বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মেয়েটির কাঁন্না মুখো মায়া

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X মেয়েটির কাঁন্না মুখো মায়া ____ হৃদয় মাহমুদ । : : : মেয়েটির ঢেঁকুর উঠলো। অনবরত ঢেঁকুর দিতেই থাকলো। সাথে কঠিন ঝাল যেনো আস্ত মরিচ খেয়ে ফেলেছে। চারিদিকে তাকালেও কোন কথা বলার ক্ষমতা হলোনা। চোখের ভাষা বলছে কারো সাহায্য কামনা করছে। হঠাৎ একটি ছেলেএকটা পানির বোতল এনে মেয়েটির হাতে ধরিয়ে দিলো। বোতলের মুখটা খুলে দিলো একেবারে ঠান্ডা পানির বোতল ফ্রিজ থেকে আনা। মেয়েটি পানির বোতলটা হাতে পেয়ে আর কোন দিকে চাইলো না। যেন পানি পায়নি বিমান থেকে ছিটকে পড়ে মাঝ পথে প্যারাসুট পেয়েছে। কিছু পানি মাথায় ঢালছে, কিছু কুলকুচা করছে, কিছু মুখে মাখছে, আর খাচ্ছে। . এটা একটা ছোটখাট পার্ক তেমন মানুষজন থাকে না। এখানে বাজে কোন লোকও আসেনা বিকেল হলে অফিস শেষে ভদ্রলোকেরা সময় কাটাতে আসে। এখানে কোন দোকান বা ফাস্টফুড শপ নাই। এখানে আছে ভাসমান রং চা ওয়ালা, বাদাম বিক্রেতা, ঝাল মুড়ি ওয়লা। মেয়েটি ঝাল মুড়ি নিয়েছিলো পাশে রাখা আছে। বুঝা গেলো ঝাল মুড়িতে প্রচন্ড ঝাল দেওয়া হয়েছিলো তা খেয়ে আর সহ্য করতে পারেনি। নাক মুখ ধরতে গিয়ে নাকও জলছে, চোখও জলছে। অনবরত পানি ঢেলেই যাচ্ছে। বোতল খালি হয়ে যাচ্ছে দেখে ছেলেটি আরো একটা পানির বোতল এনে মুখটা খুলে পাশে রাখলো। কিন্তু কোন কথা হচ্ছে না। কে পানির বোতলটা আনছে, কোথায় থেকে আসছে, কে বোতলের মুখ খুলে দিচ্ছে তাও দেখার সময় পাচ্ছে না, এত তাড়াহুড়ো করছে। . পানি ঢালতে ঢালতে লিপস্টিক উঠে গিয়ে ঠোঁট দু'টো লেপ্টে গেলো। কপালের টিপ মুছে গেলো, চুলের কাটা সিঁতি এলোমেলো হয়ে গেলো। পরনে নীল রংয়ের থ্রী-পিচ পানি ফেলে পুরোটাই ভিজে ফেলেছে। এভাবেও তাকে দেখতে অন্য রকম ভালো লাগছে। শ্যাম বর্ণের হলেও মেয়েটি দেখার মত তাইতো ছেলেটি মাঝে মাঝে কথা না' বললেও আঁড় চোখে দেখছে। প্রথম বোতলের পানি শেষ হয়ে গেলে পাশের বোতলটাও টেনে নিলো। তখনো মেয়েটি শুধু ফোঁপাচ্ছে। সাথে বসে থাকা ছেলেটি চুপচাপ বাদাম খাচ্ছে। পাঁচ টাকার বাদাম নিয়ে টিপে টিপে খাচ্ছে। . ছেলেটির কাঁধে ব্যাগ, হাতে লেপটপ, কোট টাই পরে ইন করা একেবারে ভদ্র লোক। একটা কোম্পানিতে কাজ করে। প্রতিদিন অফিস শেষে বাসায় যাওয়ার আগে এখানে এসে বসে থাকে, রেস্ট নেয় ভালো লাগে। তার মত আরো অনেকে আসে এখানে। সন্ধ্যা অবধি সময় কাটায়। কোন আলোর ব্যবস্থা নেই তাই সন্ধ্যা নামলেই সকলে চলে যায়। . প্রায় আধ ঘন্টা পর মেয়েটি থামে। ঝালটা কমে আসে। এবার ছেলেটা একটা টিস্যু এগিয়ে দেয়। এক পলক তাকিয়ে টিস্যু নেয় চুপচাপ। সে তখনো বাদাম চিবোতে আছে। ___টিস্যু আর লাগবে ? ___ না।( মনে কষ্ট বা ভয় মনে জবাব দিতে লাগলো) ___ ঝাল মুড়িতে কি ঝাল বেশি নিয়েছিলেন? ___ হ্যাঁ। ___ এখন ঝাল কমেছে? ___ কমেছে। ___ বাদাম খাবেন ( সামনে এগিয়ে দিলো) ? ___ না, ধন্যবাদ। প্রতিটা প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে তবে কারো দিকে কেউ তাকালো না। . মেয়েটির বয়সটা বেশি না, সবে বিশ হবে। কথা বলে ছেলেটির আরো ভালো লেগে গেলো। তাই তার পাশ থেকে উঠে যেতে চাইলেও পারছে না। যেন বহু দিনের পরিচিতা, যেনো একসাথে এখানে এসছে। বাঁকা চোখে চেহারাটা বারবারই দেখলো। ছেলেটি তার চেহারার প্রেমে পড়ে গেলো। মেয়েটি নিচের দিকে তাকিয়ে আছে যেনো ভয় পাচ্ছে। কথার আওয়াজ মৃদু, তবে মিষ্টি কণ্ঠী। ভীত সন্ত্রস্ত চেহারা আরো বেশি আকর্ষণীয়া লাগছে। তাই ছেলেটি বারবার উঁকি মেরে দেখছে। . ছেলেটি আরেকটা চিস্যু বের করে দিয়ে বললো "লিপস্টিকটা মুছে নিন খারাপ দেখা যাচ্ছে"। মেয়েটি টিস্যুটা নিয়ে ব্যানিটি ব্যাগ হতে একটা মিনি আয়না বের করলো। টিস্যু দিয়ে ঠোঁট দুটো মুছে নিয়ে ব্যানিটি ব্যাগ হতে একটা লিপস্টিক বের করে আবার ঠোঁট রাঙ্গালো। নতুন টিপ পরলো, চুলগুলো আঁচড়িয়ে নিলো। মেকাপ বক্স বের করে মুখ সাজালো। এবারতো আরো সুন্দর আগের চেয়ে আরো বেশি ভালো লাগলো। যে কাউকে অবিভূত করার মত। __ আপনাকে বেশ ভালো লাগছে। __ কোন জবাব নাই চুপ । __ না' সাজলেও ভালো লাগে। __ তখনো চুপ। __ আপনার নামটা জানতে পারি? __ আমার নাম ফারিহা। __ খুব সুন্দর নাম। আপনি ঠিক নামের মতই সুন্দর। __ কিসে পড়েন? __ অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ। __ (বাদামের পোটলাটা এগিয়ে ধরে) বাদাম খান! __ (না' তাকিয়েই) সরি। __ কিছু মনে না' করলে একটা রিকুয়েস্ট করি! __ করুন। __ (সেলফোনটা হাতে নিয়ে) আপনার একটা ফটো..... __(মৃদু কণ্ঠে) সরি। __ ফেসবুক ইউজ করেন? __ না। __ কন্টাক্ট নাম্বার... __ আছে দেওয়া যাবে না। কথা শেষে ছেলেটি মুখ চিপে হাসতে লাগলো। . প্রায় সন্ধ্যা হওয়ার কিছুক্ষণ আগে এক ভদ্রলোক আসলো। মোটামুটি স্বাস্থ্যবান ভুড়ি আছে, ইয়া লম্বা পর্সা রং। মুখে চাপা দাঁড়ি কালার করা সম্ভবত পেকে গেছে তাই। মাথার দুই তৃতীয় অংশে চুল নাই। মাঝ বয়সী আনুমান করা যায় বয়স চল্লিশ হবে। আমার পাশ থেকে মেয়েটিকে এসো বলে হাত ধরে নিয়ে যেতে লাগলো। মেয়েটিও চুপচাপ উঠে চলে যাচ্ছিলো। এত কিছু করলো ছেলেটি কিন্তু যাওয়ার সময় একবারের জন্য তাকায়ওনি কৃতজ্ঞতাতো দূরে থাক। আর লোকটির সাথে তার কিসের সম্পর্ক হতে পারে তা মেলাতে লাগলো কিন্তু পারছেনা। নিচের দিকে তাকিয়ে নিজে নিজে হাসতে থাকলো। . এরই মধ্যে হঠাৎ দুজন লোক সামনে এসে দাঁড়ালো বুঝতে পারলো। উপরের দিকে তাকিয়ে দেখলো মেয়েটার সাথে ভদ্রলোকটিও। ছেলেটি উঠে দাঁড়ালো। ভদ্রলোক হাত দুটি বাড়িয়ে দিলো হ্যান্ডশেকের জন্য। ভদ্রলোক হ্যান্ডশেক করে বলতে লাগলো "আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার স্ত্রীকে হ্যাল্প করার জন্য "। মেয়েটি এই লোকের স্ত্রী কথাটি শুনে তার মুখ থেকে আর কোন শব্দ বের হলো না। হতবাক চোখে তাকিয়ে রইলো।মেয়েটি তখনো চুপ চেহারায় কাঁন্নার চাপ। স্বামীর সথে চলে যাওয়ার সময় পিছনে একবার তাকিয়ে দেখলো ছেলেটি বসে বসে হা হা হা করে হাসতে লাগলো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now