বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রিটার্ন অব ড্রাকুলা
কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন
অনুবাদক : ইসমাইল আরমান
-------------------------------------
পর্ব ৭
।। ২২ আগস্ট।।
শরীর আমার খুব খারাপ, একবিন্দু শক্তি পাচ্ছি না হাত
পায়ে। ব্যথায় অন্ধকার দেখছি চোখে। তবু কলম তুলে
নিয়েছি। গত ক'দিন ডায়েরী লেখা হয়নি, আজ না
লিখলেই নয়।
গত রাতে যখন আমার নেকড়ে বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো, ও
কিছুতেই আমার কাছে এল না। বদলে চোখের একটা
ইশারা করে ফলের বাগানের দিকে হাঁটতে শুরু করল।
আমিও অনুসরণ করলাম ওকে। জানি, কাজটা উচিত হচ্ছিল
না; কিন্তু অদ্ভুত এক ঘোরের মধ্যে ছিলাম আমি। সচেতন,
আশপাশে কি ঘটছে, সবই টের পাচ্ছি....অথচ ইচ্ছেশক্তি
বলে কোনও কিছু অবশিষ্ট নেই। চাইলেও নেকড়েটার ডাক
অগ্রাহ্য করা সম্ভব ছিল না আমার পক্ষে।
ওর পিছুপিছু এগিয়ে চললাম। তারার আলোয় অপার্থিব রূপ
ধারণ করেছে পাহাড়, জঙ্গল আর প্রান্তর। শিশিরে পা
ভিজে গেল আমার। ভয়ার্ত দৃষ্টিতে চারদিকে তাকাতে
লাগলাম। মন্ত্রমুগ্ধের মতো পা ফেলতে লাগলাম ওর
পেছনে।
পাহাড়শ্রেণীর গোড়ায় পৌঁছে পূবদিকে ঘুরলাম আমরা,
বুনো হরিণের ট্র্যাক ধরে ঢাল বেয়ে উঠতে শুরু করলাম
আমরা। কিছুক্ষণ পরেই রাখালদের একটা কুঁড়েঘরকে পাশ
কাটালাম, একটা পাহাড়ি ঝর্না পেরিয়ে ঢুকে পড়লাম
জঙ্গলের ভেতর। ধীরেধীরে খাড়া হতে লাগল ঢাল।
এগোতে খুব কষ্ট হচ্ছিল আমার, দম পাচ্ছিলাম না বুকে।
তবু কষ্টেসৃষ্টে এগোতে লাগলাম স্প্রুস গাছের অরণ্য ভেদ
করে। হঠাৎ গাছের ফাঁকে দুটো অবয়ব দেখতে পেলাম -
ভাল্লুক! কিন্তু আমাদের ধারেকাছেও এল না জানোয়ার
দুটো। পা ব্যথা করছিল আমার - বুঝতে পারছি অনেকদূর
চলে এসেছি ;ভোরের আলো ফোটার আগে খামারে
ফিরতে পারব না; কিন্তু থামতে পারলাম না।
পূবের আকাশ যখন ফর্সা হয়ে এল, তখন পর্বতমালার অনেক
গভীরে পৌঁছে গেছি। একেবারে অচেনা একটা জায়গা।
চারপাশের পাহাড়চূড়া চকচক করে উঠতে দেখলাম
ভোরের প্রথম কিরণে। হিমেল বাতাসে গা কেঁপে উঠল।
পায়ের ব্যথায় চোখে অন্ধকার দেখলাম, ক্লান্তির শেষ
সীমায় পৌঁছে গেছি.....অথচ একটু বিশ্রাম পাচ্ছি না।
থামার চেষ্টা করলেই ক্রুদ্ধ চোখে আমাকে যেন
শাসাচ্ছে নেকড়েটা, রক্ত জল করে দিচ্ছে। কোথায়
কতদূর চলে এসেছি, কিচ্ছু বুঝতে পারছি না।
সঙ্কীর্ণ একটা গিরিখাত পেরিয়ে চওড়া এক
জলপ্রপাতের কাছে পৌঁছনোর পর এই প্রথম সামান্য
বিশ্রাম মিলল। থেমে দাঁড়াল আমার নেকড়ে বন্ধু। সঙ্গে
সঙ্গে পানির কাছে ছুটে গেলাম আমি, আঁজলা ভরে
তৃষ্ণা মেটালাম। কিন্তু তৃষ্ণা মিটতেই এবার মাথাচাড়া
দিয়ে উঠল তীব্র খিদে। খাবারের খোঁজে আশেপাশে
তাকাতেই চমকে উঠলাম। জলপ্রপাতের কারণে কুয়াশার
মতো মিহি জলকণা ভাসছে বাতাসে;ঘোলাটে সেই
পর্দার মাঝে বসে আছে অনেকগুলো প্রাণী - নেকড়ে,
শেয়াল, হরিণ আর বুনো শূকর। নির্দিষ্ট একটা দূরত্ব বজায়
রেখে আমাদেরকে ঘিরে বসে আছে ওরা, চোখে বিহ্বল
দৃষ্টি। যেন জাদুটোনা করে টেনে নিয়ে আসা হয়েছে
ওদেরকে।
যাত্রাপথের খুঁটিনাটি মনে নেই আমার - পুরো সময়টা
যেন একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। তবে এটুকু মনে আছে,
একটা ছায়াময় গিরিপথের মাঝখান দিয়ে একটা কাঁচা
রাস্তা বরাবর এগিয়ে গিয়েছিলাম আমরা। দু'পাশে ছিল
ঘাসে ঢাকা জমি আর নানা ধরনের ঝোপ। খাড়া একটা
ঢাল ধরে একটা গভীর খাদে নেমে গিয়েছিলাম আমরা,
উঠে এসেছিলাম অন্য একটা ঢাল ধরে। দু'পাশে গায়ের
ওপর চেপে এল ঘন জঙ্গল। তবে মাঝখান দিয়ে আমায় পথ
দেখিয়ে নিয়ে চলল আমার সেই নেকড়ে বন্ধু।
অনেকক্ষণ পর শেষ হলো জঙ্গল। রুক্ষ, এবড়োখেবড়ো
একটা পথ দেখতে পেলাম আমরা। পথের একপাশে খাড়া
একটা পাহাড়ি প্রাচীর, অন্যপাশে গভীর একটা উপত্যকা,
যার মাঝ দিয়ে বইছে দুরন্ত নদী। পথটা ধরে কিছুদূর
এগোনোর পর থামল আমার নেকড়ে বন্ধু। সঙ্গে সঙ্গে ধপ
করে বসে পড়লাম আমি - ক্লান্তির শেষ সীমায় পৌঁছে
গেছি, বুক ওঠানামা করছে হাপরের মতো। একটু ধাতস্থ
হয়ে মুখ তুলতেই চোখে পড়ল একটা পুরনো, ভাঙাচোরা দূর্গ
- পাহাড়ের মাথায় সদম্ভে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে।
সঙ্গে সঙ্গে আমার গত কয়েক রাতের স্বপ্নে দেখা সেই
দূর্গের কথা মনে পড়ে গেল। আরে, এ তো সেই আমার
স্বপ্নে দেখা দূর্গ! ওটার পরিচয় আঁচ করতেও অসুবিধে হল
না আমার। যে খামারবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি,
সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে এক অভিশপ্ত
দূর্গের ব্যাপারে ফিসফিসানি প্রায়ই শুনতে পাই। এটাই
কি সেই অভিশপ্ত দূর্গ? এটা নিশ্চয়ই সেটা।
বিশ্রাম নেওয়া হলে আবার নড়েচড়ে উঠল আমার সাথী
নেকড়েটা। পথ ছেড়ে আমায় নামিয়ে নিয়ে গেল ঢালে।
সেখানে ভাঙাচোরা একটা বাক্স দেখতে পেলাম।
অনেকটা যেন কফিনের মতো। তবে কাঠগুলো রোদে -
তুষারে - বৃষ্টিতে পচে গেছে। নেকড়েটার চোখের
ইশারায় সেই বাক্সের কাছে এগিয়ে গেলাম। কয়েকটা
তক্তা সরাতেই দেখলাম মাটির একটা স্তুপ... তার গায়ে
ধূসর কি যেন লেগে আছে। পরীক্ষা করে দেখে মনে
হলো
- ছাই।
কি যেন ভর করল আমার ওপর। গা থেকে খুলে নিলাম
শালটা। তারপর শালটা মাটিতে বিছিয়ে তার ওপর
ছাইমাটির মিশ্রণটা জড়ো করতে লাগলাম। একটু দূরে বসে
নেকড়েটা আমার কাজ দেখতে লাগল। খুশী খুশী হয়ে উঠল
ওর চেহারা। একটু পরে উলটো ঘুরে পথের দিক থেকে
দাঁতে করে নিয়ে এল কি একটা।
সাবধানে ওর মুখ থেকে জিনিসটা নিয়ে দেখলাম - দামী
কাপড়ের তৈরি, ঝালর দেওয়া একটা রুমাল। অভিজাত
মহিলারা যে ধরনের জিনিস ব্যবহার করেন আর কি।
রুমালের এক কোণে ছোটো ছোটো দুটো অক্ষর
লেখা -
এম. এইচ.
পড়ামাত্র অজান্তেই একটা নাম মনের মধ্যে ভেসে উঠল -
মীনা হারকার। কিন্তু পরমূহুর্তেই মন থেকে ঝেড়ে
ফেললাম চিন্তাটা। রুমালটা দিয়ে শালের ভেতর
ছাইমাটির মিশ্রণ ভরা পুঁটলিটার মুখ ভাল করে বেঁধে উঠে
দাঁড়ালাম।
নেকড়েটা এবার আমায় নিয়ে গেল সেই পরিত্যক্ত
ক্যাসলের উঠোনে। বিশাল প্রবেশদ্বার আর আকাশছোঁয়া
প্রাচীরগুলো কেমন ভয় ধরানো। মৃদু বাতাসে উড়ে
বেড়াচ্ছিল উঠোনে পড়ে থাকা মরা পাতা, সেইসঙ্গে
বুঝি অশুভ আত্মারাও। নড়বড়ে উঁচু মিনারটা দেখে মনে
হলো যে কোনও মূহুর্তে ধসে পড়বে আমার মাথার ওপর।
ওখান থেকে বেরিয়ে যাবার জন্য অস্থির হয়ে উঠলাম।
নেকড়েটা আমায় একটা গর্ত দেখিয়ে দিল, সেখানে
ছাইমাটির পুঁটলিটা রেখে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এলাম
দূর্গের উঠোন থেকে।
অ্যাডমিনের তরফ থেকে কিছু কথা : পাঠক বন্ধুরা, কি
বুঝলেন এতদূর পড়ে? ইলিনা নেকড়ের অনুসরণ করে যে
দূর্গের কাছে এসেছে, সেটাই সেই কাউন্ট ড্রাকুলার
কুখ্যাত ক্যাসল। ইলিনা অবশ্য এখনো কাউন্ট ড্রাকুলার
ব্যাপারে কিছুই শোনেনি। এমনকি জানেও না যে, যে
ছাইমাটির মিশ্রণটা সে শালের ভেতর পুঁটলি করে, মীনা
হার্কারের ভুল করে ফেলে যাওয়া রুমাল দিয়ে পুঁটলির মুখ
বেঁধে সে দূর্গের ভেতর রেখে দিয়ে এল, এভাবে
নিজের
অজান্তেই সে সেই ঘুমন্ত পিশাচকে ফের জাগিয়ে তুলল।
ঐ ছাইমাটি আসলে ড্রাকুলার-ই দেহাবশেষ। কাউন্ট
ড্রাকুলা পার্ট -১ এর শেষ পর্বে সবাই দেখেছেন,
কিভাবে বুকে গজাল গেঁথে দিতেই ধূলোয় পরিণত
হয়েছিল কাউন্ট ড্রাকুলার দেহ। সেই ধূলো বা ছাইমাটি-
ই ইলিনা এখন নিজের অজান্তে দূর্গের ভেতর লুকিয়ে
রেখে এল।
কিভাবে বাড়ি ফিরলাম বলতে পারব না। পায়ের ব্যথায়
হিতাহিত জ্ঞান ছিল না আমার। পরিশ্রম আর ক্ষুধায় হয়ে
পড়েছিলাম চরম কাহিল। যদ্দুর বুঝলাম, ওই নেকড়েটাই
আমায় পৌঁছে দিয়ে গেছে খামারবাড়ি পর্যন্ত। যখন
খামারে এসে পৌঁছলাম তখন বিকেল গড়িয়ে গেছে।
দু'দিনের অভুক্ত আমি, পরনের পোশাক ছিঁড়ে ত্যানা
ত্যানা হয়ে গেছে। আমাকে দেখামাত্র চমকে উঠল
সবাই। ওরা সবাই আমার খোঁজ করছিল। কিন্তু এভাবে
আমায় আবিষ্কার করবে, ভাবতেও পারেনি।
প্রশ্নের ঝড় বয়ে গেল আমার ওপর দিয়ে। কিন্তু কোথায়
গিয়েছিলাম, কেন গিয়েছিলাম - কোনও প্রশ্নেরই
সদুত্তর দিতে পারলাম না। পারব কি করে? এসবের উত্তর
যে আমার নিজেরও জানা নেই।
আমায় চুপ করে থাকতে দেখে বেশ খেপে গেল বাবা।
হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে এল আমার কামরায়। দরজা আটকে
বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দিল। বাবাকে বিশেষ দোষ দিতে
পারছি না। এভাবে কাউকে কিছু না বলে হঠাৎ উধাও হয়ে যাবার শাস্তি
তো আমার প্রাপ্য। এখন আমি আমার কামরায় বন্দি অবস্থায় লিখছি।
খাবার দেয়া হয়নি আমায়, খিদে আর শরীরের ব্যথায় জ্ঞান হারিয়ে
ফেলব মনে হচ্ছে। একটু আগে বাইরে থেকে হৈচৈ এর শব্দ
শুনতে পেয়েছি - খামারমালিক চিৎকার করছিল বাবার সঙ্গে,
আমাদেরকে চলে যেতে বলছে এখান থেকে। তার ছোট
ছেলে নাকি দেখেছে, আমি রোজ রাতে একটা
নেকড়েকে মাংস খাওয়াই। কয়েকজন রাখাল'ও নাকি গভীর রাতে
আমাকে ওই নেকড়ের সাথে খোলা প্রান্তরে হাঁটতে
দেখেছে। ওদের তাই ধারণা, আমি ডাইনী ছাড়া কিছুই নই - এবং
শয়তানের সঙ্গে আমার যোগ আছে। আমাদেরকে এখানে
থাকতে দিলে গ্রামবাসীদের ওপর অভিশাপ নেমে আসবে।
কিন্তু আমি কি করে বোঝাবো সবাইকে, যে ওই নেকড়েটা
আমায় যেন সম্মোহন করেছে। ওটা এলে আমি যেন আর
আমার মধ্যে থাকি না। একটা ঘোরের মধ্যে চলে যাই আমি।
বুঝতে পারছি, আমার কারণে এখানকার মানুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব
হারাতে চলেছে বাবা। ছবি আঁকাও শেষ হয়নি তার, কাজ অসমাপ্ত
রেখে ফিরে যেতে হবে। কোনওদিন বাবা ক্ষমা করবে না
আমায়। আগামীকাল চলে যাব আমরা। খবরটা শোনামাত্র স্বস্তির
একটা পরশ ছুঁয়ে গেল যেন শরীরে। আর কিছু না হোক,
নেকড়েটার সঙ্গে আর মুখোমুখি হতে হবে না, আমার
দুঃস্বপ্নের ইতি ঘটতে চলেছে। নেকড়েটা নিশ্চয়ই আমায় শহর
পর্যন্ত ধাওয়া করে আসতে পারবে না?
প্রফেসর আন্দ্রে কোভাক্সের জার্নাল ( স্কলোম্যান্সের
সন্ধানে অভিযানের বিবরণ) ১০ আগস্ট।।
এই জার্নালের শুরুতেই জানিয়ে রাখছি, আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আব্রাহাম
ভ্যান হেলসিং ছাড়া এই জার্নাল পড়ার অধিকার নেই আর কারোর।
মানে....যদি উল্লেখযোগ্য কিছু পাই তবে আর কি। নইলে
অভিযান শেষে জার্নালটা ছুঁড়ে ফেলব ফায়ারপ্লেসে। ব্যর্থ
অভিযানের নথি রেখে লাভ কি?
আপাতত বুদাপেস্ট থেকে হারমানস্টাডে এসে পৌঁছেছি আমি আর
আমার ছাত্র মিকোলাস। সঙ্গে রয়েছে দু'সপ্তাহ চলার মতো
প্রয়োজনীয় রসদ। আমার ভাই এমিল আর তার মেয়ে ইলিনাও
পাহাড়ি ওই এলাকাতেই রয়েছে, তবে ওরা আছে, আমরা
বর্তমানে যে জায়গায় অবস্থান করছি, সেখান থেকে বেশ
কয়েকশো মাইল উত্তর পূর্বে। যোগাযোগ হয়নি ওদের
সাথে, হবার কথাও নয়। মাসখানেকের আগে ফিরবে না
বুদাপেস্টে,আমরা ওদের আগেই বুদাপেস্টে ফিরে আসত
পারব বলে আশা করছি। সন্দেহ নেই, এমিলের সঙ্গে থাকবে
ওর আঁকা নতুন মাস্টারপিস - যার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবে ভবিষ্যৎ
প্রজন্ম।আর আমি ফিরব কাঠখোট্টা গবেষণাপত্র নিয়ে -
যেগুলো ঠাঁই পাবে কোনও মিউজিয়ামের আর্কাইভে। ব্যাপারটা
ভাবলে একটু ঈর্ষান্বিত না হয়ে পারছি না। আজ রাতে ঝোপঝাড়ে
ঢাকা একটা পাহাড়ি ঢালে ক্যাম্প করেছি আমরা। ঢালের নীচে
মাইলের পর মাইল জুড়ে সমভূমি। পাহাড়টা যেন সমভূমির কিনারায় বিশাল
এক প্রাচীর - ঠেকিয়ে রাখছে মানুষের অগ্রযাত্রা। ওপাশের
পার্বত্য এলাকার কোথাও কি লুকিয়ে আছে ' স্কলোম্যান্স' বা '
শয়তানী বিদ্যা শেখার প্রাচীন পাঠশালা'র ধ্বংসাবশেষ? যেখানে
কাউন্ট ড্রাকুলা তার জীবদ্দশায় পেয়েছিল কালা জাদু'র দীক্ষা?
খুব শিগগীর এর জবাব পাব বলে আশা করছি। ১১ আগস্ট।।
আজ সারাদিন পাহাড়ি পথে হেঁটেছি আমরা। পথ ক্রমে দুর্গম
থেকে দুর্গমতর হয়ে উঠেছে, বুনো হয়ে উঠছে প্রকৃতি।
আবহাওয়া মন্দ নয়, তবে গরম পড়েছে খুব। বুট পরা স্বত্তেও
পায়ের পাতায় ফোস্কা পড়ে গেছে আমাদের। কষ্ট হলেও
নিজেকে দুঃসাহসী অভিযাত্রীর মতো লাগছে, যেন
কিংবদন্তীর কোনও শহরের খোঁজে চলেছি। অনুভব করছি
অজানা উত্তেজনা। ক্যাম্প করার পর রসদ আর কতটা আছে,
দেখে নিতে হবে। হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর রাক্ষসের মতো
খিদে পাচ্ছে আমাদের। গোগ্রাসে গিলছি সঙ্গের
খাবারগুলো। এভাবে খাওয়া দাওয়া করলে দু সপ্তাহের আগেই
শেষ হয়ে যাবে রসদ। আশপাশে কোনও লোকালয়ও নেই
যে নতুন করে খাবার সংগ্রহ করব। যদ্দুর বুঝছি, খাওয়া দাওয়ায় লাগাম
টানতে হবে এইবার। একটা ম্যাপ নিয়ে এসেছি সঙ্গে। কিন্তু যত
এগোচ্ছি, ততই ধরা পড়ছে ওটার ভুল ত্রুটি। কে বানিয়েছে এই
ম্যাপ, কে জানে। জিনিসটা তেমন কোনও কাজেই আসছে না।
অগত্যা ভবিষ্যৎ সফরের জন্য নিজেই ঠিকঠাক করে নিচ্ছি ওটা।
অনুমানের ক্ষমতা আর আমার অভিজ্ঞতাই এখন সবচেয়ে বড়
ভরসা।
এখন সন্ধ্যা।
হতাশা অনুভব করছি। আমাদের প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
লেক হারম্যানস্টাডের পারে, যেখানে 'স্কলোম্যান্সে' র
অবস্থান ছিল বলে আন্দাজ করেছিলাম, সে জায়গাটা আজ দিনভর
তল্লাশি করেছি আমি আর মিকোলাস। না, কোনও রকম ধ্বংসাবশেষ
বা বিল্ডিংয়ের ফাউন্ডেশন -ই চোখে পড়ল না। কোনওকালে
এখানে মানুষের যাতায়াত ছিল বলেও মনে হয় না। কোনওরকম
বিলুপ্ত পায়ে চলা পথ-ও আমার নজরে আসেনি। জানি অযথাই ধৈর্য
হারাচ্ছি - এ ধরনের তল্লাশিতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর
মাসও লেগে যেতে পারে। কিন্তু অত সময় নেই আমার হাতে।
আপাতত একটা প্রমাণ .... তা সে যত ছোটই হোক না কেন....চাইছি
আমি। তাহলে ভবিষ্যতে একটা বড়সড় দল তৈরি করে আবার
অভিযানে আসতে পারব। হ্যাঁ, কেরিয়ারের দিক থেকে একটা
বড়সড় ঝুঁকিই নিয়েছি আমি। এমন একটা জিনিস খুঁজে বেড়াচ্ছি,
যেটা'কে সবাই এখন গল্পগাথা হিসেবে মেনে নিয়েছে।
আমার অভিযানের উদ্দেশ্য'টা জানাজানি হলে হয়তো অধ্যাপক
মহলে হাসাহাসি পড়ে যাবে। ব্যর্থতার সম্ভাবনাও মাথায় রাখতে
হচ্ছে আমাকে।
কিন্তু এমনও তো হতে পারে, জিনিস'টা সত্যি সত্যিই আছে। এই
হ্রদের পাড়ে নয়, হয়তো অন্য হ্রদের পাড়ে আছে।
লোকমুখে ছড়িয়েছে ' স্কলোম্যান্সে'র কাহিনী। হ্রদের
নাম কি পরবর্তীকালে ওলোট পালট হয়ে যেতে পারে না?
ক্রমশ....
অশুভ আত্মা
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now