বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পটি ভালোবাসার
_____ হৃদয় মাহমুদ ।
:
:
:
দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলাম পাক্কা আধ ঘন্টা। এতটা ধৈর্য পূর্বে কখনো ছিলোনা। বারবার মন চেয়েছিলো সবগুলারে ধাক্কা মেরে ভিতরে চলে চাই। কিন্তু পারিনি। পাশে থাকা বন্ধুটিও আমারে একটি শব্দ কথা বলতে দেয়নি। বর নাকি কথা বলতে পারেনা তাই চুপ ছিলাম। প্রথম বারের মত বর হয়ে ধৈর্যশীল হয়ে গেলাম। একেবারে গুড বয়। বন্ধু সবকিছু সামলিয়ে নিলো।
.
পুরো এক ডজন তরতাজা তরুনী দরজায় ফিতা বেঁধে দাঁড়িয়ে ছিলো। তাদের একদফা এক দাবী ভিতরে প্রবেশের ট্যাক্স দিতে হবে। এতক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে তাদেরও বিরক্তি এসে গেছে তাই স্লোগান শুরু করে দিলো "আমাদের দাবী আমাদের দাবী ; দিতে হবে দিয়ে দাও "। আমি বন্ধুর কানে বললাম "তুই কি পারবি ; নাকি আমারে সুযোগ দিবি? শালিদের সবগুলারে..... "। বন্ধু নিষেধ করে বললো " আর একটু দাঁড়া বন্ধু। তোর বউ কেউ নিয়ে যাবে না। এদের সাথে আর একটু মজা করে নিই "। আমি সবার অগৌচরে এক নজরে ভিতরে পলক রেখে দেখলাম বউটি আনমনা একা একা বসে আছে। কোন দিকে কোন খেয়াল নেই।
.
তারপর সবকিছু মেনেজ করে আমি ভিতরে ঢুকলাম আর তরুণীরা বেরিয়ে গেলো। সাথে সাথেই দরজাটা লাগিয়ে দিলাম। পুরো রুমটা ছিলো মিউজিক লাইটে সাজানো। রং-বেরংয়ের আলোয় অন্য রকম লাগছিলো। ফুলে ফুলে ফুলশয্যা। জীবনে অনেক শুনেছি ফুলশয্যার কথা। সেদিন সত্যি সত্যিই মুখোমুখি হলাম। সত্যিই সেরকম ফিলিংস। প্রতিটা মানুষের জীবনে একটা অবিস্মরণীয় রাত। ফুল দিয়ে সাজানো খাটের উপর দুজনের নাম অংকন করা হয়েছে। সেখানেই বউয়ের ডাক নামটা দেখলাম নওরিন।
.
আমি যদিও মুখে ছিলাম সিংহ কিন্তু বাস্তবে শিয়াল। অনেককে সাহস দিয়েছি, বুঝিয়েছি কিন্তু নিজের বেলায় ঝিরো পয়েন্ট। রুমে প্রবেশের পরই কেনো জানি আমার হাত-পা অবশ হয়ে আসলো। বসবো নাকি দাঁড়িয়ে থাকবো বুঝতে পারছি না। ফুল স্পীডে মাথার উপর ফ্যান চললেও আমার পুরো শরীর ঘেমে যাচ্ছিলো। বউটির দিকে তাকাতেও ভয় পাচ্ছিলাম। কিভাবে কি দিয়ে কথা শুরু করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না হতভম্ব হয়ে পড়লাম। আবার বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম কারন দুলাভাই বলেছিলো বউ নাকি রুমে প্রবেশের সাথে সাথে সালাম করবে তাই দাঁড়িয়ে থাকা। বউয়ের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এরমধ্যে বন্ধু ফোন দিলো আমার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছিলোনা তাই ব্যস্ত আছি বলে রেখে দিলাম।
.
পা টিপে টিপে বউয়ের সামনে গিয়ে বসলাম বউটা তখনো মাথা নিচু করে বসেই আছে। বউয়ের কোন সাড়া না থাকায় আরো ভয় বেড়েই যাচ্ছিলো। বহুবার কথা বলবো বলবো বলেও পিছিয়ে গেছি। কি কথা বলবো তা নিয়েও চিন্তিতো ছিলাম। অনেক্ষন নিরবতা পালন করার পর গলায় একটু কাশি দিলাম।
সাহস করে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম " তুমি কি ভয় পাচ্ছো আমাকে "? না কোন আওয়াজ নেই। ভাবলাম আস্তে বলেছি শুনেনি। আবার বললাম "তুমি কি কাঁদছো "? এবারও কোন সাড়া নেই। হাঁটু দুটো উঠিয়ে হাত দুটোকে ছাদ বানিয়ে মাথাটাকে হেলিয়ে বসেই আছে। মনে হচ্ছে জেল খানার কয়েদী, ফাঁসির আসামী জীবন নিয়ে ভাবছে।
.
আমার ভয়ও যদি লাগছিলো বিরক্তও কম হইনি। তাই পরের স্টেপ ছিলো মাথা সোজা করে দেবো। ধরবো কি ধরবোনা ভাবতে ভাবতে মাথাটাকে দু হাত দিয়ে ধরে সোজা করে দিলাম। না কোন শব্দ ছাড়াই আগের মত করে নিলো। ভাবছিলাম রেগে যাবে কিন্তু না রাগেনি তাই সাহস আরো বেড়ে গেলো। এবার মাথা শক্ত করে ধরেই রাখলাম। বউটি চোখ বন্ধ করে রাখলো। দেখলাম দু' নয়ন ভরে। শ্যামলা রঙ্গের কিছুটা কোঁকড়ানো চুলে মায়াবীনি চেহারায় বেশ ভালোই লাগছিলো। এক নজরে চেয়েই ছিলাম। হঠাৎ বড় বড় চোখে লাল করে তাকাতেই ভয় পেয়ে গেলাম। সাথে সাথে হাত সরিয়ে নিলাম।
.
এবার কথা বললো বউ " দেখুন, বিয়েতে আমার মত ছিলো না। শুধু আব্বু আম্মুর মন রক্ষার্থে রাজি হয়েছি। আপনার স্ত্রী হয়েছি এই নয় আপনার সব অন্যায় অধিকার মেনে নেবো। আমাকে কর্তৃত্ব দেখাতে আসবেন না শুধু হাজব্যান্ড হয়ে থাকবেন " বলেই একটা বালিশ নিয়ে ফ্লোরে শুয়ে পড়লো। আমিও আর সেই রাতে ঘুমাইনি। ফেসবুকিং করে সারা রাত কাটিয়ে দিয়েছি।
.
বউটার সমস্যা হলো বয়স কম মাত্র এসএসসি দিয়েছে। বিয়ে নিয়ে কোন প্রস্তুতি ছিলোনা। পরিবার তার সম্পূর্ণ অমতে এই বিয়ে দিয়েছে। তাছাড়া সেই বয়সে খুব সহজে যেকারো সাথে মেশার মত মানসিকতা তৈরি হয়নি। তাই অনিহা এই দুরুত্ব। অপরদিকে, আমি গ্র্যাজুয়েট মোটামুটি ম্যাচিউর্ড। সেজন্য বউটার উপর রাগ বা স্বামীর অধিকার দেখাতে যাইনি। আমি চেয়েছি, তার আরো একটু বয়স হোক, বুঝ হোক। আর আমার সম্পর্কে অথবা স্বামী সম্পর্কে ভুল ধারনা ভেঙ্গে যাক। একসাথে থেকে একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি হোক। তাই সেদিন থেকে বউটার সাথে একটা দিনও বউয়ের মত আচরন করিনি।
.
সবাই বিয়ের আগে প্রেম করে আর আমি বউয়ের মন জয় করার জন্য বিয়ের পরে বউয়ের সাথেই প্রেম করা শুরু করলাম। এক কথায় বউয়ের সাথে প্রেম। প্রেমিক সেজেই বউয়ের সাথে বসবাস করতে শুরু করলাম। বিন্দুমাত্র বউয়ের অধিকার নিয়ে কথা বলিনি। একই রুমে দু' জন দু'জায়গায় থেকেছি। মনটা জয় করার জন্য এমন কিছু বাকি ছিলোনা যা আমি করিনি।
.
তাই তো আজ প্রথম বউ আমারে ফোন দিয়ে বললো " তুমি যেখানেই থাকো তাড়াতাড়ি আসো। তোমার জন্য মজার একটা খাবার রান্না করেছি "। আমিতো মহা খুশিতে কথাই ভুলে গেছি কি বলবো। আমার কাছে এত্ত ভালো লাগছিলো যে বলে বুঝাতে পারবো না । বউ নিজে থেকেই ফোন দিলো বিয়ের পর এই প্রথম। আমি তাড়াতাড়ি মিষ্টি নিয়ে বাসায় চলে আসলাম। রুমে ঢুকার সাথে সাথেই প্রায় একঘন্টা জড়িয়ে ধরে ভালোবাসি ভালোবাসি বলতেই থাকলো যেনো পাঁচ বছরের ভালোবাসা একদিনেই শোধ করে দিলো। তারপর কেঁদে দিয়ে আমার পা চেপে ধরতে চাইলে "ক্ষমা করে দিন বলে "। আমিও তখন বউটাকে জড়িয়ে এতদিনের ভালোবাসা নিমিষেই আদায় করে নিলাম। মিষ্টি খাইয়ে বউয়ের ভালোবাসা বরন করে নিলাম।
fb.fatin.israk.3
fb.hemo.rean
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now