্চিন্তে আমার উপর নজর রেখে আজকের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে, ওদিকে গতকাল রাতেই ট্রেজার বাংলাদেশের পথে রওনা হয়ে যায়। গতকালের মিশনটার দায়িত্ব ছিল আকিলের উপর। আপনাদের মধ্যে একমাত্র সেই-ই জানত পুরো ব্যাপারটা। ট্রেজার তো বের করা গেল কিন্তু মোসাদ তো আমাকে এত সহজে বের হতে দেবে না। মোসাদের বিষদাঁত-সাময়িক সময়ের জন্য হলেও- ভেঙে দেবার জন্যই আজকের এই আয়োজন। আলী আহমাদকে ব্যাকআপ হিসেবে রেখেই পুরো সেটআপটা সাজাই। ঝুঁকিটা বেশিই নেয়া হয়ে গেছে তবে আপনাদের উপর আমার আস্থা ছিল। আপনাদের জানাইনি তাতে হয়ত সতর্কতায় ঢিল পড়ত। এজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’ সাইফ লজ্জিত একটা হাসি নিয়ে তাকাল সবার দিকে। বিস্ময়ের ধাক্কা কাটতে সময় লাগছে ওদের। তবে সাইফের হাসি মুখের দিকে তাকিয়ে একে একে সবার মুখেই হাসি সংক্রামিত হল। সুমাইয়ার দিকে তাকাল এবার সাইফ। ‘কি, এখন নিশ্চয়ই নাচতে ইচ্ছে হচ্ছে?’ সুমাইয়া জবাব দেবার আগেই সম্মিলিত অট্টহাসির আওয়াজ বাতাসে চেপে ছড়িয়ে পড়ল সমূদ্রে। সাইফ মুচকি হেসে আবার তাকাল অসীম সমূদ্রের দিকে। তর তর করে এগিয়ে চলেছে ওদের জলযান। (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now