বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্পাই থ্রিলার,
মিশরীয় গুপ্তধন
আবুল ফাতাহ মুন্না
---------------
(পর্ব-২১)
----------
কমান্ডোর এলসেশিয়ানটা গার্ডরুমের সাথে বাঁধা।
প্রবল প্রতাপে তর্জন গর্জন করে চললেও ওদিক
থেকে আপাতত ভয় নেই।কমান্ডোকে দ্রুত সামলাতে
হবে।
হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাটে হাতের এমসিক্সটিন
অ্যাসল্ট রাইফেলটা ঝামেলা বাড়াবে বুঝতে পেরে
অস্ত্রটা দূরে ছুড়ে ফেলে দিয়ে সাথে সাথেই
আততায়ীর হাঁটু লক্ষ্য করে সজোরে পা চালাল
কমান্ডো।জায়গামত লাগলে হাটুর জয়েন্ট থেকে
পা’টা দু'ভাগ হয়ে যেত।কিন্তু আততায়ী বিদ্যুৎ
গতিতে পা উপরে উঠিয়ে আঘাতটা পায়ের পাশের
মাংসপেশীতে নিল।তাতেই মনে হল পা’টা
প্যারালাইজড হয়ে পড়েছে।নিজেকে সামলে
নেবার আগেই আততায়ী লক্ষ্য করল পায়ের
গোড়ালি থেকে একটা ছোট থ্রোয়িং নাইফ বের
করে ফেলেছে কমান্ডো। তবে বোঝাই যাচ্ছে
এটাকে “থ্রো” করার ইচ্ছা আপাতত নেই তার।সেটা
প্রমান করতেই যেন কমান্ডো ছুরিটা আততায়ীর গলা
লক্ষ্য করে চালাল।পেছনে হেলে আঘাতটা পুরোপুরি
ব্যার্থ করে দিল আততায়ী। নাকের মাত্র কয়েক
ইঞ্চি উপর দিয়ে বাতাস কেটে গেল ছুরিটা।
কুকুরটা ভয়ানক স্বরে গর্জে চলেছে।সেই আওয়াজে
অথবা বাবুর্চির চিৎকারে বাকি তিন কমান্ডো
বাড়ির তিন পাশ থেকে ছুটে এল।ওদেরকে লড়তে
দেখে দুজন এদিকে আর অপরজন বাড়ির ভেতর
প্রফেসরের অবস্থা জানার জন্য গেল।কমান্ডো দুজন
এখনও কিছুটা দূরে।হাতের অস্ত্র বাগিয়ে ধরে ধীর
পায়ে এগিয়ে আসছে।তবে সঙ্গীর গায়ে লেগে
যাবার ভয়ে গুলী ছুড়ছে না।কমান্ডো দুজন আরও
কাছে আসার আগেই যা করবার করতে হবে
আততায়ীকে।গ্লকটা বের করার কোনো সুযোগই
পাবে না সে।
কমান্ডো দ্বিতীয়বারের মত ছুরি চালাতে গেল
তাকে লক্ষ্য করে।তার আগেই চিতার মত লাফ দিল
আততায়ী।
আগেই খেয়াল করে দেখেছে কমান্ডো বাঁহাতি।
ছুড়িটা উল্টো করে ধরে ডান থেকে বামে চালায়।
সে লাফ দিয়েছে কমান্ডোর ডানপাশ লক্ষ্য করে।
শূন্যে থাকা অবস্থায়ই ভোজবাজির মত আততায়ীর
হাতে সেই সরু তারটা বেরিয়ে এল।সময়ের নিখুঁত
হিসেবে হাতটা বাতাস কেটে ডান থেকে বামে
চলে যাবার মাঝপথে কমান্ডোর বাড়ানো হাতে এক
ঝটকায় তারটা জড়িয়ে ফেলল আততায়ী।হ্যাচকা
টান দিল।প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই হাতটা প্রায় দুভাগ
হয়ে গেল কব্জি থেকে।ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরুতে
লাগল।শিরা কেটে যাওয়ায় কিছুক্ষন পর সব রক্ত
হারিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে কমান্ডো।তবে
কমান্ডোদের ট্রেনিং দেয়াই হয় মৃত্যুর আগ মুহূর্ত
পর্যন্ত হাল না ছাড়ার।ভালমতই জানা আছে
আততায়ীর। কারন সে নিজেও পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ
কমান্ডোদের মধ্যে একজন!
সেজন্যই কোনো সুযোগ দিল না আততায়ী।কাটা পড়া
হাত দেখে সংবিৎ হারিয়ে ফেলেছিল কমান্ডো।
সেই সুযোগে তারটা ছেড়ে দিয়ে কমান্ডো পেছনে
চলে এল সে।ঘাড় ধরে ভয়ংকর এক মোচড় দিল। কট
আওয়াজ করে ঘাড়টা ভেঙ্গে গেল কমান্ডোর। সাথে
সাথেই মৃত্যু।তবে লাশটা ছাড়ল না সে।গায়ের সাথে
চেপে ধরে রাখল।যার সুফল পাওয়া গেল কয়েক
সেকেন্ড পরই।
লড়াইয়ের ফলাফল পরিষ্কার হয়ে যেতেই বাকি দুই
কমান্ডো হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছিল।তাদের সঙ্গী
আততায়ীর হাতে মারা পড়তেই ফায়ার ওপেন করল।
এমসিক্সটিন অ্যাসল্ট রাইফেলের মুহুর্মুহু গর্জনে
কেঁপে উঠল প্রাঙ্গন।
কমান্ডোর লাশের আড়ালে থাকায় আততায়ী বেঁচে
গেল।সমস্ত বুলেট এসে আঘাত করল মৃত কমান্ডোর
গায়ে।স্বাভাবিক অবস্থায় অ্যাসল্ট রাইফেলের
বুলেট কমান্ডোর দেহ ভেদ করে আততায়ীকে খুন
করতে পারত,কিন্তু বুলেটপ্রুফ ভেস্ট ঠেকিয়ে দিল
তপ্ত বুলেটগুলোকে।মাথা নীচু করে কমান্ডোর
পেছনে গুটিশুটি মেরে রইল আততায়ী।
এক সময় আচমকা থেমে গেল গুলীর আওয়াজ।বুলেট
শেষ হয়ে গেছে ওদের।রিলোড করতে কিছুটা সময়
লাগবে।হাতে কয়েক সেকেন্ড সময় পেতেই দেরী না
করে কোমর থেকে গ্লক বের করে গুলী ছুঁড়ল
আততায়ী।
বাড়ির প্রাঙ্গনে তেমন কোনো কাভার নেয়ার
জায়গা নেই।খোলা জায়গাতে বসেই আক্রমন করেছে
কমান্ডোরা।আততায়ী অনেকটা না দেখে গুলী
ছুড়লেও প্রথমজনকে ঘায়েল করল একটা বুলেট।সোজা
কপালে গিয়ে লাগল।বাকি কমান্ডো সাথে সাথেই
ঝাপ দিয়ে কাভার নিল একটা পাথুরে বেঞ্চের
আড়ালে।এমসিক্সটিন রিলোড হয়নি।তার অপেক্ষাও
করল না সে।হোলস্টার থেকে নিজের গ্লক বের করে
দুটো গুলী পাঠিয়ে দিল আততায়ীর দিকে।
তাড়াহুড়ো করায় দুটোই বেশ দূর দিয়ে পাশ কাটাল
আততায়ীর।
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল আততায়ী,বিপদ অনেকটাই
কেটে গেছে,আর মাত্র একজন শত্রু আছে।তবে বলা
যায় না,যেকোনো মুহূর্তে বাড়ির ভেতর থেকে
বাকি দুজন বেরিয়ে আসতে পারে।তার আগেই
বেরিয়ে যেতে হবে গেট পেরিয়ে।গেট খোলার জন্য
মৃত কমান্ডোর পকেট হাতড়াতে লাগল রিমোটের
খোঁজে।সেই সাথে লাশটা টেনে হিঁচড়ে পিছিয়ে
যেতে লাগল গেটের দিকে।সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
আরও কয়েক সেকেন্ড পর রিমোটটা খুঁজে পেল সে।
গেটটা এখনও কয়েক গজ দূরে।কমান্ডোর ভারী শরীর
টেনে নিয়ে যেতে সময় নষ্ট হচ্ছে।তবুও কিছু করার
নেই,এই মুহূর্তে এই লাশটাই তার রক্ষা কবচ।
গেট যখন আর মাত্র দু’ফুট দূরে,ঠিক তখন বিপদটা এল
দু’দিক থেকে।
রিলোড হয়ে গেছে,কাভারে থেকেই ফায়ার ওপেন
করল কমান্ডো।আবারও মাথা নীচু করে শরীর লুকাতে
বাধ্য হল আততায়ী।
এবার কমান্ডো থেমে থেমে হিসেব করে গুলী
করছে।আততায়ীকে আটকে রেখে সময় পেতে
চাইছে,যাতে করে ওর বাকি দুই সঙ্গী বাড়ির ভেতর
থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।
হাতের গ্লকে আর মাত্র দুটো বুলেট আছে আর মৃত
কমান্ডোর হোলস্টারে ফুললি লোডেড আরেকটা
গ্লক,সাথে একটা স্পেয়ার ম্যাগাজিন।সব মিলিয়ে
মাত্র চোদ্দটা বুলেট নিয়ে তিনজন দক্ষ শত্রুর
মোকাবেলা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে তার
জন্য।
এমন সময় বিপদের ষোলকলা পূর্ণ করে সাইরেনের
আওয়াজ কানে এল আততায়ীর।পুলিশ চলে এসেছে!
বারো
‘কী প্ল্যান?’ ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করল সুমাইয়া।
‘দুটো ধাঁধাতেই একটা কমন ব্যাপার লক্ষ্য করেছেন?’
পালটা প্রশ্ন করল সাইফ।
‘হুম,ঘোড়া আর হাত।’
‘ব্যাপারটা আপনার কাছে অদ্ভুত লাগছে না?’
‘না তো,কী অদ্ভুত লাগবে?’
‘আমরা সাধারণত কিসে মাপি? হয় ফুট কিংবা
মিটারে।অথচ দুটো ধাঁধাতেই হাতের উল্লেখ
রয়েছে।’
‘তাই তো!’
‘তারমানে,সমস্ত জবাব রয়েছে এই ঘোড়া আর হাতে।’
বলতে বলতে পকেট থেকে সেলফোন বের করে
ফেলল সাইফ।ব্রাউজার ওপেন করে সার্চ করল “horse
+ hand” লিখে।শুরুতেই উঁইকিপিডিয়ার একটা পেজ
এল।পড়তে শুরু করল সাইফ।
ভ্রু কুঁচকে বেশ কিছুক্ষন ধরে তাকিয়ে রয়েছে
মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে।ওদিকে সুমাইয়া আর
সালাহউদ্দিন উশখুশ করতে লাগল।
শেষ পর্যন্ত থাকতে না পেরে সুমাইয়া বলে
উঠল,‘কিছু পেলেন?’
জবাব না দিয়ে স্ক্রিন থেকে মুখ তুলল সাইফ।মুখে
প্রশান্তির হাসি।বলল,‘এত সহজ ব্যাপারটা আগে
মাথায় এল না কেন ভাবতেই লজ্জা লাগছে।তবে
আগে তো আর জানতাম না সমস্ত রহস্য রয়েছে এই
“ঘোড়ার হাতে”!’
সাইফের হেঁয়ালিতে আরও অধৈর্য হয়ে গেল
সুমাইয়া।
‘কী হয়েছে?’
‘ঘোড়ার ব্যাপারে মজার একটা তথ্য জানতে
পারলাম।আমরা সাধারণত সব জিনিস ফুট,মিটারে
হিসেবে করলেও ঘোড়ার হিসেব কিন্তু ভিন্ন।
অস্ট্রেলিয়া,আমেরিকা,কানাডা,ইংল্যান্ড এর মত
কিছু দেশে এখনও ঘোড়ার উচ্চতাসহ ঘোড়া
সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় মাপা হয় হাতের হিসেবে!’
‘কী?’ হতভম্ব হয়ে গেছে সুমাইয়া আর শেইখ
সালাহউদ্দিন?
ইতিবাচক ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকাল সাইফ।
‘কিন্তু সমস্যা তো সেক্ষেত্রে বেড়ে যাচ্ছে?’ বলল
সুমাইয়া।
‘কিভাবে?’
‘সাধারনত এক হাত,অর্থাৎ হাতের আঙ্গুল থেকে
নিয়ে কনুই পর্যন্ত হয় হল গিয়ে আঠারো ইঞ্চি।
তাহলে পাঁচ ফুটের নালা কিভাবে পনেরো হাত
হবে?’
হাসল সাইফ,‘আসল মজার ব্যাপারটা তো আপনাদের
এখনও বলিইনি।’
‘আসল মজা?’
‘হুম,হাত বলতে আপনি যা বললেন,এই হাতের মাপ
তেমন নয়।এই পদ্ধতিতে প্রতি চার ইঞ্চিতে এক হাত
ধরা হয়!’
‘চার ইঞ্চিতে এক হাত!’ হতবাক হয়ে গেল
সুমাইয়া।‘অর্থাৎ,নাগিব পাঁচ ফুটের নালাকে পনেরো
হাত বললেও মিথ্যাবাদী হবে না।হিসেবটা ঠিকই
থাকছে।’
‘এগজ্যাক্টলি।’
‘নাসের চাচার ধাঁধাটা ছিল,“একটা ঘোড়া
একলাফে পনেরো হাত যেতে পারলে দুই লাফে
কতদূর যেতে পারে? তুমিও এগিয়ে যাও অতটা।”
দুই লাফে হচ্ছে ত্রিশ হাত।অর্থাৎ,একশ বিশ ইঞ্চি।
তারমানে ধাঁধার উত্তরটা হল,কফিন থেকে দশ ফুট
সামনে এগিয়ে যেতে হবে!’ বাচ্চা মেয়ের মত
উত্তেজিত গলায় বলল সুমাইয়া।
‘বুলস আই!’ সুমাইয়ার উত্তেজনা দেখতে ভালই
লাগছে সাইফের।
‘এই পদ্ধতি আমাদের এখানে প্রচলিত না সম্ভবত।নয়ত
আরও আগেই উত্তরটা জানা যেত।’ এবার বলে উঠলেন
শেইখ সালাহউদ্দিন।
‘এখন হয়ত প্রচলিত না,কিন্তু পদ্ধতিটার উৎপত্তি
কিন্তু এই মিশরেই!’
‘তাই নাকি?’
‘হ্যাঁ, প্রাচীন মিশরে এভাবেই পরিমাপ করা হত।এই
দেখুন উইকিপিডিয়াতে বিস্তারিত লেখা রয়েছে।’
ফোনটা বাড়িয়ে দিল সাইফ।
সুমাইয়া হাতে নিয়ে দেখল লেখা রয়েছে:
The hand is a non- SI unit of measurement of length equal
to exactly 4 inches (101.6 mm).It is now normally used only
for the measurement of the height of horses in some
English-speaking countries, including Australia,Canada, the
United Kingdom and the United States .With origins in
ancient Egypt, it was originally based on the breadth of a
human hand. The adoption of the international inch in 1959
allowed for a standardized imperial form and a metric
conversion. It may be abbreviated to "h" or "hh".
‘অবশেষে।’ লেখাটা পড়ে হুহ করে স্বস্তির
দীর্ঘশ্বাস ফেলল সুমাইয়া।সালাহউদ্দিনের মুখেও
হাসির রেখা দেখতে পেল সাইফ।
‘নেক্সট প্ল্যান তাহলে কী?’ শেইখ সালাহউদ্দিন
জানতে চাইলেন।
‘ধাঁধার সমাধান যেহেতু হয়েই গেছে,আজ রাতে
আবার পিরামিডে গিয়ে ট্রেজার দেখে আসব।
পেলে কাল থেকে এগুলো এ দেশ থেকে বের করে
নেবার মিশন শুরু করতে হবে।’ বলতে বলতেই সাইফ
লক্ষ্য করল সুমাইয়া বাবার দিকে তাকিয়ে চোখে
চোখে কী যেন কথা বলে নিল।ওর দিকে তাকিয়ে
আছে।মনে হচ্ছে কিছু একটা বলতে চায়।
‘কিছু বলবেন?’ জানতে চাইল সাইফ।
‘আজ রাতে আমাকে আপনার সাথে নিয়ে যাবেন?’
চুপ করে রইল সাইফ।
‘আপনার সমস্যা হলে থাক।’ মন খারাপ করে ফেলল
মেয়েটা।
কী ভেবে যেন রাজি হয়ে গেল সাইফ।
‘ওকে,তৈরি থাকবেন সন্ধ্যায়।’
-----------
।। একাকি কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now