বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্পাই থ্রিলার,
মিশরীয় গুপ্তধন
আবুল ফাতাহ মুন্না
----------------
পর্ব-১২
-----------
ছয়
আজ থেকে প্রায় বারো বছর ধরে বাংলাদেশ
আর্মির ইন্টেলিজেন্স উইং এর টপ সিক্রেট ফাইলে
একটা ছবি সযত্নে রাখা আছে।
প্রায় বারো বছর আগে শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল
এয়ারপোর্ট (তৎকালীন জিয়া আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দর) থেকে এক বিদেশীকে বাংলাদেশ
ত্যাগ করার সময় গ্রেপ্তার করা হয়।তার গন্তব্য ছিল
আমেরিকা।অনেকটা দৈবভাবেই তার ব্রিফকেসে
গোপন একটা কম্পার্টমেন্টের সন্ধান পায় কাস্টমস
অফিসাররা।সেখানে খুঁজে পাওয়া গেল একটা
ফাইল।খতিয়ে দেখা গেল,তার মাত্র কিছুদিন পরই
বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এক
আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সম্পুর্ন ডিটেইলস রয়েছে
সেই ফাইলে।ওই সম্মেলনে কয়েকটি উন্নত দেশের
রাষ্ট্রপ্রধানরাও যোগ দেবেন।
ব্যাপারটা আয়ত্বের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে
কাস্টমস অফিসাররা এনএসআইকে খবর দেয়।তারা
সেই বিদেশীকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে
জিজ্ঞাসাবাদ করেও গুরুত্বপূর্ন কিছু জানতে ব্যার্থ
হয়।শেষপর্যন্ত কেসটা ইন্টেলিজেন্স উইং এর হাতে
চলে যায়।সেখানে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে
ইন্টারোগেশন করে জানা যায়,এই বিদেশীর নাম
ইউরি কোলম্যান।তাকে পাঠানো হয়েছে অনুষ্ঠিতব্য
সম্মেলনের ডিটেইলস জানার জন্য।
এতটুকু জানা যেতেই কূটনৈতিক পর্যায়ে চাপ আসতে
শুরু করল ইউরি কোলম্যানকে ছেঁড়ে দেবার জন্য।
একটি সুপার পাওয়ার সরাসরি হস্তক্ষেপ করে ইউরির
মুক্তির ব্যাপারে।ছেড়ে দিতে হয় ইউরিকে।তবে
ছেড়ে দেবার আগে শেষবারের মত ইন্টারোগেশন
করে ইন্টেলিজেন্স উইং।জানতে পারে,ইউরি মূলত
কার হয়ে কাজ করছিল।
এই মুহুর্তে সাইফের সামনে যে বসে আছে,সে আর
কেউ নয়,ইউরি কোলম্যান!
সাইফ ইন্টেলিজেন্স উইং এর ফাইলে ইউরির ছবি
দেখেছে,সেই সাথে পরিচয়টাও।এদের সত্যিকারের
পরিচয় জানতে পেরে ভেতরে ভেতরে শিউরে উঠল
সাইফ।ভয়ংকর অসহায় ঠেকল নিজেকে।ও একা একা
কী করতে পারবে এই মহা শক্তিধর প্রতিপক্ষের
বিরুদ্ধে? তবে আপাতত একটা কাজই করার আছে,ও
যে ভড়কে গিয়েছে সেটা এদের কিছুতেই বুঝতে
দেয়া যাবে না।
‘বাংলাদেশে ধরা খাবার পর থেকে তোমার
কর্তারা এখানে,এই গুন্ডাপান্ডাদের মাঝে নির্বাসন
দিয়েছে বুঝি,ইউরি কোলম্যান?’ বাঁকা হাসি নিয়ে
বলল সাইফ।
ভয়ানকভাবে চমকে উঠল ইউরি।হাসিটা আগেই মুছে
গিয়েছিল,এবার সেখানে ক্ষনিকের জন্য যেন ভীতি
ছাপ ফেলে গেল।পরক্ষণেই সামলে নিয়ে
বলল,‘কিভাবে চিনতে পারলে?’
‘আমার ব্যাপারে খোঁজ খবর করেছো আর এটা জানো
না,আমি ইন্টেলিজেন্স উইং এ ছিলাম?ওই যে যারা
তোমাকে পেঁদিয়ে কথা বার করেছিল!’ এবারও
হাস্যজ্জল সাইফের চেহারা।
তামাটে মুখটা রাগে লাল হয়ে গেল ইউরির।রুমে
উপস্থিত বাকি সবাই বোকার মত ওদের কথা শুনছে।
সেদিকে লক্ষ্য করেই হয়ত এবারও নিজেকে সামলে
নিল ইউরি।
‘যাক,চিনতেই যখন পেরেছো,ভালই হল।আর
লুকোছাপার দরকার নেই।এবার তাহলে বুঝতে পারছ
নিশ্চয়ই,কতবড় গাড্ডায় পড়েছো তুমি?’
‘গাড্ডায় আমি পড়েছি নাকি তুমি,ইউরি? তুমি
এখানে কী করছ? নিশ্চয়ই শাস্তি হিসেবে পাঠানো
হয়েছে? সম্ভবত এই ট্রেজার হান্টের আইডিয়াটা
হারানো সম্মান পুনরুদ্ধারে কাজে লাগাতে
চাইছো,তাই না?’ সাইফ যথা সম্ভব ক্ষেপিয়ে দিতে
চাইছে ইউরিকে।তাতে করে একটা সুযোগ পেলেও
পেতে পারে।
ফাঁদে পা দিল না ইউরি।ঠান্ডা গলায়
বলল,‘তোমাকে যা ভেবেছিলাম,তুমি তাঁর চাইতেও
স্মার্ট।ওভার স্মার্ট।কি জানো,ওভার স্মার্টদের
পরিণতি ভাল হয় না কখনো?’
‘হুম,জানি,তোমাকে দেখেই বুঝতে পারছি!’
হেসে উঠল ইউরি।নাহ,তুমি তো বড্ড বেয়ারা হে!
যাকগে,ট্রেজারের সন্ধান বলে দাও।ছেড়ে দেই
তোমাদের।ঝামেলা বাড়িয়ে লাভ নেই,তাই না?’
সুকুমার রায়ের ছড়াটা মনে পড়ে গেল সাইফের।এক
দানব গোবেচারা টাইপের এক লোককে ধাওয়া
করতে করতে ছড়া কাটছে,“ভয় পেয়ো না,ভয় পেয়ো
না,তোমায় আমি মারবো না!”
এখনকার পরিস্থিতি অনেকটা তেমনই বলা চলে।
ট্রেজার যদি সাইফ নিজের ঘাড়ে করে বয়ে এনে
এদের সামনে রাখে,তবুও এরা ওকে বাঁচতে দেবে না।
প্রশ্নই ওঠে না।
‘আচ্ছা,ট্রেজারের খবর তোমরা পেলে কি করে?’
প্রশ্নটা অনেকক্ষন যাবতই খোঁচাচ্ছিল সাইফকে।
‘নাসেরের ব্যাপারে একটা রিউমার বেশ আগে
থেকেই প্রচলিত ছিল যে সে মরুভূমিতে গুপ্তধন খুঁজে
পেয়েছে।তার উপরে অনেকেই নজর রেখেছিল।সেই
নাসেরের মৃত্যুর এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই যদি
এক বিদেশী এসে তার একমাত্র উত্তরাধিকারীর
সাথে মরুভূমিতে ঘোরাঘুরি করতে থাকে তাহলে
নিশ্চয়ই দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে অসুবিধা হবার
কথা না।তুমি এয়ারপোর্ট থেকে নেমে নাসেরের
বাড়িতে যাবার সাথে সাথেই লোকাল গ্যাং-এর
চোখে পড়ে গিয়েছিলে।তারাই তথ্যটা আমাদের
কাছে বিক্রি করে দেয়।এরপর যখনই জানলাম তুমি
গাইডের খোঁজ করছ,আমার কাজ সহজ হয়ে যায়।আমিই
মোবারককে পাঠাই তোমার কাছে।আমার লোক
তোমার উপর চব্বিশ ঘন্টা নজর রেখেছিল।সেটা
অবশ্য তোমার জানার কথা না।হোটেলে আমাদের
নিজস্ব লোক আছে।আজ যখন জানলাম মোবারক
তোমাকে নামিয়ে দেবার পরই তুমি আবার বেরিয়ে
পড়েছো,সাথে সাথে মোবারককে তোমার পিছু
নিতে বলি।তুমি ওই পিরামিড থেকে বেরিয়ে আসার
পরই ও ঢোকে।কিন্তু বলাই বাহুল্য,কিছুই পায়নি ও।
কোথায় লুকিয়ে রেখেছো ট্রেজার?’
‘তোমার মাথামোটা গাইড কি বলেছে,আমি কতক্ষন
ছিলাম পিরামিডের ভেতরে?’
‘হুম,একঘন্টার কিছু বেশি।’
‘তো,তুমি কিভাবে ভাবলে এক ঘন্টার মধ্যে আমি
একা একা ট্রেজার লুকিয়ে ফেলব?’
‘তুমি নিজে না লুকালেও ওটা নিশ্চয়ই কোথাও না
কোথাও আছে।আর তুমি জানো,কোথায় খুঁজতে হবে।’
‘আমার ব্যাপারে তোমার ভাল ধারণা দেখে আমি
গর্বিত! কিন্তু এরকম ধারণা তোমার কি করে হল?’
‘মোবারক আমাকে বলেছে,ওই পিরামিডে দির্ঘদিন
যাবত মানুষের পায়ের ছাপ পড়েনি।অর্থাৎ ট্রেজার
চুরি হয়নি।তারমানে ওখানেই কোথাও লুকনো আছে।’
‘মোবারককে এতটা বিশ্বাস করছো কেন? ব্যাটা তো
তোমাকে ব্লাফও দিতে পারে।একাই সব ট্রেজার
মেরে দেয়ার ধান্দা!’
প্রতিরোধ করার সময় পেল না সাইফ।তার আগেই ছুটে
এসে ওর চোয়ালে ঘুষি বসিয়ে দিল ইউরি।সাথে
সাথেই ঠোঁট কেটে রক্ত গড়াতে শুরু করল।
‘তোমার বোলচাল অনেক সহ্য করেছি,সাইফ।আজকের
রাতটা সময় দেয়া হল।কাল সকালের মধ্যে যদি
আমাদের ট্রেজারের সন্ধান না দাও তাহলে
যেকোনো পরিণতির জন্য আমি দায়ী থাকব না।
তোমাকে সুযোগ দেয়া হয়েছিল,তুমি নাওনি।’
চিবিয়ে চিবিয়ে কথাটা বলেই ইশারা করল সাইফকে
নিয়ে যেতে।
ইউরির কথা শেষ হতেই ওকে আবারও পিস্তলের মুখে
ধাক্কাতে ধাক্কাতে নিয়ে যাওয়া হল।এবার
মোবারক একাই এসেছে ওর সাথে।একটা করিডোর
ধরে যাচ্ছে ওরা।
মুখ খুলল মোবারক,‘বসের সাথে হাংকি পাংকি করে
বেঘোরে মারা পড়ার কী দরকার,মিস্টার সাইফ।তার
কাছে আপনি নিতান্তই শিশু।’
‘তুমি ইউরির আসল পরিচয় জানো?’
‘হুম,শুধু আমি একাই জানি।’
‘শুনে খুশি হলাম।যাকগে,তোমার বসকে বলে
দিও,আমার গায়ে অন্যায়ভাবে কেউ হাত তুললে
আমি সেটা ভুলি না।’
হো হো করে হেসে উঠল মোবারক।‘আমার বলার
দরকার পড়বে না।আপনি কাল সকালে নিজেই বলতে
পারবেন।’
‘ওর সাথে কাল সকালে সম্ভবত আমি দেখা করতে
পারব না।আমার জরুরী কিছু কাজ আছে!’
আবারও গলা ছেড়ে হেসে উঠল মোবারক।সাইফও
হাসল।তবে ওর হাসিটা দেখলে মোবারকের হাসি
বন্ধ হয়ে যেত।
করিডোরের শেষমাথায় পৌছে কার্পেট সরাতেই
একটা ট্র্যাপডোর দেখা গেল।খুলতেই নীচে একটা
কাঠের সিঁড়ি নেমে গেছে।ওখান দিয়ে নেমে পড়ল
ওরা দু’জন।এখানেও এক চিলতে করিডোর দেখা
যাচ্ছে।ওমাথায় ছোট একটা রুমের দরজা।লোহার
শিক দিয়ে বানানো।এটা আগে সেলার ছিল।এখন
বন্দিশিবির বানানো হয়েছে।
চমৎকার!ভাবল সাইফ।
মোবারক তালা খুলে ধাক্কা দিয়ে সাইফকে ভেতরে
ঢুকিয়ে দিল।
ঘরে লোহার একটা কট শুধু।ওখানে বসে ছিল সুমাইয়া।
সাইফকে ভেতরে ঢুকতে দেখে উঠে দাঁড়াল।
চেহারায় একরাশ বিস্ময় নিয়ে বলল,‘আপনাকেও ধরে
এনেছে ওরা?’
‘সেদিন আপনাদের বাড়ি থেকে চলে আসার পর তো
আর দেখাই হল না।তাই দেখা করতে চলে এলাম!’
হাসিমুখে জবাব দিল সাইফ।
সাইফের রসিকতা স্পর্শ করল না সুমাইয়াকে।মাত্র
কয়েক ঘন্টার দুশ্চিন্তাই মেয়েটার মুখ থেকে লাবন্য
যেন শুষে নিয়েছে।এতটুকু হয়ে গেছে মুখটা।
‘আপনার বাবার কী অবস্থা?’ সিরিয়াস হল সাইফ।
মুখের কালো ছায়াটা আরো গাঢ় হল
সুমাইয়ার।‘আমাকে ধরে আনার সময় বাবা বাধা
দিতে গিয়েছিল,তখন একজন পিস্তলের বাঁট দিয়ে
মাথায় আঘাত করে।জ্ঞান হারিয়ে ফেলে বাবা।
এরপর কী হয়েছে জানি না।’
‘কিছুই হবে না,ইনশাআল্লাহ।’
‘এরা কী চায়?’
‘ট্রেজার।’
‘কারা এরা,জানেন আপনি?’
মাথা ঝাঁকাল সাইফ।
‘কারা এরা?’
‘সেন্ট্রাল ইন্সটিটিউট অফ ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড
স্পেশাল অ্যাসাইনমেন্টস।’
‘মানে?’ বোকার মত তাকিয়ে আছে সুমাইয়া।’
‘মানে,’মুচকি হাসল সাইফ,‘মোসাদ!’
----------
।। একাকি কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now