বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
আমার জীবনে এরকম বন্ধুর প্রয়োজন, পাবো কি না জানিনা ।
X
-দোস্ত শেষ পর্যন্ত কিনে ফেললাম।
---কি কিনছস?
---একটা এন্ড্রয়েড ফোন।
---ওরে বাপস এইবার ট্রীট দে কে এফ সিতে।
---আচ্ছা দোস্ত কাল সন্ধ্যায় চলে আসিস ধানমন্ডি।তুই, রবিন, নিরব, সৈকত আর পার্থকেও সাথে করে নিয়ে আসিস।
---আর ইরা? ও আসবে না?
---ফাইজলামি করিস না তো।যাকে মনের কথাই খুলে বলতে পারলাম না তাকে আবার ইনভাইট করব কেমনে?
---আচ্ছা বাদ দে।দোস্ত আমি অনেক খুশি।শেষ পর্যন্ত শখ টা পূরন করলি তাইলে।আহ অনেকদিন চিকেন ফ্রাই খাওয়া হয় না।কাল নাক ডুবিয়ে খাব।
---আচ্ছা খাইস হাঃ হাঃ।
রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে রাতুল।টিউশনির টাকাটা পেলে আজ বন্ধুদের খাওয়াবে ভেবেছিল কিন্তু টাকাটা আজ পায়নি সে।কাল বন্ধুদের উচ্ছাস দেখে কিছু না ভেবেই ট্রীট দেওয়ার কথা বলেছিল।আজ সেই ভুলেরি মাশুল দিচ্ছে সে।এখন আর মানাও করতে পারছেনা সে।একেকজন কত সাধ করে বসে আছে নিজের মনেই ভাবল রাতুল।এই অচেনা অজানা শহরে যেদিন থেকে পা রেখেছিল সেদিন থেকেই এই বন্ধুরাই আগলে রেখেছিল রাতুলকে।গ্রামে বাবা মা, ভাই-বোন ছেড়ে আসার কস্টটা ভুলে গিয়েছিল সে এই বন্ধুগুলোকে পেয়ে।রাতুলের বাবা মার সংসারে অভাব দেখে নিজ উদ্যোগী হয়ে তারা তার জন্য টিউশনির ব্যাবস্থা করে দিয়েছিল।এই বন্ধুদের ঋন কোনদিন ও শোধ করতে পারবে না সে।তাদের মনকে আঘাত ও দিতে চায় না রাতুল।কিন্তু উপায় তো নেই।হাতে টাকা না থাকলে বন্ধুদের খাওয়াবে কিভাবে? এইসব ভাবতে ভাবতে বিড়বিড় করে ইরার সাথে কথা বলতে লাগল রাতুল।ইরা ভার্সিটিতে রাতুলের জুনিয়ার।রাতুল প্রচন্ড ভালবাসে ইরাকে।কিন্তু কোন দিনও ভয়ে বলতে পারেনি।যখন সে কোন সমস্যায় পড়ে এভাবেই কাল্পনিক ইরার সাথে কথা বলতে থাকে।এতে মনটা শান্ত হয় আর অনেক সময় সমস্যার সমাধান ও মিলে যায়।আজ ও মিলে গেল।রাতুল বুঝতে পারল তার এখন কি করতে হবে।হাঁটতে হাঁটতে একটা মোবাইলের মার্কেটে আসল সে।এইখানে মোবাইল কেনা বেঁচা হয়।হাতের এন্ডয়েড মোবাইলটার দিকে এক নজর তাকিয়ে এক দোকানে ঢুকে পড়ল সে।উদ্দ্যেশ্য মোবাইল টা বিক্রি করে দেওয়া।মোবাইলটার থেকে নিজের বন্ধুদের হাসি মুখ রাতুলের কাছে অনেক বড়।
কে এফসিতে বসে হইচই করে খাওয়া দাওয়া করছে রাতুল আর তার বন্ধুরা।হঠাৎ রবিন বলে উঠল-
---কিরে এত যে খাওয়া দাওয়া করালি টাকা কোথায় পেলি?
---আরেহ টিউশনির টাকা পেয়েছি সেইখান থেকেই খাওয়ালাম তোদের।
---রাতুল আমরা কি তোর শত্রু?
---কি বলছিস এইসব? শত্রু হবি কেন?
---তাহলে আমাদের কাছে মিথ্যা বলছিস কেন? আমরা জানি তুই তোর নতুন মোবাইল টা বেঁচেই আমাদের খাওয়ানোর টাকা জোগাড় করেছিস।
---তোরা এইসব কিভাবে জানলি?
---তুই যেই দোকানে মোবাইলটা বেঁচে দিচ্ছিলি সেই দোকান থেকে সৈকত তোকে বের হতে দেখে ফেলে।ও তোকে পিছন থেকে অনেক ডাকে কিন্তু তুই শুনতে পাস না।তখন দোকানে ঢুকে দোকানদারকে তোর কথা জিজ্ঞেস করতেই দোকানি বলে যে তুই এইখানে মোবাইল বেঁচতে এসেছিলি।সৈকত সব শুনে সাথে সাথে আমাদের ফোন করে।আমরা সবাই মিলে তোর মোবাইল টা আবার কিনি।এই নে তোর মোবাইল।
রাতুল এখনো কিছুই বুঝতে পারছেনা।তার বন্ধুরা তার মোবাইল টা আবার ফেরত এনে দিয়েছে।আনন্দে চোখে পানি চলে এল রাতুলের।সেইটা দেখে বন্ধুরা আবার ঠাট্টা করে উঠে।
---কিরে ছিঁচকাদুনে স্বভাব পেলি আবার কেমন করে? মেয়েদের মত কাঁদছিস কেন? এখন হবুবউ এর সামনে কেঁদে নিজের মান সন্মান ডুবাইস না।
---হবু বউ এর সামনে মানে?
---মানে তোর এই পার্টিতে আমরা ইরাকেও দাওয়াত করেছি।
---মানে কি? তোরা ইরাকে দাওয়াত করেছিস কেন? তোরা জানিস না ইরার সামনে আমি কথা বলতে পারি না।
---জানি তাই তো ওকে ডেকেছি।আজ তুই শুধু ওর সাথে কথা না ওকে তোর মনের কথাও খুলে বলবি।
---না দোস্ত আমি পারব না।আমার দ্বারা হবে না।তোরা ওকে আসতে মানা করে দে।
---আর মানা করা সম্ভব না।তোর পিছনে তাকিয়ে দেখ।
রাতুল পিছনে তাকিয়ে দেখল ইরা রেস্টুরেন্ট এর দরজা দিয়ে ঢুকে তাদের দিকে আসছে।রাতুলের বন্ধুরা ইরাকে রাতুলের পাশে বসিয়ে অন্য টেবিলে আড্ডা দিতে চলে গেল।
এখন ইরা আর রাতুল মুখোমুখি।
রাতুল কি বলবে ভেবে পাচ্ছিল না দেখে ইরাই শুরু করল,
---কি ব্যাপার চুপ করে আছেন যে? আমাকে দেখে কি খুব বিরক্ত হয়েছেন?
---আরে না না কি বলো।বিরক্ত হব কেন?
---আসলে আপনার বন্ধুরা আপনার নামে আমাকে এমন কিছু কথা বলল যা শুনে আর থাকতে পারলাম না।চলে এলাম আপনার কাছে।কথা গুলো কতখানি সত্য তা জানতে।
---কি বলেছে তোমাকে আমার বন্ধুরা?
---বলেছে আপনার মনের সবখানি জায়গা জুড়ে আমার নাম।আপনার গান,কবিতা,গল্প সব আমাকে ঘিরে।আপনার জীবনের প্রতিটা মুহুর্ত কাটে আমাকে কল্পনা করে।কথাগুলো কি সত্য?
---না মানে ইয়ে।
---আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলেন তো কথাগুলো মিথ্যা।
রাতুল ইরার চোখের দিকে তাকাল।কি সুন্দর মায়াময় চোখ।রাতুল অবাক হয়ে দেখল সেই চোখে রাতুলের জন্য অনেক ভালবাসাও জমে আছে।নিজের অজান্তেই রাতুল বলল,
---না ইরা কথাগুলো মিথ্যা নয়।আমি আসলেই তোমাকে অনেক অনেক ভালবাসি।এতদিন ভয়ে বলতে পারতাম না।আজ বলে দিলাম।
---হুম বুঝলাম এখন
---এখন কি?
---এখন কি মানে? আপনি যে আমাকে ভালবাসেন সেইটাও তো আপনার বন্ধুরা বলে দিল।এখন কি হাতটাও আপনার বন্ধুরা এসে ধরবে?
এই কথা শুনে রাতুল তাড়াতাড়ি হাত ধরল ইরার।ইরাও রাতুলের হাতের উপর নিজের হাত রেখে বলল,"আমাকে কখনো ছেড়ে যাবে না তো রাতুল? সারাজীবন এইভাবে ভালবাসবে তো?।পিছনের টেবিল থেকে এতক্ষন আড়চোখে সব কিছু দেখছিল রাতুলের বন্ধুরা।ইরা রাতুলের হাত ধরতেই হই হই করতে করতে ওদের সামনে এসে বলল, "আরেহ ভাবী আপনি কোন চিন্তা করবেন না।আপনাকে ছেড়ে গেলে ওর হাত পা ভেঙ্গে লুলা করে আপনার কাছে ফেরত আনার জন্য আমরা তো আছি।
এই কথা শুনে ইরা সহ সবাই এক যোগে হেসে ফেলল।রাতুলের মনে হলো তার এই আনন্দের দিনে তার থেকেও বেশী খুশি তার এই বন্ধুরা।আজ রাতুলের শ্রেষ্ঠ সম্পদের লিস্টে ইরার নাম যোগ হলো আর এটাও সম্ভব হয়েছে তার আরেক শ্রেষ্ঠ সম্পদ প্রানপ্রিয় বন্ধুগুলোর জন্য।মনে মনে খোদার কাছে প্রার্থনা করল রাতুল, "হে সৃষ্টিকর্তা আমার জীবনে আর কিছু থাকুক না থাকুক আমার এই শ্রেষ্ঠ সম্পদগুলো যাতে সারাজীবন এইভাবেই আমার পাশে থাকে....
লেখাঃ সন্ধ্যার নীলারোণ্য।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now