বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিশরীয় গুপ্তধন-১১

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X স্পাই থ্রিলার, মিশরীয় গুপ্তধন আবুল ফাতাহ মুন্না ---------------- (পর্ব-১১) ------------- চোখ ডলতে ডলতে দরজার সামনে চলে এল সাইফ। কি-হোলে চোখ রাখতেই রুম সার্ভিসের ড্রেস পরা একজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল।জরুরী কোনো মেসেজ হতে পারে ভেবে দরজা খুলে দিল সাইফ। কিন্তু এরপর যা ঘটল তাঁর জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না ও। দরজা খোলার সাথে সাথেই তিনজন লোক ওকে ঠেলে রুমে ঢুকে পড়ল।সামনের জনের হাতের পিস্তলটা লোলুপ দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। রুম সার্ভিসের ড্রেস পরা লোকটা দরজা লাগিয়ে দিল।তৃতীয় ব্যক্তিকে এদের দলনেতা মনে হচ্ছে।সে পেছনে হাত বেঁধে বেশ আয়েশী ভঙ্গি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পিস্তলধারীর পাশে।তাকে দেখেই সবচাইতে বেশি অবাক হয়েছে সাইফ।এই লোকটার পাশে বসেই গত কয়েকদিন ধরে মরুভূমি চষে ফেলেছে ও। ‘অবাক হবার কিছু নেই মি. সাইফ।এটাই দুনিয়ার নিয়ম।কাউকে বিশ্বাস করতে নেই!’ হাসতে হাসতে বলল ছোট্ট দলটার নেতা মোবারক সিদ্দিকি। সাইফ কিছু বলল না।একরাশ ঘৃনা নিয়ে তাকিয়ে আছে। ‘যাকগে,এবার কাজের কথা আসা যাক।’ আবার বলে উঠল মোবারক।‘আপনি এখন আমাদের সাথে এক জায়গায় বেড়াতে যাবেন।’ সাইফ ভেতরে ভেতরে তৈরি হয়ে গেল।রুমের পুরো অবস্থাটা মাথায় নিয়ে নিয়েছে।ঝড়ের বেগে চলতে শুরু করেছে ওর মস্তিষ্ক।শত্রুর প্রতিটা নড়াচড়া যাচাই করে দেখছে।একটা সুযোগের অপেক্ষা।তবে মোবারকের পরের কথাতেই পরিকল্পনাটা ঝেরে ফেলতে হল। ‘কোনো রকম বেগড়বাই করার চেষ্টা করবেন না মি. সাইফ।তাহলে আপনার কিছু হোক বা না হোক মিস সুমাইয়ার কী হবে বলা যাচ্ছে না।’ আবারও কুৎসিত হাসি ফুটে উঠল মোবারকের চেহারায়। ‘সুমাইয়াকে কী করেছো তোমরা?’ ভারী মেঘের মত থমথমে শোনাল সাইফের গলা। ‘এখনো কিছু করিনি,তবে করা হবে কিনা সেটা নির্ভর করছে আপনার উপর।ভালয় ভালয় আমাদের সাথে গেলেই কিছু করা হবে না তাকে।' একটু বিরতি,'আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড আমরা চেক করে দেখেছি।আপনার ক্ষমতা সম্পর্কে আমাদের ভাল ধারণা আছে।সেজন্যই কোনো ঝুঁকি নেইনি।আশা করি ব্যাপারটা বুঝবেন?’ বিদ্রূপাত্মক মোবারকের গলা। “আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড আমরা চেক করে দেখেছি।” কথাটা সাইফের মস্তিষ্কে বেশ ভালভাবেই খোঁচা দিয়েছে।এরা কারা?এই মিশর থেকে বাংলাদেশের এক এক্স আর্মি অফিসারের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করবার মত ক্ষমতা এরা কোথায় পেল।মোবারকের পরিচয়ই বা কী? সাধারণ এক গাইড কিভাবে অস্ত্র হাতে ফাইভস্টার হোটেলে ঢুকে পড়বার মত সাহস পায়? এদের পরিচয় যাই হোক না কেন,এদের হাত বেশ লম্বা। আরো কিছু হয়ত ভাবত সাইফ।ছেদ পড়ল মোবারকের গলায়।‘আপনি এখন আমাদের সাথে স্বাভাবিকভাবে বেরিয়ে যাবেন।হোটেল সিকিউরিটির দৃষ্টি আকর্ষনের কোনো চেষ্টা যেন করা না হয়।’ সাইফ কিছু বলল না।এদের সাথে আপাতত ঝামেলায় জড়ানোর ইচ্ছা নেই।এদের আসল পরিচয় জানা জরুরী।তার চাইতেও বেশি জরুরী সুমাইয়াকে উদ্ধার করা।তবুও শেষবারের মত একটা প্রশ্ন করল,‘কী চাও তোমরা?’ হেসে উঠল মোবারক।‘আপনি বোকা,এটা আমাদের বিশ্বাস করতে বলবেন না।আপনি ঠিকই জানেন কী চাই আমরা।যাকগে,অনেক খোশগল্প হল,নাও,গো অ্যাহেড।’ সাথে সাথে পিস্তলধারী ওর পাশে চলে এল। পিস্তলটা কোটের পকেটে ভরে ভেতর থেকেই ওর দিকে তাক করে রাখল। হাসি চেপে সামনে এগোলো সাইফ।কোটের পকেট থেকে পিস্তল ধরে রাখাটা তেমন কার্যকর কোনো পদ্ধতি না,প্রথমবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে দ্বিতীয়বার গুলী করার জন্য পকেট থেকে পিস্তল বের করবার আগেই জান বেরিয়ে যাবার সম্ভবনা আছে,যদি প্রতিপক্ষ হয় সাইফের মত কোনো কমান্ডো। রুম থেকে বেরিয়ে লিফটের দিকে এগোলো ওরা। পাশাপাশি পিস্তলধারী আর সাইফ।পেছন পেছন বাকি দুজন।কারো দেখে বোঝার উপায় নেই এদের মধ্যে আসলে একজনকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। হোটেলের লবিতে লোকজন নেহায়েত কম না।এই ধরনের হোটেলে সারারাতই মানুষজনের আনাগোনা থাকে। লবি পার হয়ে ড্রাইভওয়েতে চলে এল ওরা। মোবারকের সেই ল্যান্ড রোভারটাই পার্ক করা। সেদিকেই নিয়ে গেল ওরা ওকে।মোবারক দু'পা এগিয়ে গিয়ে গাড়ির পেছনের দরজা খুলে ইশারা করল ভেতরে ঢুকে পড়ার। গাড়িতে ওঠার ঠিক আগ মুহুর্তে থেমে দাঁড়াল সাইফ। ‘সুমাইয়া কিংবা ওর বাবার যদি কিছু হয়,আমি তোমাকে ছাড়ব না,মোবারক।প্রয়োজনে পৃথিবীর শেষপ্রান্ত পর্যন্ত ধাওয়া করব তোমাকে।কথাটা মাথায় ভাল মত ঢুকিয়ে নাও।’হিম শীতল সাইফের কন্ঠ। কথাটা বলেই আর দেরী করল না,উঠে পড়ল গাড়িতে। সবাই উঠে বসতেই গাড়ি চলতে শুরু করল। গত কয়দিন ধরে একটু একটু করে কায়রো শহরের ম্যাপ মোটামুটি মুখস্ত করে ফেলেছে সাইফ।কাজেই কিচ্ছুক্ষন যেতেই ওকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সে ব্যাপারে একটা ধারণা করতে পারল। কায়রো শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে নীলনদ।যেন পুরো শহরটাকে দু ভাগ করেছে।এক অংশ থেকে অন্য অংশে যাবার জন্য বেশ কয়েকটা ব্রীজ রয়েছে। সাইফের হোটেল নীল হিলটনও একেবারে নীল ঘেষে।ওদের গাড়িটা তাহরীর স্কয়ার হয়ে “৬ অক্টোবর” ব্রীজে উঠল।ব্রীজ পার হয়েই বাঁ দিকে মোড় নিল গাড়ি।অবাক হল সাইফ,কারণ এখন যেদিকে ওরা যাচ্ছে তাতে করে “৬ অক্টোবর” ব্রীজ দিয়ে পার না হয়ে “কাসর আল নীল” ব্রীজ দিয়ে নদী পার হওয়া অনেক সহজ ছিল।বেশ অনেকটা পথ শুধু শুধু ঘুরেছে ওরা।ব্যাটাদের কান্ড দেখে কৌতুক অনুভব করল সাইফ।ওরা চাইছে অযথা ঘোরাঘুরি করে সাইফকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দিতে,যেন ও ধারণা করতে না পারে ওকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিসের জন্য এত লুকোচুরি? বেশ কিছুক্ষন পর চিড়িয়াখানা দেখে বুঝতে পারল ওরা এখন গিজার কাছাকাছি চলে এসেছে।বাড়িঘর পাতলা হয়ে আসছে। আচমকাই একটা দোতলা বাড়ির সামনে ঘ্যাঁচ করে ব্রেক কষল ল্যান্ড রোভারটা।সাইফকে বেরোতে ইশারা করল মোবারক।পিস্তলধারী গাড়িতে বসেই পকেট থেকে বের করে পিস্তলটা ওর দিকে তাক করে রেখেছিল।এখন সেটা নাচিয়ে ভয় দেখাবার প্রয়াস পেল। বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করল সাইফ।ভেতরে ঢোকার আগে গেটের মুখে একটা সাইনবোর্ড দেখতে পেয়েছিল।অন্ধকারে লেখাগুলো পড়তে পারেনি। বেশ বড়সড় একটা রুমে এসে দাঁড়াল ওরা।বাড়িতে ঢুকতেই এই রুম।এই বাড়ির প্যার্টানটা ঠিক আবাসিক বাড়ির মত না।যেন একটা অফিস।এই রুমটাও অফিসের আদলেই সাজানো।একটা ফাইল কেবিনেট,আর র্যাক দেখা যাচ্ছে।রুমের মাঝখানে বেশ বড় একটা সেক্রেটারিয়েট টেবিল।এপাশে দুটো সাধারন আর ওপাশে একটা সুইভ্যেল চেয়ার।ওপাশের চেয়ারটাতে একজন মানুষ বসে আছে।বয়স চল্লিশের কোঠায়।স্বাস্থ্য তেমন একটা ভাল না।চোয়ালের হাড় ঠেলে বেরিয়ে এসেছে।তবে চেহারার নিষ্ঠুরভাবটা বলে দিচ্ছে এই লোক গায়ে জোর রাখে।দেখেশুনে মনে হচ্ছে এই-ই নাটের গুরু।কিন্তু একটা ব্যাপার লক্ষ্য করে অবাক হয়ে গেল সাইফ। লোকটাকে কেন যেন ওর চেনা চেনা মনে হচ্ছে। যদিও তা হবার নয়।কায়রোয় যতদিন ধরে আছে তাঁর মধ্যে একবারও যে ও লোকটাকে দেখেনি এব্যাপারে নিঃসন্দেহ সাইফ। 'ওয়েলকাম,মি.সাইফ।আমার লোকেরা আপনার সাথে খারাপ ব্যাবহার করেনি তো?' খুশি খুশি গলায় বলল চেয়ারে বসা লোকটা। 'এসবের মানে কী?' শান্ত স্বরে জানতে চাইল সাইফ। 'মানেটা তো এতক্ষনে বুঝে ফেলার কথা আপনাএ। আমি তো অন্তত তোমাকে বেশ ভালই বুদ্ধিমান মনে করতাম!' 'ভাড়ামো না করে সোজাসাপ্টা জবাব দাও। সুমাইয়া আর তার বাবাকে কিডন্যাপ করেছো কেন?' 'আপনাকে টাইট দিতে সুমাইয়া একাই যথেষ্ট। শুধু শুধু বুড়োকে ধরে ঝামেলা পাকাব কেন? তবে যেন পুলিশকে খবর না দেয় সেজন্য কিছুটা ভয় দেখানো হয়েছে তাকে।তেমন কিছু না,করিম বোধহয় বেশি জোরে মারেনি,তাই না?' পাশে দাঁড়ানো পিস্তলধারীর দিকে তাকিয়ে কৌতুক করল লোকটা। অজান্তেই চোয়াল শক্ত হয়ে গেল সাইফের। আবারও লোকটা কথার খেই ধরল।এবার সম্বোধন পাল্টে বলল,'সাইফ,আমাদের ট্রেজার চাই।ওটা দিয়ে দিলেই তোমাদের ছেড়ে দেয়া হবে।' সাইফ আগেই আন্দাজ করতে পেরেছিল এরা কী চায়। তবে ট্রেজারের খবর এরা কিভাবে পেল সেটা এক রহস্য। 'তোমাদের পরিচয় জানতে পারি কি?' 'হুম পারো,যেহেতু কিছুক্ষন পরই তুমি আমাদের কৌতুহল মেটাবে সেহেতু তোমার কৌতুহল মেটানো আমাদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।এটা একটা গাইড এজেন্সী।গাইড ভাড়া দেয়া হয় এখানে।' সাইফ ঘুণাক্ষরেও কথাটা বিশ্বাস করল না। ব্যাঙ্গাত্মক স্বরে বলে উঠল,'আজকাল গাইডের এতই অভাব যে,গুন্ডাপান্ডা দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে!' হাসি মুছে গেল লোকটার চেহারা থেকে। এমন সময় আচমকা সাইফ চিনে ফেলল সামনে দাঁড়ানো লোকটাকে। ---------- ।। একাকি কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now