বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রিটার্ন অব ড্রাকুলা
কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন
অনুবাদক : ইসমাইল আরমান
-------------------------------------
পর্ব ০৪ঃ
কিছুদিন পর আব্রাহাম ভ্যান হেলসিংয়ের কাছে
প্রফেসর আন্দ্রে কোভাক্সের একটা চিঠি এল।
৪ ঠা অগস্ট, বুদাপেস্ট
বন্ধুবর আব্রাহাম,
আশা করি, ভাল আছ। তোমার অভাব অনুভব করছি সপ্তাহ
না গড়াতেই। সারাক্ষণ মাথায় ঘুরছে তোমার মুখে শোনা
সেইসব অদ্ভুত, রোমহর্ষক কাহিনী - কাউন্ট ড্রাকুলার
কাহিনী!
অনেকদিন থেকেই কার্পেথিয়ানের গ্রাম্য এলাকায়
প্রচলিত নানা ধরনের গল্পগাথা নিয়ে গবেষণা করছি
আমি। ওখানকার এক গ্রামে গিয়ে নিজের চোখে
দেখেছি ব্যাখ্যার অতীত এক ঘটনা। কবর খুঁড়ে বের করতে
দেখেছি বছরখানেকের পুরনো এক লাশ, অথচ তা একবিন্দু
পচেনি... সেই লাশের বুকে গাঁথতে দেখেছি কাঠের
গজাল,ক্ষত দিয়ে বেরোতে দেখেছি তাজা রক্ত!
বিজ্ঞানের যুক্তি দিয়ে বহু চেষ্টাতেও এই ঘটনার কোনও
ব্যাখ্যা খুঁজে পাইনি। কিন্তু তোমার মুখে শোনা কাহিনী
শেষ পর্যন্ত শান্ত করেছে আমার হৃদয়কে। বিশ্বাস করতে
শুরু করেছি, অতিপ্রাকৃত আর অশুভ শক্তির অস্তিত্ব আছে
পৃথিবীতে। সেই শক্তির প্রমাণ তুমি আর তোমার বন্ধুরা
স্বচক্ষেই দেখেছো।
আমি শুনেছিলাম ড্রাকুলা ক্যাসলের বাসিন্দারা বহুদিন
আগে মারা গিয়েছে। কিন্তু তোমার মুখে জানলাম, সেটা
মিথ্যে।বাস্তবে যা ঘটেছে তা কল্পনারও অতীত।
স্বান্তনা শুধু এ-ই যে, সেই দুঃস্বপ্নের ইতি ঘটেছে।
পৃথিবী এখন বিপদমুক্ত।
যাই হোক, এই চিঠি লেখার পেছনের মূল উদ্দেশ্য এবার
তোমায় জানাই। ড্রাকুলা নিয়ে আলোচনার সময় একটা
বিশেষ জায়গায় প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল, যেটা নিয়ে খুব
একটা মাথা ঘামাওনি তুমি। কিন্তু আমার ধারণা,
সবকিছুর পেছনে ওটা'র-ই মস্ত ভূমিকা আছে। আমার
গবেষণা জীবনে বহুবার, বহু বই-য়ে, প্রাচীন লিপি-তে,
পান্ডুলিপিতে ওটা-র উল্লেখ পেয়েছি আমি, শুনেছি সব
ধরনের অঘটনের পেছনে ওটার সম্পৃক্ততার কথা। কিসের
কথা বলছি, আশা করি বুঝতে পারছ? হ্যাঁ.... 'স্কলোম্যান্স'
বা ' শয়তানের আখড়া'র কথাই বলছি।
এই ' স্কলোম্যান্স' বা ' শয়তানের আখড়া' সম্পর্কে যতটুকু
জানি, তা তোমায় বলছি। সোজা কথায়, ওটা ছিল এক
ধরনের অ্যাকাডেমি বা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। হ্যাঁ, শয়তানী
বা ডাকিনীবিদ্যা শেখার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ওখানে
বিভিন্ন রকম জাদুটোনা,কালা জাদু, প্রকৃতির রহস্য ও
বিভিন্ন পশুপাখির ভাষা শেখানো হতো। দশজন করে
শিক্ষার্থী নেয়া হতো এই ' স্কলোম্যান্সে'। প্রশিক্ষণ
শেষে নয়জনকে পাঠানো হতো দুনিয়ায় কালা যাদুর চর্চা
করার জন্য, আর দশম ছাত্রটিকে স্বয়ং শয়তান নিজের
কাছে রেখে দিত ডাকিনীবিদ্যা প্রদানের মূল্য
হিসেবে। তা সেই ড্রাকুলা ক্যাসলের সেইসব
বাসিন্দাদের বেশ ক'জন সদস্য এইরকম একটি '
স্কলোম্যান্সে যোগ দিয়েছিল বলে গুজব আছে...আর
আমার তো মনে হয়, এই যে কাউন্ট ড্রাকুলা...সে নিজেও
জীবিতকালে এইরকম কোনও স্কলোম্যান্সের সদস্য
ছিল...ওখান থেকেই সে শয়তানী বিদ্যার সমস্ত কৌশল
রপ্ত করে। সেই স্কলোম্যান্স হারমানস্টাডে অবস্থিত
বলে শোনা যায়, সেটা কার্পেথিয়ান পর্বতমালার
অভ্যন্তরে... যেখানে ট্রানসিলভ্যানিয়া আর ওয়ালচিয়া
বিভক্ত হয়েছে।
আমি ঠিক করেছি, স্কলোম্যান্স সংক্রান্ত কাহিনীর
পিছনের সত্যতা পরখ করতে অভিযানে বেরোব। বলতে
দ্বিধা নেই, এই অভিযানের অনুপ্রেরণা আমি তোমার
কাছ থেকেই পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে কাজটাতে
মাসখানেক লাগতে পারে বলে মনে হচ্ছে। দু'সপ্তাহ
লাগবে কার্পেথিয়ান পর্বতমালায়, সামনে পেছনে এক
সপ্তাহ করে লাগবে প্রস্তুতি, প্রত্যাবর্তন এবং অন্যান্য
টুকিটাকি কাজে। মিকোলাস- আমার ছাত্র, আমার
সহযোগী এবং সন্তানতুল্যও বটে, যাচ্ছে আমার সঙ্গে।
আমরা যদি উল্লেখযোগ্য কিছু আবিষ্কার করতে পারি
তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় অভিযানের আয়োজন করা
হবে। এই খবর আপাতত তুমি ছাড়া আর কেউ জানতে
পারছে না। এমিল আর ওর মেয়ে ইলিনা ফেরার আগেই
আমরা অভিযান শেষ করে ফিরে আসব বলে আশা করছি,
তাই ওদের কিছু জানাইনি এখনো।
অভিযানের খুঁটিনাটি বিবরণ একটা জার্নালে তুলে
রাখব, তোমার সঙ্গে আবার যেদিন দেখা হবে আমার,
ওইদিন ওটা পড়লে সব জানতে পারবে তুমি। মানে যদি
আমাদের অভিযান সফল হয় আর কি!
আর কি লিখব...চিঠি এখানেই শেষ করি। প্রার্থনা
কোরো যাতে আমাদের অভিযান সফল হয়।
ইতি,
তোমার বন্ধু,
আন্দ্রে কোভাক্স
পুনশ্চ : মিকোলাস এদিকে ইলিনাকে বিয়ে করতে চাইছে,
কিন্তু ওতে আমার ঘোর আপত্তি। অমন কিছু ঘটতে দেখলে
বাধা দেব। ইলিনার কোনও আগ্রহ নেই মিকোলাসের
ব্যাপারে কিন্তু ওর বাবা এমিলের আবার মিকোলাসকে
জামাই হিসেবে খুব পছন্দ। বাবার পীড়াপীড়িতে
শেষমেশ হয়তো মেয়েটা রাজি হতে পারে। বাপ আর
মেয়ের মধ্যে একটা অদ্ভুত টানাপোড়েন চলছে।
মিকোলাস বেচারাকে খামোখা এই সম্পর্কের মধ্যে
ফেলতে চাই না। এ ব্যাপারে তোমার কিছু পরামর্শ
থাকলে জানিও।
এ.কে.
ইলিনা কোভাক্সের ডায়েরী
২৫ শে জুলাই।
জীবনে এই প্রথমবার ডায়েরী লিখছি। লিখছি মাদাম
মীনা হারকারের কল্যাণে। অবশ্য বাবা এসব জানতে
পারলে খুবই রেগে যাবেন; তাই আমায় লুকিয়ে লিখতে
হচ্ছে। আর লিখছি ইংরেজীতে। এতে আমার ইংরেজীর
চর্চাটা বজায় থাকবে।
ফার্মহাউজের নীচতলায়, আমার ছোট্ট ঘরটায় বসে
লিখছি এই ডায়েরী। জানলা দিয়ে চোখে পড়ছে
আঙিনা। দেখতে পাচ্ছি কুয়া, গোলাঘরের একাংশ আর
ফলের বাগান। আঙিনায় ছোটাছুটি করে বেড়াচ্ছে মুরগি
আর শূকরের পাল। বাগান পেরিয়ে দেখা যাচ্ছে ঘন গাছে
ছাওয়া পাহাড়ি ঢাল, উঠে গেছে আকাশের দিকে। ইচ্ছে
করছে এক লাফে জানলা টপকে ছুটে চলে যাই ওই
পাহাড়ি জঙ্গলে, হারিয়ে যাই চিরদিনের মতো! ইশশশ,
যদি সত্যি পারতাম!
খামার মালিকের মেয়েরা সত্যিই ভাল....সহজ সরল, যত্ন
আত্তির কোনও ত্রুটি রাখছে না আমার। তারপরেও ওদের
সঙ্গে কামরা বা বিছানা ভাগাভাগি করতে হচ্ছে না
বলে নিজের ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিচ্ছি আমি। সেক্ষেত্রে
একটা মূহুর্তও নিজের বলে পেতাম না আমি।
অদ্ভুত এক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে আমার ভেতরে। জানি,
এর পেছনে মস্ত অবদান আছে মাদাম মীনা হারকারের।
তিনি যদি না আসতেন, যদি না আমার সঙ্গে মমতা ভরে
কথা না বলতেন, তা হলে আমার মধ্যে এই পরিবর্তন হয়তো
আসতই না। আমার চোখ খুলে দিয়েছেন তিনি - মার্জিত
ব্যবহার, মার্জিত পোশাক আশাক আর চমৎকার
কথাবার্তা দিয়ে। তিনি বুঝিয়েছেন, মেয়েদের জীবন
মানেই ঘরের চার দেয়ালে বন্দি হয়ে থেকে সংসার করা
নয়, আমরাও পারি স্বাধীন হতে, করতে পারি যে কোনও
কাজ। তিনি চলে গেছেন তো কি, বদলে দিয়ে গেছেন
আমার পৃথিবী। দম আটকে আসছে আমার, মনে হচ্ছে আমার
বাবা যেন আমায় একটা ছোট্ট পিঞ্জরে আটকে
রেখেছেন....এভাবে কি বাঁচা সম্ভব কারোর পক্ষে?
জানি না কেন বাবার অবাধ্য হবার ইচ্ছে মাথাচাড়া
দিচ্ছে আমার মনে। মনে হচ্ছে যেন কিছু একটা ঘটে
গেছে আমার মধ্যে। সারাজীবন বাবা'র আদেশ অক্ষরে
অক্ষরে পালন করেছি, কখনও তার জন্য অনুতাপ হয়নি,
কখনো নিজেকে বঞ্চিত মনে হয়নি... তা হলে আজ বাবা'র
অবাধ্য হওয়ার ইচ্ছা জাগতে এরকম মনে হচ্ছে কেন?
এই রে, গোপন কথা লিখে ফেললাম আমি। এখন এই
লেখাগুলো যাতে বাবার চোখে না পড়ে তারজন্য এখন
এই ডায়েরীটা আমায় লুকিয়ে ফেলতে হবে। কিন্তু কি
করব, জীবনের কাছে বড্ড বেশী চাই আমি, কিন্তু পাই খুব
সামান্য।
এখন আমাদের সেই অতিথি বন্ধুদের প্রসঙ্গে ফিরে যাই।
পর্বতের মাঝখানে কেন গিয়েছিলেন তাঁরা, খুব জানতে
ইচ্ছা করে। ফিরে আসার পর ওঁদের সবার মাঝে কেমন
একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলাম; ওঁদের মধ্যে মাদাম
মীনা হার্কারের পরিবর্তনটাই ছিল সবচেয়ে প্রকট। শুরু
থেকে এক ধরনের অস্বস্তি লক্ষ্য করেছিলাম তাঁর মধ্যে
কিন্তু পাহাড় থেকে ফেরার পর দেখলাম কেমন হাসিখুশী
হয়ে উঠেছেন তিনি। হতে পারে ব্যাপারটা আমার অতি
কল্পনা - ছেলের কাছে ফিরবেন বলেই হয়তো অমন খুশী
খুশী হয়ে উঠেছিলেন।
কারণ যা-ই থাক, অতিথিদের সবার মধ্যের এই পরিবর্তন
খুব অস্বাভাবিক লেগেছিল আমার চোখে। ভয় পেয়েছি
তাঁদের বদলে যেতে দেখে। হ্যাঁ ভয়! অস্বাভাবিক কোনও
কিছু দেখলেই ভয় লাগে আমার। কুসংস্কারে ভরা এক
দেশের অধিবাসী আমি, সবকিছুতেই অমঙ্গলের ছায়া
দেখি। মানতে ইচ্ছে করে না অনেক কিছুই, আবার সবকিছু
পুরোপুরি উড়িয়েও দিতে পারি না। কেন এমন একটা
কুসংস্কারাচ্ছন্ন দেশে জন্ম নিতে গেলাম? ওই
অতিথিদের দেশ ইংল্যান্ডের মতো একটা আধুনিক,
মুক্তিচিন্তার দেশে জন্ম নিলে এমন কি-ই বা ক্ষতি হতো
আমার?
।। ৩০ শে জুলাই।।
আপাতত ফসল তোলায় ব্যস্ত কৃষকদের ছবি আঁকছে এখন
বাবা। ছবির পটভূমি হিসেবে দৃশ্যটা চমৎকার, কিন্তু
নিজে চোখে দেখছি, কেমন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করছে
গরীব লোকগুলো। জীবন বড়ই কঠিন ওদের, বিশেষ করে
শীতকালে....তখন কোনও ফসল ফলানো যায় না। পর্বত হয়ে
পড়ে প্রাণহীন। প্রায়ই জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে
নেকড়ের পাল, হামলা চালায় কৃষকদের শীতকালের
অবলম্বন... ভেড়ার পালের ওপর। ভেড়ার পালের ওপর
বিষয়বস্তু হিসেবে ব্যাপারটা বেশ উৎসাহী করে তুলেছে
বাবাকে - মানুষ আর পশু'র লড়াই। কিন্তু আমি ওতে কোনও
আগ্রহ পাচ্ছি না। বাবা'র ফাইফরমাশ খাটবার পরেও
এখনো আমার হাতে অঢেল সময়। কি করব ভেবে পাচ্ছি
না।
গতরাতে একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেছি..... হ্যাঁ, বড়ই অদ্ভুত।
সেই স্বপ্নের প্রভাব কাটাতে পারছি না কিছুতেই।
স্বপ্নে যেদিকেই তাকাই, ধোঁয়াটে কি যেন চোখে পড়ে।
স্বপ্নটার খুঁটিনাটি মনে নেই, তবে যেটুকু মনে আছে,
ঐটুকুনিই লিখছি।
স্বপ্নের শুরুতে অন্ধকার এক জায়গায় নিজেকে
আবিষ্কার করি আমি। অচেনা জায়গা। চারদিকে তরল
কুয়াশা ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছিল না। চারপাশে
ভীষণ ঠাণ্ডা। হঠাৎ কোত্থেকে একটা আবছা আলো এসে
পড়ল সেই কুয়াশার মাঝে, সেই আলোয় দেখতে পেলাম
দীর্ঘদেহী এক ছায়ামূর্তি। শরীরটা কালো, মুখ ভাল করে
দেখা যাচ্ছে না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল সেই মূর্তি, একটুও
নড়েনি কিন্তু তবু কেন যেন আতঙ্কে কেঁপে উঠেছিলাম
আমি।
কেন ভয় পেলাম জানি না। বিবশ হয়ে আসছিল শরীর।
জেগে উঠতে গিয়েও পারলাম না। চিৎকার করতে
চেয়েছি কিন্তু গলা দিয়ে বেরোল না একবিন্দু আওয়াজ।
শেষ পর্যন্ত যখন ঘুম ভাঙল, দেখি ঘামে জ্যাবজ্যাবে হয়ে
খাড়া হয়ে বসে আছি বিছানায়। কিসের সম্মোহনী টানে
জানলার কাছে গেলাম। উঁকি দিলাম বাইরে।
চাঁদের আলোয় বাইরে তখন ভেসে যাচ্ছিল প্রকৃতি।
খামারের আঙিনা, ফলের বাগান আর পেছনের
পাহাড়সারি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। কোথাও কেউ নেই। তবু
মনে হত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now