বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
"বিবাহ বিভ্রাট"
- সাবিহা বিনতে রইস
.
খোলা জানালার পাশে বসে আছি। মুখে চন্দন আর মূলতানি মাটির প্যাক।চোখ বন্ধ।জানালা দিয়ে হুহু করে ঝিরঝিরে বাতাস আসছে।ক্যাসেট প্লেয়ার অন করা,সেখান থেকে কানে ভেসে আসছে "তোমার খোলা হাওয়া। লাগিয়ে পালে..."
সব মিলিয়ে বেশ আরামদায়ক পরিস্থিতি। হঠাত্ করে শুনলাম কেউ একজন চেঁচিয়ে বলছে, "ওইসব কাদামাটি যতই মুখে লাগিয়ে বসে থাক, কোনই লাভ নাই বুঝলি?" কথাটা শুনেই দোতলার জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম। দেখলাম ইমন ভাই হাতে ব্রাশ নিয়ে কল পাড়ে দাড়িয়ে হো হো করে হাসছেন। সুন্দর মেজাজটা মুহুর্তেই সপ্তমে চড়ে বসলো।
- লাভ হোক আর না হোক,আপনার তাতে কি শুনি?
- আমার কি নয় তাই বল?এত বড় মেয়েটা মামার ঘাড়ে বসে আছে, সেটা কি আর সহ্য করা যায়।
বলেই হাসতে থাকলেন তিনি। আমার মাথা তখন ভয়াবহ গরম।চিত্কার দিয়ে আম্মুকে ডাকলাম। আম্মু ঘরে ঢোকার সাথে সাথে বললাম,
- আমি কি তোমাদের বোঝা হয়ে গেছি?তাই আমাকে তাড়াতে চাচ্ছ? আচ্ছা থাক,আর আমার কথা চিন্তা করা লাগবে না। এখন থেকে আমার নিজের দ্বায়িত্ব আমিই নিব।
- এইসব কি কথা?কে আবার তোকে কি বললো?
অবাক হয়ে আম্মু আমার দিকে তাকালো।তারপর আরেকটু এগিয়ে এসে আমার পাশে দাড়াল।আর ঠিক তখনই জানালার বাইরে চোখ পড়লো তার।
- ও আচ্ছা! ইমন কিছু বলেছে তাইনা? তো এত রাগের কি আছে?জানিসই তো ও এইরকম।
হেসে ফেললো আম্মু তারপরই ইমন ভাইকে বললেন,
- এই ইমন,মুখ ধুয়ে উপরে আসো।আজ অনেক কাজ,তোমার মামা ডাকছেন তোমাকে।
আম্মু ঘর থেকে বের হয়ে গেল।কিন্তু আমার মাথা তখনও ঠান্ডা হয়নি। বরং আম্মুর এমন নির্লিপ্ততা দেখে মাথা আরো গরম হলো। ইমন ভাই আমার ফুপুর ছেলে।আমার দাদার এক মেয়ে আর এক ছেলে।দাদা মারা যাওয়ার পর এই পৈত্রিক ভিটে টা দুই ভাগ করে আমরা আর ফুপু রা নতুন করে বাড়ি বানিয়েছি।পাশাপাশি দুই বাড়ির মাঝে ছোট একটা উঠোনের মত জায়গা। আমি আর ইমন ভাই এইখানেই দৌড়াদৌড়ে করে বড় হয়েছি একসময়। ইমন ভাই বুয়েটে পড়তেন। বছর দুয়েক হলো পাশ
করেছেন,আপাতত একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে জব করেন।আর আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারর্সের ছাত্রী।এর মধ্যেই বাবা আম্মু বিয়ের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আজ তৃতীয় বারের মত এক পাত্রপক্ষ আমাকে দেখতে আসবে। এর আগেও দুজন পাত্র দেখে গেছে।কোন
এক অজানা কারনে সেদিকে আর কথা এগোইনি।প্রথমবার পাত্র
পক্ষের সামনে বসার সময় ভিষণ রাগ হয়েছিল।কিন্তু এখন আমার আর খুব একটা আপত্তি নেই।পড়াশুনো প্রায় শেষ হতে চললো,এবার বিয়ের পার্ট টা চুকিয়ে ফেললেই ষোলকলা পূর্ণ হবে।বয়স তো আর কম নয়,কথাটা মনে হতেই হেসে ফেললাম আমি।খেয়াল করে দেখলাম মনের রাগ,কখন যে গলে জল হয়ে টুপ করে মন থেকে ঝরে পড়েছে তা বুঝতেই পারিনি।
.
আষাঢ়ের বিকেল।সময়ানুসারে এখন বর্ষাকাল,কিন্তু পরিবেশ দেখে তা বোঝার উপায় নেই।মেঘ মুক্ত আকাশ পাড়ি দিয়ে সূর্য অস্তাচলের পথে।ছাদের রেলিং হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছি আমি।আমার পরনে লাল রঙা সালোয়ার কামিজ।লাল কে ক্যাটকেটে বলে অনেকেই নাক কুচকায়।কিন্তু কোন এক বিচিত্র কারনে এটা আমার প্রিয় রঙ।আমার সামনে হালকা আকাশ রঙের শার্ট আর নেভি ব্লু জিংন্স পরিহিত এক সুদর্শন ছেলে দাড়িয়ে আছে।চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা,কোকড়ানো চুল।সবমিলিয়ে হূমায়ুন আহমেদের শুভ্র চরিত্রের প্রতিচ্ছবি।বলাই বাহুল্য,এটিই সেই পাত্র।আমি বেশ বড় বড় চোখে তার দিকে তাকালাম।আমার চাহনি দেখে ছেলেটা বেশ লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে ফেললো।
বেশ কিছুক্ষণ কথাও বললাম,তাতেই বুঝলাম বেশ হাবাগোবা টাইপের ছেলে।তাতে অবশ্য আমার সমস্যা নেই। হাবাগোবা মানুষ স্বামী হিসেবে খারাপ নয়।বরং তাদের উপর খবরদারি চালানো একটু সহজই বটে।বিড়বিড় করে বললাম,এই যে মশাই..আপনাকে আমার বর না বানিয়ে আর ছাড়ছি না,বুঝিলেন। ছেলে টি মুখ তুলে বললো,কিছু বললেন?
আমি না সূচক মাথা নেড়ে এক বিচিত্র হাসি দিলাম।আমি সেই হাসি দেখে কয়েক মুহুর্তের জন্য সে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল।তারপর তরতরিয়ে নেমে গেল সিঁড়ি বেয়ে। তারা চলে যাওয়ার পর বেশ কয়েকটা দিন কেটে গেল,কিন্তু তাদের দিক থেকে কোন ইতিবাচক খবর পাওয়া গেল না।বাবা হাল ছাড়লেন, ঘোষনা দিলেন আমার মাস্টার্স পরীক্ষার আগে আর বিয়ের কথা নয়। শুধু আমিই বেশখানিক টা আফসোস নিয়ে দিন কাটাতে লাগলাম,,আহা!!হাবাগোবা ছেলে টাকে জামাই হিসেবে পেলাম না।
.
বেশ কয়েকমাস কেটে গেল নিতান্তই সাদামাটা ভাবে।বাবা আম্মু আপাতত বিয়ের কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেছে।তবে নিস্তার নেই ইমন ভাইয়ের হাত থেকে।সুযোগ পেলে সে খোঁচা মেরে কথা বলতে ভোলে না।হুটহাট সামনে এসে অট্টহাসি দিয়ে বলে,,বলেছিলাম না...যতই যা কর,এইবারও ফলাফল শূন্য?? হলো তো ঠিক আমার কথা?
আমি তার কথা শুনে চুপ করে থাকি।প্রথম প্রথম খুব রাগ হলেও এখন আর কিছু মনে হয়না।সে যে এইরকমই তা আমার ছোট থেকেই জানা।ছোট বেলায় এক স্কুলে পড়ার সুবাদে বাড়ির বাইরের তার সব রকম জ্বালাতন সহ্য করতে হত।স্কুলে যাওয়ার পথে মাঝে মাঝেই চুলে বেণি ধরে টানাটানি অথবা টিফিন পিরিয়ডে কথার ফাঁকে আমার বক্স থেকে খাবার চুরি ছিল তার নিত্যকার ঘটনা।আমিও কম নই।তার পিঠে দু চারটি কিল ঘুষি বসানো না পর্যন্ত আমারও শান্তি নেই।বড় হওয়ার সাথে সাথে আমার এই চঞ্চলতায়য় ভাটা পড়েছে।কিন্তু ইমন ভাই আছেন ঠিক আগের মত।
.
বেশকয়েক দিন পরের কথা।আমার পরীক্ষা বেশ সন্নিকটে।সময় কাটছে বইয়ের পাতায় মুখ গুজে।হঠাৎ এক সকালে ফুপু আসলেন।এসেই বেশ হইহই করে বললেন,জানিস আনিস,তোর গুণধর ভাগনের কথা?
- কেন বুবু,সে আবার কি করলো? চিন্তিত মুখে বাবা জিজ্ঞাসা করলো।
- কি করেনি তাই বল।সে নাকি স্কলারশিপ পেয়েছে।এই দেশে আর থাকবে না।মাস তিনেকের মধ্যে নাকি আমেরিকায় চলে।আমি কি করি বলতো?
ইমন ছাড়া আমার আর কেউ আছে?এই বৃদ্ধ বয়সে ছেলের ভরসায় যদি না থাকতে পারি,তো বাঁচব কিভাবে?
- ওমা সেকি!!তুমি কিছু বলোনি?
- বলেছি,কিন্তু সে কি কিছু শোনার ছেলে?
ফুপুর চোখে মুখে উৎকন্ঠার ছাপ।
- বুবু,আপনাকে কতবার বললাম,ইমনের এইবার বিয়ে টা দেন।ছেলে বড় হয়েছে,সংসারে বাধাঁ পড়লে এইসব অহেতুক ঝামেলা মাথা থেকে নেমে যাবে।
আম্মুর কথাটা মনে হয় ফুপুর মনে ধরল।চিন্তিত মুখে বললেন এইবার তাই করতে হবে দেখছি।
.
দিন সাতেকের মধ্যে আম্মু আর ফুপু ইমন ভাইয়ের বিয়ের তোড়জোড় শুরু করলেন।প্রথম প্রথম না না করলেও শেষ পর্যন্ত ফুপু আর আম্মুর চাপের মুখে তাকে রাজি হতে হল।বাবাও এই বিষয়ে তাকে এক দীর্ঘ বক্তৃতা শোনালেন।ফুপু প্রায় এলাহি কারবার বাধিয়ে ফেললেন চারিদিকে হালি খানেক ঘটক সাহেব কে খবর দিলেন।যে ভাবেই হোক, বিয়ে দিয়ে তার দেশ ছাড়া আটকাতেই হবে।তবে লাভের লাভ কিছুই হলো না।এই মেয়ের নাক বোঁচা,তো ওই মেয়ের নাক বেশি সরু,এই মেয়ের চোখ খাটাসের মত,তো ওই মেয়ের হাসি নাকি কিরণমালা সিরিয়ালের কটকটির মত,,এইসব বলে সব মেয়েকেই এড়াতে থাকলো ইমন ভাই।বিরক্ত হয়ে শেষে ফুপু হুংকার ছেড়ে ঘোষনা করলেন,তার পছন্দই এইবার শেষ কথা। তিনি যাকে পছন্দ করবেন তার সাথেই হবে ইমন ভাইয়ের বিয়ে। যেই কথা সেই কাজ।তিনি এক মেয়ে কে পছন্দও করে ফেললেন।বেশ স্মার্ট, আধুনিক এক মেয়ে। তবে সেই মেয়ের সাথে প্রথম বার সাক্ষাৎ এর ভার পড়ল আমার উপর।ফুপু এসে প্রায় জোর করেই এই কর্মটি চাপিয়ে দিল আমার ঘাড়ে।বললেন,
- শোন শুভ্রা,,মেয়েটির সাথে তুই প্রথমে কথা বল,বুঝলি?আজকাল মেয়েদের কে বোঝায় কঠিন।তুই কথা বলে এসে আমাকে জানাবি।তারপর আমরা পারিবারিক ভাবে কথা বলব।
ফুপুর কথার অবাধ্য হওয়ার উপায় নেই।শেষ পর্যন্ত রাজি হতে হলো।
.
পরদিন বিকেলে শহরের এক রেস্তোরায় দেখা হলো তার সাথে।সুন্দরী,আধুনিক, স্মার্ট এক মেয়ে।সব মিলিয়ে ভালই।কিন্তু এই প্রথম বার মন টা অসম্ভব খারাপ হয়ে গেল।কিছুতেই মন থেকে মেয়েটাকে মেনে নিতে পারলাম।কোথাও থেকে যেন এক গাদা বিদ্বেষ এসে আছড়ে পড়লো তার উপর।
.
রেস্তোরা থেকে বের হতে প্রায় সন্ধ্যে হয়ে এলো।হাতের ফোনটি সুইচড অফ করে এলোমেলো পায়ে হাটতে লাগলাম। এসে দাঁড়ালাম পদ্মার পাড়ে।গ্রীষ্মের মেঘমুক্ত আকাশে সবে মাত্র কালপুরুষ উকি দেয়া শুরু করেছে।হুট করে কোথায় থেকে যেন এক গাদা জল চোখে এসে ভিড় করেছে।নিজের মন কে জিজ্ঞাসা করলাম,কেন এত ছেলেমানুষি শুভ্রা?এটা কি শুধু মাত্রই ছোট থেকে বড় হওয়া এই দীর্ঘদিনের অধিকারে ভাটা পড়ার যন্ত্রনা?নাকি অন্য কোন অনুভুতির আর্তনাদ?
মন কোন উত্তর দিল না।রাত নেমে আসছে পৃথিবীর বুকে।আমি এক বিষণ্ণ মন নিয়ে বাড়ির পথে হাটা ধারলাম।
.
বাড়িতে পৌছেই ভিষন এক ধাক্কা খেলাম।খালা-মামা ফুপু আর অন্যান্য আত্নীয় স্বজনে ঘরময় গিজগিজ করছে।আম্মু এসেই হুংকার ছেড়ে বললেন,কই ছিলি এতক্ষণ? ফোন বন্ধ কেন?সেই কখন বেড়িয়েছিস বাড়ি থেকে!!
আম্মু হয়ত আরো কিছু বলত, কিন্তু তার আগেই ছোট খালামনি এসে থামিয়ে দিলেন।
-আরেহ,এখন এইসব বকাঝকার সময় নাকি?
যা যা!! ওকে তাড়াতাড়ি রেডি হতে বল।
.
ঘটনার আকর্ষ্মিতায় আমি প্রায় হতভম্ব।ঘন্টা খানেকের মধ্যে কাজিন রা মিলে আমাকে সাজিয়ে ফেলল।আয়নার সামনে আমি অপলক ভাবে তাকিয়ে থাকলাম।কেমন যেন বউ বউ লাগছে আমাকে।তারপর পাশের ঘরে ঢুকেই দেখলাম ইমন ভাই বসে আছে।পরনে বেশ ঝকমকে পাঞ্জাবি।বাবা মামা খালু আরো অনেকেই আছে।কিছু বুঝের আগেই অনেক কিছু ঘটে গেল।হইচইয়ের মধ্যে কেউ একজন বলে উঠলো, ভাগ্যিস ইমন বলেছিল।না তো চোখের সামনে সুপাত্রী ফেলে রেখে আমরা পাত্রীর খোঁজে দ্বিগবিদিক ছুটছিলাম।আম্মু হেসে বলল,,সে কথা কি আর বলতে!!আমরাও কি শুভ্রার জন্য কম পাত্র খুঁজেছি!!
.
ঘোরের মধ্যে কয়েক ঘন্টা কিভাবে কেটে গেল বুঝতেই পারলাম না।রাত গভীর হতেই কাঠবেলী আর গোলাপ দিয়ে সাজানো ঘরে ঢুকলাম।একটু পর ইমন ভাইও আসলো ঘরে।আমার চোখ ভর্তি তখন হাজার প্রশ্ন আর কৌতুহল।ইমন ভাই হঠাৎ একটা নীল ডাইরি মেলে ধরল আমার সামনে। ধক করে উঠলো আমার বুকের ভেতর।
.
ইমন ভাই এটা পেল কিভাবে!!!এর পাতায় পাতায় ইমন ভাইকে নিয়ে লেখা আমার অজস্র নামহীন অনুভূতির গল্প।যা কোনদিন কেউ টের পায়নি।আজ হঠাৎ করে সব প্রকাশ পেয়ে যাবে আমি স্বপ্নেও ভাবিনি।সাধারন আর আমাদের আটপৌড়ে মেয়ে গুলোর জীবনে ভালবাসা বোধহয় এমনই হয়।যা সংকার,শ্রদ্ধা কিংবা নিয়মকানুনের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়।বহুদিন ধরে লালন করা স্বপ্ন আর অনুভূতি গুলো আড়াল করে আমরা এগিয়ে যায় অন্যের স্বপ্ন পূরনে।
.
ইমন ভাই হঠাৎ এক ঝটকায় আমাকে কাছে টেনে নিলেন।তারপর ফিসফিস করে বললেন,এত কিছু মনের মধ্যে রাখলি,অথচ একবারও বললি না আমাকে!!
.
আমি লজ্জায় মুখ নামালাম।মন থেকে চাওয়া জিনিস গুলোকে সৃষ্টিকর্তা বোধহয় এইরকম করেই মিলিয়ে দেন।আমি ইমন ভাইয়ের হাত ধরে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম। দূর আকাশে তখন ঝুলে আছে একফালি তরমুজের মত বাঁকা চাঁদ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now