বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিশরীয় গুপ্তধন-১৭

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X স্পাই থ্রিলার, মিশরীয় গুপ্তধন আবুল ফাতাহ মুন্না ---------------- (পর্ব-১৭) ------------ আট নিজের অফিস রুমে অস্থির বাঘের মত পায়চারী করছে ইউরি কোলম্যান।রেগে বোম হিয় আছে। যেকোনো মুহূর্তে ছাদ ফুঁড়ে বেরিয়ে যাবার দশা আরকি!এর আগে শেষ কবে কেউ তাকে এতটা ঘোল খাইয়েছে,মনে করতে পারছে না সে।সাত আটজন গার্ডের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কী আশ্চর্য কৌশলেই না পালাল ছেলেটা।এতগুলো লোককে স্রেফ কাঁচকলা দেখিয়ে দিয়েছে।যাবার আগে ইউরির অন্যতম সেরা লোক করিমকেও মেরে রেখে গেছে। মোবারক বসে আছে পায়চারীরত ইউরির সামনে। কাঁচুমাচু দেখাচ্ছে তাকে।একটু আগেই বসের ঝাড়ি খেয়েছে। ‘তোমরা এতগুলো লোক বসে বসে মাছি মারছিলে নাকি,অ্যাঁ?’ আবারও খেকিয়ে উঠল ইউরি কোলম্যান।‘পালাল কিভাবে?’ উত্তর দেবার প্রয়োজনবোধ করল না মোবারক। উত্তরটা ইউরি নিজেও জানে। এমন সময় ল্যান্ডফোনটা বেজে উঠল ইউরির। স্ক্র্যাম্বলড ফোন।আড়ি পাতার সুযোগ নেই। সেলফোনে এই সুবিধাটা পাওয়া যায় না বলে জরুরী কথা ল্যান্ড ফোনেই সারে ইউরি।ফোনটা ধরে কিছুক্ষন ওপাশের কথা শুনল সে।মাথা ঝাঁকাল বার কয়েক।হু হা করে খানিকবাদে ফোন রেখে দিল। ততক্ষণে করোটের হাসি ফুটে উঠেছে তার ঠোঁটে। ‘খোঁজ পাওয়া গেছে ওদের।’ খুশি খুশি গলায় জানাল ইউরি।‘গ্র্যান্ড হায়াতে উঠেছে ওরা।’ ‘এখন তাহলে কী করতে চাইছেন,বস?’ ‘উমম,’ কিছুক্ষন ভেবে নিল ইউরি।‘দুটো পথ খোলা আছে এখন আমাদের সামনে।প্রথমত,সাইফকে মেরে ফেলা।কারণ,ও আমাদের পরিচয় জেনে ফেলেছে। পুলিশে জানিয়ে দিলে ঝামেলায় পড়ে যাব আমরা। আমাদের এতদিনের নেটওয়ার্কটা ভেঙ্গে পড়বে। তবে আমার ধারণা ভুল না হয়ে থাকলে একাজ করবে না।সেক্ষেত্রে ওকেই বেশ কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।এক্ষেত্রে আরেকটা সমস্যাও আছে। সাইফকে মারলে ট্রেজারের আশা ছাড়তে হবে। আমি তাতে মোটেও রাজি নই। আর দ্বিতীয় পথটা হল,সুমাইয়াকে আবারও কিডন্যাপ করা।মুক্তিপন হিসেবে আমরা ট্রেজার দাবি করব।’ ‘সাইফকে কিডন্যাপ করলেই তো হয়।ও আমাদের কব্জায় থাকলেই তো ভাল।ওকে দিয়ে যেভাবে ইচ্ছে কাজ করিয়ে নেয়া যাবে।’ মোবারক বলল। ‘গাধা নাকি?’ ধমকে উঠল ইউরি।‘এতদিনেও ওকে চিনতে পারোনি? ছোকরা “ভাঙ্গব তবু মচকাবো না” টাইপ।ওকে দিয়ে কিচ্ছু করানো যাবে না।গ্যাঁট হয়ে থাকবে।সুমাইয়াকে কিডন্যাপ করে ওকে ইমোশনালি উইক করে ফেলতে হবে।’ ‘কিভাবে,স্যার? সুমাইয়ার সাথে সাইফের কিসের সম্পর্ক?’ এবার আর খেকিয়ে উঠল না ইউরি।রহস্যময় একটা হাসি দিল শুধু। জবাব না পেয়ে মোবারক প্রসঙ্গ পাল্টাল।‘তাহলে কি মেয়েটাকে আবারও কিডন্যাপ করব?’ ‘অবশ্যই করবে।তবে সাবধান!এবার কিন্তু সাইফ অসতর্ক থাকবে না।’ *** রিসিপশনে ফর্মালিটিজ সম্পন্ন করে নিজের নতুন রুমে চলে এল উইলিয়াম গ্রেসন ওরফে সাইফ হাসান। সাইফ জানে,ওদের বর্তমান ঠিকানা বেশিক্ষন ইউরির অজানা থাকবে না।তবে সেটা সাইফের ঠিকানা।উইলিয়াম গ্রেসনের ব্যাপারে কোনো মাথাব্যাথা থাকার কথা না মোসাদের। উইলিয়াম গ্রেসনের ছদ্মবেশ খুলে আদি অকৃত্রিম সাইফ হাসান বনে গেল।ছদ্মবেশ খোলার আগে খুব ইচ্ছে করছিল গ্রেসন সেজে সুমাইয়ার রুমে নক করতে। মেয়েটা দরজা খুললেই “ভাউ” করে উঠবে! কল্পনায় সুমাইয়ার চেহারা সেই মুহূর্তে কেমন হতে পারে ভেবে হেসে ফেলল সাইফ। ছদ্মবেশ খুলে বেরিয়ে এল রুম থেকে।হোটেলের নিজস্ব রেস্তোরাঁয় গিয়ে সাপার সেরে নিল।সন্ধ্যা হয়েছে বেশ আগেই।এখনই খাবার সেরে না নিলে পরে সময় পেতে নাও পারে।সুমাইয়া আর সালাহউদ্দিন রুমেই খাবার খেয়ে নেবে।তেমনই কথা হয়েছে। খাবার শেষে সাইফ চলে এল পুরনো অর্থাৎ ওর নিজের রুমে। সেমি অটোমেটিক ডেজার্ট ঈগল পিস্তলটা কোমরে গোঁজা ছিল।রুমে ঢুকে বের করে একবার চেক করে নিল।সাতটা বুলেটই যথাস্থানে আছে।একটু পর সন্তুষ্ট হয়ে সেফটি ক্যাচ অন করে ফের কোমরে গুজে রাখল। এবার পকেট থেকে বের হল পিচ্চি একটা বস্তু।দুই ইঞ্চি ব্যাসার্ধের গোলাকার আকৃতির বস্তুটা একটা ব্লুটুথ ক্যামেরা।ত্রিশ ফুট দূরত্ব থেকে যেকোনো ব্লুটুথযুক্ত ডিভাইসের সাথে কানেক্ট করা যায়। ক্যামেরাটা চালু করে ওর সেলফোনের সাথে কানেক্ট করল সাইফ।সাথেই সাথেই স্ক্রিনে ছবি ফুটে উঠল।বেশ হাই রেজুলেশন ক্যামেরা।সব কিছু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।এটা সেলফোনের সাহায্যে দূর থেকে অপারেটও করতে পারবে সাইফ। ক্যামেরাটা রুম থেকে বারান্দায় যাবার দরজার মাথায় আটকে দিল সাইফ।লেন্সটা রইল বারান্দার দিকেই।ছোট্ট যান্ত্রিক চোখটা সহসা কারো চোখে পড়ার সম্ভবনা নেই।বিশেষ করে আগে থেকে জানা না থাকলে।আর জেনে ফেললেও সমস্যা নেই। ততক্ষনে সাইফের কাজ হয়ে যাবে।এখন ওর চোখ এড়িয়ে কেউ বারান্দা দিয়ে রুমে ঢুকতে পারবে না। এরপর চলে এল বিছানার কাছে।কোল বালিশ আর কম্বলের সাহায্যে একজন ঘুমন্ত মানুষ প্রতিকৃতি তৈরি করল বিছানায়।রুমের লাইটটা অফ করে দিলে বারান্দা দিয়ে চুইয়ে আসা আলোয় বোঝা অসম্ভব,এখানে সাইফ শুয়ে নেই। এ ঘরের কাজ শেষ।বেরিয়ে যাবার আগে শেষবারের মত একবার চোখ বুলিয়ে নিল গোটা রুমে।কোনো খুঁত চোখে পড়ল না।লাইট নিভিয়ে দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে চলে এল নতুন রুমটাতে।রুমে ঢুকে দরজা পুরোপুরি লাগাল না।চুল পরিমাণ ফাঁক রয়ে গেল। একটা চেয়ার নিয়ে দরজার সামনে রাখল।এক হাতে ডেজার্ট ঈগল আর অপর হাতে সেলফোন নিয়ে বসে পড়ল চেয়ারটাতে।দরজার ফাঁকটাতে চোখ রাখতেই পুরনো রুমের দরজা দেখা গেল।এদিকে হাতের সেলফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে বারান্দার ছবি।সামনে কি পেছনে,কোনো দিক থেকেই ওই রুমে সাইফের চোখ এড়িয়ে কারও অনুপ্রবেশ সম্ভব নয়। সাইফ বাজি রেখে বলতে পারবে,মোসাদ চুপ করে বসে থাকবার নয়।ওর উপর একটা হামলা চালানো হবেই।সাইফ যেহেতু ওদের পরিচয় জেনে ফেলেছে সুতরাং ট্রেজারের লোভে না হলেও অন্তত ওর মুখ বন্ধ রাখবার জন্য শেষ একটা আঘাত মোসাদ হানবেই। সেটা কবে জানে না।তবে সেজন্য হাত গুটিয়ে বসে থাকবার বান্দা নয় সাইফ।আসুক ওরা যখন,যেভাবেই- সাইফ প্রস্তুত। *** তিনঘন্টা পর।রাত একটা বিশ।হোটেলের গ্রান্ড হায়াত এর পেছনের গলিতে নিঃশব্দে থেমে দাঁড়াল মিশমিশে কালো রঙের একটা গাড়ি। তিনজন আরোহীদের মধ্যে দুজ’ন নেমে পড়ল গাড়ি থেকে।মোবারক আর শরীফ সাবরি।শরীফ বিশাল দেহের অধিকারী।গরিলার মত দু’বাহুতে অসুরের শক্তি।সাইফের মত হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাটে পারদর্শীও দু’বার ভাববে এই গরিলার সাথে ঝামেলায় জড়াতে। আগে রাস্তার গুন্ডা ছিল শরীফ।একটা মামলায় ফেঁসে গিয়ে ছ’বছরের জেল হবার উপক্রম হয়েছিল। ইউরি তাকে ছাড়িয়ে আনে জেল থেকে।ইউরির এজেন্সীতে যারা কাজ করে তাদের সবাই কোনো না কোনো ভাবে ঋণী ইউরির কাছে।ইসরাইলের সাথে মিশরের হিম শীতল সম্পর্কের কারণে এখানে পুরোপুরি স্থানীয় লোক দিয়ে অপারেট করে মোসাদ।ইউরি নিজেও মিশরীয় ভুয়া পরিচয়ে গাইড এজেন্সির ব্যবসা চালায়। সাইফকে যে কৌশলে কিডন্যাপ করা হয়েছিল,সুমাইয়াকে সেভাবে করা সম্ভব না।কিছুটা ঝুঁকি নিতেই হচ্ছে মোবারক আর শরীফকে। বিশাল হোটেল ভবনের চারপাশে কোনো বাউন্ডারি ওয়াল নেই।তবে সিসিটিভি রয়েছে ভবনের চারপাশেই।তবে বিশেষ একটা সিসিটিভি সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখার ব্যাবস্থা করা হয়েছে।প্রচুর টাকা এবং প্রভাব খাটাতে হয়েছে ইউরিকে এজন্য। কাঁধ থেকে দড়ির মই নামাল শরিফ।মইয়ের এক মাথায় লোহার হুক লাগানো রয়েছে।জায়গাটা নির্জন,এরপরও চারদিকটা দেখে নিয়ে মইটা দোতলার বারান্দার রেলিং লক্ষ্য করে ছুঁড়ল শরীফ। এটাই সুমাইয়ার রুমের বারান্দা।ওদের কন্টাক্ট নিশিচত করেছে। প্রথমবার মইটা জায়গামত বাঁধাতে ব্যর্থ হল শরীফ। রেলিং এ বাড়ি খেয়ে নীচের দিকে সরসর করে নেমে এল মইটা।দ্বিতীয়বার চেষ্টা করল।এবার কাজ হল।রাবার মোড়া থাকলেও মৃদু টং শব্দ করে উঠল হুকটা রেলিং এ বাড়ি লেগে। আঁধারে দ্রুত মই বেয়ে উঠে যেতে লাগল দুটো ছায়ামুর্তি। *** প্রায় তিন ঘন্টা ধরে ঠায় বসে আছে সাইফ। একাধারে কী-হোল আর সেলফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখতে রাখতে ও ক্লান্ত।কয়েকবার করেই মনে হল,আজ আর কেউ আসবে না,ঘুমিয়ে পড়ি।পরক্ষনেই চোখ রাঙ্গিয়েছে নিজেকে।বুঝিয়েছে,হাল ছাড়া তো তোমার স্বভাব নয়।এখন তবে এতটুকুতেই অস্থির হচ্ছ কেন? কিছুক্ষন পর সাইফ উঠে দাঁড়াল।বসে থেকে কোমর ধরে গেছে।জায়গায় দাঁড়িয়ে হাত পা খেলিয়ে নেয়ার ইচ্ছে।সাইফ উঠে দাঁড়াতেই মৃদু একটা “টং” আওয়াজ পেল।দু সেকেন্ড লাগল বুঝতে যে,শব্দটা ওর হাতে ধরা ফোন থেকেই এসেছে। সাইফ আর সুমাইয়ার রুম পাশাপাশি হওয়ায় হুকের সাথে রেলিং এর সংঘর্ষে তৈরি হওয়া মৃদু টং শব্দটা ক্যামেরার যান্ত্রিক কান এড়ায়নি।শব্দটা চিনতেও ভুল হয়নি সাইফের।এই জিনিস ও নিজেও ব্যাবহার করেছে ট্রেনিং এর সময়। স্নায়ু টানটান হয়ে গেল সাইফের।গভীর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে রইল স্ক্রিনের দিকে।অপেক্ষা করছে শত্রুর উপরে উঠে আসার। পাঁচ মিনিট কেটে যাবার পরও যখন কেউ উঠে এল না,তখনই বিদ্যুৎচমকের মত বুঝে ফেলল ব্যাপারটা। শত্রুরা ওকে নয় সুমাইয়াকে কিডন্যাপ করতে এসেছে! ‘শিট!’ নিজেকে কষে একটা গাল দিয়ে এক ঝটকায় দরজা খুলে ফেলল সাইফ।হাতে উদ্যত পিস্তল।এক নজরে করিডোর দেখে নিল।কেউ নেই।ক্ষীপ্র চিতার মত সুমাইয়ার রুমের দরজার সামনে চলে এল।কান পাততে হল না,দরজার সামনে দাঁড়াতেই ভেতর থেকে মেয়েলি কন্ঠের অস্ফুট আর্তনাদ ভেসে এল। শত্রু ঢুকে পড়েছে সুমাইয়ার রুমে!এখন কিছু করতে যাওয়া খুবই বিপদজনক হয়ে দাঁড়াবে মেয়েটার জন্য। স্থানুর মত দাঁড়িয়ে রইল সাইফ।অনেক দেরী করে ফেলেছে ও। ------------ ।। একাকি কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now