বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্পাই থ্রিলার,
মিশরীয় গুপ্তধন
আবুল ফাতাহ মুন্না
----------------
(পর্ব-৭)
-----------
‘তারমানে?’ উত্তেজনায় কথাটা বেশ জোরেই বলে
ফেলল সাইফ।
সাইফের উত্তেজনা লক্ষ্য করে স্মিত হেসে
সালাহউদ্দিন
বললেন,‘পুরোটা আগে শুনুন।’ এরপর ডান হাতের
তর্জনী দিয়ে একদিকে ইশারা করে বললেন,‘ওই
টিলাগুলোর দিকে একবার তাকান তো।’
সাইফ তাকাল।পাশাপাশি তিনটা টিলা দেখা
যাচ্ছে।ঠিক পাশাপাশি
নয়,একটা সমান্তরাল কোণ সৃষ্টি করেছে টিলাগুলো।
অনেকটা খুফুর তিনটা পিরামিডের
মত।তেমন বিশেষত্ব নেই।আর দশটা টিলার মতই
দেখতে।
‘হুম,দেখলাম।তো?’
‘এই টিলাগুলো হল সাইন।’
‘কিসের সাইন?’
‘ট্রেজারের!’ বলে নাটকীয় ভঙ্গিতে হাসলেন
সালাহউদ্দিন।
সাইফের মাথায় কিছুই ঢুকছে না।আকুল পাথারে
পড়ে গেছে।আবারও
ফিরে চাইল টিলাগুলোর দিকে।এমন কিছুই নেই যা
ট্রেজারকে নির্দেশ করতে পারে।আশেপাশে
কোনো পাথরের স্তুপও চোখে পড়ল না।
‘বুঝতে পারছি না কিছু।’
শেইখ সালাহউদ্দিন সাইফের উৎকণ্ঠা উপভোগ
করছেন মনে হল।
‘মাঝের টিলাটার ছায়ার দিকে তাকান তো
একবার।’ বললেন
সালাহউদ্দিন।
তাকাল সাইফ।এবার অবশ্য একটা অদ্ভুত জিনিস
লক্ষ্য করল।মাঝের
টিলাটা চল্লিশ ফুটের মত হবে।টিলার ছায়াটা
খানিক অদ্ভুত।পুরোটা না,শুধু চুড়ার
অংশটা।টিলাটা ত্রিভুজ আকৃতির।স্বাভাবিক
নিয়মে ছায়াও ত্রিভুজাকৃতিরই হবার কথা,কিন্তু
ছায়াটা ঠিক ত্রিভুজাকৃতির নয়,বরং একটা
ত্রিভুজের মাথায় একটা ছোট গোলক বসিয়ে দিলে
যেমন হবে,ঠিক তেমনি।
‘ছায়াটা একটু অদ্ভুত,তবে তাতে কী প্রমাণ হয়?’
‘প্রমাণ হয় আমরা ট্রেজারের খুব কাছাকাছিই
আছি।’ এবারও হেসেই
জবাব দিলেন সালাহউদ্দিন।অবশ্য সাইফের কৌতুহল
চরমে পৌঁছবার আগেই আবার বললেন,‘এই
টিলাটার উপরে একটা গোলাকৃতির পাথর আছে।
কিন্তু পাথরটা এমনভাবে বসানো হয়েছে যাতে করে
নীচ থেকে দেখা যাবে না।শুধু মধ্যাহ্নের ঠিক
একঘন্টা পর সুর্যটা যখন টিলার ঠিক
পেছনে চলে যায়,ঠিক তখন মিনিট দশেকের জন্য
মাটিতে পাথরটার ছায়া পড়ে।এছাড়া বোঝার কোন
উপায় নেই ওখানে একটা পাথর আছে।’
সাইফ হতভম্ব হয়ে গেল।‘কিন্তু এসব আপনি জানলেন
কোত্থেকে? আর
ওটা যে ট্রেজারকে নির্দেশ করছে সেটাই বা এতটা
নিশ্চয়তা দিয়ে কিভাবে বলছেন?’
‘জেনেছি নাসেরের কাছ থেকে।আর পাথরটা
নাসেরই ওখানে ওভাবে
রেখেছিল পিরামিডটা খুঁজে পাবার জন্য।এই
টিলাকে পেছনে রেখে দক্ষিণ পশ্চিম কোণে
মোটামুটি তিন কিলোমিটারের মত এগোলেই
আমাদের কাঙ্ক্ষিত পিরামিডের ধ্বংসস্তুপটা
পাওয়া যাবে।’
পুরো ব্যাপারটা এখনও অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে
সাইফের কাছে।‘ব্যাপারটা
বেশি কাকতালীয় হয়ে গেল না? আপনার অসুস্থতার
জন্য আজ এখানে বিরতি নিলাম আর
এখানেই...’ বলতে বলতে থেমে গেল সাইফ।‘ওহ মাই
গড! তারমানে আপনি অসুস্থ নন?আপনার
অভিনয় ছিল ওটা?’
আবারও মুচকি হাসলেন সালাহউদ্দিন।বলতে
লাগলেন,‘এই টিলা
তিনটের অবস্থান একটু অন্যরকম।সচরাচর দেখা যায়
না।অনেকটা খুফুর পিরামিডত্রয়ের মত।নাসের
এজন্যই এই টিলা বেছে নিয়েছিল।তবুও নিশ্চিত
হবার জন্য মাথায় ওভাবে পাথর রেখে দেয়।
সারাদিনে মাত্র মিনিট দশেকের জন্য ছায়াটা
দৃশ্যমান হওয়ায় লোকের সন্দেহের অবকাশ নেই।
আমরা এই পথে এর আগেও গিয়েছি,কিন্তু তখন
টিলা তিনটে চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল আমার।আজ
চোখে পড়তেই সন্দেহ হল।মোবারকের যেন সন্দেহ
না হয় সেজন্য সামান্য অভিনয়ের প্রয়োজন
পড়েছিল।খুব কি কাঁচা হয়েছে অভিনয়টা?’
‘কাঁচা? আমি তো এম্বুলেন্স ডাকতে চেয়েছিলাম!’
হো হো করে হেসে উঠল দুজনেই।
সাইফের হঠাৎ করেই মনটা খুবই ভাল হয়ে গেছে।
যদিও আসল কাজ শুরু
হবে এরপরই।ট্রেজারগুলো এখনো সেখানে আছে
কিনা,সেটাও একটা প্রশ্ন বটে!
‘বাই দ্যা ওয়ে,নাসের বিন ইউসুফ যে এলাকার
পজিশন ছাড়াও আরো
গুরুত্বপূর্ণ একটা তথ্য আপনাকে বলে গেছেন সেটা
আমাকে আগে বলেননি কেন?’
‘উমম,কিছু মনে করবেন না,মিস্টার সাইফ। নাসের
আমাকে বলে
গিয়েছিল,কর্নেল যাকে পাঠাবেন,আমি নিজে
যতক্ষন পর্যন্ত তাঁকে বিশ্বাস করতে না পারি
ততক্ষন পর্যন্ত যেন কথাটা গোপনই রাখি।যদিও
নাসের ভাল করেই জানত,কর্নেল যোগ্য
লোককেই পাঠাবেন।কিন্তু বোঝেনই তো,মানুষ
মাত্রই ভুল।’
‘তা ঠিক কী দেখে মনে হল,টাকাগুলো আমি মেরে
দেব না?’
‘মিস্টার সাইফ,আমি মানুষ চিনতে পারি।’
‘হুম,কিন্তু বোঝেনই তো,মানুষ মাত্রই ভুল।’ একই সূরে
সালাহউদ্দিনের কথাটা ফিরিয়ে দিল সাইফ।
শেইখ সালাহউদ্দিনের কয়েক মুহুর্ত লেগে গেল
কথাটার মানে
বুঝতে।অবাক হয়ে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলেন সাইফের
দিকে।তারপর আবারও একই সাথে গলা ছেড়ে
হেসে উঠলেন দুজন।
হাসি থামতেই কাজের কথায় চলে এল
সাইফ।‘আপনার বুদ্ধিটা আমার
খুবই পছন্দ হয়েছে।আপনার জায়গায় আমি হলেও
এমনটাই করতাম।মোবারককে যে আমি সন্দেহ করি
তা নয়,তবে সতর্কতায় কোনো ধরনের ঢিল দিতে চাই
না।আজ আমরা সন্ধ্যা পর্যন্ত যথারীতি
খোঁজাখুঁজি চালিয়ে যাব।এবং আজ রাতেরবেলা
আমি আবার আসব এখানে।একা।আপনার কথামত সেই
পিরামিডের কাছে গিয়ে নিজের চোখে ট্রেজার
দেখে আসব।যেহেতু কালই আমাদের দ্বিতীয় দফা
অনুসন্ধানের শেষ দিন,সুতরাং আজ ট্রেজার পাই
কিংবা না পাই,কালও এভাবেই অনুসন্ধানের
ভান করে যাব।মোবারককে কিছুতেই বুঝতে দেয়া
যাবে না,আমরা যা খুঁজছিলাম সেটা পেয়ে
গেছি। যদি আল্লাহর রমহতে ট্রেজারগুলো এখনো
থেকে থাকে তাহলে আগামী পরশু থেকে ওগুলো
উদ্ধারের কাজ শুরু করব।’
মাথা ঝাঁকিয়ে সাইফের পুরো প্ল্যানে সায় দিল
সালাহউদ্দিন।
‘এখন তাহলে ফিরে চলুন।বেশি দেরী হলে মোবারক
আবার কিছু
সন্দেহ করে বসতে পারে।’ বলল সাইফ।
‘হ্যাঁ,চলুন।’
কিছুক্ষন পরই সাহারার ধুলো উড়িয়ে ল্যান্ড
রোভারটা ছুটে চলল
তিন আরোহীকে নিয়ে।
------------
।। একাকি কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now