বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"এক পবিত্র প্রেম"
লেখা: তানভীর আহমেদ
.
গল্পের প্রয়োজনেই শুরুটা HSC এর পর থেকে, সৈকত সে সবে মাত্র HSC পরীক্ষা শেষ করেছে। সে অনেকটা বন্ধু প্রবন, সে এভাবেই বাঁচতে ভালোবাসে নিজের মতো করে। HSC পরীক্ষার পর,বন্ধুদের নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে যাওয়া ইচ্ছেটা ছিলো অনেক আগেরই। তবে এখন তা বাস্তবে রূপ দেয়ার সময়। অনেক কল্পনা জল্পনার পর একটা সময়ে কক্সবাজার যাওয়া হলো তাদের। ট্রিপটা ছিলো ৫ জনের। তারা সবাই উপভোগ করছিলো সময়গুলো কিন্ত একজন ছিলো একটু আলাদা সে বিজয় সে ফোনেই ব্যস্ত ছিলো নানান মেয়েদের সাথে। এটা অনেকটা শখই বলা চলে। কিন্ত তার এ ব্যাপারটায় সবাই বিরক্ত ছিলো। ঘুরাঘুরি৪ দিন শেষে বিজয় সৈকতের সাথে কথা বলার ছলে বলছিলো ভাই তুই এরকম কেন? অনেকটা আনরোমান্টিক? মেয়েদের সাথে কথা বলিস না? তোর মতো আমার একটা মেয়ে ফ্রেন্ড আছে নাম মুন্নি কথা বলবি? সৈকত বললো তবে কিভাবে? ফোনে বলতে পারিস! এ বলে বিজয় সৈকতকে সে মেয়েটার নাম্বার দিয়েছলো। নাম্বারটা সৈকত নিয়েছিলো ঠিকই তবে আগ্রহটা কমই ছিলো। এভাবেই নানান স্মৃতি নিয়েই তাদের টুরটা শেষ হলো।
.
কিছুদিন পর.. দিনটা ছিলো ৬ অক্টোবর, তখন সময়টা সকাল ৯ টা কেন জানি মুন্নিকে ফোন করেই ফেললো, কিন্ত প্রথম বারে ফোনটা রিসিভ হয়নি। তারপর দিনশেষে আরেকবার কথা বলার চেষ্টা। সেবারই প্রথম কথা তবে আড়াই মিনিট। কথাবলার শুরুটা এভাবেই, পরদিন সৈকত আবার ফোন দেয়ার আগ্রহ খুজে পেলো। কথাও হলো তাদের, সৈকত ব্যাপার গুলোতে ভালোলাগা খুজে পেলো। কয়েকদিন পর বিকেল বেলায় একা নির্জনে মুন্নির সাথে কথা আবার চেষ্টা। এবারো সফল সে। কথা হয়েছে ৪ মিনিট।
.
কদিন পর.. সময়টা ঈদের ছিলো। এবার ফোনটা মুন্নির থেকে এসেছে। তবে কথা হচ্ছিলো বিজয়ের ব্যাপারে কিন্ত এ ব্যাপারে সৈকতের বিরক্তি ছিলো। তার মনে একটা প্রশ্ন ছিলো.. তবে কি শুধু বিজয়ের জন্যেই কথা হচ্ছে তাদের। সেদিন বলতে গিয়েও অনেক কথা বলা হয়নি তার। এজন্যে অনেক অভিমান ছিলো। কিছুদিন কথা হয়নি তাদের...
.
কিছুদিন পর ভার্সিটি ভর্তির কারনে সৈকত ঢাকায় চলে আসে, তখন সে অনেকটা ছন্ন ছাড়া সাথে কোনো বন্ধুই নেই। এসময় টায় তার একজন বিশেষ মানুষের দরকার ছিলো, যে তাকে নিয়ে তার মতো করে ভাববে। একটু আলাদা ভাবে গুরুত্ত দিবে তাকে। সে চিন্তাভাবনা থেকেই একটু আলাদা ভাগে একটু নতুন করে আবার কথা বলা শুরু তাদের। এক ভালোলাগা ছিলো কথা বলায়। নিয়মিত কথা বলা শুরু সেখান থেকেই।
.
তবে কিছুটা ভয় ছিলো সৈকতের মনে। কথা গুলো সে গুছিয়ে উটতে পারছিলো না। সৈকত মুন্নির সাথে যতোই কথা বলছিলো ততোই বোঝাপড়া হয়ে উঠছিলো তাদের। কেমন জানি মুন্নির প্রতি সৈকতের অধিকার খাটাতে ইচ্ছে করছিলো। এভাবেই প্রায় ১৬ থেকে ১৭ দিন কথা হয়েছে তাদের।
.
সন্ধ্যা টা ছিলো কুয়াশাচ্ছন্ন.. সময়টা ১৭ই নভেম্বর ৫.৪৬ এর.. কথা হচ্ছিলো তাদের। তবে আজ সৈকতের কথাগুলো কেমন যেন গুছানো। দুজনেই খুব আগ্রহ নিয়ে অনেকক্ষন কথা বলেছিলো। তবে আজ সৈকতের মনে অনেকটা আনন্দ ছিলো। আগ্রহটা অনেকটা বেড়ে গেছে সৈকতের। তাই রাতেই ফোন দিয়েছিলো সে কিন্ত রাতে তাদের কখনই কথা হয়নি। সময়টা ১৯ নভেম্বর বিকাল ৪ টায় ফোন দিয়েছিলো সৈকত! কথা হচ্ছিলো কিন্ত হটাৎ তার করেই মনে হচ্ছিলো.. এভাবে আর কতদিন। কথাটা সে বলেই দিবে, কিন্ত আজকেও বলা হয়নি তার। তারপর ২১ নভেম্বর.. ঘুম থেকে উঠেই সৈকত মুন্নিকে ৩ বার ফোন দিলো.. কিন্ত একবারো ফোন রিসিভ হয় নি। তারপর সকাল ৮ টায় আবার ফোন দিলো সে.. আজ সে বলেই ফেললো কথাগুলো।
.
কথোপকথনটা এরকম ছিল
সৈকত: "তোমার কথাগুলোর সাথে আমার কথা গুলো অনেকটা মিলে যায়, তোমাকে ভাবতে খুব ভাল্লাগে, তাই তোমাকেই ভাবী সারাক্ষন, আর এভাবেই তোমাকে ভেবে বাঁচতে চাই আজীবন, তোমাকে বিশ্বাস করে বাকী পথটুকু এক সাথে চলতে চাই"
মুন্নি: এসবের মানে কী?
সৈকত: তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
মুন্নি: শুধু বন্ধু হিসেবেই থাকতে পারো।
সৈকত: আমি শুধু উত্তরে তোমার হ্যা জানতে চাই
এভাবেই চলছিলো... কথোপকথন গুলো। আবার সন্ধ্যায় কথা হলো.. সৈকত উত্তরের অপেক্ষায় ছিলো.. তবে উত্তরটা তখনো পায়নি সৈকত। এভাবে কথোপকথন চলছিলো.. সৈকত শুধু একটা হ্যা এর অপেক্ষায় ছিলো। অবশেষে মুন্নি উত্তরে বলেছিলো "যদি শুধু হ্যা নিয়ে খুশী থাকো তবে হ্যা" তাতেই সৈকত আনন্দে আত্তহারা ছিলো। তারপর সেই বিশেষ কথাটা বলা হলো দুজনেরই। এভাবেই সম্পর্কটার শুরু। জানুয়ারি শেষ হয়ে সময়টা ফেব্রুয়ারি.. দুজনের দেখা হবার কথা হচ্ছিলো, কিন্ত মুন্নি রাজি হচ্ছিলো না।
.
ফেব্রুয়ারি ১৯ তারিখ, মুন্নি সৈকতের কাছে একটা কিছু চেয়ে বসলো এবং তাকে দিতেই হবে! সে বললো " আমি এ সম্পর্কে থাকতে পারবো না কারন পরিবার থেকে বিয়ের কথা চলছে" সৈকত মুন্নিকে অনেক বুঝিয়েছিলো। কিন্ত মুন্নির কথা ভেবেই সে আর বাড়াবাড়ি করে নি। সম্পর্কটা অনেকটা এখানেই শেষ মনে হচ্ছিল। কথা বলা কমে যাচ্ছিলো।
.
এক মাস পর! এতোদিন মুন্নির সাথে সৈকতের কোনো কথাই হয় নি। টানা ৪৫ দিন পর সে মুন্নিকে ফোন দিলো। কথা হলো না। তবে ৩ দিন পর তাদের কথা হলো। তাদের মধ্যে আবার নতুন করে বন্ধুত্ব গড়ে উঠলো। সম্পর্কটা অনেকটা নতুন মোড় নিয়েছে। এভাবেই কথা চলছিলো নিয়মিতো। আর সবকিছু আবার নতুন করে শুরু হচ্ছিলো..
.
কিছুদিন পর.. তারা এখন অনেকটা বুঝতে শিখেছে নিজেদের কেই! কথা বলা আগের থেকে অনেটা বেড়ে গেছে.. তবে এবার মুন্নি সৈকতের প্রতি একটু বেশীই যত্নশীল। কিছুদিন ধরেই মুন্নি কি যেন বলতে চাচ্ছিলো, অনেকবার বলতে গিয়েও বলা হয়ে ওঠেনি। তবে সৈকত ব্যাপার গুলো বুঝতে পারতো।
.
একদিন সকালে হঠাৎই সৈকতকে মুন্নির ফোন। আজ কথোপকথন একটু আলাদা, কথোপকথন গুলো এরকমভাবে ছিলো..
মুন্নি: তোমার জন্যে একটি ভালো খবর আর একটি খারাপ খবর আছে কোনটা আগে শুনবে?
সৈকত: তবে খারাপ খবরটাই আগে শুনি।
মুন্নি: আমি প্রেমে পরে গেছি এটা খারাপ খবর আর ভালো খবরটি হলো আমি তোমাতেই প্রেমে পরেগেছি।
সৈকত: এরকম খারাপ খবরও খুব ভালো।.
.
সে থেকেই সম্পর্কটা নতুন করে শুরু! নতুনভাবে নতুন করে পথ চলা দুজনের। সম্পর্কটা এখন ৩ বছরের। তবে সম্পর্কটা এখনো শুধুই মনের। তাদের এখনো দেখা হয়নি।
.
তাদের প্রতি মন থেকে অনেক শুভ কামনা রইলাও। খুব ভালো থাকুক তারা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now