বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিশরীয় গুপ্তধন-১৫

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X স্পাই থ্রিলার, মিশরীয় গুপ্তধন আবুল ফাতাহ মুন্না --------------- (পর্ব-১৫) ----------- ‘এই বাড়ির ছাদে?!’ আবারও গলা চড়ে গেল সুমাইয়ার। ‘হুম,’ শান্ত ভঙ্গিতে বলল সাইফ। ‘আপনার মাথা খারাপ হয়ে গেছে!’ প্রশ্ন না মন্তব্য,ঠিক বোঝাগেল না! ‘ছাড়া পেয়েও শত্রুর নাকের ডগায় বসে থাকবেন?’ হাতে একদমই সময় নেই,তবু মাথা ঠান্ডা রেখে ব্যাখ্যা করলসাইফ,‘দেখুন,এখন ওরা চারদিকে খোঁজ করতে লোক পাঠাবে।আমরা বেশিদূর যেতে পারব না,তারআগেই ধরা পড়ে যাব।কিন্তু এখানেই লুকিয়ে থাকলে আপনি যেমনটা ভাবছেন ওরাও হয়ত তেমনটাইভাববে।তবে আপনার কাছে এর চাইতে ভালো কোনো আইডিয়া থাকলে দিতে পারেন।’ সুমাইয়া চুপ করে থাকল,নেই আইডিয়া। ‘ওকে,তাহলে যা বলি সেটাই করুন।’ কথা শেষ করেই সাইফ বাউন্ডারি ওয়ালে উঠে পড়ল। টেনে তুললসুমাইয়াকে।সেখান থেকে একটা কার্ণিশে উঠে আবারও টেনে তুলল মেয়েটাকে। কার্নিশ থেকেছাদে ওঠা সহজ।ওরা ছাদে ওঠা মাত্রই মোবারকের নেতৃত্বে তিনজন লোক বাড়ির পেছনের ফাঁকাঅংশটায় চলে এল।আর কয়েক সেকেন্ড দেরী হলেই চোখে পড়ে যেত ওরা। মোবারকসহ সবাইস্কাইলাইটের সামনে চলে এল। শিকগুলো কাটা দেখেই বুঝতে পারলো পাখি উড়াল দিয়েছে। মোবারকচিৎকার করে নির্দেশ দিল,‘জলদি গাড়ি বের করো,ওরা এখনো বেশিদূর যেতে পারেনি।’নির্দেশ দিয়েই বাড়িরসামনের উঠোনে চলে এল সাঙ্গপাঙ্গ সহ। সাইফও ছাদেরসামনের অংশে চলে এল।সন্তর্পণে নীচে উকি দিতেই দেখতে পেল,ইউরি আরো দুজনকে নিয়ে দাঁড়িয়েআছে।মোবারক এসে জানাল,পেছনে কী দেখে এসেছে।শুনেই রাগে ফেটে পড়ল ইউরি। এরই মধ্যে গ্যারেজথেকে দুজন দুটো গাড়ি বের করে ফেলেছে।গাড়ি এসে দাঁড়াতেই একটাতে মোবারকসহ দুজন উঠল,অপরটাতেইউরি বাকি দুজনকে নিয়ে উঠে পড়ল।দুজনকে সাইফ ধরাশায়ী করায় লোকবল কমে গেছে,সেজন্যই বোধহয়খোদ ইউরি বেরিয়ে পড়েছে।কিংবা হয়ত উৎকন্ঠা সামলাতে পারেনি। গেট দিয়েবেরিয়েই সাঁ করে দুটো গাড়ি দুদিকে চলে গেল।কারো মাথায়ই এল না,যাদের খোঁজে কায়রো চষেফেলার উপক্রম করতে যাচ্ছে, তারা এই মুহুর্তে বন্দিশালার ছাদে বসে হাওয়া খাচ্ছে! গেটে একজনকেশুধু পাহারায় রেখে যাওয়া হয়েছে। গার্ড অস্ত্রধারী।হোলস্টারে একটা হ্যান্ডগান দেখা যাচ্ছে। সুমাইয়াকেনিয়ে নীচে নেমে এল সাইফ।হাতে এখনও উজিটা ধরা।বাড়ির বাইরেবের হবার আগে দরজাটাসামান্য ফাঁক করে উকি দিল সাইফ।গার্ড ওদের দিকে পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে আছে। হোলস্টারের অস্ত্রটাচিনতে পারল এবার সাইফ। ডেজার্ট ঈগল। এক ঝটকায়দরজাটা খুলেই বেরিয়ে এল সাইফ।হাতে উজি প্রস্তুত।দরজা খোলার আওয়াজে হোলস্টারের দিকেহাত বাড়াতে যাচ্ছিল গার্ড,সাইফের হাতের ভয়ংকর অস্ত্রটা দেখে হাতটা মাঝপথেই জমে গেল। ‘পিস্তলটাহোলস্টার থেকে বের করে এদিকে ছুড়ে দাও।’ গমগম করে উঠল সাইফের গলা। গার্ড বুদ্ধিমান।সময় নষ্ট না করে ডেজার্ট ঈগল বের করে ছুড়ে দিল ওদের দিকে।কিছুটা দূরে গিয়ে পড়ল অস্ত্রটা। ‘সুমাইয়া,পিস্তলটানিয়ে আসুন,আমি আপনাকে কাভার দিচ্ছি।’ সুমাইয়াকথা না বলে এগিয়ে গেল।অস্ত্রটা মাটি থেকে তুলে ফিরে আসতে লাগল।সাইফ নিষ্কম্প হাতে কাভারকরছে ওকে।নজর গার্ডের দিকে।মাঝে আড়চোখে সুমাইয়ার দিকে তাকাল একবার।ঠিক সেই সময়ই অসঙ্গতিটা নজরে পড়ল ওর। তাকাতেই দেখতে পেল,সুমাইয়ার চোখজোড়া বিস্ফারিত হয়ে গেছে। দৃষ্টি ওর পেছনে নিবন্ধ।কিছু একটা বলতে চাইছে,কিন্তু প্রবলআতঙ্কে মুখে কথা সরছে না। সাইফেরষষ্ঠ ইন্দ্রিয় চিৎকার করে বলে উঠল-বিপদ! এক মুহূর্তওদেরী করল না ও।চোখেরপলকে ডাইভ দিয়েছে।ডান কাধের উপরে ভর দিয়ে মাটি স্পর্শ করল ওর দেহ। একই সাথে পুরো শরীরটাঘুরিয়ে ফেলেছে।ওর পেছনে উদ্যত ছুড়ি হাতে দাঁড়িয়ে আছে করিম। শরীর মাটিস্পর্শ করবার আগেই ট্রিগারে চাপ দিয়েছে সাইফ।প্রবল গতিতে ধেয়ে গেল তপ্ত বুলেট। ঝাঁঝরাহয়ে গেল করিমের দেহ।মাটিতে পড়ার আগেই মারা গেছে। সাইফেররিফ্লেক্স দেখে হাঁ হয়ে গেছে উপস্থিত দু'জনের মুখ।একজন মানুষের প্রতিক্রিয়া এত দ্রুতহয় কিভাবে! উঠে দাঁড়ালসাইফ।বুঝতে পারছে,ওর উজির বুলেট শেষ। ব্যাপারটা গার্ড বুঝতে পারার আগেই সুমাইয়ার হাতথেকে ডেজার্ট ঈগলটা নিয়ে নিল। ‘থ্যাংকস।’পিস্তলটা নেবার সময় ছোট্ট করে বললসাইফ। সুমাইয়াকথা বলল না।নীরবে পিস্তলটা বাড়িয়ে দিল। সাইফ ধারণা করতে পারল ব্যাপারটা।একটু আগেই করিমের জ্ঞান ফেরে।বুঝতেপারে কিছু একটা গোলমাল হয়েছে।আসল ঘটনা জানার জন্য অফিসরুমে আসতেই সাইফকে দাঁড়ানো দেখতেপায়।অফিসরুম থেকেই একটা ছুড়ি যোগার করে পেছন থেকে হামলা করতে চেয়েছিল সাইফের উপর। নষ্ট করারমত সময় নেই।দারোয়ানের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করল,‘গ্যারেজে আর কোনো গাড়ি আছে?’ ‘একটাআছে।’ সাইফ কথানা বলে সুমাইয়ার হাতে পিস্তলটা ধরিয়ে দিল।ওকে কাভার করতে বলে দারোয়ানকেঝটপট বেঁধে ফেলল।ব্যাবহার করা হল,করিমের জুতোর ফিতা। বাঁধা হতেই,গ্যারেজেচলে এল ওরা দুজন।ঝকঝকে একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে।গাড়িটা সম্ভবত।ইউরির ব্যাক্তিগত। বেশযত্নআত্তি করা হয়।গাড়িতে উঠে ইগনিশনের তারে কারিগরি ফলিয়ে স্টার্ট দিল সাইফ।গেট পেরিয়েছুটে চলল র্যামসিসের উদ্দেশ্যে। সুমাইয়ারমুখটা থমথম করছে।লক্ষ্য করতেই দেখতে পেল, মেয়েটা কাঁপছে অল্প অল্প।আন্দাজ করতে পারলকারণটা।জীবনের প্রথম চোখের সামনে কাউকে খুন করতে এবং হতে দেখে শক পেয়েছে মেয়েটা।সাইফকিছু বলল না।এখন নীরবতাই অষুধের কাজ করবে।সুমাইয়া নিজেও জানে,এছাড়া আর কোনো উপায় ছিলনা ওর।এই খেলাটার নামই হল,“ডু অর ডাই”। কিছুদূরচালিয়ে আসার পর চিড়িয়াখানার গেট চোখে পড়তেই গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়ল সাইফ। সুমাইয়াচোখ কপালে তুলে চাইল ওর দিকে। অবশ্যাম্ভী প্রশ্নটা আসার আগেই সাইফ বলে উঠল,‘এই গাড়ি নিয়ে বেশিদূর যাওয়া যাবেনা। এখানে গাড়িটা লুকিয়ে রেখে ট্যাক্সি ধরে চলে যাব।এখানে অনেক গাড়ির ভীড়ে খুঁজে পেতেকিছুটা হলেও সময় বেশি লাগবে।’ গাড়িটাছেড়ে দিল ওরা।ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে ট্যাক্সি নিয়ে গন্তব্যের পথ ধরল। গতরাতে কিডন্যাপ হবার সময় ওয়ালেট সাথে নিতে পারেনি সাইফ।গন্তব্যেপৌঁছে ট্যাক্সিকে দাঁড়াতে বলে ভেতরে চলে এল ওরা।ড্রয়িংরুমে বসে ছিলেন শেইখসালাহউদ্দিন।মাথাটা দু হাতে টিপে নীচের দিকে মুখ করে আছেন।কপালে একটা ব্যান্ডেজবাধা।ওদের উপস্থিতি টের পেয়েই যেন একটা ঝাঁকি খেলেন।এই ক’ঘন্টার দুঃশ্চিন্তাএকেবারে কাহিল বানিয়ে দিয়ে গেছে তাঁকে শারীরিক মানসিক দুভাবেই।কয়েক মুহূর্ত বোবাদৃষ্টি মেলে তাকিয়ে থেকে সুমাইয়াকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।দুজনের চোখেই পানি। এমন সময় সাইফ বেরসিকের মত “খুক” করে কাশি দিল।পরস্পরকে ছেড়েদিল ওরা। ‘বাইরে ট্যাক্সি অপেক্ষা করছে,কাউকে দিয়ে ভাড়াটা দিয়েপাঠালে ভাল হত।’ ‘ওহ,শিওর।’ কাজের লোককে পাঠালেন শেইখ সালাহউদ্দিন। *** ডাইনিং টেবিলে বসে আছে ওরা তিনজন।প্রচন্ড ক্ষুধা পেয়েছেসবারই।খেতে খেতেই পুরো ঘটনা শেইখ সালাহউদ্দিনকে খুলে বলেছে সাইফ।শুনে চুপ মেরেগেছেন ভদ্রলোক।বুঝতে পারছেন,কিসের ভেতর জড়িয়ে পড়েছে তারা। ‘আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।’ হঠাৎ বলে উঠলেন শেইখ সালাহউদ্দিন। লজ্জা পেয়ে গেল সাইফ।এমনিতেই তাদের বিপদে ফেলে দিয়েছে ও।‘ধন্যবাদদিয়ে আমাকে ছোট করবেন না প্লিজ।আমার বরং লজ্জিত হওয়া উচিত। আমার জন্যই আপনারাঝামেলায় পড়ে গেছেন। শেইখ সালাহউদ্দিন হাসলেন।‘দেখুন,মি.সাইফ,নাসের আমাকে বলতে গেলে রাস্তা থেকে তুলে এনে এই বিশাল প্রাসাদোপমবাড়িতে আশ্রয় দিয়েছে।তার অবদান এত সহজে শোধ হবার নয়।তবে আপনি যদি ভেবে থাকেন,শুধুনাসেরের প্রতি কৃতজ্ঞতা থেকে আপনাকে সাহায্য করছি,তাহলে ভুল ভাববেন।এটা সম্পুর্নআমার নিজের মানবতাবোধ থেকে করছি। আপনি যদি এতদূর থেকে প্রাণ হাতে করে আসতে পারেন,আমিআপনাকে সামান্য সাহায্য করতে পারব না?তবে আসল কথা হল,আমি আপনার তেমন কোনো কাজেইআসতে পারিনি।পিরামিডের সন্ধান দিলাম,তাও সেখানে ট্রেজার নেই।’ ‘নেই,তারমানে আর কখনই খুঁজে পাওয়া যাবে না,এমন কোনো কথানেই।’ সাইফ বলল।সালাহউদ্দিনের কথায় বুক থেকে একটা বড়সড় ভার নেমে গেছে।‘আমারবিশ্বাস ধাঁধাটার সমাধান করলেই ট্রেজারের হদিস বের করা সম্ভব।’ ‘হুম,তাহলে আপনার পরবর্তী প্ল্যান কী এখন?’ ‘এতদিন আমাদের প্রধান সমস্যা ছিল ট্রেজারের হদিস বেরকরা।তার সাথে এবার যুক্ত হয়েছে মোসাদ উপদ্রব।বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের লোভ সামলানো বড়ইমুশকিল।ইউরি কিছুতেই হাল ছাড়বে না।সমস্ত লোকাল এজেন্টকে সতর্ক করে দিয়েছে নিশ্চয়ইএতক্ষনে।আবার হামলা চালাতে পারে ওরা। এজন্য আমার মতে আপাতত আপনাদের এই বাড়িটাতেথাকা নিরাপদ না।’ ‘তাহলে?আমাদের তো তেমন আত্মীয়স্বজনও নেই।’ ‘সেক্ষেত্রে হোটেলে থাকতে হবে আমার সাথে। বেশিদিন আশা করিথাকতে হবে না।ট্রেজার পেয়ে গেলেই বিপদ কেটে যাবে।’ সাইফ জানে,ট্রেজার পাবার পরইআসল বিপদ শুরু হবে।মরিয়া হয়ে মোসাদ মরণকামড় দেবে তখন।তবে এখনই একথা বলে এদের ভড়কেদেবার ইচ্ছে নেই ওর। খেই ধরল,‘হোটেলে থাকলে আরো বড় যে সুবিধাটা আমরা পাব সেটাহল,মোসাদ বড় ধরনের হামলা চালাতে সাহস পাবে না।হয়ত ট্রেজারের হদিস পাবার জন্য আমাকেআবারও কিডন্যাপের অ্যাটেম্পট নিতে পারে।’ একটু থামল সাইফ।‘তবে এবার আর আমাকেঅপ্রস্তুত অবস্থায় পাবে না মোসাদ।’ শেষ কথাটা বলার সময় রহস্যময় একটুকরো হাসি ফুটে উঠল সাইফেরঠোঁটের কোনে। ----------- ।। একাকি কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now