বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অতঃপর ব্রেক-আপ
____ হৃদয় মাহমুদ
:
:
১.
দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রেমের জীবন অতিবাহিত করার পর মেয়েটি ইচ্ছাকৃতই পালিয়ে বিয়ে করে ফেলল।
.
ছেলেটি গরীব বলে মেয়েটির পরিবার তাকে পছন্দ করত না। যদিও মেয়েটি তাদের সম্পর্কের কথা বহুবার বলেছে। তথাপিও তার পরিবার বুঝেনি।
কিন্তু এখন সামাজিকতার ভয়ে, প্রেস্টিজ রক্ষার্থে ছয় মাস পরই মেনে নেয়ার অভিনয় করল।
.
মেয়েটির বাবা ছিল খুবই চতুর লোক। নানাভাবে মেয়েকে বাজিয়ে দেখলো যে ছেলেটিকে সে খুবই ভালবাসে। হঠাৎ করে আলাদা করা যাবেনা। তাই সে মনের মধ্যে নানান কৌশল আঁকতে থাকল কিভাবে এই সম্পর্ক নষ্ট করা যায়। সে পরিকল্পনা করল প্রথমে তাদের ভিতরে ভাল সেজে প্রবেশ করতর হবে। মুখোশের আঁড়ালে ভদ্র সেজে তাদের ভিতরে ডুকে গেল। যেহেতু ছেলেটি বেকার ছিল তাই সহজে সুযোগ কাজে লাগল। এটা করে দিবে সেটা করে দিবে বলে নানা লোভী স্বপ্ন দেখিয়ে বীর পুরুষ হয়ে গেল। সবার বাহবা পেতে লাগল ভাল বাবা হিসেবে।
.
ছেলেটি সেই ফঁন্দি বুঝতে পারলনা। কারন মেয়েটির বাবা প্রধান দূর্বল পয়েন্ট বেকারত্বে জাল ফেলেছে। দুজনকেই নিজের বাড়িতে নিয়ে আসল।
তখন থেকে মেয়েটির স্বামীর বাড়িতে যাওয়া নিষেধ হয়ে গেলো ; গেলেও সপ্তাহের বেশি নয়। ছেলেটির কিছু একটা হলে তখন যাবে। তাই মেয়েটির বাবার কথা মত সপ্তহের বেশি স্বামির বাড়ি থাকত না।
.
মেয়েটির বাবার কৌশল হল হাতের কাছে রেখে প্রথমে ছেলেটিকে সবার কাছে বিশেষত মেয়েটির কাছে বিষিয়ে তোলা। তাই ছেলেটিকে বেকার রাখতে হবে। কারন বেকারত্ব সকলের নিকট অভিশাপ। বেকারকে স্ত্রী তো দুরে থাকুক সয়ং মাও দেখতে পারেনা। তাই মেয়েকে হাতে রেখে লোভ দেখিয়ে ছেলেটিকে কোন কাজ করতে দিলনা। এটা সেটা করে দিবে বলে ঘুরাতে থাকল। চাকুরির কথা বলে, বিদেশ পাঠাবে বলে পড়াশুনা থেকে দুরে সরিয়ে পড়াশুনা বন্ধ করিয়ে দিল। ছেলেটি নানা ঈঙ্গিতে মোয়েটিকে বোঝাতে চাইলেও সে বুঝতে রাজি নয়। বাবার মত শির ধার্য।
.
তখন মেয়েটি বাবার সুরে কথা বলত "আমার বাবা আপনাকেতো আর ছোট চাকুরি দিতে পারেনা, এখানে প্রেস্টিজের ব্যাপার আছে। ভাল কিছু পেতে হলে ধৈর্য্য নিতে হবে। আমার বাবা কত ভাল মানুষ যে আমাদের সহজেই মেনে নিল। আর এখন আপনার চাকুরির আর বিদেশের বিষয়ে কতই না দৌড়াদোড়ি করতেছেন। অন্য কেউ হলেতো জীবনেও মেনে নিতনা। আমার বাবা যেহেতু বলছে কিছু একটা হবেই "।
.
ছেলেটার কোন কথাই স্থান পাচ্ছে না। তাই সে অসহায় হয়ে পড়ল। কাউকে বলতেও পারছেনা বোঝাতেও পারছেনা আবার সইতেও পারছেনা। এভাবে আর কতদিন শশুরের অপেক্ষায় থাকবে। তাদের কাছে হাত পাতবে। নিজেকে খুব ছোট ভাবতে থাকল।
এইভাবে দুইটি বছর অতিক্রম করল। একটা সন্তানও পৃথিবীতে আসল সিজার করতে হয়েছিল। সমস্ত খরচ তার বাবা বহন করেছে। ছেলেটি একটা টাকা একমাত্র সন্তানের জন্য খরচ করতে পারল না। নিজেই নিজের নিকট ছোট। এই নিয়েও মেয়েটি খুব বকাবকি করল।
_আপনি কেমন পুরুষ নিজের সন্তানের জন্য একটা টাকা খরচ করতে পারেন না।
_আমি কি করব কোথায় থেকে দিব তুমিতো সবই দেখতেছো ।
_ কেন দুনিয়ার মানুষ চাকুরি করছেনা?
.
এভাবে তার বাবা কুচক্রিতা কাজে লাগতে থাকলো। ছেলেটি নিতান্তই কথা কম বলত। তাই কোন ঝগড়ার উৎপত্তি হল চুপ হয়ে শুনে থাকত আর নাহলে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেত।
.
বাবা কৌশলে সৎ সেজে ঝগড়ার বীজ বপন করে দিল। মেয়েটি এখন আর ছেলেটিকে আগের মত চোখে হারায় না। খাওয়া দাওয়ার খবর রাখেনা। কাছে আসলেই নানা উল্টাসিধা কথা বলতো। কথায় কথায় বাবার ধমক দেয়, বাবার টাকার হিসেব করে। আবার বলে বাবার কথা না শুনে ভুল করেছে। বাবা মা তো কখনো সন্তানের খারাপ চায়না। আমার এই অন্যায়ের ক্ষমা নাই। করেছি করেছি তাও একটা অকর্মাকে... এভাবে ছেলেটিকে শুনিয়ে সব সময় বকতে থাকে। অবহেলা করতে থাকে। প্রায় তর্ক হয়ে যায়। দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রেম জীবন নষ্ট হতে থাকে। মেয়েটি ভুলে যায় অতীত সব কথা। এসব তার বাবা মা কৌশলে শোনে মিষ্টি কথা বলে বলে মেয়েটির মুখ থেকে কথা বের করে। সাথে তারাও প্যাঁচ লাগায়।
.
_তোমাকে একাজ করতে নিষেধ করেছিলাম মা।
তুমিতো আমাদের কথা শোননি। ও একটা বেকার ছেলে। ওকে দিয়ে তোমার দিন চলবেনা। অনেক আশা ছিল বড় বাড়িতে তোমায় ধুমধাম করে বিয়ে দেব। কত মজা হবে। পারলাম না অপ্রদার্থটা আমার সহজ সরল মেয়েটার জীবনটা ধ্বংস করে দিল।
.
আরো নানান তালে কথা বলে মেয়ের ভিতর প্রবেশ করে ফেলল। বাবা মার মুখে কান্না সুরে এসব কথা শুনে মেয়েটিও চোখের পানি ছেড়ে ফুপিয়ে কাঁদতো।
মনে মনে ভাবতে থাকল, বাবাতো ঠিকই বলছে কোথায় আমি আর কোথায় সে! আমি কত বড় ভুল করেছি তাদের কথা না শুনে। মান সম্মান নষ্ট করেছি। এই ভুলের ক্ষমা নাই। একটা ছোট লোক অকর্মাকে বিয়ে করে জীবনটাকে শেষ করে ফেলেছি। আর না, এখন থেকে আর ছাড় দেওয়া যাবেনা। হয় এপার না হয় ওপার!
.
বাবার কুচক্রি সাহসী পরোচনায় মেয়েটি ধরা পড়ে গেল। তখন থেকে আরো বেশি অবহেলা শুরু হল। এটা চাই সেটা চাই, দিতে হবে। না পারলে বিয়ে করলে কেন? প্রায় সময় চাওয়া পাওয়া নিয়ে ঝগড়া লেগে যেত। ছেলেটি অসহায় কিভাবে দিবে। পড়া শুনাটিও হয়নি কোথায় যাবে / মনে মনে ভাবতো যে একসময় মুহুর্ত না দেখলে পাগল হয়ে যেত আজ সে চোখের সামনে দেখলেই অপমান অবহেলা করছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now