বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্পাই থ্রিলার,
মিশরীয় গুপ্তধন
আবুল ফাতাহ মুন্না
----------------
(পর্ব-১৪)
--------------
সাইফ বলতে লাগল,‘স্কাইলাইটের ওপাশে খানিকটা
ফাঁকা জায়গা আছেতারপরই বাড়ির পেছনের
বাউন্ডারি ওয়াল।এই ফাঁকা জায়গাটাতে টহল
দিচ্ছে দুজনগার্ড।ভালভাবে লক্ষ্য করলে
দেখবেন,প্রতি বিশ সেকেন্ড পর পর তারা পরস্পরকে
ক্রসকরছে ঠিক এই স্কাইলাইটের সামনে এসে।’ থামল
সাইফ।
‘হুম,তাতে কী প্রমান হয়?’
‘তাতে প্রমাণ হয় এই স্কাইলাইটটা বাড়ির ঠিক মাঝ
বরাবর।’
সুমাইয়ার চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে কিছু
বোঝেনি।সাইফ বলেযেতে লাগল,‘তারমানে ওরা
পরস্পরকে এই স্কাইলাইটের সামনে এসে ক্রস করবার
পর বাড়িরশেষ মাথায় গিয়ে আবার ঘুরে ফিরে
আসতে থাকে।এই দশ সেকেন্ড তারা দুজনেই
স্কাইলাইটেরদিকে পেছন ফিরে থাকে।আমাদের এই
দশ সেকেন্ড সময়ই প্রয়োজন।এই সময়ের মধ্যেই ধীরে
ধীরেশিকগুলো কাটতে হবে।
‘হুম,গুড আইডিয়া।তবে আরেকটা সমস্যাও তো আছে।
শিক না হয় ওদেরঅগোচরে কাটা গেল কিন্তু ওদের
অগোচরে তো বের হওয়া সম্ভব না।’
সাইফ হেসে ফেলল।‘আপনি তো দেখছি একের পর এক
সমস্যা বের করেযাচ্ছেন।চিন্তার কিছু নেই,ওটাও
ভেবে রেখেছি।আপনাকে সামান্য হেলপ করতে
হবে।আপাততআপনি একটু বিশ্রাম নিয়ে নিতে
পারেন।কাল আবার ঝক্কি পোহাতে হতে পারে।রাত
অবশ্য খুববেশি বাকিও নেই।’
সুমাইয়া কিছু না বলে কটে গিয়ে বসে পড়ল।
সাইফ কিছুটা এগিয়ে গিয়ে নজর দিল স্কাইলাইটের
দিকে।ফাঁকা ওপাশটা।ঘনআঁধার।খানিক বাদেই
আকাশটা মুহূর্তের জন্য ঢেকে যেতেই সাইফ বুঝতে
পারল,গার্ড দুজনএইমাত্র পরস্পরকে ক্রস করল।পরবর্তী
দশ সেকেন্ড তারা স্কাইলাইট থেকে পেছন ফিরে
থাকবে।
দু সেকেন্ড পর কাজ শুরু করল সাইফ।মিনি
অক্সিটিলিন গানটাচালু করে একটা শিকের এক
প্রান্তে ধরল।খুবই মৃদু হিস হিস শব্দের সাথে কেটে
যেতেলাগল লোহা।ছয় সেকেন্ড সময় নিল শিকটা
কাটতে।কাটা হতেই সাথে সাথে স্কাইলাইটের
কাছথেকে সরে এল সাইফ।লোহাটা এখন উত্তাপে
কমলা বর্ণ ধারণ করে আছে।মনে মনে
প্রার্থনাকরল,ব্যাপারটা যেন গার্ডদের কারো
চোখে ধরা না পড়ে।ধরা পড়ল না।খানিক বাদে
আবারওআকাশ ঢেকে যেতেই কাজে নেমে পড়ল
সাইফ।আগের শিকটার অপরপ্রান্ত এবার কাটতে
লাগল।এবারওনির্বিঘ্নেই কাটতে সক্ষম হল।পুরোপুরি
কাটেনি।কটের পায়ার মতই সামান্য একটু অংশ
রেখেদিয়েছে,যেন হ্যাঁচকা টানে খুলে আসে।মোট
তিনটা শিক এভাবে কাটতে পারলেই বের
হবারজায়গা বেরিয়ে যাবে।এর বেশি কাটা যাবে
বলেও মনে হয় না।এই অক্সিটিলিন গানটার
ক্ষমতাখুবই কম।
পরবর্তী দশ মিনিট অত্যন্ত সতর্কতার সাথে গার্ডদের
নজর বাঁচিয়েশিকগুলো কেটে ফেলল সাইফ।একই
সাথে সময়য়ের চুলচেরা হিসেবও রাখতে হচ্ছে।এক
সেকেন্ডএদিক ওদিক হলেই আগুনের শিখা চোখে
পড়ে যাবে গার্ডদের।
কাজ শেষ হপ্তেই স্কাইলাইটের কাছ থেকে সরে এল।
আপাতত আর কোনোকাজ নেই।এবার সকালের
অপেক্ষা।কাজের মাঝখানে একবার ফিরে তাকিয়ে
দেখেছে সুমাইয়াদেয়ালের দিকে মুখ করে কটে
শুয়ে আছে।জেগে আছে না ঘুমিয়ে পড়েছে বোঝা
যাচ্ছে না।এমনমানসিক অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ার কথা
না।তবে আসলেই ঘুমিয়ে পড়লে ব্যাপারটা সাইফের
জন্যইতিবাচক।তাহলে ধরে নেয়া যায় মেয়েটা ওর
উপর ভরসা করতে শুরু করেছে।এই মুহূর্তে মনেরজোরের
বিকল্প নেই।
***
লোহার গেট খোলার আওয়াজে ঘুম টুটে গেল
সাইফের।কাজ সেরেদেয়ালে পিঠ
ঠেকিয়েছিল,তাতেই ঘুমিয়ে পড়েছে।বেশিক্ষন
হয়নি,বড়জোর একঘন্টা।সুমাইয়াওশব্দ পেয়ে উঠে
বসেছে।ছোট্ট সেলটায় করিম এবং আরেকজন লোক
প্রবেশ করল এইমাত্র।অপরজনকেআগে দেখেনি
সাইফ।কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়ল।বাড়িটাতে মোট
কতজন লোক আছে জানা থাকলেকাজে দিত।আরও
আশংকার কথা আজ আর হ্যান্ডগান না,রীতিমত উজি
নিয়ে এসেছে করিম! ইজরাইলেরতৈরি
সাবমেশিনগান।আকারে ছোট,সহজে বহনযোগ্য এই
ভয়াবফ মারনাস্ত্র বেশ জনপ্রিয়।কলাপসডঅবস্থায়
মাত্র সতেরো ইঞ্চি।
‘জলদি বের হও,’ করিম হাতের অস্ত্র নেড়ে ইশারা
করল ওদের,‘বসঅপেক্ষা করছে তোমাদের জন্য।
সাঁইফ জবাব দেবার আগে পলকের জন্য সুমাইয়ার
দিকে তাকাল।চোখেচোখে কথা হয়ে গেল দুজনের।
প্রতিপক্ষের মনোযোগ সরাতে সাইফ বলল,‘তোমার
বসকে গিয়েবলো,ট্রেজারের সন্ধান আমি জানি
না।’
‘ওসব ধানাই পানাই চলবে না,’ ক্ষেপে গেল
করিম,‘যা বলার বসকেগিয়ে বলবে।’
সুমাইয়া খাট থেকে নামার সময় পায়াটা
প্রতিপক্ষের অগোচরে খুলেনিয়ে জামার হাতায়
ভরে ফেলেছে।চোখের কোন দিয়ে ব্যাপারটা
লক্ষ্য করল সাইফ।আর দেরীকরার মানে হয় না।এবার
আসল কাজে নামার সময় এসে গেছে।
‘ঠিক আছে,চলোতাহলে,ইউরিকেই বলব সব,’ হাল
ছেড়ে দেয়ার ভঙ্গি দেখা গেল সাইফের মধ্যে।
সাইফ আগে সুমাইয়াকে যাবার সুযোগ করে দিল।
সবার আগেসুমাইয়া,এরপর দ্বিতীয় লোকটা,তিন
নাম্বারে সাইফ,সবশেষে করিম লাইন ধরে উপরে
ওঠারসিড়ির দিকে এগোলো।
সাইফের প্রতিটি পেশী ধনুকের ছিলার মত টান টান
হয়ে আছে।আরফুট বিশেক সামনেই উপরে ওঠার
সিঁড়ি।যা করবার এর মধ্যেই করতে হবে।আড়চোখে
একবার দেখেনিল,করিম ওর ঠিক দুই ফুট পেছনেই
আছে।উজিটা ওর মাথা বরাবর তাক করা।সাইফ বুঝতে
পারছেকরিম একেবারেই অ্যামেচার।হয়ত স্থানীয়
গুন্ডাপান্ডা হবে।নয়ত ওর গায়ে গায়ে লেগে
থাকতনা।কমপক্ষে চার ফুট পেছনে থাকত।
আর যখন পনেরো ফুট দূরে সিঁড়িটা ঠিক তখনই বিদ্যুৎ
খেলে গেলসাইফের দেহে।ঝট করে জায়গায় বসে
পড়ল।সাইফের আচমকা বসে পড়াতে ওর ঠিক দুই ফুট
পেছনেথাকা করিম ভারসাম্য হারাল।সাইফের উপর
হুমড়ি খেয়ে পড়তে গিয়েও সামলে নিল নিজেকে।
তবেভারসাম্য হারিয়েছে ক্ষণিকের জন্য।এই সময়টাই
প্রয়োজন ছিল সাইফের।আগের চাইতেও দ্রুতগতিতে
আবার উঠে দাঁড়াল সাইফ।পুরোপুরি ওঠার আগেই
একটা আপারকাট ঝাড়ল করিমের থুতনিলক্ষ্য করে।
সেই সাথে হাঁটুর ঠিক উপরে কড়া করে এক লাথি।
আপারকাটটা বড় শক্ত মার ছিল! সামলাতে পারল না
করিম।“হুক”জাতীয় একটা শব্দ করে আছড়ে পড়ল
মাটিতে।
এদিকে পেছনে গন্ডগোল টের পেয়ে অপর লোকটা
ফিরেতাকিয়েছিল।ততক্ষণে করিম মাটিতে আশ্রয়
নিয়েছে।সাইফ দ্বিতীয় লোকটার দিকে মনোযোগ
দিতেচাইল,কিন্তু তার দরকার পড়ল না।
সুমাইয়ারদিকে পেছন ফিরতেই আস্তিন থেকে
লোহার পায়াটা বের করে ধাঁই করে লোকটার
মাথায় মেরেবসল মেয়েটা।চোখ উলটে কাটা কলা
গাছের মত সটান আছড়ে পড়ল এই লোকটাও।পুরো
ব্যাপারটা ঘটেগেল মাত্র ছয় সেকেন্ডেরও কম
সময়ের মধ্যে।
‘নাইস ওয়ার্ক!’ হেসে বলল সাইফ।ইশারায় বাকি
কাজ সারতে বলল।
সুমাইয়াও হেসে ফেলল।মাথা ঝাঁকিয়ে আবার
সেলের দিকে রওনা হয়েগেল।যাবার আগে
সংজ্ঞাহীন করিমের মাথায় সপাটে হাতের রডটা
আবার চালাল।এটা প্ল্যানেছিল না।বাপকে মারার
প্রতিশোধ নিল আরকি!
মুখ ঘুরিয়ে আবারও হেসে ফেলল সাইফ।হাত বাড়িয়ে
করিমের পাশথেকে উজিটা তুলে নিল।ট্রেনিং-এ
অস্ত্রটা আগেও চালিয়েছে সাইফ।ওজন অনুভব করে
বুঝতেপারল ফুললি লোডেড।
পা বাড়াল সিঁড়ির দিকে।সিঁড়ি বেয়ে চলে এল
করিডোরে।এখান থেকেইউরির অফিস রুম দেখা
যাচ্ছে।ওটাই সম্ভবত মিশরে মোসাদের নার্ভ
সেন্টার।এই রুম থেকেইনেটওয়ার্ক পরিচালনা করে
ইউরি।
উজিতে সাধারণত ২৫ রাউন্ড বুলেট থাকে,তবে ৪০
থেকে ৫০ রাউন্ডপর্যন্ত এক্সপেন্ডবল করা যায়।এটার
ম্যাগাজিন এক্সপেন্ডবল করা হয়েছে।
উজিটা তুলে সেফটি ক্যাচ অফ করল সাইফ।এক পশলা
গুলী ছুড়ে দিল ইউরিরঅফিসের বন্ধ দরজা লক্ষ্য
করে।প্রথম দফাতেই প্রায় অর্ধেক ম্যাগাজিন খালি
করে ফেলল।ভারীওক কাঠের দরজার সারফেস ছিন্ন
বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল নিষ্ঠুর বুলেটের আঘাতে।তবে
ওপাশেরকারো ক্ষতি করতে পারেনি বোধহয়।দরজা
একেবারে ফুটো হয়নি।তার প্রয়োজনও নেই।সাইফ
স্রেফআতংক সৃষ্টি করতে চাইছে।সাইফের উদ্দেশ্য
সফল।গুলীবর্ষণ থামতেই,দরজার ওপাশ থেকেহল্লার
আওয়াজ ভেসে এল।সাইফ অপেক্ষা করছে।এমন সময়
নীচের সেল থেকে সুমাইয়ার চিৎকারভেসে এল।
এটার অপেক্ষাতেই ছিল সাইফ।তবে চিৎকার শুনেই
নড়ল না জায়গা ছেড়ে।গুলীবর্ষণেছেদ পড়েছে
দেখে কেউ একজন ইউরির রুমের দরজা খুলতে গেল
পরিস্থিতি আঁচ করবার জন্য।সাথেসাথেই দ্বিতীয়
দফা বুলেট ওগড়ালো সাইফের উজি।ঝট করে ফের
দরজা বন্ধ হয়ে গেল।
আর সামান্য কিছু বুলেট অবশিষ্ট আছে হাতের
অস্ত্রটায়।এটাকাজে লাগতে পারে।উজিটা নিয়েই
সিঁড়ি বেয়ে আবার নীচে চলে এল সাইফ।
সুমাইয়া উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে আছে সেলে।ওকে
দেখেই জানাল,গার্ডদুজন টহল বাদ দিয়ে বাড়ির
সামনের অংশে চলে গেছে।
এখন পর্যন্ত সব কিছু সাইফের প্ল্যান মাফিকই ঘটছে।
ওদেরপালানোর পথে সবচাইতে বড় বাধাটা ছিল
পেছনের এই দুই গার্ড।তাদের এখান থেকে
সরাবারজন্য প্রয়োজন ছিল একটা ডাইভার্শন
ক্রিয়েট করা।সেটাই করেছে সাইফ।বাড়ির সামনের
অংশেগোলাগুলীর আওয়াজ শুনে গার্ড দুজন স্থান
ত্যাগ করেছে।এরা প্রফেশনাল হলে অন্ততএকজনকে
রেখে যেত এখানে।এখানেই একজন ওয়েল ট্রেইন্ড
কমান্ডোর সাথে সাধারণ গুন্ডাপান্ডাদের পার্থক্য।
সাইফ এগিয়ে গিয়ে হ্যাঁচকা টান দিয়ে গতরাতে
কেটে রাখা তিনটাশিকই একে একে খুলে ফেলল।
বিপদের আশংকায় আগে নিজেই মাথা গলালো সদ্য
গজানো ফাঁকে।কেউনেই এখানে।বেরিয়ে পড়ল
সাইফ।এরপর সুমাইয়াকেও বের হতে সাহায্য করল।
হাতের উজিটা একমুহুর্তের জন্যও হাতছাড়া করেনি।
বের হয়ে সাইফকে এদিক ওদিক তাকাতে দেখে
সুমাইয়া ব্যাগ্রকন্ঠে বলে উঠল,‘জলদি চলুন,পালাতে
হবে এখান থেকে।’
‘উহু,এখনই না।’
‘মানে?!’ গলা চড়ে গেল সুমাইয়ার।
‘আস্তে!’ মুখে হাত চাপা দিল সাইফ।‘শুনুন,এখন ওরা
ওরা গরুখোঁজা খুঁজতে থাকবে আমাদের,সেজন্য এমন
কোথাও লুকাতে হবে যেটা ওরা কল্পনাও
করতেপারবে না।’
‘কোথায় সেটা?’
বলল সাইফ।শুনে সুমাইয়ার চেহারা দর্শনীয় এক
বস্তুতে পরিণতহল।
-----------
।। একাকি কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now