বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সিন্ড্রেলা (২০১৭ ভার্সন)
...
এক দেশে এক মেয়ে ছিল, নাম ছিল সিন্ড্রেলা। মেয়েটা
দেখতে খুবইইই সুন্দর ছিল। কিন্তু তার মনে খুব দুঃখ। সে
থাকতো তার সৎ মা আর দুই সৎ বোন এনাস্তেশিয়া আর ড্রিজেলার
সাথে। সেই দুই বোনেরই ফেসবুক আইডি ছিল, 'এঞ্জেল
এনাস্তেশিয়া' আর 'ডার্লিং ড্রিজেলা' নামে। তাদের দুইজনেরই
আইফোন ছিল এদিকে সিন্ড্রেলার ফেসবুক আইডি তো দূরে
থাক, একটা স্মার্টফোন পর্যন্ত ছিল না। সে নোকিয়া ১১০০ ব্যবহার
করতো।
সারাদিন সে সৎ মা আর বোনদের সব কাজ করে দিতো। সৎ
বোনদের সুন্দর সুন্দর ছবি তুলে দিতো, আবার এডিটও করে
দিতো। সিন্ড্রেলার এডিটের কারণে দুই পেত্নীর মত চেহারার
বোনও হয়ে উঠেছিল ছেলেদের ক্রাশ! *_*
.
একদিন সেই দেশের রাজা লাইভে আসলেন। পাশে ছিল তার
একমাত্র ছেলে, রাজপুত্র চার্লস! (ফেসবুকে প্রিন্স চার্লস!)
রাজা আংকেল ঘোষণা দিলেন , তার ছেলের বিয়ে দেওয়া
হবে। তাই আগামী পরশু দিনের তিন দিন পরের রাতে রাজপুত্র
চার্লস মেসেঞ্জারে বসবেন। আগ্রহী ফলোয়ার মেয়েরা
যেন প্রিন্সকে নক দেয়। প্রিন্স কথা বলে পছন্দ করবেন।
দিন ঘনিয়ে আসে। দেশের মেয়েদের সাজ সাজ রব। সবাই
ডিএসএলারে তোলা সুন্দর সুন্দর প্রোফাইল পিকচার, কভার
ফোটো দিতে লাগলো।
এদিকে সিন্ড্রেলার দুই বোনও প্রোফেশনাল ফটোগ্রাফার
দিয়ে ছবি তুলিয়ে নিচ্ছিলো। কিন্তু সব মেয়েদের মধ্যে শুধু
সিন্ড্রেলাই ছিল বাদ। তারও ইচ্ছা করছিল সবার মত সেও রাজপুত্রের
সাথে কথা বলে। কিন্তু সেটা তো সম্ভব না! সে মন খারাপ
করতে লাগলো। এভাবেই প্রিন্স চার্লসের অনলাইনে আসার
ঠিক আগের রাতে সিন্ড্রেলার কান্না পেয়ে গেল। কেন সে
অন্য সব মেয়েদের মত হতে পারলো না?
সে ছাদে বসে কাঁদতে লাগলো। তখন ছাদের উপর দিয়ে
উড়ে যাচ্ছিল একটা পরী। সিন্ড্রেলার কান্না শুনে সে লাফ দিয়ে
ছাদে নেমে এলো। তারপর সিন্ড্রেলার দিকে ড্যাব ড্যাব
করে তাকিয়ে বললো, "তুমি কাঁদছো কেন?"
সিন্ড্রেলা অবাক হয়ে পরীকে দেখলো। তার মনে হলো
পরী মেয়েটা বেশ ভালই। তাকে সব খুলে বলা যায়। সে
পরীকে সব দুঃখ-কষ্টের কথা খুলে বললো। পরী বললো,
'আরেহ এই ব্যাপার? চিন্তা কোরো না, কাল রাতে প্রিন্স চ্যাটে
বসার আগেই ম্যাজিক হবে। সারা রাতের জন্য তোমার নোকিয়া
১১০০ আইফোন ৭ হয়ে যাবে। তবে মনে রেখো, চারটা
বাজার সাথে সাথে আবার আইফোন ৭ নোকিয়া হয়ে যাবে।'
পরী তাকে একটা কাগজ দিলো, বললো 'কাল খুলবা'। এরপর
পরী চলে গেল। যাওয়ার আগে অবশ্য দুজন ডাক ফেসে
সেল্ফিও তুললো।
প্রিন্স চার্লসের চ্যাটে আসার কথা রাত বারোটায়। মেয়েরা সবাই
দুপুর বারটা থেকেই স্মার্টফোন হাতে অপেক্ষা করছে।
এদিকে সিন্ড্রেলা একা নিজের ঘরে বসে আছে। পরীর কথা
ঠিক হবে তো?
ধীরে ধীরে রাত নেমে আসলো। সব মেয়েরা
সেজেগুজে বসলো, প্রিন্স যদি পছন্দ করে বাই চান্স ভিডিও
কল দেন!
বারটা বাজার ঠিক পাঁচ মিনিট আগে আসলেই সিন্ড্রেলার নোকিয়া
১১০০ টি আইফোন ৭ হয়ে গেল। সে বোনদের দেখে
ফেসবুক কিছুটা বুঝতো। তাই ফেসবুক অ্যাপ ওপেন করলো।
ওমা, ওপেন করতেই দেখে তার একটা আইডি খোলা আছে!
নাম 'নাইট বিউটি' , প্রোফাইল পিকচারে নেই। সে তাড়াতাড়ি
যেভাবে ছিল সেভাবেই দুইটা সেল্ফি তুলে একটা প্রোফাইল
পিকচার দিল আর আরেকটা কভার। তার আগে অবশ্য মা আর
বোনদের ব্লক করে দিল!
প্রিন্স যথা সময়ে অনলাইনে আসলেন। মেয়েরা একে একে
তাকে মেসেজ দিতে থাকলো। সিন্ড্রেলার ভয়ে বুক
কাঁপছে। সে সাহসই করতে পারছে না! মেসেঞ্জারে
প্রিন্সের ইনবক্স ওপেন করে বসে আছে। হঠাৎ করেই ভুল
করে চাপ লেগে প্রিন্সের কাছে 'লাইক' চলে গেল।
সিন্ড্রেলা আরো ভয় পেয়ে গেল। সিন্ড্রেলার মেসেজটি
সীন হলো তিন মিনিট পর, রিপ্লায়ও সাথে সাথে।
'Like keno?'
'Sorry prince...vul kore '
'Oh accha'
'maf korben '
কিছুক্ষণ পর রিপ্লায় এলো,
'na thik ache, apnar id ta ektu alada, natural pro pic...apni emni
tey onek sundor'
...
সিন্ড্রেলা আর প্রিন্সের কথা চলতে থাকলো
এক সময় প্রিন্স ভিডিও কল দিলেন। সারা রাত কথা হলো সিন্ড্রেলার
সাথে। এক সময় সিন্ড্রেলা খেয়াল করলো, চারটা বাজতে আর
মাত্র দুই মিনিট বাকি। সে তাড়াতাড়ি কল কেটে দিলো। তারপর
প্রিন্সকে 'বাই' বলে তাড়াতাড়ি ডাটা অফ করে দিল। সাথে সাথেই
আইফোনটি আবার নোকিয়া ১১০০ হয়ে গেল।
এদিকে হুট করে যাওয়ায় প্রিন্সও অবাক। তিনি দেখলেন,
সিন্ড্রেলা যাওয়ার সাথে সাথে তার আইডিও ডিএক্টিভ হয়ে গেল।
এবং এরপর খেয়াল করলেন, এতক্ষণ যে মেয়েটার সাথে কথা
হলো তার নামই তার শোনা হয় নি। ছবিও সেভ করা হয় নি। :'/
তার মন খারাপ হলো।
এদিকে সিন্ড্রেলারও মন খারাপ হচ্ছিল। তার মনে পড়লো পরীর
দেওয়া কাগজের কথা। সেটা খুলে দেখে সেখানে তার
ইমেল আর পাস দেওয়া। সে এটা আর কি করবে!
পরদিন প্রিন্সের আইডি থেকে স্ট্যাটাস দেওয়া হলো, যে
মেয়ে ইমেল আর পাস দিয়ে 'নাইট বিউটি' আইডিটা এক্টিভ করতে
পারবে, তাকেই প্রিন্স বিয়ে করবেন। রাজার লোকেরা বাড়ি বাড়ি
যেয়ে সব মেয়েকে সুযোগ দিচ্ছিল। সিন্ড্রেলাদের বাসায়
আসার পর তার দুই বোনও সুযোগ পেল। তারা সিন্ড্রেলাকে
সুযোগ দিতে চাচ্ছিল না, তাও সে সুযোগ পেল এবং ইমেল -
পাস দিয়ে আইডিটা ওপেন করতে পারলো!
এরপর সিন্ড্রেলার সাথে প্রিন্সের বিয়ে হয়ে গেল। তারা
সুখে-শান্তিতে বাস করতে লাগলো।
...
এর অনেকদিন পর সিন্ড্রেলা ওই পরীটার আইডি খুঁজে পেল।
তাকে থ্যাংক্স দিতে যেয়ে তার আইডিতে দেখে তাদের
সেল্ফিটা। ক্যাপশন, 'অসহায় মানুষ জাতির পাশে দাঁড়ান!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now