বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বুন্ধুরাম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X খুব চিন্তায় আছে নিহাম। কোন কাজে মন বসাতে পারছে না। রাতে ডিনার করতে যেয়েও ঠিক মত খেতে পারলো না। মা বারবার জিজ্ঞাসা করলেও কিছু বলে নি, এরিয়ে গেছে। নিজেকে খুব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। সব কিছু কেনো জানি গুলিয়ে ফেলছে সে আজ। খুব অস্বস্তি লাগছে। আজ সারারাত তার ঘুম হবে না। কেনো জানি ভয় হচ্ছে, গলাটা শুকিয়ে আসছে বারবার। গত চারটি বছর ধরে যে কথাটা হাজাড় চেষ্টা করেও সে বলতে পারেনি কাল তাকে সেটা বলতেই হবে। যেভাবে হোক বলতেই হবে,,!,, আর ঝুকি নিতে চায় না সে। হারিয়ে ফেলার এই ভয় থেকে মুক্তি পেতে চায় সে। আপন করে পেতে চায় তাকে, সারাটা জীবনের জন্য। *** *** ==২== কলেজে ভর্তি আজ, চারপাশে অনেক ছাত্রছাত্রীদের ভীর। নিহামের খুব বিরক্ত লাগছে। এই রকম ভীরভাট্টা ওয়ালা পরিবেশ ওর একদমই পচ্ছন্দ নয়। তাই যত দ্রুত সম্ভব ভর্তির কাজ সেরে যেতে পারলেই হয়। কিন্তু হঠাৎ কি যেনো হলো,,!!,, এই অস্বস্তিকর ভীরের মাঝে কোথায় যেনো চোখটা আটকে গেলো তার। এক মুহূর্তের জন্যই সে এসেছিলো তার সামনে। কিন্তু সেই এক মুহূর্তেই যে কি হয়ে গেলো, নিহাম সেটা নিজেই বুঝতে পারছে না। মুহূর্তে দেখা সেই চেহারাটা বলতে গেলে ঠিক মত তার চোখে ভাসছেও না। তবুও সেই অস্পষ্ট অবয়বটা কি যেনো মায়ায় টেনে ধরছে তাকে। মন মাঝে ঝড় বইয়ে দিচ্ছে তার। এমনটাতো আগে কখনো হয় নি.?. কিন্তু আজ কি হলো ? সে ভুলেই গেছে যে সে কি করতে এসেছিলো। তাই তার ভর্তি হবার কাজ ফেলে রেখে খুজতে লাগলো সেই চেহারাটাকে। হঠাৎ আবার থমকে গেলো সে,,!!,, হ্যা,, এতো সেই চেহারাটা,,!! ,,, মেয়েটা নিহামের সামনেই দাড়িয়ে আছে। তার বান্ধবীদের সাথে কথা বলছে। আর নিহাম,,!! অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে,!!, মুগ্ধ চোখে দেখছে তাকে। তার কাজলে আঁকা চোখ, মেঘো-মালার ন্যায় চুল, গোলাপের পাপড়ির ন্যায় ঠোঁট, মুক্ত ঝড়ানো হাসি,,অপূর্ব সে,, যেন এক অপ্শরী,!!,, তার সব কিছুই যেনো এক মায়ায় ঘেরা!! আর সে মায়ায় টানে জরিয়ে যাচ্ছে নিহাম। হঠাৎ মেয়েটার এক বান্ধবী মেয়েটাকে বলে উঠলো,, >হৃদিতা দেখ,,ছেলেটা তোর দিকে কেমন ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে। হ্যা, মেয়েটার নাম হৃদিতা। তার রূপের মত তার নামটাও অনেক সুন্দর। নিহামের দিকে তাকিয়ে হৃদিতা বলে উঠলো,, কিছু বলবেন,,?? :: হঠাৎ নিহাম ঘাবরে গেলো আর সাথে লজ্জাও পেলো। আর লজ্জা পাবে বাই না কেনো?? এই ছেলে আজ অব্দি কোনো মেয়ের সাথে ঠিক মত কথা বলে নি,, যদি কখনো বলেছে তো শুধু কাজের কথা। যত দুর সম্ভব মেয়েদের থেকে দূরে থেকেছে। আসলে এই ছেলেটা ছোট বেলা থেকেই লাজুক প্রকৃতির। আর আজ সেই ছেলেটাই একটা মেয়ের দিকে অপলক তাকিয়ে আছে। :: হৃদিতা তার প্রশ্নের কোনো প্রতুত্তর না পেয়ে আবার জিজ্ঞাসা করলো,, > এই যে হ্যালো,, আপনি কি কিছু বলতে চান?? -- না মানে কিছু না?? > তাহলে এভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো?? -- না মানে এমনি,,!!,, এ কথাটা বলেই নিহাম পালিয়ে আসার চলে আসলো সেখান থেকে। আর হৃদিতা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো,, সে আসলো ঠিক বুঝতে পারলো না ব্যপারটা। কিন্তু তার বান্ধবীরা হয়তো ঠিকই ধরে ফেললো,, তাই একজন বলে উঠলো,,, 00 হৃদিতা,, এই ছেলেটা নির্ঘাত তো্র উপির ক্রাস খেয়েছে > তোর কি যে বলিস না ,, তোদের মাথায় কি এসব ছাড়া আর কিছু ঘোরে না,,?? 00 কি করি বল ?? আমাদের প্রিয় বান্ধবীটা আর কতকাল একা থাকবে?? তাই আমরা ভাবছি তোর জন্য একটা বয় ফ্রেন্ড জোগার করে দেই তাছাড়া ছেলেটা কিন্তু দারুন হ্যান্ডসাম,, তোদের দুজনকে একসাথে খুব সুন্দর মানাবে,, ইনজয় ইট বেবি বলেই সবাই হাসি শুরু করে দিলো।। > আচ্ছা তোদের যদি ছেলেটাকে এতোই ভালো লেগে থাকে তো তোরাই নিয়ে নেনা ,, আমাকে কেনো জরাচ্ছিস শুনি?? বাদ দে এসব কথা আমাদের কাজ তো হয়ে গেছে চল এবার বাসায় যাই।। ,,,, :: মেয়েটাকে দেখার পর আর স্থির থাকতে পারছে না নিহাম। মনের মাঝে বয়ে যাওয়া ঝড়টা কোনো মতেই থামতে চাইছে না। সে দিন কোনো রকমে কলেজের কাজ সেরে বাসায় চলে আসলেও সেই মুহূর্তটা কোনো মতেই ভুলতে পারছে না। ভুলতে পারছে না হৃদিতাকে। নিজের এই অবস্থা দেখে নিজেই অবাক হচ্ছে সে। এই অনুভুতিটা সম্পূর্ণ অচেনা তার কাছে। :: কিছুদিন পর তাদের ক্লাস শুরু হলো। ঠিক সময়ে ক্লাসে উপস্থিত হলো সে। কিন্তু ক্লাসে এসে আবার থমেকে গেলো সে। তার ঠিক পাশের সিটেই হৃদিতা,!! হ্যা,, সে বুঝতে পারলো যে ওরা দুজন একই ক্লাসেই পড়ে। অনেক ভালো লাগলো নিহামের। যদিও, সে এখনো নিশ্চিত নয় যে কেনো এই ভালো লাগা। :: তাদের মাঝে পরবর্তিতে খুব ভালো বন্ধুত্ব হয় এবং হৃদিতা নিহামকে একটা বিশেষ নাম দেয়,, “বুদ্ধুরাম”। নামটা নিহামের জন্য একদম পারফেক্ট। কারন, ও যে হৃদিতাকে ভালোবেসে ফেলেছে এবং সেটা প্রথম দেখাতেই,, সেটা বুঝতে ওর অনেক যথেষ্ট সময় লেগেছিলো। এবং পরবর্তিতে হৃদিতাও যে ওকে ভালোবেসে ফেলে সেটাও এই বুদ্ধরামটা ঠিক মত বুঝতে পারে নি।। *** *** ==৩== কলেজের প্রথম দিন এসেই হৃদিতাকে দেখেছিলো সে। মেয়েটির মায়াবি চেহারা আর কাজল কালো চোখের ঘোরে সেই তার মনটাকে হারিয়ে ফেললো, আজ অব্দি তা উদ্ধার করতে পারলো না, আর সেটা উদ্ধারের কোনো সম্ভাবনাও নেই। তারপর থেকে দিনের বেশির সময়টা হৃদিতাকে ভেবে কাটিয়ে দেয় সে। ক্লাসের স্যারের পড়ানোর থেকে হৃদিতার দিকে মনোযোগ থাকে বেশি। সারাক্ষন তার দিকে তাকিয়ে খাকে। কিন্তু বলতে পারেনা তার মনের কথাটা। একই ক্লাসে পড়ে বিধায় তাদের মাঝে ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব হয়, যদিও এই বন্ধুত্বের হাতটা বাড়িয়ে দেবার জন্য নিহামকে নিজের সাথে অনেক যুদ্ধ করতে হয়েছে, আর বন্ধুত্বটা করতে পারা তার জন্য রাজ্য জয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম ছিলো না। ধীরে ধীরে সেই বন্ধুত্বের গভীরতাও বৃদ্ধি পায়, তবে সেটা শুধু বন্ধুত্বই। মুখ ফুটে ভালোবাসার কথাটা বলার সাহস নিহাম আজ অব্দি পাই নি। শুধু হৃদিতার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। ইচ্ছা করে ঔ চোখের মায়ায় হারিয়ে যেতে, তার হাসির স্রোতে তলিয়ে যেতে। একদিন হৃদিতাকে বলেছিলো,, ‘‘তুমি তোমার চোখে কাজলটা একটু কমিয়ে নিতে পারো না? ‍তুমি কি বোঝো না যে আমার আরো অনেক কাজ থাকে?? তোমার চোখে তাকালে আমি আর অন্য কোনো কাজ ঠিক মত করতে পারি না।’’,, কিন্তু কেনো জানি তারপর খেকে হৃদিতা চোখে আরো বেশি করে কাজল দিয়ে আসে, আর যার ফলে নিহাম হতে থাকে আরো অসহায়। আরো বেশি করে হৃদিতার চোখের মায়ায় আবদ্ধ হতে থাকে। যে মায়ার জন্য সে হাজার বার মরতে রাজি,।। ,,, ভালোবাসার কথাটা মুখে বলতে পারার কোন উপায় না দেখে একটা চিঠি লিখেছিলো হৃদিতাকে দেবে বলে। কিন্তু হায়! আজ অব্দি চিঠিটা নিহামের ব্যাগেই পরে আছে। চিঠিটাও দিতে পারেনি। না জানি এই ছেলে তার ভালোবাসা কিভাবে প্রকাশ করবে?? কিন্তু কাল থেকে সেই চিঠিটাও খুজে পাচ্ছে না। মনে হয় হারিয়ে ফেলেছে। চিঠিটা হারিয়ে খুব মন খারাপ হলো তার। দিতেই পারলো না চিঠিটা। অবশ্য, না হারালেও যে দিতে পারতো তাও না। ,,, নিহাম অনেক বার বহুভাবে কথার ইশারায় বুঝাতে চেষ্টা করেছে যে সে হৃদিতাকে ভালেবাসে। কিন্তু মেয়েটা বুঝতে পারেনি হয়তো, অথবা নিহাম ঠিক মত বোঝাতে পারে নি, অথবা হৃদিতা হয়তো বুঝেও না বুঝার ভান করেছে। ,,,কিন্তু কাল তাকে তার মনের কথাটা বলতেই হবে, কালই তার শেষ সুযোগ। কাল বলতে না পারলে আর কখনো বলা হবে না। হারিয়ে ফেলবে তাকে। *** *** ==৪== বিছানায় উপুর হয়ে শুয়ে আছে হৃদিতা, হাতে একটা চিঠি। কাঁদছে খুব, তবে সেটা কোনো দুঃখে নয়, আনন্দে। কারন এটা সেই চিঠি, যেটা নিহাম এতদিন তাকে দিতে চেয়েছিলো, কিন্তু সাহসের কল্যানে সেটা নিহামের ব্যাগেই পরে ছিলো এতোদিন। ,,, কলেজের প্রথমদিন নিহামের সাথে দেখা। ছেলেদের সাথে খুব একটা মিশতো না হৃদিতা যার ফলে কোন ছেলে বন্ধুও ছিলো না। কিন্তু এই নিহাম ছেলেটা কেমন যেনো! কি যেন একটা মায়া আছে নিহামের মাঝে। ভর্তির দিন কেনো জানি ওর দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে ছিলো নিহাম। ওর উজ্জ্বল চোখের চাহুনি দেখে হৃদিতাও অবাক হয়ে গিয়েছিলো। কিছু বলতে এসেছিলো হয়তো। হৃদিতা জিজ্ঞাসা করেছিলো, যে ও কিছু বলতে চায় কিনা,,??,, কিন্তু কোনো উত্তর না দিয়েই পালিয়ে যাবার মত চলে গিয়েছিলো সেখান থেকে। হৃদিতা শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলো ওর চলে যাবার পথে। আবার ক্লাসের প্রথম দিনও দেখলো যে ছেলেটা তার পাশের ছিটেই বসে আছে। তার মানে তারা দুজন একই সাথে পড়ে। ,,, নিহাম ছেলেটা সবার থেকে একটু আলাদা।,,,না,, একটু না,!!, অনেকটাই আলাদা,!!,,কলেজের অন্য ছেলেদের মত ঘটা করে কখনা স্টাইল করে না, একদম সিম্পল থাকে, কিন্তু চেহারায় মাধুর্য আছে। খুব কম কথা বলে কিন্তু খুব গুছিয়ে কথা বলতে পারে। কারো সাথে খুব বেশি মেশে না, বেশিরভাগ সময় একা একা থাকে। কিন্তু প্রায়ই দেখতো যে রাস্তার ছোট ছোট ছেলেমেয়ের সাথে হাসি ঠাট্ট করে, তাদের সাথে খেলে, তাদের খাবার কিনে দেয়, যাদের বেশির ‍ভাগই অনাথ আর গরীব ঘরের। নিহামের এই কাজগুলো খুব ভালো লাগে হৃদিতার। হৃদিতা প্রায়ই লক্ষ্য করে যে নিহাম তার দিকে তাকিয়ে থাকে। এরকম তাকিয়ে থাকার সময় প্রায়ই ওদের চোখাচোখি হত আর নিহাম সাথে সাথে চোখ ফিরিয়ে নিতো, আর হৃদিতা তখন মনে মনে হাসতো, আর ভাবতো ছেলেটা এমন কেনো? এরকমটা অনেক বার হয়েছে যে, ক্লাসে স্যারের পড়ার দিকে লক্ষ্য না রেখে নিহাম ওর দিকে তাকিয়ে আছে। আর যার ফলে নিহামকে শাস্তি সরূপ ক্লাস থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। হৃদিতার তখন খুব খারাপ লাগতো। কিন্তু নিহাম তাকে কখনো মুখ মুটে কিছু বলে নি। নিহামের সরলতা আর ভালো মানোসিকতা দেখে হৃদিতাও ওর প্রতি ধীরে ধীরে দূর্বল হয়ে পরে। ,,, এক পর্যায়ে তাদের মাঝে ভালো বন্ধুত্ব হয়। কিন্তু সেটা যে শুধু বন্ধুত্ব ছিলো না সেটা সবাই বুঝতে পারতো, এমন কি তাদের সহপাঠী বন্ধু বান্ধবীরাও এটা খুব ভালোই বুঝতে পারতো যে তারা দুজন দুজনকে ভালোবাসে। কিন্তু শুধু মাত্র তারা দুজনই আজ অব্দি তাদের মনের কথাটা বলতে পারে নি। ,,, খুব রাগ হয় তার নিহামের প্রতি, হবে নাই বা কেনো?? হৃদিতাওতো সারাক্ষন ওর কথা ভাবে— --‘‘কেনো সে তার মনের কথাটা বলতে পারে না? এতো ভীতু কেনো ছেলেটা? সে একটা মেয়ে হয়ে ভালোবাসার কথা কিভাবে আগে বলবে? কিন্তু ঐ বুদ্ধুটা কিছু বলতেই পারে না, ও কি বোঝে না আমার মনের কথাটা? গাধা একটা, আস্ত একটা হাদারাম!! একদিন বলেছিলো যে আমি চোখে এতো কাজল কেনো নেই? এর জন্য সে নাকি কোন কাজে মন বসাতে পারে না। তারপর থেকে আমি আরো বেশি করে চোখে কাজল দেয়া শুরু করেছি। তুমি আমাকে ভালোবাসার কথা বলতে পারবেনা আবার বলবে যে আমি যেনো চোখে কাজল একটু কম নেই?? মোটেই না!! আমি বেশি বেশি কাজল নেবো,,তোমার সব কাজ পন্ড করবো, আমার বুদ্ধুরামটা!!’’— ,,,,সারাক্ষন এগুলো ভাবে আর অভিমান করে নিহামের ওপর। *** *** ==৫== আজ সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে সবাই মিলে আড্ডা দেবার সময় নিহাম তার ব্যাগে কি যেনো খুঁজতে থাকে,, ঠিক সেই মুহুর্তে তার ব্যাগ থেকে নীল খামে মোড়ানো একটা চিরকুট জাতীয় কিছু পরে যায়,, কেউই সেটা লক্ষ করেনি,, কিন্তু সেটা হৃদিতার চোখে পরে। সে সেটা ভালো করে লক্ষ করে দেখতে পায়, খামের ওপরে লেখা,, ‘‘আমার কাজলে আঁকা ভালোবাসা”। সেটা দেখে হৃদিতা একটু ধাক্কা খায়। চিঠিটা নিশ্চিই নিহামের। অবশ্যই কোন মেয়েকে দেবার জন্য লিখিছে। কিন্তু কাকে?? নিহাম কি অন্য কোনো মেয়েকে ভালোবাসে?? ,,, সত্যিই হৃদিতা অনেক ভয় পেয়ে যায়। সবার অগোচরে সে চিঠিটা উঠিয়ে নেয়। বাসায় এসে কাপা কাপা হাতে চিঠিটা খুলতে চেষ্টা করে। কিন্তু এক অজানা আসঙ্কায় বার বার চিঠিটা খাম থেকে বের করে আবার ভেতরে ঢুকিয়ে ফেলে না পড়েই। হয়তো ভাবে যে, যদি চিঠিতে এমন কিছু লেখা থাকে যা পড়লে হয়তো তার জীবনটা মুহুর্তের মধ্যে ওলট পালট হয়ে যাবে। হয়তো তার ভালোবাসায় আঁকা স্বপ্নগুলো ভেঙে চুর্ন হয়ে যাবে। তবুও নিজে মনের সাথে হাজাড় বার যুদ্ধ করে সে চিঠিটা খুলে পড়তে শুরু করলো। চিঠিটা পড়ে সে খুব কান্না করলো, সারাটা সন্ধ্যা কেঁদেছে সে, তার মুখ থেকে কান্নার আভাটা এখনো যায় নি। দুই চোখে সুন্দর করে দেয়া কাজল চোখের জলে লেপ্টে গেছে মুখে। খুব মায়াবি লাগছে তাকে। কিন্তু মনের মাঝে একটা ঝড় বয়ে যাচ্ছে, খুব অশান্ত একটা ঝড়, থামতে চাইছে না মোটেই। কিন্তু সেই ঝড় মোটেই দুঃখের বা অশান্তির নয়, সে ঝড় সুখের ঝড়। কারন সে আজ জানতে পেরেছে যে নিহাম তাকে সত্যিই অনেক ভালোবাসে। এই চিঠিটা হৃদিতাকে দেবার জন্যই নিহাম লিখেছিলো। কিন্তু বুদ্ধরামটা দেবার সাহসই পায়নি। আজ ওই ভাবে না পেলে চিঠিটা হয়তো কখনো নিহাম ওকে দিতেই পারতো না। *** *** ==৬== আজ কলেজে শেষ দিন। ওদের বিদায়ী অনুষ্ঠান আজ। এরপর পরীক্ষা শেষে হয়তো সবাই দূরে চলে যাবে। যে যার মত করে নতুন জীবন শুরু করবে। তাই চারপাশে একটা আবেগঘন মুহুর্ত চলছে। এসব থেকে একটু দূরে দাড়িয়ে আছে নিহাম। নির্জনে একা দাড়িয়ে হৃদিতাকে মনের কথা বলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আজ সে বলবেই,, কারন আজকের পর ভাগ্য তাকে আর সুযোগ নাও দিতে পারে। ,,, এদিকে হৃদিতা নিহামকে খুঁজছে। আজও যদি নিহাম ভালোবাসার কথাটা না বলতে পারে, তবে তাকেই বাধ্য হয়ে বলতে হবে। হৃদিতা তার ভালোবাসাকে হারাতে চায় না। হঠাৎ দেখলো ক্যাম্পাসের পুকুর পাড়টাতে একা একা বসে আছে নিহাম। ওকে দেখেই ওর কাছে ছুটে গেলো হৃদিতা,,,, > নিহাম,,!! -- হায়, হৃদিতা, > কি করছো এখানে একা একা,?? -- কিছু না ,, এমনি বসে আছি > …………………. -- আমার পাশে একটু বসবে হৃদিতা,,?? > হুমম -- আজকের পর আমরা সবাই দূরে চলে যাবো,,তাই না?? > হুমম,, -- সবাইকে অনেক মিস করবো হঠাৎ দুজনের মাঝে নিশ্চুপ নিরবতা। যেনো কিছু বলতে যেয়েও বলতে পারছে না। হঠাৎ সময়টা থমকে গেছে,, থমকে গেছে তারাও।। ,,,,হৃদিতা মনে মনে বলছে,,“ প্লিজ নিহাম,! আজ চুপ করে থেকো না,, একটিবার তোমার মনের কথাটা বলো। প্লিজ নিহাম, প্লিজ!” ,,,,হঠাৎ নিরবতা ভেঙে অত্যন্ত দৃঢ় কন্ঠে নিহাম বলে উঠলো,,“আমি তোমাকে ভালোবাসি হৃদিতা” ,,,, এই অতি কাঙ্খিত কথাটা শুনে হঠাৎ চমকে উঠলো হৃদিতা। কারন সে ধরেই নিয়েছিলো যে নিহাম ভালোবাসার কথা বলতেই পারবে না। কিন্তু এখন সে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে নিহামের দিকে। তার বিশ্বাসই হচ্ছে না যে নিহাম ওকে প্রপোজ করছে!! -- আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি হৃদিতা। যেদিন প্রথম তোমাকে দেখেছিলাম সেদিনই তোমার প্রেমে পরে গিয়েছি। তোমার মাঝে এক অদৃশ্য মায়া আছে,, যা বার বার আমাকে তোমার কাছে টেনে নিয়ে আসে সেই মায়া থেকে বেরোবার সাধ্য আমার নেই হৃদিতা। আমি তোমাকে কখনই আমার ভালোবাসার কথাটা বলতে পারিনি,, কারন আমি খুব ভয় পেতাম,,যদি তুমি আমাকে ভুল বুঝো,, যদি আমাদের বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায়,,যদি তুমি আমার কাছ থেকে হারিয়ে যাও সেই ভয়ে। > তাহলে আজ কেনো বলছো?? -- কারন আজ না বললেও তোমাকে হয়তো হারিয়ে ফেলবো,!, এখন যদি তুমি আমার ভালোবাসা গ্রহন নাও করো অন্তত এটুকু সান্তনা থাকবে যে আমি চেষ্টা করেছিলাম তোমাকে পাবার,,!! ,,, হঠাৎ নিহাম লক্ষ্য করলো হৃদিতা কাঁদছে,, তার চোখের জল তার কাজলে ঘেরা পাপড়ি ভেদ করে নেমে আসছে,, ধীরে ধীরে কাজল লেপ্টে যাচ্ছে তার মুখে। -- তুমি কাঁদছো কেনো হৃদিতা,?? > তুমি বুঝো না আমি কেনো কাঁদছি,,?? এই কথাটা বলতে এতো দিন লাগে,,?? কতদিন অপেক্ষা করেছি তোমার মুখে এই কথাটা শুনবো বলে,,আর তুমি আজ বলতেছো,,!! কেনো এতদিন কষ্ট দিলা তুমি আমাকে,,?? -- তুমি সত্যিই আমাকে ভালোবাসো হৃদিতা,,?? > এই কথাটা কি এখন ক্লাস নিয়ে বোঝাতে হবে,,?? তুমি বুঝো না,,??,,আচ্ছা সত্যি করে বলতো,, তুমি কি সত্যিই বুঝতে না, যে আমিও তোমাকে ভালোবাসি,,?? -- আমার খুব ভয় হয় হৃদিতা > কিসের ভয়,,?? আমি বাঘ না ভাল্লুক,,? -- না তুমি আমার মায়াবতী > তাহলে কেনো কষ্ট দিলে এতোদিন আমায়,,??,,কথাটা বলেই নিহামকে জড়িয়ে ধরলো হৃদিতা,,ওর বুকে মুখ ঘষতে ঘষতে কাঁদতে লাগলো। -- আই এম সরি,,সোনা!!,,প্লিজ কেঁদো না,,আর কক্ষনো তোমায় কষ্ট দেবো না। জানো হৃদিতা,, আমার একটা স্বপ্ন আছে,, পড়া শেষ করে আমি ভালো একটা জব যোগাড় করবো,, তারপর আমরা বিয়ে করবো। ছোট্ট একটা ঘর হবে আমাদের। সেই ঘরটায় আর কিছু না থাক, ভালোবাসার অভাব হবে না। আমাদের কিউট দুটো ছেলেমেয়ে হবে,, ছোট্ট একটা সুখের সংসার হবে আমাদের। জীবনে বাকীটা পথ আমার দুজন একসাথে হাতে হাত রেখে পার করে দেবো। > ইসস,,!,,শখ কত,!!, প্রপোজ করার আগেই বিয়ে, সংসার, বাচ্চা কাচ্চা সব প্লান ঠিক করে রেখেছে,!!, কিন্তু এসব স্বপ্নই থেকে যাবে যদি এখন ঠিক মত প্রপোজ না করো। -- আরে এই মাত্রই তো বললাম যে তোমাকে ভালোবাসি,,!! > আমার বুদ্ধুরামটা,,!! এভাবে কেউ প্রপোজ করে,,??ফুলে নিয়ে এসে রোমান্টিকভাবে আমাকে প্রপোজ করবা,,,আমাকে এতোদিন কষ্ট দিছো এটা তার শাস্তি। আর যদি না করো তো ভালোবাসা ক্যান্সেল।। ,,,আর দেরি না করেই নিহাম ফুল খুঁজতে চলে গেলো। কিছুক্ষন পর কতগুলো ঘাস ফুল নিয়ে এসে হৃদিতার সামনে হাটু গেড়ে বসে পরলো। > এগুলো কি,,?? -- ঘাসফুল > ঘাসফুল কেনো আনলা?? -- আশেপাশে ভালো কোনো ফুল পাইনি, তাই বাধ্য হয়ে ঘাস ফুল আনতে হলো,, প্লিজ সোনা আজকের মত এই ফুলগুলো নাও,, কাল তোমাকে অনেকগুলো গোলাপ এনে দেবো। > হি হি হি,,!!,, এখন কি শুধু এভাবে বসে থাকবা নাকি প্রপোজটাও করবা,,?? -- ওকে ওকে,,!!,, হৃদিতা আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি,, প্রথম যেদিন তোমাকে দেখেছি সেদিনই বুঝেছি তুমি আমার সেই মায়াবতী যার মায়ায় জরিয়ে আমি আমার সারাটাজীবন পার করে দিতে চাই। তোমার কাজল কালো চোখ, তোমার মেঘ ঘন চুল, অপূর্ব মুখ, নিজেকে ভুলিয়ে দেয়ার তোমার মুক্ত ঝড়ানো হাসি,, তোমার খুনসুটি, তোমার শাসন, আমি এর সব কিছুর প্রেমে পরেছি। আমি জানি না অপ্সরীরা দেখতে কেমন হয়,, কিন্তু আমার কাছে তুমিই আমার অপ্সরী,, তুমিই আমার মায়াবতী।। I Love You হৃদিতা।। > হয়েছে হয়েছে,, আর বলতে হবে না,, I Love You too আমার বুদ্ধুরামটা।। আর শোন আজ থেকে ঘাসফুল আমার সবচেয়ে প্রিয় ফুল,, প্রতিদিন আমাকে বলতে হবে,!! বলবা তো?? -- হ্যাগো আমার মায়াবতী,, তুমি যা বলবা তাই হবে।। *** *** “একটু দেরিতে হলেও দুজন দুজনকে তাদের মনের কথা বলতে পেরেছে,, সেটাই সার্থকতা।। আজ থেকে তাদের নতুন পথ চলা শুরু একে অপরের সাথী হয়ে বাকিটা জীবন চলবে তারা। আসলে ওদের এই ভালোবাসার পথ চলাটা তো অনেক আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিলো। শুধু হাতে হাত রাখার অপেক্ষা ছিলো। দুজন ছেলে মেয়ে যখন তাদের মনের মাঝে একে অপরের জন্য ভালোবাসা অনুভব করে তখন সেটা প্রকাশ করতে না পারলেও তারা ভালোবাসার পথটাতে পাশাপাশি হাটতে শুরু করে।” ,,, ,,, ,,, লেখক: স্বপ্ন বিহঙ্গম(সিফাত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now