বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
ফুলে ফুলে ছেয়ে আছে ঘরের চারপাশ,বিছানাটাও
বিভিন্ন ফুল দিয়ে সাজানো।খাটের ঠিক মাঝখানে
নববধুর সাজে,সেজে আছে একটি অপূর্ব সুন্দরী একটি
মেয়ে।কিছুক্ষন পর দরজা দিয়ে সাদা শেরওয়ানী পড়া
পাগড়ি মাথায়,এক সুদর্শন পুরুষের প্রবেশ।।
ছেলেটি ঘরে ঢোকা মাত্র,মেয়েটি বিছানা থেকে
নেমে ছেলেটিকে সালাম করতে যাবে,হঠাৎ ছেলেটি
পা সরিয়ে নেয়।আর বলতে থাকে,
"দেখ এসব ফরমালিটি আমি মোটেও পছন্দ করিনা,আর
এসব বিয়ে টিয়ে আমি মানিনা,মা অসুস্থ ছিলো,তাই তার
কথা রাখতে বিয়ে করেছি,এসব স্বামী স্ত্রী খেলা
আমার পক্ষে সম্ভব না,কথা গুলো যতো তাড়াতাড়ি মেনে
নিতে পারবে ততই তোমার জন্য মঙ্গল,আর কয়দিন পর মা
আমেরিকায় বড় মামার কাছে চলে যাবে,তুমি ততদিন
এখানে থাকতে পারো"
কথাগুলো বলেই একটা বালিশ আর চাদর নিয়ে ঘরের
কর্নারে সোফার উপর শুয়ে পরে ছেলেটি,আর মেয়েটি
নীরবে চোখের পানি ফেলতে থাকে।
.
এতক্ষন যে ছেলে মেয়েটির কথা বলা হলো তাদের,আজ
রাতে বিয়ে হয়েছে।মেয়েটির নাম জেসমিন,আর
ছেলেটির নাম জিসান।
জেসমিন অনেক শান্ত শ্রেষ্ট এবং বুদ্ধিমতী
মেয়ে,জেসমিনের যখন ছয় বয়স বয়স তখন তার মা মারা
যায়।এরপর থেকে বাবার আদরের মানুষ,একটা প্রাইভেট
ভার্সিটি থেকে মাষ্টার্স করেছে।
আর জিসান পড়াশুনা শেষ করে মৃত বাবার ব্যাবসা
দেখাশুনা করছে।জিসান অনেক টা গম্ভীর স্বভাবের
অনেকটা রাগি।তবুও এই রাগি মানুষটার ভিতরে দুই বছর
আগে অনেকখানি ভালোবাসা লুকিয়ে ছিলো।যার
কোনটাই আজ আর নেই।
.
বিয়ের কয়েকদিন পর জেসমিন ঘর গোছাতে গিয়ে হঠাৎ
বালিশের নীচে একটি ডায়েরী দেখতে পায়,ডায়েরীর
উপরে লেখা ছিলো,
"ডোন্ট টাচ্"
কথায় বলে নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আকর্ষন
একটু বেশীই থাকে,এ কারনেই জেসমিন ডায়েরীর পেজ
টা ওল্টায়।
প্রথম পৃষ্টা খুলতেই জেসমিন জিসানের ছবি দেখতে পায়,
প্রথম পৃষ্টাতে লেখা,
"আজ একটি অচেনা আইডি থেকে আমার কাছে
রিকোয়েষ্ট আসলো"
.
এই ঘটনার প্রায় একমাস পর.......
.
জিসান অফিসে বসে ল্যাপটপে ফেসবুক ওপেন করতেই
একটি আইডি থেকে রিকোয়েষ্ট দেখতে পায়।আইডিটার
নাম দেখেই অতিতে হারিয়ে যায় জিসান।
[দুই বছর আগে ঠিক একই নামে আকাশের কাছে একটি
রিকোয়েষ্ট আসে,আইডি টির নেম ছিলো "রোদেলা
আকাশ"
আকাশের নামে নাম হওয়ায় আকাশ রিকোয়েষ্ট টা
একসেপ্ট করে।
হায় হ্যালো শুরু হয়,আকাশ যানতে পারে মেয়েটির নাম
রোদেলা,
এরপর থেকে কথা শুরু হয়,এরপর দেখা করা অতঃপর প্রেম।
এর কিছুদিন পর রোদেলা একটি সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায়।
তার পর থেকে আকাশ এমন]
"মে আই কামইন স্যার? "
হঠাৎ অফিসের এক কর্মচারির ডাকে বাস্তবে ফিরে
আসে আকাশ।
অতপর সেদিন রাতে রিকোয়েষ্টটি একসেপ্ট করে
আকাশ।
পরেরদিন সেই আইডিটি থেকে একটি এস.এম.এস আসে,
"থ্যাংস ফর একসেপ্ট মি"
কিছুক্ষন পর রিপ্লে আসে,
--ওয়েলকাম(আকাশ)
---কেমন আছেন ( রোদেলা)
--জ্বী ভালো,আপনী?(আকাশ)
--হা আমি ও ভালো আছি,
আমি রোদেলা আপনি?( রোদেলা)
নামটা শুনে কিছুক্ষন চুপ হয়ে যায় আকাশ
অতঃপর রিপ্লে দেয়,
--আমি আকাশ (আকাশ)
[এভাবে চ্যাটিং চলতে থাকে অধরা আর আকাশের।
বর্তমানে আকাশ অনেকটা অধরার উপর নির্ভরশীল হয়ে
পড়েছে,একদিন এস.এম.এস না দিলে কেমন অস্থির ভাবে
সময় কাটায়]
.
---আচ্ছা আমি কি তোমার ফোন নম্বরটি পেতে পারি?
(আকাশ)
--না ( রোদেলা)
--একটি ছবি তো পেতে পারি?(আকাশ)
--না (রোদেলা)
--কেনো?তাহলে মিট করবা প্লিজ?(আকাশ)
--না প্রবলেম আছে(রোদেলা)
---কি প্রবলেম(আকাশ)
--কিছুনা (রোদেলা)
.
[যত দিন যেতে থাকে আকাশ ততই রোদেলার প্রেমে
পড়তে থাকে,আকাশ কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারেনা
একটা মানুষের মত অন্য একটা মানুষের ব্যাবহার কি করে
এক হতে পারে]
.
--আচ্ছা একটা কথা বলি?(রোদেলা)
--হা বলো(আকাশ)
--আমি কি আপনাকে মি.ভদ্রলোক ডাকতে পারি?
(রোদেলা)
--হোয়াট?(আকাশ)
আবারো আকাশ চমকে ওঠে,রোদেলাও আকাশকে
মি.ভদ্রলোক বলে ডাকতো
--কেন রাগ করলেন?আচ্ছা সরি বলবোনা,(রোদেলা)
--আরে না,ঠিক আছে,তবে একটা শর্ত আছে(আকাশ)
--কি শর্ত ( রোদেলা)
--আমি তোমাকে রাগকুমারি বলে ডাকবো(আকাশ)
--ওকে (রোদেলা)
--আচ্ছা আমিও একটা কথা বলি?(আকাশ)
--বলেন (রোদেলা)
--রাগ করবে না তো?(আকাশ)
--না করবোনা বলেন(রোদেলা)
--সত্যি তো?(আকাশ)
--হ্যা বাবা সত্যি(রোদেলা)
--আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি(আকাশ)
--মানে? (রোদেলা)
--হা সত্যি বলছি(আকাশ)
--আপনি কি পাগল হয়েছেন
আপনি জানেন আমি বিবাহিত?(রোদেলা)
--মানে (আকাশ)
--হ্যা সত্যি বলছি,আমি বিবাহিত,আমার স্বামী
আছে,কিন্তু কোনদিন আমাদের মাঝে স্বামী স্ত্রীর
সম্পর্ক গড়ে ওঠে নী(রোদেলা)
--তোমাকে আমিও একটা কথা বলতে চাই(আকাশ)
--বলুন(রোদেলা)
--আমিও বিবাহিত,মায়ের কথা রাখার জন্য একটা
মেয়েকে বিয়ে করেছি,কিন্তু আমাদের মাঝেও কোনদিন
তেমন কোন সম্পর্ক গড়ে ওঠেনী(আকাশ)
--তো? (রোদেলা)
--তো তুমি চাইলে,তোমার স্বামীকে ছেড়ে আমার কাছে
আসতে পারো,আমি ও ওই মেয়েটাকে ডিভোর্স দিয়ে
দিবো(আকাশ)
--আচ্ছা আপনারা ছেলেরা কি ভাবেন?
একটি সম্পর্ক খুব সহজে শেষ করে দেয়া যায়া?কি দোষ
করেছে আপনার স্ত্রী?
আমাকে ভালো নাবেসে কেন তাকে ভালোবাসলেন না?
(রোদেলা)
--তোমাকে সব বুঝিয়ে বলবো রোদেলা,তুমি শুধুমাত্র
একবার আমার সাথে দেখা কর(আকাশ)
--না,আমাকে দেখলে আপনি আর আমাকে ভালোবাসবেন
না(রোদেলা)
--আমি সত্যি বলছি রোদেলা আমি তোমাকে মন থেকে
ভালোবাসি,তুমি দেখতে কেমন সেটা যায়
আসেনা,তোমার রাগ অভিমান গুলোকে আমি
ভালোবেসে ফেলেছি।(আকাশ)
--থাক আর কিছু করতে হবেনা,আল্লাহ চাইলে দেখা হবে
ভালো থাকবেন,আমি আইডিটা ডিএক্টিভ করে দিচ্ছি।
(রোদেলা)
[এতঃর মূহুর্তেই রোদেলার নামেটি নীল থেকে কালো
হয়ে গেলো]
.
.
সাতদিন পর
.
.
গতকাল আকাশের মা চলে গেছে,রোদেলার আইডিও
ডিএক্টিভ।কয়েকদিন থেকে আকাশ অফিস যাচ্ছেনা।
চুপচাপ ঘরে বসে ল্যাপটপ ওপেন করে আছে,আর ভাবছে
এই বুঝি রোদেলা এসএমএস দিবে।
হঠাৎ দরজা খুলে আকাশের স্ত্রী আকাশের জন্য সকালের
নাস্তা নিয়ে আসলো,
--আপনার নাস্তা,আর কাল মা চলে গেছে,আজ আমিও
বাসা চলে যাবো,
দয়া করে আমার ব্যাগগুলো গাড়িতে তুলে দিয়েন।
---এই আমি তোমকে নাস্তা আনতে বলেছি
[খাবার গুলো ছুড়ে ফেলে দিয়ে]
আর শুনো চাইলে এখানে থাকতে পারো(আকাশ)
রোদেলা কিছু বললোনা,তার ভীষন কান্না
পাচ্ছিলো,সে শুধু বললো,
"এভাবে কোন পরিচয়ে থাকবো"
বলে সে ঘর থেকে দৌড় মেরে চলে গেলো।
কিছুক্ষন পর বাহির থেকে শোনা গেলো,
"টেবিলে খাবার দিয়েছি এসে খেয়ে নিতে পারেন"
এবার আকাশ কিছুনা বলে খাবার টেবিলে চলে যায়।
কিছুক্ষন পর তার স্ত্রী আসে,মেয়েটিকে দেখে আকাশ
অবাক হয়ে যায়,ঠিক প্রথমদিন দেখা হওয়ার সময়
রোদেলা যেভাবে সেজেছিলো মেয়েটিও ঠিক নীল
শাড়ি পরেছে,সাথে নীল টিপ,আর নিল চুড়ি।
মেয়েটি এসে আকাশের সামনে,তার কাচের চুড়ি গুলো
হাতে শব্দ করে বললো,
--কি মি.ভদ্রলোক এভাবে হা মেলে তাকিয়ে আছেন
যে?"(রোদেলা)
--মানে? (আকাশ)
--জ্বী,কেন রাগ কুমারিকে দেখে চমকে গেছেন বুঝি?
(রোদেলা)
--তু...তু.....(আকাশ)
--কি তু তু করছেন?হ্যা আমি ই রোদেলা?আর আপনি
আকাশ,
কি ভাবছেন এতো কিছু কিভাবে হলো?সেদিন বালিশের
নীচে আপনার ডায়েরীটা পেয়েছিলাম(রোদেলা)
[এবার আকাশ সবকিছু মেলাতে লাগলো,অধরা
কোন,তাকে তার ফোন নব্বর দেয়নী,কেনো দেখা
করেনী,কেনো ছবি দেয়নী,কেন আলাদা থাকতো]
আকাশ রেগে অধরার উপর হাত তুলতে ধরলো কিন্তু
পারলোনা,তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলো।আর বললো,
"তুমি এমন করতে পারলে,যানো এই কয়দিন কতোটা কষ্ট
পেয়েছি?
একবার আমি রোদেলাকে হারিয়ে ফেলেছি,আর
হারাতে চাইনা
আই লাভ ইউ রোদেলা (রোদেলা)
"রোদেলাও বললো লাভ ইউ টু আকাশ"
........End
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now