বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্পাই থ্রিলার,
মিশরীয় গুপ্তধন
আবুল ফাতাহ মুন্না
----------------
(পর্ব-৩)
---------
দুই
কাস্টমসের ঝামেলা শেষ করে ইমিগ্রেশন পার হতেই
“সাইফ হাসান” লেখা বোর্ড নজরে এল সাইফের।
প্রৌঢ় এক ভদ্রলোক বোর্ড হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে
আছেন।বয়স পয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশের মধ্যে।
হালকা পাতলা গরন।চেহারায় আভিজাত্য ফুটে
আছে।কালো চুলে ছোপ ছোপ রুপালী আভা।
কিছুদিনের মধ্যে পাঁক ধরবে,তারই পুর্বাভাস।
সাইফ এগিয়ে গিয়ে হাত বাড়িয়ে দিল ভদ্রলোকের
দিকে,‘সাইফ হাসান।’
‘ওয়েলকাম টু ইজিপ্ট।’ নিখাদ আন্তরিকতা ফুটে উঠল
শেইখ সালাহউদ্দিনের হাসিমাখা মুখে।‘যাওয়া
যাক তবে।’
পিঠে ঝোলানো বড়সড় ট্রাভেল ব্যাগ ছাড়া আর
কোনো লাগেজ নেই সাইফের কাছে।শেইখ
সালাহউদ্দিনের পিছু নিল।
এয়ারপোর্ট বিল্ডিং থেকে বের হতেই মরুভূমি
থেকে ধেয়ে আসা তপ্ত বাতাস ব্রেকহীন ট্রাকের
মত ধাক্কা মেরে গেল ওকে।বছরের এই সময়ে দিনের
বেলা তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে
সাধারণত।আর রাতেরবেলা মরুভূমির সেই চিরায়ত
অদ্ভুত বৈশিষ্ট অনুযায়ী সেটা ঝপ করে বারো
ডিগ্রিতে নেমে আসে।
সবকিছু ঠিক থাকলে বাংলাদেশে ফেরত যাবার সময়
এই এয়ারপোর্টে আর আসতে হবে না ওকে।ট্রেজার
খুঁজে পেলে জাহাজ নিয়ে সমুদ্রপথে যাত্রা করতে
হবে।সেজন্য বিদায় নেবার আগে এয়ারপোর্ট ভবনটার
দিকে এক নজর তাকাল।কিন্তু সাইফ জানে না,ওকে
খুব শিঘ্রই আবার এখানে আসতে হবে।
কালো রঙের একটা বুইকের কাছে ওকে নিয়ে এলেন
ওকে সালাহউদ্দিন।কোনো ড্রাইভার নেই।সম্ভবত
সালাহউদ্দিন নিজেই ড্রাইভ করবেন।সাইফ
সামনে,ড্রাইভারের পাশের সীটে উঠে বসল।
ড্রাইভিং সীটে শেইখ সালাহউদ্দিন।
কায়রো শহরের মাঝ দিয়ে চলছে গাড়ি।মূল শহর
থেকে কায়রো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট তিন
কিলোমিটার দূরে।সেখান থেকে র্যামসিস আরো
কিছুটা পথ।সাইফ যতদূর জানে নাসের বিন ইউসুফের
বাড়ি র্যামসিসে।যদিও ও জানে না,এখন সেখানেই
যাচ্ছে কিনা।পরিচয় পর্ব শেষ হবার পর আর কথা
হয়নি দুজনের মধ্যে।শুরু করল সাইফই।
‘আমরা এখন কোথায় যাচ্ছি?’
‘নাসেরের বাড়িতে।’সামনের দিকে তাকিয়েই
জবাব দিলেন শেইখ সালাহউদ্দিন।
‘এখন কে থাকে সেখানে?’
‘আমিই থাকি।অনেকদিন ধরেই নাসেরের ম্যানেজার
ছিলাম আমি।কাছেপিঠে ওর আত্মীয় বলতে গেলে
একমাত্র আমিই।যদিও দুসম্পর্কের ভাই হত,তবুও খুব
আপন ছিলাম আমরা।বন্ধুও বলা চলে।অবশ্য আমার
চাইতে কয়েক বছরের বড় ছিল নাসের।এছাড়া
আত্মীয়দের মধ্যে কেউ প্রবাসী আবার কারো
কোনো খোঁজ খবর নেই।মৃত্যুর আগে নাসের বুঝতে
পেরেছিল,ওর মৃত্যুর পর এই দুধের মাছিরাই এসে
হামলে পড়বে।এজন্য আমার পরামর্শেই সমস্ত
সম্পত্তি একটা ট্রাস্টিতে দিয়ে যায়।আর আমার
নামে ওর পারিবারিক ঐতিহ্য বাড়িটা আর একটা
ব্যবসা লিখে দিয়ে যায়।আমিও বলতে গেলে একা
মানুষই।স্ত্রী নেই,শুধু একটা মেয়ে।’
কিছু না জিজ্ঞেস করলে খারাপ দেখায় এজন্য
সাইফ বলল,‘আপনার মেয়ে কী করে?’
‘এতদিন লন্ডনে পড়াশোনা করত জার্নালিজম নিয়ে।
কয়েকমাস আগে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে
এসেছে।আপাতত ভাল একটা জব খুঁজছে।’
সাইফ বুঝতে পারছে,শেইখ সালাহউদ্দিন
স্বাভাবিকভাবেই চাচ্ছেন,সাইফ তার বাড়িতেই
উঠুক।কিন্তু সেটা করা মোটেও ঠিক হবে না।এখানে
ও এসেছে খুবই গোপন একটা মিশন নিয়ে।যদি
কোনোভাবে ব্যাপারটা কেঁচে যায় তবে বাপ
মেয়েকে ভাল বিপদেই পড়তে হবে।ব্যাপারটা শেইখ
সালাহউদ্দিনকে খুলে বলাই ভাল।
‘এক্সকিউজ মি,আমি কিন্তু হোটেলে থাকব।’
‘হোটেলে থাকবেন মানে?’ বিস্ময় ঝড়ে পড়ল
সালাহউদ্দিনের কন্ঠে।‘আমার এত বড় বাড়ি
থাকতে...।’
‘বুঝতে চেষ্টা করুন,আমার এখানে আসার উদ্দেশ্য
যদি কোনোভাবে কর্তৃপক্ষের গোচরে আসে তবে
আমার আশ্রয়দাতা হিসেবে সবচাইতে আগে আপনি
আর আপনার মেয়ে বিপদে পড়বেন।আমি সেটা
চাচ্ছি না।তবে আপনি কিছু মনে না করলে আজ
রাতটা আপনার বাড়িতেই থাকব।’
মাথা ঝাঁকালেন সালাহউদ্দিন।ব্যাপারটা মেনে
নিয়েছেন।‘হুম,শিওর।’
কিচ্ছুক্ষন পরই বিশাল এক ফ্রেঞ্চ স্টাইলের
ডুপ্লেক্স বাড়ির ড্রাইভওয়েতে এসে দাঁড়াল বুইক।
চমৎকার দোতলা বাড়ি।যদিও দেখে মনে হচ্ছে
কমপক্ষে সাড়ে তিনতলা হবে!
সাইফকে পথ দেখিয়ে সরাসরি ড্রয়িংরুমে নিয়ে
এলেন সালাহউদ্দিন।
বিশাল ড্রয়িংরুম।অনায়াসে ফুটবল খেলা যাবে।
পাশেই ডাইনিং স্পেস।চমৎকার ডেকোরেশন।নাসের
বিন ইউসুফ বেশ শৌখিন মানুষ ছিলেন দেখা যায়।
‘ওই যে,ওয়াশরুম।আপনি ফ্রেশ হয়ে নিন,আমি
আসছি।’ বলে চলে গেলেন সালাহউদ্দিন।
সাইফ ওয়াশরুম থেকে হাতমুখ ধুয়ে এসে দেখল
টেবিলে নাস্তা দেয়া হয়েছে।মনেই ছিল না,এখন
সকাল।নাস্তা দেখে মনে পড়ল।বাংলাদেশের
চাইতে কায়রোর সময় চারঘন্টা এগিয়ে।রিস্টওয়াচের
টাইম ঠিক করে নিল সাইফ।
নাস্তার পরিমাণ দেখে বোঝা যাচ্ছে বাড়ির
লোকজনও নাস্তা করেনি।সোফায় বসে অপেক্ষা
করতে লাগল সাইফ।একটা ম্যাগাজিন উল্টাচ্ছে।
ম্যাগাজিনের পৃষ্ঠায় চোখ রাখতে গিয়ে অনুভব করল
মারাত্মক ঘুম পেয়েছে ওর।প্লেনে ঘুমাতে পারে না
সাইফ।তাছাড়া টাইমল্যাগও কিছুটা ক্লান্ত করে
ফেলেছে।
এমন সময় কারো আগমন টের পেয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে
তাকাল।উপর থেকে শেইখ সালাহউদ্দিন নেমে
আসছেন।ঠিক তার পেছনেই বছর চব্বিশের এক তরুণী।
নিশ্চয়ই শেইখ সালাহউদ্দিনের মেয়ে।নামটা জানা
হয়নি।
মেয়েটা আরো কাছে আসতেই কিছু সময়ের জন্য
থমকে গেল সাইফ।একটা স্কার্ফ জড়ানো মেয়েটার
মাথায়।সম্ভবত মেহমানের খাতিরেই।শুধু মুখটা দেখা
যাচ্ছে।তাতেই মেয়েটার রুপ যেন বেড়ে গেছে
অনেকখানি।চোখ সরিয়ে নিতে বেশ বেগই পেতে হল
সাইফকে!
‘আমার মেয়ে,সুমাইয়া হোসাইনি।’
‘আসসালামু আলাইকুম।’ জলতরঙ্গের মত রিনরিনে গলা
সুমাইয়ার।
‘ওলাইকুম আস সালাম।জবাব দিল সাইফ।‘আমি সাইফ
হাসান।’
‘মেজর?’
‘সরি? ওহ... হ্যাঁ।’ হেসে ফেলল সাইফ।
সুমাইয়াও মুচকি হাসল।‘আসুন,শুরু করা যাক।’
‘শিওর।’
বাপ বেটির পেছন পেছন একটা চেয়ার দখল করল
সাইফ।কিছুক্ষন নীরবে খাওয়া চলল।খেতে খেতেই
কাজের কথা পাড়ল সাইফ।
‘আচ্ছা,কাজের কথায় আসা যাক।আমাদের হাতে
সময় নেই।যত দ্রুত সম্ভব কাজে নেমে পড়তে হবে।
আপনি কি আমাকে একটু ডিটেইলস বলতে পারবেন
জায়গাটার ব্যাপারে।’
গলা খাঁকারি দিলেন সালাহউদ্দিন।‘আগেই
জেনেছেন হয়ত,জায়গাটার এগজ্যাক্ট পজিশন নাসের
আমাকে বলে যেতে পারেনি।ম্যাপে অস্পষ্টভাবে
একটা এরিয়া নির্ধারণ করে দিয়ে গেছে।এরিয়াটা
বিশাল।মরুভূমির মধ্যে হওয়ায় ম্যাপে ডিটেইল কিছু
নেই।আমি আপনাকে ওই এরিয়ায় নিয়ে যেতে পারব।
খোঁজাখুঁজি করতে হবে প্রচুর,কিন্তু...।’ থেমে গেলেন
সালাহউদ্দিন।
‘কিন্তু?’
‘আসলে মরুভূমির ব্যাপারে আমার অভিজ্ঞতা খুবই
কম।একা একা যাওয়া হয়নি কখনো।মাঝে মধ্যে
নাসেরের সাথে যাওয়া হত।সেজন্য
বলছিলাম,খোঁজাখুঁজির জন্য একজন গাইড যোগার
করতে পারলে সবচাইতে ভাল হত।’
‘গাইড?’ অস্ফুটে বলল সাইফ।চিন্তা করে দেখছে
গাইডের কাছ থেকে আসল ব্যাপারটা গোপন রেখে
খোঁজাখুঁজি চালানোটা সম্ভব কিনা।মনে হচ্ছে
সম্ভব।একটা প্ল্যান আছে মাথায়।
‘ওকে,সমস্যা নেই।আমি তো কাল হোটেলে
যাচ্ছি,ওখান থেকেই কাউকে যোগার করে নেয়া
যাবে।আপনার পরিচিত কেউ আছে কি?’
মাথা নাড়লেন সালাহউদ্দিন।‘নাহ,তেমন কেউ তো
নেই।হোটেল থেকে যোগার করলেই ভাল হবে।তবে
আপনি অনুমতি দিলে আমিই ব্যাবস্থা করতাম।’
‘না,এই সামান্য কাজটুকু আমিই পারব।’
‘ওকে,থ্যাঙ্কস।’
এরপর নীরবে খাওয়া চলল।এর মধ্যে সুমাইয়া একটা
কথাও বলেনি।চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে।বোঝাই
যাচ্ছে,মেয়েটা ওর পরিচয়,এখানে আসার
উদ্দেশ্য,সবই জানে।একটু পর খাওয়া শেষ হতে
সুমাইয়া বিদায় নিয়ে উপরে চলে গেল।
খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষ হতেই সালাহউদ্দিন
বললেন,‘আপনি বিশ্রাম নিন।কাল থেকেই তো আবার
কাজে নেমে পড়তে হবে।’
মাথা ঝাঁকিয়ে সায় জানাল সাইফ।
সালাহউদ্দিন হাঁক ছেড়ে একজন কাজের লোককে
ডেকে সাইফের লাগেজটা ওর রুমে নিয়ে রাখতে
বললেন।এরপর তিনি নিজেই সাইফকে নিয়ে চললেন
ওর রুম দেখাতে।
সাইফ শেইখ সালাহউদ্দিনের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়ে
গেল।
একটা মাঝারি আকারের রুমে নিয়ে এলেন ওকে
সালাহউদ্দিন।অন্য সব রুমের মত এই রুমটাও চমৎকার
সাজানো।বিশেষ করে পরিপাটি বিছানা দেখেই
অবসাদ ঘিরে ধরল সাইফকে।
‘আপনি বিশ্রাম নিন,পরে কথা হবে।’সালাহউদ্দিন
বিদায় নিয়ে চলে গেলেন।
দরজা লাগিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল সাইফ।
আর্মিতে থাকাকালীন একবার এক ঘুর্নিঝড়
আক্রান্ত গ্রামে ত্রান নিয়ে যেতে হয়েছিল ওদের।
ওখানে যাবার পর দ্বিতীয় দফা ঝড় শুরু হয়।সেবার
টানা চারদিন এক সেকেন্ডের জন্যও বিছানায় পিঠ
ঠেকাতে পারেনি।কিন্তু এই মুহুর্তে শরীরে শক্তি
সঞ্চয় করে রাখতে চাইছে।নইলে প্রয়োজনের সময়
বেঁকে বসতে পারে দেহঘড়ি।এই মুহুর্তে নিজেকে
ফিট রাখতে হবে।কাল থেকেই শুরু হবে এক অসম্ভবকে
সম্ভব করার মিশন।
মিশন ইম্পসিবল!
ভাবতেই মুচকি হাসি ফুটে উঠল ওর ঠোঁটে।
ঠোঁটে হাসি নিয়েই ঘুমের অতলে তলিয়ে গেল সাইফ
হাসান।
------------
।। একাকি কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now