বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জোম্বি ভুতের পাল্লায়
পর্ব-১
মো মেহেদী
আমি আজ আমার জীবনের এমন একটি
ঘটনা লিখতে বসেছি যা অনেকেই
বিশ্বাস করবে না।কিন্তু আমি
ঘটনাটিকে বিশ্বাসের ঊর্ধ্বে আর
কিছু থাকলে তা করতে বাধ্য।কারন
আমি ভুক্ত ভোগী।
সিলেট থেকে ট্রেনে করে ফিরছিলাম
ঢাকায়।প্রায় অনেকদিন ছিলাম
মামার বাড়ি।এখন বাড়ি ফিরছি।
যে ট্রেনটিতে উঠেছিলাম তার নাম
উপবন এক্সপ্রেস।ট্রেন ছেড়েছিল রাত
দশটায়।ঠিক সময়েই ছেড়েছে।
আমি ট্রেনের জানলার পাশে বসতে
চেয়েছিলাম।কোনোক্রমে তা সম্ভব হয়
নি।আমার পাশে একটি পরিবার
বসেছিল।তাদের সাথে ছোট্ট একটি
মেয়ে ছিল।তুলতুলে গাল আর মায়াবী
চোখ।সবার দিকে কেমন করে যেন
তাকাচ্ছিল।আমার দিকেও তাকাচ্ছিল।
কিন্তু আমিই তাকে চমকে দিলাম।যখন
আমার দিকে পিচ্চি মেয়েটি তাকায়
তখন আমিও তার দিকে হাসি মুখে
তাকিয়ে থাকলাম।বাচ্চা মেয়ে!কেমন
যেন ইতস্ত বোধ করছে।
বাচ্চারা তো এমনি।অপরিচিতদের
দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে।কিন্তু
তাদের দিকে কোনো অপরিচিত মানুষ
তাকিয়ে থাকলে ঘাবড়ে যায়।
রাত ক্রমেই গভীর হচ্ছে।
রাত গড়িয়ে প্রায়ই মধ্যরাত।আড়াইটা
বাজে।তবুও আমি সজাগ।আর আমি তো
এমনিতেও রাতে কম ঘুমাই।সেটা
ট্রেন হোক আর বাড়িতে হোক।
মামা আমাকে একটি নতুন স্মার্টফোন
উপহার দিয়েছিল।তিনি মোবাইলের
বক্স বাড়িতে পৌঁছে খুলতে
বলেছিলেন।কিন্তু আমি পারলাম না
তার কথা মানতে।মনের সাথে যুদ্ধ
করেও হেরে গেলাম।মাঝরাতে আমার
কাঁধ ব্যাগ থেকে মোবাইলের
প্যাকেটটি বের করলাম।পূর্বে এ
মোবাইল সম্পর্কে অনেক শুনেছি।
আমাদেরই পণ্য ওয়ালটন।মোবাইলের
মডেল -X4।
মামার কাছ থেকে এত দামি মোবাইল
কখনো আশা করি নি।কিন্তু পেয়ে
গেলাম।এখন পুরাতনটা বিক্রির জন্য
বিজ্ঞাপন দিতে হবে।
প্রায় রাত তিনটা।আমি মোবাইলটা
নিয়ে ঘাটাঘাটি করছিলাম।তুলতুলে
গালের পিচ্চি মেয়েটি তার বাবার
বুকের উপর মুখ থুবড়ে ঘুমিয়ে আছে।কি
সুন্দর দেখায় শিশুদের ঘুমিয়ে
থাকলে।আমি আমার নতুন মোবাইল
দিয়ে তাদের কয়েকটি ছবি তুলি।
ছবিগুলো রেখে দিলাম ফেসবুকে
স্ট্যাটাস দিব বলে।তার ক্যাপশন
হবে-"সময় যদি কোনো সুতো হতো
তাহলে তাকে উল্টো দিকে টান
দিতাম,যাতে এরকম সময়ে ফিরে
যেতে পারি।বাবার বুকে মুখ থুবড়ে
ঘুমিয়ে পড়তাম।"
কিছুক্ষণ পর সেলফি তোলার জন্য
মনস্থির করলাম।যদিও আমার সেলফি-
কুলফি কিছুই ভালো লাগে না।তবুও
,সবাই করে বলে নিজের মধ্যে অনর্থক
ইচ্ছা দাঁড় করাই।আর এখন তো আমি
একা।কয়েকটা সেলফি তুললে বোধ হয়
একাকিত্ব দূর হবে।যেই কথা সেই
কাজ।
মুখকে অদ্ভুত রকমের বিকৃত করে অনেক
ছবি তুলে ফেলেছি।নিজেরই যেন
লজ্জা লাগছে।দুস্টু বন্ধুদের কাছে
ব্ল্যাকমেইলের স্বীকার হওয়ার জন্য
ছবিগুলোই যথেষ্ট।
পুনরায় সেলফি তুলছিলাম।হঠাৎ আমার
মোবাইলের পর্দায় আমার পিছনে
একজন লোককে দেখলাম।
আরে আজব!সবাই তো শুয়ে আছে।কেউ
কেউ বসে আছে।এই লোক হঠাৎ আমার
পিছনে কি করছে?কিছু বলবে নাকি।
পিছনে ফিরলাম।পরক্ষনেই থমকে
গেলাম।কেউ নেই।আবার মোবাইলের
সেলফি পর্দায় তাকালেও কাউকে
দেখলাম না।লোকটি মুহূর্তের মধ্যে
উধাও হয়ে গেল!
আমি ঘামছি।অসম্ভব রকমের ঘামছি।
মোবাইল দুটো আমার ব্যাগে ঢুকিয়ে
রেখেছি।কোনো ভয়ঙ্কর চোরের
পাল্লায় পড়ি নি তো?নাকি প্রেত
ছিল?
না,না।আমি প্রেতে বিশ্বাস করিনা।
লোকটা আমার পিছন থেকে মুহূর্তের
মধ্যে উধাও হয়ে যাবে কিভাবে?
মনের মধ্যে অনেক্ষন যুদ্ধ লেগেই
ছিল।শেষে মনকে স্বান্তনা দিলাম
যে,আমি হয়তো ভুল দেখেছি।নতুন
মোবাইলের আনন্দে একটু গোলমাল
দেখা তেমন কি আর?
তবুও মনের মধ্যে কেমন যেন কাটা
বিঁধে রইলো।এই কাটা যেন সরতেই
চাইছে না।
রাত চারটা।
আমি কোনো শব্দ করছি না।জড়সড় হয়ে
বসে আছি।ট্রেন চলার মৃদু শব্দও যেন
ভয়ংকর লাগছে।মনে মনে ভাবতে
লাগলাম,"কেন যে মামার কথা শুনি
নি!বাসে করে গেলে কি হতো?"
আশেপাশের অল্প কিছু মানুষের শব্দ
শুনতে পাচ্ছি।আশেপাশের বগিতে
যারা আছে তাদের অধিকাংশই ঘুম।দূর
থেকে ভেসে আসছে শিয়ালদের
চিৎকার।চিৎকারগুলো খুবই ভয়ংকর
ছিল।
ঝকঝক করে ট্রেন এগিয়ে চলল।আমিও
কিছুটা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম।বসে
বসেই ঝিমুতে লাগলাম।হঠাৎ যেন
মনে হলো,কেউ আমার সামনে দিয়ে
তীব্র বেগে ছুটে গেল।কিছু বুঝে উঠার
আগেই আমার সামনের সিটে বাবার
কোলে শুয়ে থাকা বাচ্চা মেয়েটি খুব
জোরে কেঁদে উঠলো।
আমি খুব ঘাবড়ে গেলাম।কিছু একটা
এইবার আমার সামনে দিয়ে দৌড়ে
গেল কিনা,এ বিষয়ে আমার কোনো
সন্দেহ নেই।আমার শরীরের লোমসব
দাঁড়িয়ে গেল।
অদ্ভুত তো!বাচ্চা মেয়েটার গালে
বরাবর তিনটি আঙুলের দাগ।কেউ
তাকে প্রচন্ডভাবে থাপ্পড় দিয়েছে।
আমার যেমন একদিকে ভয় লাগছিলো
তেমনি মেয়েটির প্রতি মায়া হতে
লাগলো।
এতো ছোট্ট মেয়েকে কেউ এতো জোরে
থাপ্পড় মারে।লাল রক্তবর্ণ হয়ে হয়ে
যায় তার গাল।
তার বাবা মা আমাকে সন্দেহ
করেছিল তবুও কিছুই বলল না।তারা
আমার দিকে এমনভাবে তাকিয়ে ছিল
যেন আমি ওকে থাপ্পড় মেরেছি।
মানুষগুলো ভালো তাই সন্দেহ করেই
আমাকে দোষারোপ করে নি।আর আমি তো
কোনো দোষও করি নি।
মেয়েটির চিৎকারে কামরায় ভিড়
জমে গিয়েছিল।কিছুক্ষন পর মা
বাবার তোষামোদে সে শান্ত হলো।
তারপর আবার কামরা খালি হয়ে এলো।
রাত সাড়ে চারটা।
এই সময়টাই ছিল আমার জীবনের
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সময়।পৃথিবীতে যা
নিয়ে ভাবা যায় না তা সেদিন আমি
বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছিলাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now