বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দূর থেকে মেয়েটি কে অসম্ভব সুন্দর লাগছে । গায়ে কালো বোরকা, মাথায় কারুকার্য বন্ধনী, পেছনে রক্তিম সূর্য । মনে হচ্ছিলো গ্রামের পথ ধরে কোন এক অপ্সরি হেঁটে আসছে । ফারুক কখনো এভাবে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকেনা তার বিবেক এবং চোখ বাধা দেয় কিন্তু আজ যেন কি হয়েছে, চোখ কিছুতেই নড়ছে না । কি এক দুর্বার আকর্ষণে দৃষ্টি আটকা পরে গেছে মেয়েটির অপরূপ সৌন্দর্যে ।
.
-- এই যে শুনছেন ?
.
মেয়েটির ডাকে কিছুটা বিব্রত ফারুক কারণ এতক্ষণ সে তার দিকেই তাকিয়ে ছিল ।
.
-- আমাকে বলছেন ?
.
-- হ্যা আপনাকেই বলছি, মেয়েদের দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে নেই, সেটা আপনি জানেন না ?
.
ফারুক এর উত্তরে কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না, নিজেকে চোর চোর মনে হচ্ছে ।
.
-- না মানে আপনি খুব,,,,
.
পুরো কথাটা ফারুক বলতে পারলো না, তার আগেই মেয়েটি মাথা নত করে হনহন করে চলে গেল । আর ফারুক তাকিয়ে থাকলো মেয়েটি অদৃশ্য হওয়ার আগ পর্যন্ত ।
.
ফারুকের মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে, তাই হোস্টেল থেকে সোজা বাড়িতে এসে পড়েছে । আর আসার পথেই বিপত্তিটা বাধলো । নিজেকে কিছুতেই ঘটনা থেকে প্রভাব মুক্ত করতে পারছে না যদিও সে ইসলামিক জীবন ব্যবস্থায় অভ্যস্ত । মুখে সামান্য চাপ দাড়ি । নিয়মিত নামাজ তার নিত্য সঙ্গী, আচার ব্যবহার চোখে পরার মতো । প্রেম ভালোবাসায় সে মোটেও বিশ্বাসী নয় । কিন্তু একি হলো তার, বারবার কেন মেয়েটি অবয়ব চোখে ভেসে উঠেছে ।
.
-- ফারুক বাপ আমার কি হয়েছে তোর ? বাড়িতে আসার পর থেকেই অন্যমনস্ক হয়ে বসে আছিস । কোন সমস্যা হয় নাই তো ?
.
-- না মা কোন সমস্যা হয় নাই, আমি ঠিক আছি ।
.
কিন্তু মা বলে কথা, সন্তানের সামান্য কিছুতেই তারা টের পেয়ে যায়, যেন মায়েদের অন্তর আর চোখ জোড়ায় বসানো হয়েছে অনুবীক্ষণ যন্ত্র । যা দিয়ে তারা সন্তানের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনুভূতি গুলো অনুভব করতে পারেন ।
.
খাওয়া দাওয়া শেষ করে সন্ধ্যা হওয়ার আগেই ফারুক গ্রামের পথ ধরে ঘুরতে বেড়িয়েছে যদিও নিষিদ্ধ মনের ভেতর একটা অভিসন্ধি উঁকি দিয়ে উঠছে । আর চোখ জোড়া খুঁজে ফিরছে একটি মায়াবি চোখের মেয়েকে । নাহ্ চোখে পরেনি মেয়েটি কে । কিন্তু আশ্চর্য মেয়েটি আসলো কোথা থেকে ? এর আগে তো সে এই মেয়েটি কে গ্রামের কোথাও দেখেনি !
.,,,
ঘুমটা ভালো হয়নি । ফজরের অনেক আগেই ঘুমটা ভেঙে গেছে ফারুকের তারপরও এপাশ ওপাশ করছিল । আযান দিতেই মসজিদের পথে রওনা দিয়েছে ফারুক । সকালের নামাজটা পড়লে মনটা কেমন যেন প্রফুল্ল হয়ে উঠে আর গ্রামের অপূর্ব সৌন্দর্য সেতো বাড়তি পাওনা ।
.
বাড়িতে অলস সময় কাটিয়ে সেই পথে আবার দাঁড়িয়ে আছে ফারুক । জীবনে তার দ্বারা যেটা হয়নি আজ কে যেন সেটা হতে চলেছে । সে একটি বোরকা পরা মেয়ের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে উত্তপ্ত শশীর কিরণ মাথায় নিয়ে । যদিও সে জানে গায়ে পরে কথা বলা তার দ্বারা হবে না তবুও অবাধ্য মন তাকে এখানে হাজির করেছে । তবে সে ভুলেই গেছে মেয়েটি আসতে আরো অনেক দেরি ।
.
ঐ তো মেয়েটি হেঁটে আসছে ঠিক আগের মতো অপূর্ব সৌন্দর্যে কালো বোরকা গায়ে জড়িয়ে । এবার কাছাকাছি আসতেই ফারুক চোখ নামিয়ে নিয়েছে কিন্তু আড় চোখে মেয়েটি ফারুক কে অবলোকন করছিল ।
.
-- আপনার সমস্যাটা কি বলুন তো !
গতকাল আমার দিকে এক পলকে তাকিয়ে ছিলেন আজও দেখছি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন । আপনার বেশ ভূষণ দেখে তো ভদ্র এবং ইসলামিক মাইন্ডের মনে হয় ।
.
-- না মানে আপনি খুব সুন্দর !
.
-- আমি জানি আমি সুন্দর তাই বলে কি একটা মেয়ের দিকে কেবলা কান্তের মতো তাকিয়ে থাকবেন ? আপনি জানেন না একজন বেগানা মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকা কতো বড় গুণা এবং গর্হিত কাজ ।
.
-- হ্যাঁ আমি সেটা জানি । আচ্ছা আর কখনো দাঁড়িয়ে থাকবো না । শুধুমাত্র আপনার এবং আপনার বাবার নামটা একটু বলে যান ।
.
মেয়েটা কি মনে করে যেন ফারুকের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে ছিল । আবার কিছু একটা রাগত স্বরে বলতে চেয়েছিল কিন্তু বললো না ।
.
-- আমার নাম রাবেয়া খাতুন, বাবার নাম জাকির মাস্টার । বাজারের পাশে যে প্রাইমারি স্কুলটা আছে সেখানকার শিক্ষক সে, যদিও বা খুব বেশি দিন হয়নি এখানে এসেছি আমরা, কিন্তু আপনি কে ?
.
-- জি আমার নাম ওমর ফারুক । আমরা এখানকার স্থানীয় । এবার মাস্টার্স শেষ করে বাড়িতে এসেছি যদিও বা ঢাকাতে চাকরি করার চিন্তা ভাবনা আছে ।
.
-- আচ্ছা ঠিক আছে ভালো থাকেন আর আশা করবো রাস্তায় দাঁড়িয়ে এভাবে মেয়েদের দিকে বোকার মতো তাকিয়ে থাকবেন না
.
-- সেটা আর দরকার হবে না হয়তো, আমার প্লানেট আমি পেয়ে গেছি ।
.
-- ঠিক বুঝলাম না ।
.
-- বুঝতে হবে না, সময় হলে সব বুঝে যাবেন । এবার আপনি বাসায় ফিরতে পারেন ।
.
রাবেয়া বুঝতে পারেনি মুখে না বললেও সে বুঝে গেছে ফারুক নামের ছেলেটির অব্যক্ত মনের অনুভূতি । সে নিশ্চিত ছেলেটি তাকে খুব পছন্দ করেছে, হয়তো কিছুদিনের ভেতরেই বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবে তাদের বাড়িতে । যখন ছেলেটি তাকে জিজ্ঞেস করছিল শুধুমাত্র আপনার এবং আপনার বাবার নামটি বলে যান তখনই আঁচ করতে পেরেছিল ছেলেটির পরবর্তী অভিযান কি হতে পারে । আসলে ছেলেটিকেও তার ভালো লেগেছে তাই খুব সহজেই নিজের নাম এবং বাবার নাম বলে দিয়েছে । যদি পছন্দই না হতো তবে তার বাবার নাম কেন, নিজের নাম না বলেই একটা ধমক দিয়ে চলে আসতো ।
..
ফারুক সমস্ত খোঁজ নিয়ে জেনে গেছে তার বাবা এবং পারিবারিক অবস্থা সম্পর্কে যদিও বা মেয়েটির পরিবার তাদের থেকে অনেক গরিবই বলা যেতে পারে কিন্তু মেয়েটি সম্পর্কে কেউ কোন বিরুপ মন্তব্য করেনি । উল্টো প্রশংসাই করেছে বটে । কিন্তু সমস্যা হলো নিজের বিয়ের কথা বাবা মা কে বলবে কি করে । আর এখনোত চাকরি যোগাড় হয়নি কিন্তু মনে হয়না তার যোগ্যতা অনুসারে চাকরি পেতে সমস্যা হবে ।
.
মায়ের রুম থেকে কয়েকবার ফিরে এসেছে ফারুক কিন্তু কিছুতেই বলতে পারছিল না তার মনে জমে থাকা কথা গুলো । মা হয়তো বুঝতে পেরেছে ব্যাপারটা । তৃতীয়বার ফারুক মায়ের কাছে যেতেই মা জিজ্ঞেস করছে ফারুক কে ।
.
-- ফারুক বাবা কিছু বলবি ?
.
-- জি মা একটা কথা বলতে চাচ্ছিলাম তুমি যদি কিছু না মনে কর এবং অভয় দেও তবে বলতে পারি ।
.
-- আচ্ছা সমস্যা নেই বাবা নিশ্চিন্তে বলতে পারিস ।
.
-- মা গ্রামের একটি মেয়েকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে । মেয়েটি এবার ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছে । তার বাবা প্রাইমারি স্কুলের মাস্টার, যদিও বা তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয় কিন্তু মা আমি এতেই সন্তুষ্ট । আশা করি মেয়েটি কে দেখলে তোমার অবশ্যই পছন্দ হবে ।
.
-- কিন্তু দেখ বাবা, আমার কোন সমস্যা নেই, সমস্যা তোর বাবা কে নিয়ে, সে গ্রামের মাদবর । পূর্ব পুরুষ থেকেই তোদের বাপ দাদাদের অবস্থা ভালো এছাড়া তুই খুব ভালো ভাবেই তোর শিক্ষা জীবন শেষ করেছিস, আশা করা যায় খুব ভালো একটা চাকরিও পেয়ে যাবি কিন্তু কথা হলো সামান্য একজন স্কুল মাস্টারের মেয়েকে কি তোর বাবা মেনে নিবে ?
.
--'সামান্য বলছ কেন মা, শিক্ষকতা তো খুবই সম্মানিত একটি পেশা । মানুষ তৈরির কারিগর তারা । এছাড়া আমি তো আর মেয়ের বাবার কাছ থেকে যৌতুক নিচ্ছি না যে সেটা তারা দিতে আপারগ । আমি বিয়ে করতে চাচ্ছি একটি পরহেজগার মেয়েকে কোন সম্পত্তি কে নয় ।
.
-- হ্যা সম্পত্তি কে বিয়ে না করলেও আমাদের একটা বংশ মর্যাদা বা ঐতিহ্য আছে । আমি তোমাদের মা ছেলের সব কথাই শুনেছি । বাবা হিসেবে আমি এই বিয়েতে রাজি নই ।
.
-- বাবা আপনি একটু বোঝার চেষ্টা করেন । আপনি তো নিয়মিত নামাজ পড়েন । বাড়ির পাশে যে মসজিদটা সেটাও আপনার ওয়াকফাকৃত সম্পত্তির উপর নির্মিত । আপনার এবং মায়ের আদর্শে আমি বড় হয়েছি । আপনাকে জ্ঞান দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়, সেই সাহস কখনও হয়নি আর হবেও না । আমি শুধু বলতে চাচ্ছি বাবা, ইসলাম মানুষ কে মূল্যায়ণ করতে বলেছ সম্পত্তি কে নয় । আপনি কি চান না আমি একটি পরহেজগার মেয়েকে নিয়ে সংসার জীবন শুরু করি ?
আমি বুঝতে পারি আপনি হয়তো ভাবছেন সমাজে আপনি ছোট হয়ে যাবেন কিন্তু বাবা আপনি কি ভেবে দেখেছেন সমাজ কি ধর্ম থেকেও বড় ? আজ যদি আমি কোন ধনীর দুলালিকে বিয়ে করি, সে যদি বিপথগামী হয় বা আমার কথার অবাধ্য হয় তার জন্য কি আমি দোজগের আগুনে জ্বলবো না ? বাবা আপনি কি চান আপনার সন্তান তারা স্ত্রীর জন্য দোজখ কে আপন করে নিক ?
.
কথা গুলো শুনে ফারুকের বাবা নিশ্চুপ হয়ে গেলেন । কিছুক্ষণ পর কিছু একটা বলতে চেয়েছিল কিন্তু ফারুকের মা তাকে বাধা দিলেন ।
.
-- আপনি আর অমত করবেন না দয়া করে । একটি মাত্র সন্তান আমাদের । তার সুখেই আমাদের সুখ । তার ভালোতেই আমাদের ভালো ।
.
অবশেষে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ওমর ফারুক আর রাবেয়া খাতুনের বিয়ে হয়ে গেল ।
,
ফারুকের কেমন যেন ভয় করছে । ভয়টা অবশ্য প্রাপ্তির এবং আনন্দের । বারান্দায় পাতা চেয়ারের উপর বসে আছে ফারুক । জ্যোৎস্না ছড়িয়ে আছে উঠোন জুড়ে, তার কদাচিৎ আলো এসে ফারুকের হৃদয় কে উদ্বেলিত করছে । বাসর ঘরে বসে আছে তার প্রিয়সী । ভেতরে যেতে কেমন যেন সংকোচ বোধ হচ্ছে । যে মেয়েটি তার বাড়ি ফেরার পথে দাঁড়িয়ে থাকতে না করেছিল আবার বলেছিল পর নারীর দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে নেই । সেই মেয়েটির মুখোমুখি হতে তার কেমন যেন লজ্জা করছে যদিও বা ধর্ম মতে মেয়েটি তার অর্ধাঙ্গিনী ।
.
নাহ্ অনেক সময় হয়ে গেছে মেয়েটি একা একা বসে আছে । এবার ভেতরে যাওয় প্রয়োজন ।
.
ফারুক খুব আস্তে দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পায়, রাবেয়া জানালার পাশে বসে আছে । চাঁদের আলোয় তার পবিত্র মুখ খানি মায়াবি এক আবেশ ছড়াচ্ছে । দরজার কপাট পুনরায় লাগাতেই রাবেয়া চমকিত হয়ে ফারুকের দিকে তাকিয়ে আবার ঘুমটা টেনে বসে পরে ।
.
ফারুক এখন বসে আছে রাবেয়ার ঠিক পাশেই । কি দিয়ে ফারুক কথা শুরু করবে ঠিক বুঝতে পারছে না ।
.
-- এখন কি আমি আমার স্ত্রীর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারি ।
.
-- হ্যা পারেন কিন্তু আমাকে স্পর্শ করতে পারবেন না যে পর্যন্ত না আপনি আমার মহোরানার দাবী আদায় করেন ।
.
-- সেটা আমি জানি রাবেয়া । যদিও আমি এই মুহুর্তে বেকার আমার হাতে টাকা পয়সা নেই কিন্তু তোমার মোহরানার টাকা আমি ঠিকই জোগাড় করেছি এবং সেটা আমার সাথেই আছেন । অনুগ্রহ করে এগুলো তোমার কাছে রেখে দিলে আমি খুশি হবো ।
.
-- মা শা আল্লাহ আপনি আদর্শ স্বামী বটে । আপনি মোহরানার টাকা নিয়ে বাসর ঘরে প্রবেশ করেছেন এটা বর্তমান প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা শুনলে অবাক হয়ে যাবে অথচ এটাই ইসলামের নিয়ম । স্ত্রী কে কাছে নেওয়ার আগে তার হক পূরণ করতে হয় । আমি অনেক খুশি হয়েছি, আপনি আপনার দায়িত্ব ঠিক ভাবে পালন করেছেন । টাকা গুলো আপনার কাছেই রাখুন । কখনো যদি প্রয়োজন হয় আমি আপনার কাছ থেকে চেয়ে নিব ।
.
-- তোমার ব্যবহারে আমি খুশি হয়েছি রাবেয়া । আমার মনে হয় না সাংসারিক ব্যাপার গুলো তোমাকে বুঝিয়ে বলতে হবে । আমি জানি তুমি খুব বুদ্ধিমত্তার সাথে সব কিছু মানিয়ে নিতে পারবে । তবে একটা কথা তোমাকে আগেই বলে দেই, অবশ্যই কষ্ট নিও না । আমার বাবা এই বিয়েতে মূলত রাজি ছিল না, সেটা অবশ্য সামাজিক বৈষম্যের কারণে । তবে আমি তাকে ভালো ভাবেই বুঝাতে সক্ষম হয়েছি মানুষ কখনোই তার পারিপার্শ্বিক অবস্থানের জন্য ছোট বড় হয় না । ছোট বড় হয় তার চারিত্রিক গুণাবলির জন্য আর আমি আশা করবো তোমার চারিত্রিক গুণাবলি দিয়ে অন্তত আমার বাবার মন তুমি জয় করবে । তবে আমার মা তোমার জন্য কোন সমস্যা হবে না । সেও তোমার মতো পরহেজগার এবং বুঝদার মহিলা । সামান্য সেবা যত্নেই তার মন তুমি পেতে সক্ষম ।
.
-- জি আপনার কথা গুলো অবশ্যই আমার মনে থাকবে । আমার জন্য শুধু একটু দোয়া করবেন আমি যেন ধৈর্য সহকারে আপনার দেওয়া দায়িত্ব গুলো সঠিক ভাবে পালন করতে পারি ।
.
-- কিন্তু আমি কি এবার আমার দায়িত্ব গুলো এখন পালন করতে পারি জনাবা ?
.
-- কি জানি আমি জানি না ।
.
কথাটা বলে লজ্জায় লাল হয়ে গেল রাবেয়া । আর এভাবেই সূচনা হলো তাদের সাংসারিক নতুন জীবনের ।
,,,
চার মাস পর,,,,
.
-- বৌমা আমার ওজুর পানিটা দিয়ে যাও তো
.
-- সেতো অনেক আগেই দিয়ে রেখেছি বাবা ।
.
-- আমার জায়নামাজটা ধুয়ে দিতে বলেছিলাম, ধুয়েছ ?
.
-- হ্যা বাবা সেটাও ধুয়ে শুকিয়ে আপনার খাটের উপর রেখে এসেছি ।
.
-- এই তো আমার লক্ষ্মী বৌ মা । তো খবর পেলাম ফারুক নাকি আজ বাড়ি আসছে ।
.
-- জি বাবা ফোন করেছিল, বিকেল হয়ে যাবে আসতে ।
.
-- একটা কাজ করলে ভালো হয় বৌ মা, তুমি বরং ফারুকের সাথে ঢাকা চলে যাও । ও যখন ওখানে চাকরি করছে, তোমারও ওর সাথে থাকা উচিত ।
.
-- আপনার কি মাথা খারাপ হয়েছে বাবা । আপনাদের ছেড়ে আমি ওনার সাথে ঢাকা পরে থাকবো ! আপনাদের দেখা শোনা করবে কে ! এবার আসুক আপনার ছেলে, সোজা সাপটা তাকে বলে দিব । এখানকার জেলা শহরে কোথাও চাকরি নিতে । দরকার নেই আমাদের এতো টাকার । এতো টাকা দিয়ে কি হয় ।
.
-- হ্যা ঠিকই বলেছ বউ মা আমার কি কম আছে নাকি । সংসার ছেড়ে ঢাকা পরে থাকতে হবে কেন ? সত্যি সত্যি ওকে এবার বাড়িতে আসলে বন্দি করে রাখবো ।
.
হ্যা সত্যি তাই হয়েছিলো । ফারুক আর ঢাকা ফিরে যেতে পারেনি । লক্ষ্মী বউয়ের আব্দার আর বাবার আদেশ উপেক্ষা করা খুব সহজ ছিল না । কিন্তু ফারুক আশ্চর্য হয়ে যায় তার এতো রাগী বাবা কে সে মেনেজ করলো কিভাবে ! যে বাবা কিনা তাকে এই বাড়ির বউ করতেই অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, সেই বোরকা পরা মেয়েটি আজ সংসারের মধ্য মনি ভাবতেই অবাক লাগে !! আসলে একজন পরহেজগার ভালো মেয়েই পারে নিজের স্বার্থ কে জলাঞ্জলি দিয়ে সবাই কে নিয়ে সুখে থাকতে ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now