বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্পাই থ্রিলার,
মিশরীয় গুপ্তধন
আবুল ফাতাহ মুন্না
----------------
(শেষ পর্ব)
-----------
আঠারো
সুয়েজ ক্যানেল, মিশর
পৃথিবীর অন্যতম কৃত্রিম খাল সুয়েজ। সুয়েজকে
'হাইওয়ে টু ইন্ডিয়াও' বলা হয়। ভু-মধ্যসাগর ও রেড সি
এর সঙ্গে সংযুক্ত এই আর্টিফিশিয়াল ক্যানেল।
প্রথমে এটি ১৬৪ কি.মি. দীর্ঘ ও ৮ মিটার গভীর ছিল।
১৮৫৯ সালে এর চারদিকে খননকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ দশ
বছর পর ১৯৬৯ এ যখন এর কনস্ট্রাকটশন কাজ শেষ হয়
তখন এর দৈর্ঘ দাঁড়ায় ১৯৩ কি.মি., গভীরতা ২৪ মিটার
ও প্রশস্ততা ৬৭৩ ফুট। ১৯৬৯ সালের পর থেকে সুয়েজ
আফ্রিকার সাথে এশিয়া ও ইয়োরোপের সামরিক ও
বাণিজ্যিক যোগাযোগকে সুগম করেছে। পোর্ট
সাঈদে এসে পৌঁছল সাইফদের গাড়িদুটো। খানিক
আগেই এসে পৌঁছেছে শাইলকও। ইউরি আগেই একটা
দ্রুতগতির বোট ভাড়া করে রেখেছিল। দলবল নিয়ে
ওটায় উঠে বসেছে শাইলক। বোটের সবগুলো বাতি এই
মুহূর্তে নেভানো। পোর্ট থেকে চুইয়ে আসা
আলোতেই কাজ সারার নির্দেশ দিয়েছে শাইলক।
সে এতক্ষণ বোটের ব্রিজে দাঁড়িয়ে বিনকিউলার
দিয়ে লক্ষ্য রাখছিল। সাইফরা এসে পৌঁছনোমাত্রই
শাইলকের চোখে ধরা পড়ে গেল। হিংস্র শ্বাপদের
মত একটা হাসি ফুটে উঠল শাইলকের ঠোঁটের কোণে।
সাইফদের গাড়ি থামতেই আকিল নেমে গেল। মাল
লোডিং এর ব্যবস্থা করতে গেছে। সাথে
আনোয়ারকেও নিয়ে গেল।
সাইফ ঘাড় ফিরিয়ে পেছনে বসা সুমাইয়ার দিকে
তাকাল।
'কেমন বোধ করছেন?'
'সত্যি বলব না মিথ্যা?'
'চাইলে মিথ্যা বলে দেখতে পারেন ধরতে পারি
কিনা!'
'ভয় করছে কিছুটা।'
'মিথ্যা বলার সাহস হল না তাহলে?' হেসে উঠল
সাইফ।
সুমাইয়া কটমট করে ওর দিকে তাকাতেই তড়িঘড়ি
বলে উঠল সাইফ, 'ভয় নেই। আচ্ছা, আপনার ট্রেনিং
এখন থেকেই শুরু করা যাক।'
সিটে হেলান দেয়া ছিল সুমাইয়া। সাইফের কথা
শুনে সোজা হয়ে বসল। 'কী ট্রেনিং?'
'আপনাকে মিথ্যে অভয় দেব না। আমি নিশ্চিত
মোসাদ একটা হামলা চালাবেই। ওদের নীরবতা
সেটাই বলছে। হয়ত এর মধ্যে পৌঁছেও গেছে এখানে।'
সুমাইয়া জানালার দিয়ে এদিক ওদিক তাকাল
চোরা চোখে। যেন তাকালেই মোসাদকে মিসাইল
নিয়ে বসে থাকতে দেখা যাবে!
'এজন্য আপনাকে অস্ত্র চালাবার প্রাথমিক ট্রেনিং
দিয়ে রাখতে চাই। বিপদে কাজে আসবে।' 'নিশ্চয়ই।'
আগ্রহের আতিশয্যে আরো খানিকটা এগিয়ে এল
সুমাইয়া।
ড্রাইভিং সিটে বসা জাহীর দিকে ফিরল সাইফ।
'ম্যাডামকে একটু পিস্তল চালানো শিখিয়ে দাও
যেন কাঁপাকাঁপি ছাড়াই পিস্তল ধরতে পারে! আমি
একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসি।' সুমাইয়াকে কিছু
বলার সুযোগ না দিয়েই গাড়ি থেকে নেমে গেল
সাইফ। প্রবাদ আছে সমূদ্র বন্দর কখনই ঘুমায় না।
সুয়েজ তো আরো নিশাচর। এত রাত তবুও কর্ম ব্যস্ততা
কম নয়। সাইফ গাড়ি থেকে নামা মাত্রই শাইলকের
বিনকিউলারের আওতায় পড়ে গেল।
এই তাহলে সেই পুচকে ছোঁড়া! বিড়বিড় করল শাইলক।
সাইফ সিগারেট খায় না কিন্তু ওর মনে হচ্ছে এ
ধরনের মুহূর্তে সিগারেট হয়ত বেশ কাজে দেয়। এদিক
ওদিক তাকাতেই আকিল আর ইব্রাহিমকে আসতে
দেখল সাইফ।
'কোনো সমস্যা?' গলায় খানিক উদ্বেগ ফুটল
সাইফের।
'মাল লোডিং এর ব্যবস্থা করে এলাম।'
'এত তাড়াতাড়ি!'
'এখানে আমাদের বসের বিশেষ প্রভাব আছে,' চোখ
টিপল আকিল।
সাইফ বুঝল কিছু লেনদেন হয়েছে। সাইফের জন্য প্রচুর
শ্রম ও অর্থ ব্যয় করছে আলী আহমাদ। বিনিময়ে একটা
পয়সা নিতেও রাজি করাতে পারেনি সাইফ তাকে।
কিছু কিছু মানুষ ঋণ শোধ করতে গিয়ে উল্টো ঋণী
করে ফেলে।
পরবর্তী আধঘন্টার মধ্যে ব্লু-নাইল নামের একটা
ষাটফুটি জাহাজে তোলা হয়ে গেল সমস্ত ট্রেজার।
ব্লু-নাইলের গতি ঘন্টার ৪০ নট। সুয়েজ পাড়ি দিতেই
চারঘন্টা লেগে যাবে। বিপদ কখন আসবে জানা
নেই। ব্লু-নাইলে এক সপ্তাহ চলার মত পর্ক্সাপ্ত
রসদের পাশাপাশি নেয়া হয়েছে প্রচুর এমিউনিশন।
জাহাজ ছাড়ার আগে সবাইকে ব্রিজে একত্রিত করল
সাইফ। দায়িত্ব আগে থেকেই ঠিক করা। ইঞ্জিনের
দায়িত্বে থাকবে সেনাবাহিনির সাবেক প্রকৌশলী
বাদরু আজিজি। হুইল হাউস মূলত সাইফের হাতে
থাকলেও অন্যরাও সাহায্য করবে ওকে। নাইলের
সিকিউরিটির সবাইকে জাহাজ সম্পর্কে যথেষ্ট
পরিমাণ জ্ঞান রাখতে হয়। সুমাইয়া বাদে সবাই
জাহাজ চালাতে পারে।
'রুটপ্ল্যান আগেই বলা হয়েছে তবুও আরেকবার বলে
নেয়া যাক,' শুরু করল সাইফ, 'আমরা সুয়েজ পার হয়ে
ভারত মহাসাগর হয়ে সোজা পোর্ট অফ কলম্বোয়
গিয়ে থামব। ওখান থেকে রিফিউলিং করে
পতেঙ্গা। এখান থেকে কলম্বো ৩৬৯৫ নটিক্যাল
মাইল। চব্বিশ ঘন্টা চলার উপর থাকলেও পোঁছতে
প্রায় চারদিন লেগে যাবে। দায়িত্ব তো ভাগ করাই
আছে, সবাই যার যার অবস্থানে চলে যান।
আপনাদেরকে চোখ-কান খোলা রাখার কথা বলাটা
বাহুল্য। সন্দেহজনক কিছু দেখলেই আমাকে ইনফর্ম
করবেন। বেস্ট অফ লাক।' ছোট্ট বক্তৃতা শেষ করল
সাইফ।
সুমাইয়া ছাড়া সবাই চলে গেল ব্রিজ ছেড়ে।
সুমাইয়া এক পা এগিয়ে এসে বলল, 'আমাকে কোনো
দায়িত্ব দেয়া হয়নি।'
'উমম, আপনি এক কাজ করুন। সবার জন্য খাবারের
ব্যবস্থা করুন। আপনার দায়িত্ব আপাতত এটাই।'
গোমড়া মুখে বিদায় নিল সুমাইয়া। দায়িত্ব মোটেও
পছন্দ হয়নি তার!
দীর্ঘ একটা হুইসেল দিয়ে ধীরে ধীরে জেটি ছেড়ে
বেরিয়ে এল ব্লু-নাইল। রাজকীয় ভঙ্গি নিয়ে চলতে
শুরু করল। পেছনে সাদা ফেনার রেখা চিহ্ন হিসেবে
রেখে যাচ্ছে। দশ মিনিট পর গতি উঠল ৩০ নটে। ঠিক
সেই মুহূর্তে জেটি ছাড়ল শাইলকের সী-গালও। সী-
গালের গতি ব্লু-নাইলের চাইতেই বেশি। আকারে
কিছুটা ছোট। চাইলে যেকোনো মুহূর্তেই সাইফদের
ধরে ফেলতে পারে কিন্তু এখনই সেরকম কোনো ইচ্ছে
নেই শাইলকের। সুয়েজে যুদ্ধজাহাজের আনাগোনা
থাকে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় বের হবার আগে
একশনে যাবে না শাইলক। আপাতত শুধু অনুসরণ।
রাডারের সাহায্যে খুব ভালভাবেই সেটা করা
যাচ্ছে। সাইফের রাডারেরও নজর এড়ায়নি সী-গাল।
স্ক্রিনে অনেকগুলো জাহাজ দেখা গেলেও ব্লু-
নাইলের দশ মিনিটের মধ্যে এই জাহাজটার জেটি
ত্যাগ শুভ কিছু বোঝাচ্ছে না। মাঝে ১ কি.মি.
ব্যবধান রেখে ছুটে চলল দুটি জলযান।
প্রায় সাড়ে তিনঘন্টা পর খোলা সমূদ্রে বেরিয়ে এল
বোটদুটো। মাস্টারকে নির্দেশ দিল গতি বাড়িয়ে
ব্লু-নাইলের কাছে যাবার
ইটস শো টাইম! বিড়বিড় করল শাইলক।
সাইফ লক্ষ্য করল সন্দেহজনক বিন্দুটার গতি বেড়ে
গেছে। এগিয়ে আসছে দ্রুত। সাইফ সর্বোচ্চ গতি তুলল।
সাথে সাথেই উপলব্ধি করল গতির দৌড়ে ওটাকে
হারাতে পারবে না। ওটার গতি ব্লু-নাইলের চাইতে
বেশি। ওয়াকিটকিটা তুলে নিয়ে খবরটা জানাল
সবাইকে। যাওবা ছিল এতক্ষণ, এখন আর এতটুকু সন্দেহ
নেই, মোসাদ অন একশন!
অনেক কাছে চলে এসেছে পেছনের বোটটা। খালি
চোখেও ওটার বাতি দেখা যাচ্ছে। হঠাৎ খড়খড় করে
উঠল বোটের রেডিওটা। ওপাশ থেকে যান্ত্রিক
কিন্তু ভরাট একটা কন্ঠস্বর ভেসে এল।
'দিস ইজ শাইলক। সাইফ হাসান, আশা করি ভূমিকা
করে বলতে হবে না কিছু। বোট থামাও, আমরা উঠব।'
'মি. শাইলক, কষ্ট করে একটু দেখবে আমার বোটের
নাম ব্লু-নাইলই আছে নাকি বদলে শশুড়বাড়ি হয়ে
গেছে?!' 'হা হা হা, ভালই রসিক আছো তুমি! কিন্ত
মুশকিল হল রসিকতা করার পজিশনে তুমি নেই, সাইফ
হাসান।' শেষের দিকে কঠোর হয়ে উঠল শাইলকের
কন্ঠ। 'তোমাকে একটা সুযোগ দিতে পারি। ট্রেজার
আমাদের দিয়ে দিলে তোমাদের চলে যাবার একটা
সুযোগ দেব। জানি আমার কথা বিশ্বাস করবে না।
তবে আমি কিরা-কসম করতে পারব না বিশ্বাস
করাবার জন্য!'
'ছিঃ ছিঃ! কসম করতে হবে কেন? তোমার কথাই
আমার কাছে ধ্রুব!'
'চালবাজি বন্ধ করে কাজের কথায় এসো, সাইফ।
সিদ্ধান্ত নাও, ট্রেজার হারাবে নাকি প্রাণ?'
'দুঃখিত, আমি কোনোটাতেই রাজি না।'
'দশ মিনিট সময় দিলাম। এরমধ্যে জাহাজ না
থামালে বুলেট কথা বলবে। এবং ব্যক্তিগতভাবে
আমি চাইব প্রথম বুলেটটা তোমার মগজে ঢুকুক।'
সাইফকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই লাইন কেটে
দিল শাইলক। নিস্তব্ধতা নেমে এল ব্লু-নাইলের
ব্রিজে। শুধু সাগরের হু হু আওয়াজ।
রেডিওটা নীরব হয়ে যেতেই সাইফ ভয়েস পাইপের
মাধ্যমে সবাইকে ব্রিজে আসতে আদেশ করল। একে
একে সবাই এসে উপস্থিত হল ব্লু-নাইলের মাস্টার
ব্রিজে। হাতে একটা সেকেন্ডও বাড়তি নেই,
কাজের কথায় চলে এল সাইফ।
‘মোসাদ আমাদের বিশ মিনিট সময় দিয়েছে, এরপরই
অ্যাকশনে যাবে। ওদের ম্যান ও আর্মস পাওয়ার
আমাদের চাইতে বেশি। আই হ্যাভ আ প্ল্যান।’ সাইফ
এক্সপ্লোসিভ এক্সপার্ট জাহী হামাদির দিকে
ফিরল, ‘শক্তিশালী একটা বোমা ডেটোনেটরসহ
বানাতে কতক্ষণ লাগবে তোমার?’
‘দশ মিনিটের মধ্যেই হয়ে যাবে আশা করি।’
‘আশা করি না, দশ মিনিটের মধ্যে বোমাটা আমার
চাই। তুমি কাজে লেগে পড়ো।’ বাকিদের দিকে
ফিরল সাইফ, ‘প্ল্যান বিস্তারিত বলার সময় নেই।
এখন যা বলব শুধু সেটাই ফলো করবেন। আমি যখন
লম্বা করে হুইসেল বাজাব তখন আকিল ছাড়া সবাই
জাহাজ থেকে নেমে যতটা সম্ভব দূরে সরে যাবেন।
এখনই গিয়ে লাইফ জ্যাকেট পরে তৈরি হয়ে নিন।’
মনে গাদাখানেক প্রশ্ন জমে থাকলেও আকিল ছাড়া
সবাই বিনা বাক্যব্যয়ে নেমে গেল নিচে। সাইফ
তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সী-গাল ছাড়াও রাডারে কী একটা
খুঁজছে।
দশ মিনিট পেরোবার আগেই জাহী হামাদি উঠে এল
নিচ থেকে। হাতে ধরা সদ্যজাত এক্সপ্লোসিভ।
সাইফ রেডিওটা অফ করে দিল। জাহীর দিকে ফিরে
বলল, ‘তুমি এখন নিচে গিয়ে দুটো লাইফ জ্যাকেট
আর দুটো AK-47 নিয়ে আসবে, নিজেও পরে ফেলবে।
এরপর আমি যখনই হুইসেল বাজাব তখন বোমাটা
একটিভেট করে অন্য সবার সাথে তুমিও পানিতে
লাফ দেবে। যতটা সম্ভব সবাইকে নিয়ে দূরে সরে
যাবে জাহাজ থেকে। আমি আর আকিল তোমাদের
কাভার দেব এসময়টাতে। আমরা দু’জন জাহাজ ছাড়ব
বিস্ফোরণের ত্রিশ সেকেন্ড আগে। কোনো প্রশ্ন?’
আকিল মাথা ঝাঁকিয়ে বুঝিয়ে দিল তার কোনো
প্রশ্ন নেই।
‘বস, বোমাটা অনেক শক্তিশালী,’ জাহী হামাদি
বলে উঠল। ‘সময়মত জাহাজ ছাড়তে না পারলে
কিন্তু...’ বাকিটা উহ্য রাখল।
সাইফ মুচকি হাসল শুধু জবাবে।
জাহী বুঝতে পারল এই লোকটা ভাল রকম ত্যাড়া,
কথা শুনবে না!
কিছুক্ষণ বাদেই একজোড়া অস্ত্র আর লাইফ জ্যাকেট
হাতে ফিরে এল জাহী। ওগুলো হাত বদল হতেই সে
নিচে নেমে গেল। একটা অস্ত্র আর লাইফ জ্যাকেট
আকিলের দিকে বাড়িয়ে ধরল সাইফ।
‘আপনি জাহাজের পেছনে চলে যান। বাকিদের
কাভার দেবেন। ঘড়ি ধরে ঠিক ত্রিশ সেকেন্ডের
মাথায় যাই ঘটুক না কেন আপনি জাহাজ ছাড়বেন,
এই রিপিট, যাই ঘটুক না কেন। ইজ দ্যাট ক্লিয়ার?’
আকিল নীরবে সম্মতি জানিয়ে চলে গেল।
রেডিওটা চালু করে দিল সাইফ, প্রায় সাথে সাথেই
জ্যান্ত হয়ে উঠল ওটা।
‘কী সিদ্ধান্ত নিলে সাইফ?’ শাইলকের নিস্পৃহ গলা
শোনা গেল।
‘এখনও নিতে পারিনি। আর কিছুটা সময় দেয়া
যাবে?’
‘আমার কেন যেন মনে হচ্ছে তুমি একটা চালাকি
করতে চাইছ। তা কতক্ষণ লাগবে তোমার?’
রাডারের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই সাইফের
কপালের চিন্তার রেখাটা মিলিয়ে গেল। রেডিওর
কাছে মুখ নিয়ে বলল, ‘এই ধরো, আরো বছর
পঞ্চাশেক!’
ওপাশে শাইলকের জবান বন্ধ হয়ে গেছে। রাগে
কয়েক মুহূর্ত কিছুই বলতে পারল না সে। নিজের উপর
পুর্ণমাত্রায় নিয়ন্ত্রণ আছে বলেই সে এতদিন ভাবত।
কিন্তু এই সাইফ ছোকড়া ওকে রাগিয়ে দিতে
পারছে, আর এটা ভেবেই আরো বেশি করে রক্ত চড়ে
যাচ্ছে মাথায়।
ওপাশে নীরবতা নেমে এল। হুইল হাউসে শুধু সাইফ
একা। বিপদের আশংকায় স্নায়ু টান টান। হঠাৎ সী-
গালের সবগুলো বাতি একসাথে নিভে যেতে দেখেই
সাইফের বুকের রক্ত ছলকে উঠল। এক ঝটকায় ও
নিজেও ব্লু-নাইলের মেইন সুইচ অফ করে দিল,
জাহজটাও থামিয়ে দিল একই সাথে। নাইল ডুব দিল
আঁধারে। সাথে সাথেই ফায়ার ওপেন হল সীগাল
থেকে। হুইসেল চেপে ধরল সাইফ। গুলির আওয়াজ
ছাপিয়ে হুইসেলের গুরুগম্ভীর আওয়াজে কেঁপে উঠল
ব্লু-নাইল। নরক ভেঙে পড়ল যেন সাগরে। একযোগে
গর্জে উঠল কয়েকটা রাইফেল। মৌমাছির মত বিঙঙ
আওয়াজ করে বুলেট ঢুকে পড়তে লাগল ব্লু-নাইলের
হুইল হাউসে। সাইফ এক নজরে ব্লু-নাইলের ডান
পাশটা দেখে নিল। আবছা আঁধারেও বুঝতে পারল ওর
নির্দেশ অনুযায়ী সবাই নেমে পড়েছে সাগরে। যদিও
সী-গাল ব্লু-নাইলের বাম পাশে থাকায় দেখতে
পাচ্ছে না তাদের।
এবার ফায়ার ওপেন করল সাইফ। পেছন থেকে আকিল
আরো আগেই ওপেন করেছে। এপাশ থেকেও
সমানতালে জবাব দিতে লাগল দুটো রাইফেল।
বারুদের গন্ধে রক্তে বান ডাকল সাইফের। দীর্ঘদিন
পর পুরনো সেই উত্তেজনা অনুভব করছে যার লোভেই
আর্মিতে যোগ দিয়েছিল ও।
দুটো জাহাজই মাঝ সমুদ্রে থেমে আছে। গোলাগুলি
শুরু হতেই সাইফ ব্লু-নাইল থামিয়ে দিয়েছে। ঘড়ির
রেডিয়াম ডায়ালের দিকে তাকাল সাইফ। তেইশ
সেকেন্ড পার হয়ে গেছে বোমা একটিভেট করার পর
থেকে। আর সাইত্রিশ সেকেন্ড পর স্রেফ ধুলোয়
পরিণত হবে ব্লু-নাইল।
হাতের অস্ত্রটা খালি করে ফেলল সাইফ। জাহাজ
ছাড়ার জন্য মানসিকভাবে তৈরি হচ্ছ এমন সময় ব্লু-
নাইলের পেছনের অংশ থেকে গুলি বন্ধ হয়ে গেল।
সাইফের বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল। আকিলের তো এখনই
নেমে যাবার কথা না। সময়ের চুলচেরা হিসেবে
গড়মিল করবে না আকিলের মত একজন সাবেক
আর্মিম্যান। সেক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনাই থাকে-
গুলি খেয়েছে আকিল। ঘড়ির দিকে তাকাতেই
সাইফের দিশেহারা ভাবটা বেড়ে গেল। আর ত্রিশ
সেকেন্ডও নেই।
চোয়াল শক্ত হয়ে গেল সাইফের। ব্লু-নাইলের
কন্ট্রোল অটো থেকে ম্যানুয়ালে নিয়ে এল। সী-
গালের দিকে তাক করল ব্লু-নাইলের গলুই। সামনের
গ্লাস আগেই চুর চুর হয়েছে ফাঁক দিয়ে ছুটে আসা
একটা বুলেটের আঘাতে এবার কন্ট্রোল প্যানেলের
একটা অংশ চুরমার হয়ে গেল।
-------
(শেষ অংশ প্রথম কমেন্ট এ)
-------
।। একাকি কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now