বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রিটার্ন অব ড্রাকুলা
কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন
অনুবাদক : ইসমাইল আরমান
-------------------------------------
পর্ব ২৮ঃ
হঠাৎ একটা অদ্ভুত আওয়াজ শুনলাম। প্রথমে মনে হলো
ঘড়ির টিকটিক, তারপর সেটা বেড়ে গিয়ে করাঘাতে
পরিণত হলো। বাড়ির সদর দরজা থেকে আসছিল শব্দটা।
লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালাম আমরা, বেরিয়ে এলাম ঘর
থেকে হলঘরে। হাতে অস্ত্র বলতে কিছু নেই, স্ট্যান্ড
থেকে একটা ছড়ি তুলে নিলাম আমি। এগোলাম দরজার
দিকে।
" সাবধান জোনাথন", পেছন থেকে সতর্ক করে বললেন
ভ্যান হেলসিং, " খুব সাবধান! "
মাথা ঝাঁকিয়ে হাত রাখলাম হাতলে - বরফের মতো
ঠাণ্ডা হয়ে আছে ওটা। সাহসে বুক বেঁধে মোচড় দিলাম
ওতে, খুলে গেল পাল্লা। যা দেখলাম দরজার ওপাশে, তা
আমার মধ্যে বিস্ময় ফুটিয়ে তুলল।
ছোটখাটো গড়নের একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে দরজার
সামনে। গায়ে শতচ্ছিন্ন স্যুট - তাতে বিভিন্ন জায়গায়
কাদামাটি, ঘাস, আগাছা আর মাকড়শারজাল। লোকটার
মুখটা কাগজের মতো সাদা, আমার দিকে তাকিয়ে একটু
হাসতেই মুখের ভেতর থেকে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল দুটো
শ্বদন্ত। চমকে উঠলাম। এ তো গোরস্থানে দেখা সেই
ভ্যাম্পায়ার!
সভয়ে পিছিয়ে গেলাম আমি। হাতে ক্রুশ নিয়ে সে
জায়গা দখল করলেন ডাঃ সিউয়ার্ড, উঁচু করে তুলে ধরলেন
ভ্যাম্পায়ারটার সামনে। বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো কয়েক হাত
দূরে পিছিয়ে গেল পিশাচটা; কিন্তু পালালো না। বদলে
চামড়ায় মোড়া একটা মোটা খাতা মুখের সামনে মেলে
ধরে কাতর গলায় ডেকে উঠল, " ভ্যান হেলসিং! আব্রাহাম
ভ্যান হেলসিং!"
আঁতকে উঠলেন ভ্যান হেলসিং, গলাটা শুনে এবার চিনতে
পেরেছেন। নিজের মনেই বলে উঠলেন, " কোভাক্স তুমি!
হা ঈশ্বর! এ কি দেখছি আমি? "
এবার আমিও চিনলাম। প্রফেসর আন্দ্রে কোভাক্স -
ইলিনার চাচা, ভ্যান হেলসিংয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
বুদাপেস্টে ওঁর বাড়িতেই আতিথ্য গ্রহণ করেছিলাম
আমরা। কিন্তু এ কি অবস্থা হয়েছে ভদ্রলোকের?
" আমায় ভেতরে ঢুকতে দাও, আব্রাহাম ", হেলসিংকে
উদ্দেশ্য করে বললেন কোভাক্স, " তোমাদের আমন্ত্রণ
ছাড়া বাড়ির ভেতরে ঢুকতে পারব না আমি। গত দু'দিন ধরে
চেষ্টা করেও পারিনি"।
" না!" কড়া গলায় বললেন প্রফেসর হেলসিং, " দুঃখিত
বন্ধু, তোমাকে এখন আমরা বাড়িতে ঠাঁই দিতে পারি না"।
" তা হলে আমার এই জার্নালটা নাও", বললেন আন্দ্রে
কোভাক্স। এই বলে হাতে ধরা খাতাটা বাড়িয়ে ধরলেন
আমাদের দিকে। বললেন, " এটা আমার মৃত্যুর আগে শেষ
লিখে যাওয়া জার্নাল। এটা পড়লে সব বুঝতে পারবে।
পড়ে দ্যাখো, আমি না হয় ততক্ষণ বাইরে অপেক্ষা
করছি"।
ব্যগ্রতা প্রকাশ পেল কোভাক্সের গলায়। তীক্ষ্ণ চোখে
তাঁকে কিছুক্ষণ জরিপ করলেন ভ্যান হেলসিং, তারপর
অনেকটা অনিচ্ছার ভঙ্গিতে তাঁর হাত থেকে খাতাটা
নিলেন। দরজা বন্ধ করে দিয়ে ড্রয়িংরুমে ফিরে এলাম
আমরা।
খাতা খুলে উঁচু গলায় প্রফেসর আন্দ্রে কোভাক্সের
জার্নাল পড়তে শুরু করলেন ভ্যান হেলসিং। মন্ত্রমুগ্ধের
মতো শুনে গেলাম আমি আর ডাঃ সিউয়ার্ড। ভ্যান
হেলসিংয়ের কপালেও ভাঁজ পড়তে শুরু করল। ধীরেধীরে
জানা গেল অবিশ্বাস্য এক কাহিনী - স্কলোম্যান্স
নামের এক প্রাচীন শয়তানের আখড়া আবিষ্কার
করেছিলেন কোভাক্স। ওখানেই পিশাচবিদ্যা আর কালা
জাদুর শিক্ষা পেয়েছিল কাউন্ট ড্রাকুলা।
স্কলোম্যান্সে আরেকজন পিশাচের দেখা পেয়েছেন
আন্দ্রে কোভাক্স - বেহেরিট। কোভাক্সের ছাত্র
মিকোলাসকে সেই-ই শেষ করেছে, কোভাক্সের রক্তপান
করে করে তাঁকেও বানিয়েছে জীবন্মৃত। তারপর বিশেষ
এক কাজে পাঠিয়েছে আমাদের কাছে।
" এ.....এসব কি সত্যি?" জার্নাল পড়া শেষ হলে হতভম্ব
গলায় বললেন ডাঃ সিউয়ার্ড।
" মিথ্যে বলে মনে হচ্ছে না", গম্ভীর গলায় বললেন
হেলসিং, " ঈশ্বর! কেন এত বড় শাস্তি দিলে আমার
বন্ধুকে?"
কয়েক মূহুর্ত নীরব রইলাম আমরা। হঠাৎ ডাঃ সিউয়ার্ড
বললেন, " প্রফেসর, একটা কাজ করলে হয় না? কোভাক্স
তো কাউন্ট ড্রাকুলার বিপক্ষ.....মানে কাউন্টের শত্রু
বেহেরিটের কাছ থেকে এসেছেন। ওঁকে আমরা
নিজেদের কাজে লাগাতে পারি না? দলে একটা
ভ্যাম্পায়ার থাকলে পাল্লাটা সমান হয়ে যায়"।
" কি বলছেন আপনি?" লাফিয়ে উঠে প্রতিবাদ করলাম
আমি, " এখন আর প্রফেসর কোভাক্স নন উনি। স্রেফ একটা
পিশাচ ছাড়া এখন আর কিছুই নন উনি.....মানুষের রক্ত এখন
যাঁর খাদ্য। একটা ভ্যাম্পায়ারকে দলে নেবার প্রশ্নই
ওঠে না। বুকে গজাল গেঁথে শুধু ওঁকে মুক্তি দিতে পারি
আমরা, আর কিছু না"।
" ব্যাপারটা এত সরল নয়, জোনাথন", চিন্তিত গলায় বললেন
হেলসিং, " জার্নালটা থেকে দেখা যাচ্ছে, কাউন্টের
সঙ্গে বেহেরিটের একটা মতভেদ আছে। কাউন্ট শয়তানের
উপাসনা করেছিল ঠিকই কিন্তু শয়তানের কাছে
আত্মসমর্পণ করেনি, কারণ মানুষ হোক, ঈশ্বর হোক বা
শয়তান - কারোর কাছে আত্মসমর্পণ করবে না, এই ছিল
তার জীবনের পণ। আর এখানেই বেহেরিটের সঙ্গে তার
বিরোধ। বেহেরিট স্কলোম্যান্সে কাউন্টের পুনরাগমন
ঠেকাতে চায় আর এজন্যেই সে কোভাক্সকে পাঠিয়েছে
এখানে। ওদের এই বিরোধটাকে যদি কাজে লাগাতে
পারি আমরা......."
" কিন্তু কোভাক্স এখন আর মানুষ নন, ভ্যাম্পায়ার, সে কি
করে আমাদের সহায়তা করবে?" আমি বললাম
" তাতে কি?" বলে উঠলেন ভ্যান হেলসিং," আমাদের
কাছে পিশাচের আক্রমণ ঠেকাবার উপকরণ আছে - পবিত্র
ক্রুশ, রসুন, বুনো গোলাপ আর সর্বোপরি আগুন। ওর আক্রমণ
করার কোনও সুযোগই নেই আমাদের ওপর। বেহেরিট আর
কোভাক্স কাউন্ট ড্রাকুলাকে ঠেকাতে চায়, আমাদেরও
এ দিক থেকে লক্ষ্য এক। দেখাই যাক না, কোভাক্সের
সঙ্গে কথা বলে। আমাদেরও ওর সাহায্য দরকার; ওরও
হয়তো আমাদের সাহায্য দরকার"।
প্রফেসরের যুক্তির সামনে হার মানতে বাধ্য হলাম আমি।
চরম অনিচ্ছা নিয়ে ফিরে গেলাম হলঘরে। দরজা খুলে
ডাকলাম কোভাক্সকে, " আসুন, প্রফেসর কোভাক্স"।
মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি, আমার আমন্ত্রণ
পেয়ে যেন প্রাণ ফিরে পেলেন তিনি। শান্ত ভঙ্গিতে
চৌকাঠ পেরিয়ে ঢুকলেন বাড়ির ভেতর। গা থেকে ভেসে
আসা মৃত্যুর গন্ধ বাদ দিলে তাঁকে সেই আগের মতো
শান্তশিষ্ট গবেষকই বলা চলে। আগের মতোই সংযত.....ভদ্র
আচরণ। শান্ত পদক্ষেপে ড্রয়িংরুম পর্যন্ত এলেন
কোভাক্স, তারপর ঘুরে দাঁড়ালেন আমাদের দিকে।
" বোসো", একটা চেয়ার দেখিয়ে দিয়ে বললেন হেলসিং।
" না, ধন্যবাদ", বললেন কোভাক্স, " আমি বসলে নোংরা
হবে ওই চেয়ার"। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, '
তোমায় আবার দেখতে পেয়ে বড়ই আনন্দ হচ্ছে আব্রাহাম।
যখন মারা যাচ্ছিলাম....সেইসময় জার্নালের শেষ
এন্ট্রিটা লিখি....তখনও ভাবতে পারিনি, আবার
তোমাদের সাথে দেখা হবে। এখন তো সব বদলে
গেছে.....অন্ধকার জগতের এক ঘৃণ্য প্রাণীতে পরিণত
হয়েছি আমি....."
" থামো তো!" হাত তুলে বাধা দিলেন হেলসিং, " তুমি তো
আর স্বেচ্ছায় এ জীবন বেছে নাওনি। পরিস্থিতির
শিকার হয়েছিলে। বাদ দাও ওসব! এখন বলো, এখানে এলে
কি করে?"
" পায়ে হেঁটে", বললেন কোভাক্স, " ট্রানসিলভ্যানিয় া
থেকে পায়ে হেঁটে ইংলন্ডে এসেছি আমি। হাঁটতাম
রাতের অন্ধকারে। ভোরের আলো ফুটতে দেখলেই ঘাপটি
মারতাম পরিত্যক্ত কোনও কবরখানায়। সূর্য ডুবলেই ফের
বেরিয়ে পড়তাম বাইরে"।
" তাতে তো অনেক সময় লাগার কথা", বললেন হেলসিং। "
সময়ের কথা জানি না", বললেন কোভাক্স, " সময়ের
হিসেব আর রাখি না। আমি এখন অন্ধকার জগতের
বাসিন্দা, আমি এখন শুধুই শিকারী। আমার এখন নেই
কোনও মানবিক আবেগ অনুভূতি। এখন চাহিদা, তাড়না বা
অনুভূতি যা-ই বলো না কেন, একটাই আছে আমার। রক্তের
তৃষ্ণা!"
" নিজেকে সামলাও, আন্দ্রে", কড়া গলায় বললেন ভ্যান
হেলসিং, " এখনও প্রায়শ্চিত্তের উর্ধ্বে চলে যাওনি
তুমি। এখনও বুদ্ধি বিবেচনা আছে তোমার। যদি চাও তো
আমিই মুক্তি দিতে পারি তোমায়"। " না!" সভয়ে বলে
উঠলেন কোভাক্স, " মুক্তি চাই না আমি। অন্তত এখুনি না।
এখন আমার লক্ষ্য, কাউন্ট'কে স্কলোম্যান্সে ফের প্রবেশ
করা থেকে ঠেকাতে হবে"। " এ তো অসম্ভব এক দায়িত্ব ",
বলে উঠলেন ডাঃ সিউয়ার্ড, " কিভাবে কাউন্টের
স্কলোম্যান্সে ফেরা ঠেকাবেন আপনি? অনন্তকাল ওর
পিছে পিছে ঘুরবেন?" " এ প্রশ্নের জবাব এ মূহুর্তে আমার
জানা নেই", বললেন কোভাক্স, " তবে বেহেরিটকে আমি
বিশ্বাস করি। একটা না একটা উপায় নিশ্চয়ই আছে। নইলে
ও আমায় এভাবে পাঠাত না। সময় হলেই জানা যাবে সব"।
" হুম!" মাথা ঝাঁকালেন হেলসিং, " বেহেরিট অন্তত একটা
কথা ঠিক বলেছে - কাউন্ট ড্রাকুলা ধ্বংস হয়নি, ফিরে
এসেছে আবার। আন্দ্রে, তুমি তো গত রাতে গোরস্থানেই
ছিলে। কাউন্টের সঙ্গে দেখা হয়েছিল?" " না", মাথা
নাড়লেন কোভাক্স, " দূর থেকে নজর রেখেছিলাম ওর
ওপর, চাইনি আমার উপস্থিতি ও টের পাক"।
" আমার স্ত্রী আর আর ছেলেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে
ড্রাকুলা", আকুল গলায় বললাম আমি, " ওদেরকে কোথায়
নিয়ে গেছে, তা কি জানেন?"
" উঁহু ", কোভাক্স বললেন, " তবে ওদেরকে খোঁজায়
তোমাদের সাহায্য করতে পারব আমি"। " ইলিনাও ওর
কব্জায়", বললেন ভ্যান হেলসিং, " এখনও বেঁচে আছে
মেয়েটা কিন্তু আর কতদিন বেঁচে থাকবে, বলা মুশকিল।
এক অর্থে ড্রাকুলার কাছে প্রয়োজন ফুরিয়েছে ওর"।
" জানি ", বললেন কোভাক্স, " ওকে আমি দেখেছি
ড্রাকুলার সঙ্গে। ইচ্ছে হয়েছিল ওর কাছে যাবার;
জিজ্ঞেস করার....কেন ও ওর সাথে যোগ দিতে গেল।
কিন্তু......
" মন খারাপ কোরো না", স্বান্তনা দিলেন ভ্যান হেলসিং,
" কিভাবে ইলিনা ড্রাকুলার পাল্লায় পড়ল, তা আমরাই
বলতে পারব তোমায়। আসলে সব আমার দোষেই হয়েছে।
যদি আমরা ফের ট্রানসিলভ্যানিয়া না যেতাম, যাবার
পথে তোমার বাড়িতে না উঠতাম..... তা হলে হয়তো এসব
ঘটত না"।
" যা হবার তা হয়ে গেছে, তোমার কিছু করার ছিল না
ওতে", বললেন কোভাক্স, " তোমার সঙ্গে আমার অনেক
কথা আছে, আব্রাহাম। সামনে এখন অনেক কাজ"। মীনা
হারকারের দিনলিপি
১২ নভেম্বর।।
সঙ্গে ডায়েরী আনতে পারিনি আমি। কিছুই আনিনি।
কতগুলো টুকরো কাগজ জড়ো করে লিখছি আমার
দিনলিপি। কখনও এই দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তি পাবো কি না
জানি না, তাই কথাগুলো লিখে রাখা প্রয়োজন মনে
করছি। যদি কেউ এগুলো খুঁজে পায়, জানতে পারবে কি
ঘটেছিল আমার ভাগ্যে।
বাড়ি থেকে যখন আমায় বের করে আনল কাউন্ট, ভয়
পাইনি আমি। মাথায় তখন শুধুই ঘুরছিল কুইন্সি'র চিন্তা।
ক্যারিজে আমায় উঠিয়ে দিয়ে নিজে কোচোয়ানের
আসনে বসেছিল কাউন্ট, ঊর্ধ্বশ্বাসে ঘোড়া ছুটিয়েছে।
রাতভর লন্ডনের দিকে একটানা এগিয়েছি আমরা।
থেমেছি মাত্র দু'বার, অল্প সময়ের জন্য, ঘোড়া বদলাতে।
পালাবার চেষ্টা করিনি আমি, জানি পালানো অর্থহীন।
কাউন্টও জানত সেটা, তাই একেবারেই মনোযোগ দেয়নি
আমার দিকে। ভোরের দিকে পাথরের উঁচু পাঁচিল ঘেরা
বিশাল একটা বাড়িতে পৌঁছলাম আমরা। দেখামাত্র
জায়গাটা চিনতে পারলাম। কারফ্যাক্স অ্যাবির সেই
পুরনো বাড়ি!
এই বাড়িটাই জোনাথনের মাধ্যমে কিনেছিল ড্রাকুলা।
সাত বছর আগে।আমাদের তাড়া খেয়ে এখান থেকেই
পালিয়েছিল সে। সেই থেকে পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছিল
বাড়িটা, এতদিন পর আবার নিজের পুরনো বাসস্থানে
ফিরে এসেছে কাউন্ট।
জং ধরা লোহার গেট পেরিয়ে আঙিনায় ঢুকল আমাদের
ক্যারিজ। চালকের আসন থেকে নেমে ফটকে তালা মেরে
দিল কাউন্ট। জানলা দিয়ে তাকিয়ে মনে হলো, ভিন্ন এক
জগতে পৌঁছে গেছি। সাত বছরের অবহেলায় প্রায়
হানাবাড়ির চেহারা পেয়েছে কারফ্যাক্স অ্যাবি।
বিবর্ন হয়ে গেছে চেহারা, দেয়াল আর সিঁড়ির ইঁটের ওপর
শ্যাওলার আস্তর। আঙিনা জুড়ে ঘাস আর আগাছার
জঙ্গল। বড় বড় গাছ ঢেকে রেখেছে বাড়িটাকে, সূর্যের
আলো ঢোকার উপায় নেই বললেই চলে। নাকে ভেসে এল
জলাভূমির মতো সোঁদা গন্ধ। আঙিনার একপাশের পুকুর
থেকে আসছে সেই গন্ধ। পুকুরটার উপরিভাগও ঢেকে
গেছে কচুরিপানা আর শৈবালে। তার ওপর ভাসছে জমাট
কুয়াশা। রীতিমতো ভৌতিক পরিবেশ। ক্যারিজের দরজা
খুলে আমায় নামতে সাহায্য করল কাউন্ট ড্রাকুলা - ঠিক
যেভাবে একজন সম্ভ্রান্ত ভদ্রমহিলাকে নামতে সাহায্য
করে কোনও সম্ভ্রান্ত ভদ্রলোক। তবে মুখে কোনও কথা
বলল না। আমি নেমে যেতেই ফের উঠে পড়ল চালকের
আসনে। ঘোড়ার পিঠে চাবুক মেরে গাড়িটা নিয়ে চলে
গেল বাড়ির পেছনে। সদর দরজার দিকে উঠে যাওয়া
সিঁড়ির সামনে একাকী দাঁড়িয়ে রইলাম কিছুক্ষণ। হঠাৎ
খুলে গেল দরজাটা, হাতে চোরা লণ্ঠন নিয়ে সেখানে
উদয় হলো ইলিনা। কোনও পরিবর্তন দেখলাম না ওর মধ্যে -
আগের মতোই ফ্যাকাসে, প্রাণহীন চেহারা; তবে ঠোঁটের
কোণে ফুটে ওঠা হাসিটা বিষের মতো লাগল। আমাকে
ঘরে ঢোকার ইশারা করল সে।
সিঁড়ি ধরে উঠে এলাম ওপরে। দোরগোড়ায় পৌঁছে এক
মূহুর্তের জন্য থামলাম, শান্ত চোখে পরস্পরকে জরিপ
করলাম আমি আর ইলিনা। কিন্তু কেউ কোনও কথা বললাম
না।
ক্রমশ
অশুভ আত্মা
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now