বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রসিক গোপালে পুরস্কারের ভাগ দেওয়ার কেরামতির একটি মজার কাহিনী এবার শোনা যাক্
একবার মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র, সভাসদ ও আত্মীয় স্বজন পরিবার বর্গ নিয়ে তাঁর বাগানবাড়িতে আনন্দ-ভোজের বন্দোবস্ত করেছিলেন।
মহারাজের ইচ্ছায় সেখানে আজ সারাদিন আমোদ প্রমোদ হবে। রাজা সকলকে নিয়ে খুব সকলেই যাত্রা করলেন। গোপালকেও সঙ্গে আসতে বলেছিলেন, গোপাল বৌ-এর মুখের জন্য বাজার করে না দিয়ে যেতে পারে না। যেদিন বাজার না করে দিয়ে যায়, সেদিন বাড়িতে খুব অশান্তি হয়। একথা সোজাসুজি না বলে মজা করার জন্যে মহারাজকে বলল, ‘আমার একটু ইয়ে... কোন ব্যাপার নয়, আমি পরে আসছি মহারাজ! আপনারা সব আগে যান। আমি পৌছাব সামান্য বিলম্বে। আমার জন্য আপনাদেরকে চিন্তা ভাবনা করতে হবে না।’
গোপাল সঙ্গে এলা না, এতে রাজা মনে মনে খুব রেগে গেলেন। তাকে জব্দ করবার জন্যে বাগানবাড়িতে পৌছেই দারোয়ানকে হুকুম দিলেন- ‘গোপাল এলে তাকে একটু ভুগিয়ে নিয়ে তারপর ভেতরে ঢোকাবে। একথা যেন মনে থাকে—বার বার বললেন দারোয়ানকে, যেন তার ভুল না হয়। প্রথমে বলবে ‘ যারা পরে আসবে, তাদের ভেতরে আজ ঢোকার হুকুম নেই।’ এই বলে মহারাজ হুকুম দিয়ে ভিতরে চলে গেলেন।
গোপাল খানিকক্ষণ পরে এল। তখন দারোয়ান পথ ছাড়ে না কোনমতেই। দারোয়ান বলে ‘মহারাজের হুকুম, যে দেরীতে আসবে তার আজ ভেতরে যাবার কোন উপায় নেই, অতএব আপনি ফিরে যান তাছাড়া আমি কিছু করতে পারব না।’
গোপাল বুঝলে, তাকে জব্দ করার জন্যে রাজার এ একটা কৌশল। সে দারোয়ানকে অনেক খোসামোদ করে শেষে বললে, ‘তুমি বেশ ভালোভাবেই জানো আমি রোজই মহারাজের কাছে থেকে কিছু না কিছু পুরষ্কার পেয়ে থাকি। তোমায় কথা দিচ্ছি আজ যা পুরষ্কার পাবো অবশ্য তার অর্ধেক তোমার জন্য।’ দারোয়ান ভাবলো, মহারাজ তো গোপালকে ভিতরে যেতে একেবারে বারণ করেন নাই। তবে এ-সুযোগটা হারাই কেন? অর্ধেক পরস্কারও পাওয়া যাবে। এদিকে গোপালকে েহাতেও রাখাও যাবে। কারণ বিপদে আপদে গোপাল রক্ষা করে বুদ্ধি দিয়ে। গোপালের বুদ্ধি না নিলে চাকরী বজায় রাখাও বিষণ দায়। তখন পুরষ্কারের লোভে, দারোয়ান মনে মনে ভাবল মহারাজ গোপালকে ভিতরে ঢুকতে দিতে পারণ করেন নি। একটু শুধু ভোগাতেই বলেছিলেন মাত্র। তবে গোপালকে যেতে দিলেই আর দোষ ক!ি যেহেতু গোপাল রাজার প্রিয় পাত্র।
গোপাল ভিতরে ঢুকেই হৈ চৈ গোলমাল শুরু করে দিলে। এক গালি দেয়, ওকে মারতে যায়, ওকে টেলে ফেলে দেয়, তুলকালামকান্ড! মাহারাজ বিরক্ত হয়ে বললে, ‘কি আরম্ভ করেছো গোপাল! একে তো দেরি করে সকলের পরে, এসেই অত মেজাজ দেখাচ্ছ কেন, চুপ করে থাক।
গোপাল মতলব করেই এসেছে গোলযোগ বাধাবার। সে রাজাকেও খাতির করে না করে, সোজা জবার দিলে ‘গোপাল সব সময় এরকম মেজাজ দেখিয়ে তাকে মহারাজ আপনার যদি পছন্দ না হয় সোজাসুজি বলুন গোপাল এক্ষণি চলে যাচ্ছে আপনার মুলুক ছেড়ে ভিন্ দেশে।
যত বড় মুখ নয়, তত বড় কথা? রাজার মুখের ওপর এত বড় অপমান? রাজা রেগে গেলেন ভয়ানক। হুকুম দিলেন--“এক্ষুণি একশোবার কান ধরে উঠতে বসতে হবে সবার সামনে এবং দশটাকা জরিমানাও দিতে হবে।’
গোপাল অমনি এক, দুই, তিন--খুব জোরে জোরে আওড়াতে আওড়াতে কান ধরে আর এ-ওর মুখপানে চাইতে লাগলো। হঠাৎ গোপাল কান ধরে উঠা বসা বন্ধ করে বলে ‘এই আমি পঞ্চাশবার উঠেছি বসেছি মহারাজ! এই নিন পাঁচ টাকা। আমার আজকের পুরস্কারের একজন অংশীদার আছে বাকী পঞ্চাশবার ও ৫ টাকা জরিমানা তার পাওনা মহারাজ।’
পুরস্কারের অংশীদার? রাজা অবাক হয়ে ব্যাপার জানতে চাইলেন। গোপাল তখন দারোয়ানের কথা প্রকাশ করে বললে, অর্ধেক পুরস্কার কবুল না হওয়া পর্যন্ত দারোয়ান আমাকে কিছুতেই ভিতরে ঢুকতে দেয়নি। রাজা একথা শুনে রেগে উঠলেন। গোপালকে ভোগাবার কথাই তিনি দারোয়ানকে বলেছিলেন। তার কাছে ঘুস নিতে তো তিনি বলে দেননি। সঙ্গে সঙ্গে দারোয়ানকে ডাকা হলো এবয় গোপাল পঞ্চাশবার নিজে নিজেই কান ধরে উঠেছিল বসেছিল কিন্তু দারোয়ানের কান ধরে উঠবার বসবার জন্য বাগদী পাইকদের ডাক পড়লো গোপালের ফন্দীতে, তারা একে একে কান ধরে উঠাবার বসাবার জন্য কান প্রায় ছিঁড়ে গেল কান এমন জ্বালা করতে লাগল যে, যেন প্রাণ যায় এবং ৫ টাকাও জরিমানাও দিতে হল।
‘গোপালের কান্ড দেখে রাজা রাগ ভুলে গিয়ে হেসেই উত্তর দিলেন ধন্যি, গোপাল!’ গোপালও হেসে তার দেরীর কারন সব খুলে বলল। তার বৌ এমন দজ্জাল যে, তার কথঅ শুনতেই হবে।
মহারাজ তখন সন্তুষ্ট চিত্তে গোপালকে ১০০ টাকা পুরস্কার দিলেন। এদিকে দারোয়ান মনে মনে ভাবছে কার মুখ দেখেই যে উঠেছিলাম কানকে- কান গেল আবার আমার নগদ পাঁচটা টাকাও গেল। ধন্যি গোপাল ধন্যি! আর কোনদিন এ ভুল করব না। সারা জীবন যতদিন বাঁচব আমার এ কথা মনে থাকবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now