বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ছায়া
--তাহমিনা জাহান
অফিস ছুটির তাড়াহুড়োয় রুমা আর হাসিব অগণিত অফিস ফেরত মানুষের ভীড় ঠেলে কারওয়ান বাজার থেকে একটা মিরপুরগামী বাসে উঠে পড়ল । সিট এর কথা মাথায় না নিয়ে কোন রকমে একটু দাঁড়াবার জায়গা পাওয়ার জন্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো নিমেষে ।
কোন রকমে রড ধরে দাড়িয়ে নিজেদের স্থির করে নিয়ে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে যার যার দীর্ঘশ্বাস গোপন করে নিল দুজনেই ।
খামারবাড়ি এলে কিছু লোক নেমে গেলে রুমা একটা সিট খালি দেখে নিয়ে বসে পড়লো। আরো কিছু লোক উঠার পর আবার বাস ছেড়ে দিলে রুমার সিটের পিছনে কেউ একজনের উপস্থিতি টের পেলো রুমা ।
কিছুক্ষন পর পিঠে শক্ত কিছুর খোঁচা লাগলে ঘাড় ফিরিয়ে তাকিয়ে একটা হাতব্যাগ এর ছেঁড়া কার্নিশ দেখতে পায় রুমা । হাতব্যাগ এর মালিকের চেহারা দেখার জন্যে উপরে চোখ ফেরাতেই রুমার সারা শরীর শক্ত হয়ে উঠে । যেন কেউ ওর শরীরের সব রক্ত চুষে নিয়ে ছিবড়ে করে ছেড়ে দিয়েছে ।
হঠাত করে রুমার এমন পরিবর্তন লক্ষ্য করে হাসিব মানুষজন সরিয়ে রুমার পাশে এসে দাড়িয়ে কি হয়েছে জিজ্ঞেস করে । কিন্তু রুমা নিশ্চুপ বসে থাকে আর চোখের জল গড়াতে থাকে । মিরপুর এলে হাসিব একপ্রকার জোর করেই রুমাকে নামিয়ে নেয় বাস থেকে । প্রতিদিন গল্প করে হেঁটে বাসায় গেলেও আজ ভয়ে একটা রিকশা ডেকে রুমাকে উঠিয়ে নিজেও পাশে উঠে বসে ।
রুমাকে ওর হোস্টেল এর সামনে নামিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে হাসিব নিজের মেস বাসায় চলে যায় । এদিকে রুমাকে অসুস্থ দেখে বুয়া রুমে নিয়ে যায় , সুইয়ে দেয় । বেশ কয়েক ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পর রুমা বাথরুমে গিয়ে ঢোকে আর শাওয়ার এর নিচে দাড়িয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে । বার বার নিজের গা ঘষে ঘষে সাবান ডলতে থাকে ।
ওর কাছে মনে হচ্ছিল ওর গায়ে যেন কেউ এসিড ঢেলে দিয়েছে, শাওয়ার এর নিচে দাড়িয়ে থাকলেই বুঝি এই জ্বালা মিটবে । একেবারে ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত হয়ে ঘন্টাখানেক পর বাথরুম থেকে বের হয়ে সোজা ছাদে চলে যায় রুমা ।
ছাদের কার্নিশে দাড়িয়ে বিড়বিড় করে নিজে নিজেই কথা বলতে থাকে আর কাঁদতে থাকে রুমা । যেমনটা করতো ২০ বছর আগে ওকে পড়াতে আসা হুজুর সাহেব এর পড়ানো দীর্ঘ ৩ মাস ধরে । যখন পড়ানোর নাম করে একা ঘরে ওই হুজুর তার গায়ে যথেচ্ছ অত্যাচার চালাতো আর ভয় দেখাতো সবাইকে বলে ঘরছাড়া করবে বলে ।
আজ বাসে নিজের পিছনে সেই লোকটাকেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আবারো যেন সেই অতীতের ছায়া ওকে ঘিরে ধরেছে , টেনে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কোন অতল অন্ধকারে ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now