বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিশরীয় গুপ্তধন-১৩

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X স্পাই থ্রিলার, মিশরীয় গুপ্তধন আবুল ফাতাহ মুন্না ---------------- (পর্ব-১৩) ----------- ‘মোসাদ!’ আতকে উঠল সুমাইয়া। ‘হুম,ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা,যাদেরকে এসপিওনাজ জগতে ‘লাইসেন্সধারীখুনী’ বলা হয়।তবে আমার ধারণা মোসাদ এই ব্যাপারে সরাসরি সম্পৃক্ত না।এখানকারইনচার্জ ইউরি কোলম্যান মোসাদের একজন ফিল্ড এজেন্ট ছিল আগে।বারো বছর আগে বাংলাদেশেএকটা মিশনে গিয়ে ধরা পড়ে যায়। পরে কুটনৈতিক চাপে মুক্তি পেলেও সম্ভবত ওকে ডেক্স-জবদিয়ে মিশরে পাঠিয়ে দেয়া হয়।ইউরি এখন চাইছে এই ট্রেজার উদ্ধার করে সেই হারানোসম্মান পুনরুদ্ধার করতে।ফিল্ডে কাজ করার সময় পেরিয়ে এসেছে লোকটা,তবে ট্রেজারমোসাদের হাতে তুলে দিতে পারলে মোসাদের অনেক বড় পদে অধিষ্ঠিত হতে পারবে সে।এজন্যইএকেবারে মরিয়া হয়ে গেছে। অবশ্য মোসাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকলেও তাতে আমাদেরবিশেষ কোনো লাভ হচ্ছে না। মোসাদের নেটওয়ার্ক সে ঠিকই ব্যাবহার করতে পারবে।যেহেতু সে-ইমিশর ব্রাঞ্চের ইনচার্জ,সেহেতু কাউকে জবাবদিহিও করতে হবে না তার।ইউরি তার শক্তিরপুরোটাই ব্যাবহার করবে।সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ ঘোলাটে।’ ‘হুম,কিন্তু এই লোকটা মোসাদের জন্য ট্রেজার উদ্ধার করতেচাইছে-সেটা ভাবছেন কেন? নিজের জন্যও তো করতে পারে।’ ‘মোসাদ সম্পর্কে আপনার ধারণা নেই দেখেই বলতে পারছেনএটা।আপনার ধারণা ইউরি ট্রেজার উদ্ধার করতে পারলেও এই টাকা ভোগ করতে পারবে? সর্বোচ্চএক সপ্তাহ সময় লাগবে মোসাদের ব্যাপারটা টের পেতে,এরপর...’ ইচ্ছে করেই বাক্যটাঅসমাপ্ত রাখল সাইফ। চিন্তায় ডুবে গেল সুমাইয়া।ওকে খানিক সাহস দেবার জন্য সাইফআবারও বলল,‘আমাদের জন্য আরেকটা প্লাস পয়েন্ট অবশ্য আছে।ইউরি এখানে একজন গাইডএজেন্সি ব্যবসায়ীর কাভার নিয়ে আছে।যারা এখানে কাজ করছে তারা সবাই স্থানীয় লোক।শুধুমোবারক ছাড়া আর কেউই ইউরির আসল পরিচয় জানে না।সুতরাং আপাতত আমাদের মোকাবেলা কোনোহাইলি ট্রেইন্ড সিক্রেট এজেন্টের সাথে করতে হচ্ছে না।যদিও ইউরিকে ছোট করে দেখারঅবকাশ নেই।’ ‘হুম,’ চুপ মেরে গেল সুমাইয়া।একটু পর জরুরি কিছু মনে পড়েগেছে এমন ভঙ্গিতে বলল,‘ওহ আসল কথাই তো জিজ্ঞেস করা হল না,ট্রেজার পেয়েছেন?’ ‘নাহ।’ ‘না মানে?ট্রেজার কোথায় যাবে?’ ‘যায়নি কোথাও।আপনার চাচা কোথাও লুকিয়ে রেখেছেন,সেইসাথেঅদ্ভুত কিসিমের একটা ধাঁধাও রেখে গেছেন।’ ‘ঠিক বুঝলাম না।’ ভ্রু কোঁচকাল সুমাইয়া। সব খুলে বলল সাইফ।ধাঁধাটাও বলল।ধাঁধা লেখা কাগজটা অবশ্যহোটেল রুমে আছে। ‘এটা আবার কি রকম ধাঁধা?’ধাঁধা শুনে ভ্রু স্বয়ংক্রিয়ভাবেভ্রু জোড়া কপালে উঠে গেল মেয়েটার। ‘সেটা আপনার মরহুম চাচাই ভাল বলতে পারবেন।’ ‘নাসের চাচা থ্রিলারের পোকা ছিলেন।এমনকি আপনাদের বাংলাভাষার গোয়েন্দা সিরিজ ‘ফেলুদা’ও তাঁর ব্যাক্তিগত পাঠাগার দখল করেছিল। ইংরেজিঅনুবাদ। ‘যাক,তাও ভাল,ফেলুদা টাইপ ধাঁধা লিখে যাননি।“মুড়ো হল বুড়োগাছ”!অবশ্য যেটা রেখে গেছেন সেটাও কম প্যাঁচালো মনে হচ্ছে না।তবে একটা ধন্যবাদতাঁর অবশ্যই প্রাপ্য।তিনি যদি এই জটিলতা তৈরি না করে যেতেন তাহলে ট্রেজার এতক্ষনেমোসাদের হাতে চলে যেত।’ বেশ কিছুক্ষন নীরবে কেটে গেল। ‘আচ্ছা আগামীকাল ওরা কী করবে আমাদের সাথে?’ সুমাইয়ার গলায়উৎকন্ঠা ঢেলে জানতে চাইল। ‘কী আর করবে,টর্চার করবে।আমার উপর টর্চার করে যখন সুবিধেকরতে পারবে না তখন আপনার উপর টর্চার শুরু করবে।’ খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল সাইফ। সুমাইয়ার মুখ কালো হয়ে গেল দেখে হেসে ফেলল সাইফ। ‘চিন্তা করবেন না।কাল পর্যন্ত এখানে বসে বসে মাছি মারারকোনো ইচ্ছাই আমার নেই।’ ‘তাহলে কী করবেন?’ ‘এখান থেকে পালাতে হবে।’ ‘অসম্ভব!’ ‘কোথায় যেন শুনেছিলাম,পৃথিবীতে এমন কোনো ঘর নেই যেখান থেকেপালানো সম্ভব না,কিন্তু আপনার কাছে অসম্ভব মনে হচ্ছে কেন?’ ‘সেটা হতে পারে,তবে এই ঘর থেকে পালালেই সমস্যার সমাধান হয়েযাবে না।’ ভ্রু কোঁচকাল সাইফ।‘কেন?’ সুমাইয়া হাত দিয়ে একদিকে ইশারা করল। এই ঘরটা সেলার হিসেবে তৈরী করা হলেও একেবারে পুরোটা মাটিরনীচে নয়।রুমে আলো বাতাস আসার জন্য ছাদের নীচ থেকে চার ফুটের মত মাটির উপরে তৈরিকরা হয়েছে।এই বর্ধিত অংশে একটা স্কাইলাইট রয়েছে।দুই বাই দুই ফুট।একজন স্বাভাবিকমানুষ অনায়াসে গলে বের হয়ে যেতে পারবে।তবে সমস্যাটা হল,ওটা আর এখন স্কাইলাইটনেই।লোহার শিক বসানো হয়েছে গোটা কয়েক।স্কাইলাইটটা বাড়ির পেছনের দিকে মুখ করা। সুমাইয়াসাবেক ওই স্কাইলাইটের দিকেই ইশারা করেছে। ‘কী ওখানে?’ বুঝতে পারল না সাইফ। ‘নিজেই গিয়ে দেখুন।’ লোহার কটের উপর দাঁড়িয়ে স্কাইলাইট দিয়ে বাইরে তাকালসাইফ।কয়েক মুহুর্ত কিছুই নজরে এল না।ঘুটঘুটে আঁধারে শুধু নীলাভ আকাশ দেখাযাচ্ছে।একটু পর হঠাৎ করেই আকাশ ঢাকা পড়ে গেল।এরপর আবারও। সাইফ এতক্ষনে ধরতে পারল ব্যাপারটা।ওদের এই সেলারে বন্দিকরেই ক্ষান্ত হয়নি ইউরি।পেছনের এই অংশটা তুলনামূলক কম সুরক্ষিত হওয়ায় পাহারাওবসিয়েছে। দুজন গার্ড টহল দিচ্ছে।টহল দিতে দিতে এই স্কাইলাইটের কাছে এলেই আকাশেরপটভূমিতে তাদের দেহাবয়ব চোখে পড়ছে। ‘ব্যাটা কোনো ঝুঁকি নিচ্ছে না!’ কট থেকে নেমে বলল সাইফ। ‘সেজন্যই বললাম যে এই ঘর থেকে বেরোতে পারলেও ওদের চোখ ফাঁকিদিয়ে আমরা পালাতে পারব না।আর বাড়ির সামনের অংশ দিয়ে পালানো তো একেবারেই অসম্ভব।’ ‘হুম,বাড়ির সামনের অংশ দিয়ে পালানো অসম্ভব।এত লোককে ফাঁকিদেয়া যাবে না।’ সায় জানাল সাইফও। ‘তাহলে এখন?’ ‘উমম...ভাবতে হবে।’ বলেই সাইফ স্কাইলাইট দিয়ে বাইরে তাকিয়েরইল।ওর ভঙ্গি দেখে মনে হতে পারে,স্কাইলাইট দিয়ে বুঝি উদাসী ভঙ্গিতে আকাশ দেখছে! বেশ কিছুক্ষন কেটে যাবার পর যেন মুনিঋষির ধ্যান ভাঙ্গল। ‘প্ল্যান রেডি!’ আচমকা বলে উঠল সাইফ। ‘কিসের প্ল্যান?’ ‘কিসের আবার,পালানোর।’ ‘আপনি এখনো পালাবার ব্যাপারে আশাবাদী?’ ‘নিরাশ হবার মত কিছু কি ঘটেছে? যাকগে,যা বলি মন দিয়েশুনুন।আমি যে প্ল্যানটা করেছি তার জন্য চুলচেরা সময়ের হিসাব,ভাগ্য এবং সেই সাথেআপনারও খানিক সহায়তা প্রয়োজন।’ ‘আমি কী সহায়তা করব?’ ‘সময় হলেই জানতে পারবেন।আপাতত চাইলে শুয়ে বিশ্রাম নিতেপারেন।’ ‘আর আপনি?’ ‘আমাকে এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে।’ ‘কী কাজ?’ ‘লোহার শিকগুলোর একটা গতি করতে হবে।’ ‘হাত দিয়ে?’ ব্যঙ্গ করল সাইফ। সুমাইয়ার ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিটাকে পাত্তা দিল না সাইফ।‘হাতদিয়ে তো অবশ্যই।আমি আবার পা দিয়ে তেমন কাজ করতে পারি না!’ সুমাইয়া হয়ত আরো কিছু বলতে চাইছিল,সাইফ সুযোগ দিল না।পকেটথেকে বের করে আনল একটা চাবির রিং।সাইজে কড়ে আঙ্গুলের চাইতেও ছোট হবে। ‘কী এটা?’ ‘মিনি অক্সিটিলিন গান।’ বলে চাবির রিঙের একপ্রান্ত ধরে মোচড়দিতেই হিস হিস করে আগুনের লেলিহান শিখা বেরোতে লাগল।লোহার কটের একটা পায়ায় শিখাটাধরতেই যেন মাখনের মত কেটে যেতে লাগল। পায়াটা পুরোপুরি কাটল না সাইফ।কিছু অংশ রেখে দিল,যেন টানপড়লেই খুলে আসে। ‘ও মাই গড!’ হাসল সাইফ। ‘কোথায় পেলেন এটা?’ ‘এ ধরনের ছোটখাট জিনিস সাথে রাখতে হয়,ম্যাডাম।’ ‘কিন্তু শিক কাটতে গেলে তো গার্ডদের চোখে ধরা পড়ে যাবে।’ ‘উহু,পড়বে না।এখানেই সময়ের চুলচেরা হিসেবের প্রশ্ন চলে আসে।’ সুমাইয়া হতভম্বের মত তাকিয়ে রইল সাইফের দিকে। আবারও মুচকি হাসল সাইফ।‘বুঝলেন না তো? দাঁড়ান,বুঝিয়ে বলছি।’ ----------- ।। একাকি কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now