বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বাংলাদেশে ৫ মাসের মেয়ে শিশু ধর্ষিত হয়, ৬ বছরের স্কুলছাত্রী ধর্ষিত হয়, ধর্ষিত হয় ১১ বছর বয়সী ফ্রকপরা ছোট্ট মেয়েটা। এখানে শিক্ষক ধর্ষণ করে ছাত্রীকে, যুবক ধর্ষণ করে বন্ধুর প্রেমিকাকে, মামা ধর্ষণ করে ভাগ্নিকে, দুলাভাই ধর্ষণ করে শ্যালিকাকে, মধ্যবয়সী ধর্ষণ করে পাশের বাসার কিশোরিকে, গৃহকর্তা ধর্ষণ করে কাজের মেয়েকে, অফিসের দারোয়াণ ধর্ষণ করে উচ্চপদস্থ মহিলা কর্মকর্তাকে, দিনমজুর ধর্ষণ করে গার্মেন্টস কর্মীকে, আরবী পড়ানো মাওলানা ধর্ষণ করে কায়দা পড়তে আসা শিশুকে, রাজনৈতিক কর্মী ধর্ষণ করে প্রতিপক্ষে ভোটপ্রদাণকারী অমুসলিম পরিবারের কিশোরিকে, ক্ষমতাসীন ছাত্রনেতা ধর্ষণ করে নিরীহ তরুণিকে, পুলিশ ধর্ষণ করে ইয়াসমিনদের, বাঙালি ধর্ষণ করে আদিবাসী তরুণিকে...এবং ধর্ষণের পর প্রায়ই হত্যা করে।
.
দেশজুড়ে চলছে অবাধ ও 'শান্তিপূর্ণ' ধর্ষণযজ্ঞ। যেমনটা বলেছিলেন হুমায়ুন আজাদ, ''বাঙলাদেশে ধর্ষণ সবচেয়ে বিকশিত সামাজিক কর্মকান্ড''।
.
সভ্যতার অগ্রগতি, এবং সামাজিক অর্থনীতির উদারনীতির এ যুগে একজন নারী কি পারবে না নিরাপদে চলতে? তাকে সদা ধর্ষণ আতংকে দিনাতিপাত করতে হবে? আমরা সেই ইস্যুর কোন সুরাহা করতে পারিনি। বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা সামগ্রিক ক্রিমিন্যালদের শাস্তিদানের ব্যাপারে যতটুকু ব্যর্থ, ধর্ষকের বিচার প্রদানে তার চাইতে বেশি নিরুৎসাহী। নয়তো দিনাজপুরের ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের মত দেশ কাঁপানো ঘটনার মামলার রায় কার্যকর হতেও কেন ৯ বছর লেগে যায় যেখানে আসামীরা শুরু থেকেই চিহ্নিত ছিলো?
.
বাংলাদেশ সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনি বা বিচারব্যবস্থা ধর্ষকের শাস্তিদানের ব্যাপারে সিরিয়াস নয়। দোষটা আমাদের, আমরা অত্যন্ত ঘৃণ্য একটি সামাজিক অপরাধ হিসেবে ধর্ষণকে চিহ্নিত এবং প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। আমরা ধর্ষণের বিপক্ষে আমাদের সর্বৈব চেষ্টা দিয়ে এঁকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিতে পারিনি, প্রতিবাদ করতে পারিনি, এবং ধর্ষককে উপযুক্ত শাস্তিপ্রদানের গণদাবিতে সেই ১৯৯৫-এর পর আর কখনই এক হতে পারিনি।
.
গত ২০ মার্চ, ২০১৬, রবিবারে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী, সোহাগী জাহান তনুকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ভেতরেই ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। সোহাগী জাহান তনু কেবল কারো বোন, কারো কন্যা, কারো বন্ধু বা সহপাঠীই নন, সোহাগী জাহান তনু এই বাংলাদেশের একজন নাগরিক, সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত নিয়ে নিয়ত পথ চলা এই মেয়েটি একজন শিক্ষিকাও ছিলেন। কুমিল্লা সেনানিবাসের মত এলাকার ভেতরে সোহাগীর এই পরিণতি প্রমাণ করে বাংলাদেশের কোন মেয়ে আজ নিরাপদ নয়, প্রমাণ করে সকাল-দুপুর-বিকেল-সন্ধ্যা-রাত্রি কোন সময়েই, শাড়ি-থৃ-পিস-বোরখা-হিজাব পরিহিতা কোন নারীই ধর্ষকের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুর বাইরে নন।
.
বাংলার নাগরিক সোহাগীর উপর বর্বরোচিত এ হামলার বিচার দাবির মাধ্যমে আমরা ধর্ষক এবং বিচারব্যবস্থাকে দেখিয়ে দিতে চাই যে আমাদের দেশ ধর্ষকের নিরাপদ আবাসস্থল নয়, আমাদের দেশের মানুষ জান দিয়ে হলেও ধর্ষক ও হত্যাকারির সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান দেখতে চায়।
[] Sabuj Joydhar []
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now