বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ফার্স্ট বয়!
লেখকঃ- এইচ এম মারুফ
১.
কামরুল স্যার খুব কড়া একজন টিচার। তাকে সব স্টুডেন্টরা বাঘের মত ভয় পায়। তার কথা-বার্তা শুনলে মনে হয় যেন কোন বাঘ গর্জন করছে। তাই স্টুডেন্টরা তার নাম দিয়েছে টাইগার স্যার। সেটা সে জানে। কিন্তু কিছু বলেন না। কামরুল স্যারের ঠোটে কখনো কেউ হাসি দেখেনি। সে নিজেও হাসে না এমনকি কারো হাসি সে সহ্যও করতে পারে না। কোন স্টুডেন্ট যদি কামরুল স্যারের ক্লাসে হাসে তো তার দু-দিন হাসপাতালে ভর্তি নিশ্চিত। অবশ্য হাসপাতাল খরচটা সে নিজেই বহন করে। মাসে কমপক্ষে দু-চার জনের হাসপাতাল বিল তার বহন করতেই হয়। মানে সে প্রতি মাসে দু-চার জন স্টুডেন্টকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। কামরুল স্যারের ঢাকায় দু-টো বাড়ি আছে। তাই দু-চার জনের হাসপাতাল বিল বহন করতে তার কোন অসুবিধে-ই হয় না। অবশ্য সে শিক্ষিকতা করে কোন রকম টাকা নেন না। তার কথা হলো আমি জ্ঞান বেচে কেন খাবো? জ্ঞান হলো অমূল্য সম্পদ। এটার বদলে আমি টাকা নিয়ে এটাকে কেন ছোট করবো! তার কাছে প্রাইভেট পরলেও তিনি টাকা নেন না। তিনি সবাইকে প্রাইভেট পড়ান না। যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ, তিনি তাদেরকে-ই প্রাইভেট পড়ান। আজ ক্লাসে এসে সেই কামরুল স্যার-ই মন ভরে হাসলেন, স্টুডেন্টদের হাসালেন, এবং গল্প করলেন। আজ স্টুডেন্টরা তার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। তাদের কিছুই বুঝে আসছে না যে আজ কেন কামরুল স্যার এভাবে হাসছেন। তিনি স্টুডেন্টদের চোখের ভাষা বুঝতে পারলেন। তাই তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে মনে হচ্ছে তোমরা খুব অবাক হয়েছ?
একদম পিছের বেঞ্চ থেকে একজন ছাত্র দাঁড়িয়ে বলল, জী স্যার! একটু অবাক হয়েছি। আপনাকে তো কোন দিন এভাবে হাসতে বা হাসাতে দেখিনি তাই আমরা সবাই একটু অবাক হয়েছি।
কামরুল স্যার বলল, ও বুঝেছি। তোমরা জানতে চাচ্ছ যে আমি আজ কেন এত্তো খুশি। তাই না?
সবাই এক সাথে উত্তর দিল, জী স্যার!
কামরুল স্যার বলল, কারণ আমার মাথা থেকে খুব বড় একটা বোঝা নেমে গেছে। মানে আমি খুব বড় একটা চিন্তা থেকে মুক্ত হয়েছি।
কোন স্টুডেন্ট জিজ্ঞাসা করার সাহস পেল না যে কি চিন্তা।
কামরুল স্যার আজকের ক্লাসটা গল্প করেই কাটিয়ে দিলেন। এই প্রথম তিনি কোন ক্লাস গল্প করে শেষ করলেন।
২.
ক্লাস টিচার ক্লাসে ঢুকেই ছাত্রদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি কোন অদ্ভুদ ধরণের গন্ধ পাচ্ছো?
সবাই এক সাথে উত্তর দিল, জী স্যার! গতকাল থেকে-ই কেমন জানি একটা গন্ধ আসছে।
“এই গন্ধ ক্লাস করানোটাই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে” বলে ক্লাস টিচার রোল কলিং শুরু করলো। এক ডাকতেই সবাই বলে উঠলো, স্যার ও আসেনি।
স্যার চিন্তিত মুখ করে বলল, ও তো মনে হয় অনেক দিন ধরে আসছে না?
মাঝ থেকে দু-জন ছাত্র বলাবলি করল যে কামরুল স্যার যেদিন আমাদের নিয়ে গল্প করেছেন সেদিন থেকে-ই তো রুম্মান আসছে না। তার মানে চার দিন হয়েছে। তারপর তাদের মধ্য থেকে একজন দাঁড়িয়ে বলল, স্যার! চারদিন হয়েছে রুম্মান স্কুলে আসে না।
ক্লাস টিচার অবাক হয়ে বললেন, চারদিন হয়েছে! রুম্মান তো কখনো এতো দীর্ঘ সময় স্কুল মিস দেয়নি। তোমাদের কারো সাথে যোগাযোগ হয়েছে?
সবাই এক সাথে উত্তর দিল, জী না স্যার!
ক্লাস টিচার এবার আরো চিন্তিত হয়ে বললেন, তাহলে তো রুম্মানের বাসায় ফোন দিয়ে রুম্মানের খবর নেয়া উচিৎ।
তিনি রুম্মানের বাসায় ফোন দিয়ে জানতে পারলেন যে রুম্মান চার দিন ধরে নিখোঁজ। সব জায়গায় খোজ নেয়া হয়ে গেছে। কিন্তু রুম্মান কোথাও নেই। পুলিশের কাছে রিপোর্টও করা হয়েছে। তারাও এখন পর্যন্ত কোন খোজ দিতে পারেনি।
এই ঘটনা শুনার পর মোটামুটি স্কুলে একটা হৈচৈ পরে গেছে যে ক্লাস টেনের ফার্স্টবয় নিখোঁজ। সবার মুখে এক-ই প্রশ্ন ও গেল কোথায়? কোথায় হারিয়ে গেল? ওর কিছু হয়ে যায়নি তো?
চলবে...............
#আজ বৃষ্টির দিন। বাহিরে প্রচন্ড পরিমাণে বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়াটা খুব-ই রোমান্টিক। এই মূহুর্তে একটা রোমান্টিক গল্প দেয়া উচিৎ ছিল। যেন সবাই রোমান্টিকতায় হারিয়ে যেতে পারে। সবার মনে ভালবাসার শিহরণ বয়ে যায়। কিন্তু আমি তা না করে কি বাজে একটা গল্প দিলাম। তার জন্য দুঃখিত।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now