বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রিটার্ন অব ড্রাকুলা-০৫

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X রিটার্ন অব ড্রাকুলা কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন অনুবাদক : ইসমাইল আরমান ------------------------------------- পর্ব ০৫ঃ উত্তেজিত হৈচৈ শুরু হলো। খবর পাঠানো হলো খামারের সব পুরুষদের কাছে - অস্ত্র নিয়ে যেন তৈরি থাকে ওরা, নাস্তার পরেই নেকড়ে শিকারে যাবে। কেন যেন ওদের এই তৎপরতা ভাল লাগল না আমার। মায়া লাগল নেকড়েটার জন্য। একটা অবলা প্রাণী ভেড়া শিকার করেছে নিজের পেটের তাগিদে। এটার জন্য ওটা'র প্রাণ নেওয়াটা কি ঠিক? মুখে অবশ্য কিছু বললাম না। আমার কথায় বাবা হয়তো রেগে যেতে পারে, পাগল ঠাওরে বসলেও অবাক হব না। রাখাল ছেলেটা, যে নেকড়ে কর্তৃক ভেড়া হত্যা'র খবর খামারমালিককে এনে দিল, তার কি আমায় দেখে কোনও সন্দেহ হচ্ছে? মুখ তুলে চাইতে দেখি কিরকম একদৃষ্টে ছেলেটা তাকিয়ে আছে আমার দিকে। যদিও, ওর দৃষ্টিতে খারাপ কিছু ছিল না কিন্তু কেমন যেন মিইয়ে গেলাম ভেতরে ভেতরে। মনে হলো, আমার সমস্ত রহস্য যেন জেনে ফেলেছে ছেলেটা। বাবা ব্যাপারটা লক্ষ্য করে হুঙ্কার দিয়ে উঠল রাখালটাকে লক্ষ্য করে। উপায়ান্তর না দেখে পালিয়ে বাঁচল ছেলেটা। ।। ৩ আগস্ট।। আজ সারাদিন বাবাকে ছবি আঁকার কাজে সাহায্য করেছি। টুকটাক কাজ করেছি, হাতের সামনে রঙতুলি এগিয়ে দিয়েছি। আজ বাবা ছবি আঁকার সময় আমায় গান গেয়ে শোনাতে বললেন। কিন্তু আমার গান বাবার পছন্দ হয়নি বলে অনুযোগও করলেন যে আমার গলা নাকি বড্ড কর্কশ। মনটা খারাপ হয়ে গেল আমার। কিভাবে যে বাবাকে খুশি করব, বুঝতে পারছি না। ওফফো, কাল একটা ব্যাপার লিখতে একদম ভুলে গিয়েছি। ভেড়াখেকো সেই নেকড়েটার খোঁজ পেয়েছে খামারের লোকগুলো, ওটাকে গুলিও করা হয়েছে, আহত অবস্থায় পালিয়ে গেছে জানোয়ারটা। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ওটার আর সন্ধান পাওয়া যায় নি। মরেছে কি বেঁচেছে - কে জানে! অন্তত ভেড়া চুরির মজা যে নেকড়েটাকে পাইয়ে দেয়া গেছে, সে ব্যাপারে সবাই নিশ্চিত। খুশি হয়ে উঠেছে ওরা। কিন্তু আমার খারাপ লাগছে। অবলা একটা প্রাণী গুলির আঘাতে ধুঁকে ধুঁকে মরছে - ভাবতে ভাল্লাগছে না আমার। ।। ৬ আগস্ট।। গত রাতে বিছানায় শুয়ে একটা নেকড়ের ডাক শুনলাম। চড়া লয়ের ভীষণ এক হুঙ্কার, রাতের নীরবতাকে যেন বিদীর্ণ করে দিচ্ছে। ওই ডাক শুনে ঘুম ভেঙে গেল আমার। মনে হলো, শব্দটা যেন অন্য কোনও জগতের - একবার উঁচুতে, আবার নিচুতে নেমে যাচ্ছে.....তাতে মিশে আছে ক্ষোভ আর হাহাকার। গা হিম হয়ে এল আমার, কিন্তু কৌতূহলের কাছে হার মানল ভয়। বিছানা ছেড়ে জানলার কাছে চলে গেলাম, তাকালাম বাইরে। যা দেখলাম, তা অবিশ্বাস্য। আঙিনার ঠিক মাঝখানে দৃপ্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে একটা অতিকায় সাদা নেকড়ে। কুয়োর পাশে দাঁড়িয়ে আছে জানোয়ারটা, পিঠ প্রায় কুয়োর দেয়াল -সমান উঁচু। এত বিশাল নেকড়ে জীবনে দেখিনি আমি! চাঁদের আলোয় ধূসর দেখাচ্ছে তার গা, কিন্তু রক্তলাল চোখদুটো জ্বলছে আগুনের মতো! সোজা আমার দিকে তাকিয়ে ছিল প্রাণীটা। আমি ওখানেই জমে গেলাম মূর্তির মতো। ট্রানসিলভ্যানিয়ার অধিবাসীরা নেকড়ে'কে সাঙ্ঘাতিক ভয় পায় - জানোয়ারটাকে ওরা ' নরকের দূত', ' অশুভ শক্তির প্রতীক' মনে করে। ওই মূহুর্তে আমার মধ্যেও জেগে উঠল ওদের ওই সংস্কার, ভয়। তবু যন্ত্রচালিতের মতো খুলে ফেললাম জানলার পাল্লা, যেন ঘুমের ঘোরে করলাম কাজটা। নড়ল না নেকড়ে, একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল আমার দিকে। সম্মোহিতের মতো আমিও তাকিয়ে রইলাম ওটার দিকে। হঠাৎ তীব্র ইচ্ছা জাগল জানলা টপকে বাইরে বেরোনোর। তাই-ই করতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু বাধা পেলাম জানোয়ারটা নীচুস্বরে গরগর করে ওঠায়। আর তখুনি দূর থেকে শোনা গেল কুকুরের ডাক - একটা, দুটো নয়, যেন অনেকগুলো গর্জন ভেসে এল দূরের গ্রাম আর আশপাশের খামারগুলো থেকে। বোধহয় নেকড়ের উপস্থিতি টের পেয়ে গেছে ওরা। কুকুরের ডাকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পাহাড় থেকে ডেকে উঠল নেকড়ের পাল। পুরো এলাকা ভরে গেল ভয়াল গর্জনের আওয়াজে। শিউরে উঠলাম আমি, তাড়াতাড়ি জানলা বন্ধ করে ঘরের ভেতরদিকে পিছিয়ে এলাম কয়েক পা। কিছুক্ষণ পর আবারও বাইরে উঁকি দিলাম। দেখলাম ঘুরে দাঁড়িয়েছে নেকড়েটা, নিঃশব্দে মিলিয়ে গেল রাতের অন্ধকারে। খুব আস্তে হাঁটছে জানোয়ারটা, ঘাড়ের কাছে রক্তের ছোপের মতো কি যেন একটা দেখলাম। হৃদস্পন্দন দ্রুততর হয়ে গেল আমার। এটাই সেই নেকড়ে, যেটাকে ভেড়া হত্যার দায়ে গুলি ছুঁড়ে আহত করেছে চাষীরা! মায়া হলো খুব, জানোয়ারটার ব্যথা যেন অনুভব করতে পারছি। ইচ্ছে হলো ওটার জন্য কিছু করার, কিন্তু সে সুযোগ পেলাম না। তার আগেই অদৃশ্য হয়ে গেল জানোয়ারটা। পুরো ব্যাপারটাই ছিল স্বপ্নের মতো। বিছানায় এসে মড়ার মতো সকাল পর্যন্ত ঘুমোলাম। দিনের আলোয় চেষ্টা করলাম নেকড়েটাকে খোঁজার কিন্তু কোথাও কোনও চিহ্ন দেখতে পেলাম না ওটার। আহত অবস্থায় কতদূর গেছে প্রাণীটা, বোঝার উপায় নেই। নেকড়েটার কথা কাউকেই বলিনি। কেন গোপন করলাম, জানি না। বুক ধুকপুক করছে, অনুভব করছি অজানা উত্তেজনা। নেকড়েটা ভয়ঙ্কর, কিন্তু তারপরেও চাইছি ওটা আবার আসুক। ।। ৭ আগস্ট।। এসেছে ও! ভয় করছে ওর কথা ভাবলে, তবু সব লিখে রাখব বলে ঠিক করেছি। গত রাতে আবারও আচমকা ঘুম ভেঙে গেল আমার, তবে নেকড়ের গর্জন শুনে নয়। কেন জানি ঘুমের মধ্যে তাগিদ অনুভব করলাম, জানলা দিয়ে বাইরে তাকাবার। তা-ই দেখলাম আর তখনিই দেখলাম -আঙিনার মাঝখানে গতরাতের মতো দাঁড়িয়ে আছে সেই দানব -নেকড়ে! আগের মতোই স্থির হয়ে....দু'চোখ জ্বলছে আগুনের মতো। ভয় লাগল খুব, তারপরেও মনে হলো ওর কাছে যেতে হবে আমায়। জানলার হুড়কো খুললাম, উঠে পড়লাম চৌকাঠের ওপর। রাতের পোশাক খোঁচা লেগে প্রায় ছিঁড়ে যাচ্ছিল, কিন্তু পাত্তা দিলাম না। নেকড়েটার কথা ভেবে হাতে এক টুকরো মাংস রেখেছিলাম হাতে, হাঁটু গেড়ে বসে সেটা বাড়িয়ে দিলাম ওর সামনে। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে এল ওটা, আমার খোলা হাত থেকে মুখে নিয়ে খেলো মাংসটা। তারপর বিশাল মাথাটা রাখল আমার উরুতে। সাবধানে হাত বুলিয়ে দিলাম ওর মাথায়। সারা গা কাঁপছিল আমার অদ্ভুত এক শিহরণে। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, এমন ভয়ঙ্কর একটা প্রাণীকে এত সহজে বশ করতে পেরেছি! ওর কাঁধের ওপর গর্তটার দিকে নজর পড়ল আমার। গুলি একপাশ দিয়ে ঢুকে আরেক পাশ দিয়ে বেরিয়ে গে ছে। দেখে মনে হলো এই আঘাতে নেকড়েটার তো মরে যাবার কথা ছিল। কেন মরল না, ভেবে পেলাম না। একসময় মুখ তুলে নেকড়েটা আমার মুখের দিকে তাকাল। ওটার জ্বলন্ত চোখদুটোয় বেদনার ছাপ স্পষ্ট দেখলাম....দেখলাম দূর্বলতা।আস্তে আস্তে যেন কোমল হয়ে এল ওর দৃষ্টি। আমার হাতের তালু চেটে দিল, বোধহয় ধন্যবাদ দিল। তারপর উলটো ঘুরে এগোতে শুরু করল ফলের বাগানের দিকে। পিছু পিছু আমিও এগোলাম, দিনের বেলা নেকড়েটা কোথায় আশ্রয় নেয়, দেখব। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পরেই হারিয়ে গেল নেকড়েটা। আর দেখতে পেলাম না ওটাকে। আর তখনিই ঘোর কেটে গেল আমার। যেন জেগে উঠলাম আ,মি। নিজেকে আবিষ্কার করলাম ফলের বাগানের গভীরে। চারদিকে শুধু গাছ আর গাছ - ছায়ার রাজত্ব সবখানে। মনে হলো যেন গাছের ছায়ার আড়াল থেকে আমার ওপর লক্ষ্য রাখছে কেউ। গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল আমার। তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এলাম বাগান থেকে। ত্রস্ত পায়ে ফিরে এলাম নিজের ঘরে। জানলা আটকে শুয়ে পড়লাম। নিরাপদ বোধ করলাম এতক্ষণে, সেইসঙ্গে রোমাঞ্চ। আশা করছি আবার আসবে ওই নেকড়ে। আগামীকাল আরও কিছু খাবার জমিয়ে রাখব ওর জন্য। আহত ও, হয়তো শিকার করতে পারছে না; আমাকেই জোগাতে হবে ওর আহার। কেন যেন মনে হচ্ছে, এটা আমার-ই দায়িত্ব। কাউকে বলা চলবে না নেকড়েটার কথা। বললে হয়তো সবাই ওকে মারার জন্য অস্থির হয়ে উঠবে; হয়তো আমাকেও পেতে হবে শাস্তি। ক্রমশ... Post: অশুভ আত্মা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now