বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্পাই থ্রিলার,
মিশরীয় গুপ্তধন
আবুল ফাতাহ মুন্না
---------------
(পর্ব-১৬)
------------
সাত
হোটেল গ্র্যান্ড হায়াত,কায়রো।সময়,দুপুর দুটো।
খানিক আগেই এই হোটেলে চেক ইন করেছে
সাইফ,সুমাইয়া আর শেইখসালাহউদ্দিন।নীল হিলটন
ছেড়ে দিয়েছে নিরাপত্তার অভাবে।এই হোটেলও
যে খুব বেশিক্ষননিরাপদ থাকবে তা নয়।খুব শিঘ্রই
মোসাদ জেনে যাবে ওরা কোথায় উঠেছে।তবে
সাইফ যেপ্ল্যানটা করতে চাইছে তাতে করে কিছুটা
সময় প্রয়োজন।নতুন হোটেল সে সময়টুকু পাইয়েদেবে
ওকে।
তিনটে আলাদা আলাদা সিঙ্গেল রুম নিয়েছে ওরা।
পোর্টার মালপত্রপৌঁছে দিয়ে গেল।যে রুমে ওরা
এখন দাঁড়িয়ে সেটা শেইখ সালাহউদ্দিনের জন্য
বরাদ্দ করাহল।খাওয়া দাওয়া সেরে এসেছে।যার
যার রুমে ফিরে যাওয়া চলে।সাইফের কিছু কাজ
করতে হবেজরুরী।ওর নিজের ট্রাভেলব্যাগটা কাঁধে
তুলে নিতে নিতে বলল,‘আপনারা যে যার রুমে
ঢুকেলক করে রাখবেন দরজা।আমি ছাড়া কেউ এলে
খুলবেন না।ডাকা ছাড়া রুম সার্ভিস এলে
সরাসরিরিসেপশনে যোগাযোগ করবেন।এছাড়া
যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে ফোন করবেন।আর
আরেকটা কথা,আমরাযখন কেউ কারো রুমে যাব তখন
দরজায় পরপর তিনটা টোকা দেব,একটু বিরতি দিয়ে
আরো তিনটা,ঠিকআছে?’
সায় জানাল বাপ বেটি।
হঠাৎ জরুরী ব্যাপারটা মনে পড়তেই বুকটা ছ্যাৎ করে
উঠল সাইফের।এতক্ষনউত্তেজনায় খেয়ালই ছিল না।
মনে মনে নিজেকে কষে একটা গালি দিয়ে
সুমাইয়ার উদ্দেশ্যেজানতে চাইল,‘আচ্ছা
সুমাইয়া,আমাকে কাভার দেবার জন্য তখন আপনার
হাতে পিস্তলটাদিয়েছিলাম,সেটা কোথায়?’
চিন্তায় পড়ে গেল মেয়েটা।মোহনীয় ভঙ্গিতে
নীচের ঠোঁট কামড়াল।তবেসাইফের কাছে এই মুহূর্তে
মোটেও মোহনীয় লাগলো না ব্যাপারটা।বুঝতে
পারছে,পিস্তলটাখুইয়েছে মেয়েতা।এই বিদেশ
বিভুইয়ে এখন ও অস্ত্র যোগার করবে কোত্থেকে?
তারউপর পেছনেপড়ে আছে মোসাদ।
‘ওহ,মনে পড়েছে!’ চিৎকার দিয়ে উঠল সুমাইয়া।
সাইফের বুক আবারও ছ্যাত করে উঠল,এবার আশায়।
‘পিস্তলটা তো গাড়িতেই রেখে এসেছি?’
‘ট্যাক্সিতে?’
‘না না,প্রথমে যেটায় করে পালিয়েছিলাম।’
একই সাথে দু’রকমের অনুভূতি হল সাইফের।ট্যাক্সিতে
পিস্তলটাফেলে এলে ভাল বিপদই হত।এদিক থেকে
বাঁচোয়া। তবে পিস্তলটা আনবার জন্য আবারও
সেইগাড়ির কাছে যেতে হবে ভাবতেই দমে গেল
মনটা।তবে অস্ত্রটা ওর চাইই।
আর কিছু বলল না সাইফ এ ব্যাপারে।‘ওকে,আই ইউল
ম্যানেজ।আপনারাযে যার রুমে গিয়ে দরজা লক করে
দিন।’
বেরিয়ে এল সাইফ রুম থেকে।চলে এল নিজের
কামরায়।ব্যাগটা রেখেইকাজে নেমে পড়ল।কামরা
ছেড়ে সামনের করিডোরে চলে এল।করিডোর
ফাঁকা।ওর ঠিক পাশের রুমেরসামনে দাঁড়িয়ে দরজায়
কান পাতল সাইফ।ভেতর থেকে টিভির আওয়াজ
আসছে।বোর্ডার আছে রুমে।এবারচলে এল ওর
সরাসরি সামনের রুমের দরজায়।এখানেও দরজার
ওপাশে মানুষের অস্তিত্ব বোঝাযাচ্ছে।কিছুটা
শংকিত হয়ে পড়ল সাইফ।আশেপাশে একটা খালি
রুমের খুবই প্রয়োজন।
সুমাইয়ার রুমটা ওর ঠিক পাশেই।এবার কান পাতল
সুমাইয়ার রুমেরসরাসরি সামনের রুমের দরজায়।
ভেতরটা নিস্তব্ধ।তবে এখনই আনন্দিত হবার কিছু নেই।
হতেপারে বোর্ডার কোথাও গেছে।শিওর হতে হবে।
সেলফোন বের করে ডায়াল করল হোটেলের
রিসেপশনে।সাথেই সাথেইরিসিভ হল।
‘হোটেল গ্র্যান্ড হায়াত,কায়রো।মে আই হেল্প ইউ
স্যর?’
‘আমি একটা রুম বুক করতে চাইছি।’ সরাসরি কাজের
কথায় চলে এল।
‘শিওর স্যর,আপনি কবে চেক ইন করতে চান?’
‘আজই।এনিওয়ে,আপনাদের ২১৫ নাম্বার রুমটা কি
খালি পাওয়া যাবে?ওটা আমার লাকি নাম্বার।’
‘উমম,একটু ওয়েট করবেন প্লিজ?’
ফোনের ওপাশ থেকে খটাখট আওয়াজ ভেসে এল।
চেক করে দেখছেরিসিপশনিস্ট।
‘আমাদের সৌভাগ্য,স্যার,রুমটা এখনো খালি আছে।’
খানিক বাদেইসুললিত কন্ঠে জানাল মেয়েটা।
‘ওহ,থ্যাঙ্ক গড।’
‘কী নামে বুক করব,স্যর?’
‘উইলিয়াম গ্রেসন,ফ্রম ইউএসএ।’
***
গত এক ঘন্টা ধরে শপিংমলে ঘুরে ঘুরে কয়েকটা
জিনিস কিনেছেসাইফ।এর মধ্যে বেশিরভাগই
ছদ্মবেশ ধারনের সরঞ্জাম।সব কিছু একটা
ব্যাকপ্যাকে ভরে উঠেএকটা ট্যাক্সিতে উঠে পড়ল।
আপাতত গন্তব্য চিড়িয়াখানা।
আধঘন্টা পর ট্যাক্সি গন্তব্যে পৌঁছল।ভাড়া মিটিয়ে
পার্কিং এরিয়ায়চলে এল সাইফ।ট্যাক্সি থেকে
নামার সময় সদ্য কেনাহ্যাট আর সানগ্লাস চড়িয়েছে
যথাস্থানে।আসল চেহারা ঠাহর করা মুশকিল।
ইউরিরগাড়ি সকালে যেখানে রেখে গিয়েছিল,
এখনো সেখানেই আছে।সম্ভবত পুলিশে রিপোর্টকরা
হয়নি।কিংবা হলেও পুলিশ খুঁজে পায়নি।
চিড়িয়াখানায় গাড়ি রেখেযাবার বুদ্ধি কাজে
দিয়েছে।তবে গাড়ি থেকে পিস্তল বের করতে
যাওয়ায়ঝুঁকি আছে।অন্য বুদ্ধি বের করতে হবে।
এদিকওদিক চাইতেই কিছু ছেলে ছোকরাকে দেখা
গেল।টুরিস্ট স্পটে এদের দেখতে পাওয়া যায়।
সাধারনত ভদ্রভাবে ভিক্ষাকরে এরা টুরিস্টদের
কাছ থেকে।মাঝে মধ্যে টুকটাক দু একটা কাজ
করেওকিছু কামাই করে।এরকম একটা ছেলেকে
ইশারায় ডাক দিল সাইফ।ছেলেটাকাছে
আসতেইপকেট থেকে একটা মিশরীয় একশ ডলারের
নোট বের করল।
‘এটা পেতে চাও?’ নোটটাছেলেটার চোখের সামনে
দুলিয়ে বলল সাইফ।
চোখচকচক করে উঠল ছেলেটার।
‘ওই যে গাড়িটা দেখছো,ওটার সামনের সীটে একটা
পিস্তল আছে,ওটা নিয়ে আসতে হবে,পারবে?’ লোভ
থাকতে থাকতে বলল সাইফ।
পিস্তলেরকথা শুনেই ভয়ের একটা ছাপ পড়ল
ছেলেটার চেহারায়।পরক্ষণেই টাকারঅংক সমস্ত
দ্বিধা ভুলিয়ে দিল।নিদেনপক্ষেএটা ওর
তিনদিনেরকামাই।
কিছুনা বলে দৌড়ে চলে গেল ছেলেটা।
খানিকবাদেই একটা ন্যাকড়ায় জড়িয়ে
ধাতবঅস্ত্রটা নিয়ে এল।বুদ্ধি আছে ছোকরার।কারো
চোখে পড়ে যাবার ভয়ে কাপড়ে পেঁচিয়েএনেছে।
খুশিহয়ে আরো পঞ্চাশ ডলার বখশিশ দিল সাইফ।
সবচাইতেঝামেলার কাজটা ঝামেলা ছাড়া সম্পন্ন
হতেই হাপ ছাড়ল সাইফ।পিস্তলটাব্যাকপ্যাকে ভরে
পার্কিং এরিয়া থেকে চলে এল চিড়িয়াখানার
টয়লেটে।একটা কিউবিকলে ঢুকে ব্যাকপ্যাকখুলে
প্রথমেই একটা আয়না বের করল।আয়না দেখে এরপর
একে একে মাথায় সোনালীউইগ,চোখের উপর একই
রঙের ভ্রু,চোখের মনিতে নীল কন্টাক্টলেন্স আর
ঠোটের উপর পুরু গোঁফ লাগাল।গালের ভেতর ভরে
নিল একটু করে রাবারপ্যাড।মুহূর্তেই অন্য মানুষে
পরিণত হল সাইফ।
ছদ্মবেশসম্পন্ন হতেই ব্যাকপ্যাক থেকে একটা
ধ্যাদ্দেরে পাসপোর্ট বেরুলো। দেখে মনে হবে বহুল
ব্যাবহৃত। আসলে এর আগে পাসপোর্টটাকখনই ব্যাবহৃত
হয়নি।হবার প্রশ্নও আসে না।কারন পাসপোর্টটা
জাল। শিকাগোর এক নামকরা জালিয়াততৈরি করে
দিয়েছে জনৈক উইলিয়াম গ্রেসনের নামে।
এয়ারপোর্টের জাল সিল-ছাপ্পড়ও মারা আছে।
পাসপোর্টের ছবিটার সাথেসাইফের বর্তমান
চেহারার প্রায় হুবুহু মিল।আয়না দেখে ছোটখাট দু
একটাপরিবর্তন করে "প্রায়" সরিয়ে হুবুহু মিল নিয়ে
এল ছবির সাথে।সাইফ এখন পরিনত
হয়েছেআমেরিকান নাগরিক উইলিয়াম গ্রেসনে।
কাজ শেষ হতেই বেরিয়ে এল চিড়িয়াখানা থেকে।
ট্যাক্সিস্ট্যান্ডের দিকে তাকাতেই কৌতুকবোধ
করল।একটু আগে যে ট্যাক্সিতে করে
এখানেএসেছে,সেটাই এই মুহূর্তে সিরিয়ালে আছে।
যাক ভালই হল।ছদ্মবেশটা ঝালিয়ে নেয়া যাবে।
‘হোটেল গ্র্যান্ড হায়াত।’ কড়া মার্কিন
অ্যাকসেন্টে জানালারকাছে গিয়ে বলল সাইফ।
দ্বিতীয়বার আর ওর দিকে তাকাল না ড্রাইভার ওর
দিকে।মাথাঝাঁকিয়ে উঠতে বলল।
হোটেল গ্রান্ড হায়াতের দিকে চলল উইলিয়াম
গ্রেসন ওরফে সাইফহাসান।
---------------
।। একাকি কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now