বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিশরীয় গুপ্তধন-১৯

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X স্পাই থ্রিলার, মিশরীয় গুপ্তধন আবুল ফাতাহ মুন্না ---------------- (পর্ব-১৯) --------- পরদিন। আড়মোড়া ভেঙ্গে বিছানা ছাড়ল সাইফ।মাথায় কিছুটা চিন চিনে ব্যাথা।কাল রাতে ঘুম কম হবার ফল।মাথা ঝাঁকিয়ে ব্যাথাটা যেন সরিয়ে দিতে চাইল সাইফ।হাতমুখ ধুয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। নীল হিলটনের মত না হলেও এই রুম থেকেও নীলনদ দেখা যায়।সুবিশাল।সমুদ্রের মত।তবে সমুদ্রের কাছে গেলে কেমন একটা নোনা গন্ধ পাওয়া যায়।নীলে যেটা অনুপস্থিত।নির্মিমেষ তাকিয়ে থাকলেও সাইফের মস্তিষ্ক প্রবল বেগে কাজ করে যাচ্ছে। সময় দ্রুত বয়ে চলছে অথচ আসল কাজেরই কোনো অগ্রগতি নেই।ধাঁধার সমাধান করতে না পারলে ট্রেজার পাবার সম্ভবনা কম।ধাঁধা নিয়ে ভাবার সময়ই পাচ্ছে না মোসাদের উপদ্রবে।একেবারে আঠার মত লেগে আছে।এদের কিভাবে খসাবে বুঝতে পারছে না সাইফ।এদিকে সুমাইয়া আর ওর বাবাও একটা চিন্তার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে ওর।ওদের নিরাপত্তার দিকে লক্ষ্য রাখতে রাখতেই অনেকটা মূল্যবান সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দায়টা এড়িয়েও যেতে পারে না সাইফ।ও-ই তাদের এই বিপদের মধ্যে টেনে এনেছে।ট্রেজার উদ্ধারে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে হলে এদের ভাবনা মাথা থেকে সরাতে হবে। একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল সাইফ।জামাকাপড় পরে তৈরি হয়ে রুম ছাড়ল।সংকেত অনুযায়ী টোকা দিল সুমাইয়ার দরজায়। *** তাকানো যাচ্ছে না ইউরি কোলম্যানের চোখের দিকে।টকটকে লাল হয়ে আছে ওদুটো।চেহারা ভীতিকর ক্রোধে কুৎসিত দেখাচ্ছে।হাতে একটা পিস্তল নিয়ে অস্থির ভঙ্গিতে পায়চারী করছে। টেনশনে থাকলে ইউরি এভাবেই অস্থির প্রেতাত্মার মত হেটে বেড়ায় সারা ঘরে। তবে আজকের অস্থিরতা ছাপিয়ে গেছে অতীত ইতিহাস। এক সময় ঘুরে দাঁড়িয়ে ফেটে পড়ল রাগে। 'সাইফ ঠিকই বলেছে।তোমাদের মত সস্তা গুন্ডাপান্ডা নিয়ে ওর পেছনে লাগতে যাওয়া মোটেও উচিৎ হয়নি আমার।' নীরবে অপমান হজম করে গেল মোবারক সহ রুমে উপস্থিত প্রতিটা মানুষ। মাথা নীচু করে আছে। 'একটা মেয়েকে কিডন্যাপ করতে পারো না,ছিহঃ!'কথাটা বলেই আবার পায়চারী করতে লেগে গেল ইউরি। 'বস,মেয়েটাকে আবার কিডন্যাপ...,' ইউরিকে ঝট করে ঘুরে তাকাতে দেখেই চুপ মেরে গেল মোবারক।' 'কথা শেষ করো।' জলদগম্ভীর স্বরে আদেশ দিল ইউরি। 'না বলছিলাম যে,মেয়েটাকে আরেকবার কিডন্যাপ করব কিনা?' 'হা হা হা!' ইউরির কপট হাসিতে গম গম করে উঠল মাঝারি আকৃতির কামরাটা।'এবার কিডন্যাপ করতে গেলে আর পিঠের চামড়া নিয়ে ফিরে আসতে পারবে না।আগেরবার তো "সুপার সেনসিটিভ বম্ব' এর ভয় দেখিয়েছিল,এবার নিউক্লিয়ার ওয়ারহেডের ভয় দেখাবে,মূর্খের দল সব!' 'বস,সত্যিই ওর হাতে বোম ছিল।' মুখ কাঁচুমাচু করে জানাল মোবারক।' 'ওটা বোম ছিল,কি করে বুঝলে? এরকম বোমার কথা শুনেছো কখনো? আর থাকলেও এত হাইলি সফিসটিকেটেড বোমা সাইফ পাবে কিভাবে?ও কি এখনো আর্মিতে আছে?' চুপ হয়ে গেল মোবারক। কিছুক্ষন পর সাহস সঞ্চয় করে বলেই ফেলল,'বস,এখন তাহলে কী করব আমরা?' 'তোমাদের কিছু করতে হবে না।যা করার আমিই করব।'বলতে বলতে ক্রুর হাসি ফুটে উঠল ইউরি কোলম্যানের মুখে। 'যত দ্রুত সম্ভব আমার ইসরাঈলে যাবার ব্যাবস্থা করো।' *** ব্রেকফাস্ট করতে করতে সব কিছু জেনে রীতিমত হতভম্ব হয়ে গেলেন শেইখ সালাহউদ্দিন। তার ঠিক পাশের রুমেই এত কিছু ঘটে গেছে গতরাতে,ভাবতেই অবাক লাগছে। হোটেলের রেস্টুরেন্টে বসে খাচ্ছে তিনজন।মোসাদ ওদের ঠিকানা জেনে ফেলেছে,লুকিয়ে থেকে এখন আর কোনো লাভ নেই।এজন্য নিজেদের গৃহবন্দি করে রাখার নির্দেশ তুলে নিয়েছে। 'পরিস্থিতি তো দেখছি জটিল রূপ ধারন করেছে।' মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিল সাইফ।সুমাইয়া চুপচাপ খাচ্ছে। 'এখন কী করার?' প্রশ্ন করলেন সালাহউদ্দিন। মুখের খাবারটা গিলে নিয়ে সাইফ বলল,'ট্রেজার না পাওয়া পর্যন্ত কিছু করার নেই।ট্রেজার উদ্ধারের আশা একেবারেই না থাকলে আমি ফিরে যেতাম।কিন্তু আমার বিশ্বাস,ধাঁধার সমাধান করতে পারলে সন্ধান মিলবে ট্রেজারের। আগামী ক'টা দিন খুব ঝামেলার হতে পারে।আমার পরামর্শ হল,আপনারা সম্ভব হলে কায়রো ছেড়ে আপনাদের কোনো আত্মীয়র বাড়িতে চলে যেতে পারেন। মোসাদের চোখ এড়িয়ে আমি নিজে আপনাদের পৌছে দিয়ে আসতে পারব।' 'আমরা না থাকলে কি ওরা আপনার কোনো ক্ষতি করবে না?' 'না,ব্যাপারটা ঠিক তা নয়।তবে নিজেকে রক্ষা করবার ক্ষমতা আমার আছে।কিন্তু আপনারা থাকলে আপনাদের নিরাপত্তার দিকটাও তো আমাকেই দেখতে হবে।' 'দেখুন মি.সাইফ,আপনাকে আগেও বলেছি, আবারও বলি,শুধু নাসেরের কাছে কৃতজ্ঞ বলেই আমি আপনাকে সাহায্য করছি না।নৈতিক দায়িত্ব থেকে কাজটা করছি।আমার পক্ষে পালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।তাছাড়া আমাদের যাবার মত তেমন কোনো জায়গাও নেই।আমরা থাকলে আপনার কাজে সমস্যা হলে সেক্ষেত্রে আমরা দুজন র্যামসিসে ফিরে যেতে পারি।তুই কী বলিস,সুমাইয়া?' সুমাইয়ার দিকে তাকাল সাইফ।মেয়েটা খাওয়া ফেলে গভীর মনোযোগে পত্রিকায় কী যেন দেখছে। মিশরের জাতীয় দৈনিক আল আহরাম।বাবার ডাকে সংবিৎ ফিরে পেল। 'কী বলছিলে যেন,বাবা?' হেসে ফেললেন সালাহউদ্দিন। 'না কিছু না,তুই পত্রিকা পড়।তোর ছবি ছাপিয়েছে নাকি? যে খেল দেখালি দুদিনে।' 'খেল কি আমি দেখিয়েছি? ছবি ছাপলে তো ওঁর ছাপবে।' সাইফের দিকে ইশারা করে মিষ্টি করে হাসল মেয়েটা।সাথে সাথেই আবার পত্রিকায় ডুব দিল। লজ্জা পেয়ে গেল সাইফ।প্রশংসায় নাকি সুমাইয়ার হাসিতে,বলা মুশকিল। লজ্জা কাটাবার জন্যই যেন বলে উঠল,'আপনারা যদি থাকতে চান তাহলে আমার আপত্তি নেই।আমি আপনাদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই বলেছিলাম। যাকগে,আপাতত হোটেলেই থাকুন,দু'একদিন পর পরিস্থিতি বুঝে না হয় বাড়ি ফেরা যাবে।' 'ওকে, যেমনটা ভাল হয়।' 'আমি তাহলে উঠি।'সাইফের খাওয়া শেষ।এখন রুমে ফিরে বারান্দায় একা একা বসে ধাঁধাটা নিয়ে ভাববে। সায় জানালেন শেইখ সালাহউদ্দিন। সাইফ উঠে দাঁড়াবে এমন সময় সুমাইয়া পত্রিকায় চোখ রেখেই অন্যমনষ্ক হয়ে ওর হাত চেপে ধরল। চমকে গেল সাইফ। 'কী হয়েছে।' আবার বসে পড়ে জানতে চাইল। 'এটা পড়ে দেখুন।' হাতের পত্রিকাটা বাড়িয়ে দিল ওর দিকে। হাতে নিল সাইফ।শিশু কিশোরদের বিভাগে একটা ধাঁধা ছাপা হয়েছে,সেটাই পড়তে বলছে সুমাইয়া। পড়ল সাইফ,এবং কয়েক মুহূর্তের জন্য বিস্ময়ে থ হয়ে গেল। ধাঁধাটার ভাবার্থ করলে দাঁড়ায়,'ছোট্ট নাগিব একবার তার পোষা ঘোড়াকে নিয়ে বেড়াতে বের হল।পথে একটি নালা পড়ল।চওড়ায় প্রায় ৫ ফুট। ঘোড়াটা সেই নালা লাফিয়ে পার হয়ে গেল।বাচ্চা ঘোড়াটার পক্ষে এই দুরত্ব লাফিয়ে পার হওয়া বেশ বড় ব্যাপার,তাই নাগিব বাসায় ফিরে বাবাকে এই ঘটনা উল্লেখ করে বলল,"আমাদের ঘোড়াটা আজ ১৫ হাত নালা লাফিয়ে পার হয়েছে।" ৫ ফুটের জায়গায় ১৫ হাত বলা সত্বেও নাগিব কিন্তু মিথ্যাবাদী নয়।এটা কিভাবে সম্ভব?' পড়া শেষ করেই ঝট করে সুমাইয়ার দিকে তাকাল সাইফ। 'কী বুঝলেন?'ওকে তাকাতে দেখেই প্রশ্ন করল সুমাইয়া। 'নাসের বিন ইউসুফের ধাঁধার সাথে অদ্ভুত মিল!' 'এগজ্যাক্টলি!' সাইফ ধাঁধার নীচের দিকে চোখ বুলালো। 'ধাঁধার উত্তর আগামী সপ্তাহে দেয়া হবে। এতদিন ওয়েট করা সম্ভব না।' 'এখন তাহলে কী করবেন?আল আহরামের অফিসে যাবেন?' 'প্রয়োজনে তাই যাব,তবে এইমুহুর্তে অন্য একটা প্ল্যান আছে মাথায়।' রহস্যময় হাসি হাসল সাইফ ------------ ।। একাকি কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now