বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দস্যি মেয়ে

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X দস্যি মেয়ে মোঃ শাহিন অালম জান্নাতি ধনাঢ্য পরিবারের এক মাত্র মেয়। ছোট বেলা থেকেই ও খুব চঞ্চল অার জেদি, যা চাইবে তৎক্ষণাত তা চাই, না পেলে হাতের কাছে যা পাবে তা অার অাস্ত থাকবে না। মা বাবার এক মাত্র সন্তান তাই মা বাবা ওর এই নির্যাতন অানন্দের সাথেই মুখ বুজে সহ্য করে। জান্নাতি বাল্যকাল পেরিয়ে কৈশরে পা দিয়েছে এখনো কেউ ওর ক্লাসের শেষ ব্রেঞ্চের বাম পাশটায় বসার সাহস পায়না। ভুল করেও কেউ বসলে এক চড়ে ওর দাঁতের বারোটা বাজিয়ে ছাড়বে। ওর দুষ্টুমি অার দুরন্তপনা স্কুলের বাদাম ওলা থেকে শুরু করে হেডমাষ্টার সবার জানা। তবে পড়াশোনায় অাদুভাইয়ের অনুকরণ সে করেনি। বরাবরই স্কুলে প্রথম। # বাড়ির পাশের পুকুর থেকে সে চুরি করে মাছ ধরবে কিন্তু পুকুরের মালিক তাকে কিছু বলতে পারবে না। মালিক কিছু বললে, ও মাটিতে এমন গড়াগড়ি দিয়ে কান্না শুরু করবে, যে উল্টো মালিক পরে মহা বিপদে। কদম অার পদ্ম দেখলে ওর মাথা ঠিক থাকেনা। যে কোন মূল্যে ওর কদম অার পদ্ম ফুল চাই। একবার ওরা গ্রামে বেড়াতে যায়। বাবার সাথে ঘুরছে এমন সময় ও রাস্তার পাশে পুকুরে পদ্ম ফুল দেখে পানিতে ঝাপিয়ে পরে। ও জানতোনা পুকুরে কত পানি, এদিকে ও সাতার জানেনা। ও পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। বাবা সাথে সাথে পুকুরে ঝাপ দেয়। সেদিনই ওর বাবা ওর গায়ে প্রথম হাত তোলে। তবে ও যতটা কেঁদেছিলো বাবা তার চেয়ে বেশি কেঁদেছিলো। ও এখন অনেক বড় হয়েছে কলেজ পাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু দুরন্তপনা অার দুষ্টুমির পরিধিটাও সমহারে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। এখন পর্যন্ত ঝড়ের বাতাসে পরা প্রথম অাম টি ওর অাগে কেউ নিতে পারেনা। ওকে নিয়ে বাবা মায়ের যত দুশ্চিন্তা, এমন দস্যি মেয়েকে কে বিয়ে করবে। # বাবার পছন্দেই ছেলে ঠিক হয়। ছেলে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। ছেলের বাবা দেশের বাইরে থাকে। বিয়ের পরে শাশুড়ির বিধি নিষেধ, "মুরব্বিদের সামনে মাথায় কাপড় দিয়ে রাখবে, দাঁত বের করে জোরে হাসবে না" ইত্যাদি। কে শোনে কার কথা ও এক কান দিয়ে শোনে অন্য কান দিয়ে বের করে দেয়। ওর স্বামী অফিস গেলে ও বিশ্ববিদ্যালয় ের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ক্লাস শেষে বন্ধু বান্ধবের সাথে অাড্ডা, ঘরে ফিরার সময় একগাদা কদম ফুল নিয়ে অাসে। এ নিয়ে শাশুড়ি বেশ কবার বাবার কাছে নালিশ করেছে। বাবা বলে "বাচ্চা মেয়ে কদিন গেলেই ঠিক হয়ে যাবে।" # শাশুড়ি মাঝে মাঝে ওর স্বামীকে বকা দেয় "সারাদিন অফিস অার অফিস, বউমাকে নিয়ে একটু ঘুরে অাসতে পারিস না। অার অফিস থেকে নতুন বউয়ের সামনে খালি হাতে কি করে অাসিস! তোরা অাজ কালকের ছেলেপেলে যা হয়েছিস সবকিছু শিক্ষিয়ে দিতে হয়!" শাশুড়ি যখন বকা দেয় তখন ও মিটি মিটি হাসে। অার ভাবে অামার শাশুড়ি পৃথিবীব সেরা শাশুড়ি। এভাবে ভালোই চলছিলো ওর সংসার। জান্নাতি মাঝে মধ্যেই দেখে ওর স্বামী অার শাশুড়ি কি নিয়ে অালাপ করে, ও গেলেই প্রসঙ্গ বদলায়। ও সেদিকে খেয়াল করেনা। একদিন রাতে ওর স্বামী ব্যাবসা করবে বলে, ওকে বলে "তোমার বাবার কাছ থেকে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা এনে দাও।" জান্নাতি বলে "দু,চার, পাঁচ লক্ষ লাগলে বলো। পঞ্চাশ লক্ষ টাকা অামি চাইতে পারবনা।" এ নিয়ে চলে দুজনার মধ্যে দন্দ্ব। সেদিন ও সারা রাত সোফায় নির্ঘুম কাটায়। পরদিন ও ওর স্বামীকে বোঝায় বাবার যা কিছু অাছে ভবিষ্যাতে সব কিছুই অামার হবে, তখন তুুমি যা ইচ্ছা তাই করো। বাবা কোন কিছু ক্ষতি করে টাকা তোমাকে দিক তা অামি চাই না। ও বাড়িতে সেদিন থেকেই জান্নাতির অাদরটা কমে যায়। স্বামী এবং শাশুড়িকে কেমন অচেনা মনে হয়।জান্নাতি এখন অার ক্লাস শেষ করে বন্ধুদের অাড্ডায় যায় না,গাছে কদম ফুলের ‌দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে চলে অাসে। বাড়িতে এসে মাকে ফোনে জিজ্ঞেস করে, "ছয়টা দেশি অালু ভর্তায় কটা ভাজা মরিচ দিতে হয় মা।" ও সংসারের শান্তি ফিরিয়ে অানার জন্য সর্বচ্চ চেষ্টা করে। # একদিন ও পরীক্ষা দিতে বের হবে এমন সময় ওর স্বামী বলে, "অাসার সময় তোমার বাবাকে বলে এসো টাকাটা জোগার করে রাখতে"। ও কোন কথা না বলে বের হয়ে যায়। ফিরে এলে ওর স্বামী ওকে বাবার কাছে গিয়েছিলো কি না জিজ্ঞেস করে। ও নিষেধ করলে, এ নিয়ে কথা কাটাকাটি চলে। একপর্যায়ে মাজার বেল্ট খুলে ওর স্বামী ওকে মারতে থাকে। ও চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে শাশুড়ির কাছে যায়। শাশুড়ি ওর ওড়না দিয়ে ওর মুখ চেপে ধরে যেন কান্নার অওয়াজ বাইরের কেউ শুনতে না পায়।ও বোঝে এ বাড়িতে তার বাবার টাকাকে সবাই ভালোবাসে তাকে নয়।মাঝে মধ্যে শাশুড়ি কিছু লোক জন দাওয়াত করে এনে জান্নাতিকে রান্না করতে বলে। রান্না শেষ হলে শাশুড়ি কৌশলে তরকারিতে এক বাটি লবন ঢেলে দেয়। অার খাবার সময় বাপ মা তুলে সবার সামনে গালি গালাজ করে। এসব শুনলে বাবা মা কষ্ট পাবে বলে ও তাদের কিছু বলে না। # একদিন গভীর রাতে ওর ঘুম ভেঙ্গে গেলে ফিস ফাস শব্দ শুনতে পায়। ও দরজার কাছে এগিয়ে গেলে শুনতে পায় "তোর শ্বশুর কবে মরবে তার পর সম্পত্তি পাবি, এতদিন বসে কি অাঙ্গুল চুসবি! এর চেয়ে কাল তোর বউ ভার্সিটিতে গেলে, তোর শ্বশুর কে মেয়েকে দেখে যাওয়ার নাম করে ডেকে অানি।এর পর কৌশলে ইলেকটিসিটির তার পেচিয়ে দিলেই ঝামেলা শেষ।" কথা শুনে ও বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। ওর সারা শরীর ভয়ে কাঁপতে থাকে। সকালে ওর স্বামী অফিসে গেলে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম করে বাবার কাছে চলে অাসে। বাবাঃ কি রে মা একা এলি জামাই কোথায়? জান্নাতিঃ অফিসে বাবা। বাবাঃ তোর কোন সমস্যা হচ্ছে না তো, তোর মুখটা অাজ এত শুকনা লাগছে কেন? জান্নাতিঃ না বাবা কোন সমস্যা নেই। এমন সময় বাবার ফোন অাসে। "বিয়াই সাহেব দুপুরে এসে মেয়েকে দেখে যান,অাপনার মেয়ের নাকি অাপনাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।" বাবা অবাক হয় কিন্তু মেয়ের ব্যাপারে কোন কথা বলেনা। বাবাঃ কি রে মা বাড়িতে বলে অাসিস নি? জান্নাতিঃ না বাবা, ভার্সিটির নাম করে এসেছ। দুপুরে অাবার ফোন অাসে। বিয়াই সাহেব কই কতদূর অাপনার মেয়ে সেই কখন রান্না করে বসে অাছে এলেন না তো। বাবা অবাক হয়। মেয়ে কাছেই বসে রয়েছে অথচ বলছে মেয়ে রান্না করে বসে অাছে! বাবাঃ চল মা তোর শাশুড়ি বার বার ফোন দিচ্ছে তোকে রেখে অাসি। জান্নাতিঃ না বাবা ও বাড়িতে অামি অার যাবোনা, তুমিও যেতে পারবে না! বাবাঃ ‌কিন্তু কেন রে মা! ‌বিয়ের পর শ্বশুর বাড়িই মেয়েদের অাসল ঠিকানা। জান্নাতিঃ অামি ওসব জানিনা বাবা। শুধু জানি অামি ও বাড়িতে অার যাবো না। অার তুমিও যাবেনা। অার গেলে ‌ফিরে এসে অামার মরা মুখ দেখবে। বিকেলে শাশুড়ি অাবার ফোন দেয় "কই বিয়াই এলেন না তো বউ মা মন খারাপ করে বসে অাছে।" বাবা বলে "বিয়াইন সাহেবা যাবো কি করে বলুন, মেয়ে তো সকাল থেকে অামার কাছেই বসে অাছে"। ওর শাশুড়ি ফোন কেটে দেয়। ভাবে বাবাকে সব ‌কিছু বলে দিলো না তো! # জান্নাতি ও বাড়িতে অার কখনো যায়নি।প্রজাপতির রঙ্গিন ডানার মত ওর সেই চঞ্চলতা এখন অার নেই। ও এখন শীতের সকালের প্রবাহমান নদীর মত চিরশান্ত। কদম, পদ্ম কিংবা বরশি কোন কিছুতেই ওর অার মন নেই, সব কিছুতেই নিরবতা অার স্তব্ধতা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৪১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দস্যি মেয়ে (শেষ পর্ব)
→ দস্যি মেয়ে (০২)
→ দস্যি মেয়ে (০১)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now