বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বারান্দার ওপাশে ॥ এক ॥

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X থপ, থপ ……থপ, থপ তারপর নিরবতা- অল্প কিছুক্ষণ। আবার – থপ, থপ ……থপ, থপ একটু পর পরই কানে শব্দটার এই আলোড়ন শুনে মনে হচ্ছে কেউ যেন বারবার কাদা মাড়িয়ে খুব কাছে চলে আসছে… যদিও রেলিং নেই তবু দু’তলার উপরে বারান্দায় মই ছাড়া উঠবে কিভাবে? বিছানা থেকে উঠতে যাব তখনই মনে হলো-ঠিক সেভাবে কি কখনও খেয়াল করেছি? নিচ থেকে উঠে আসার কোন উপায় তো থাকতেও পারে। কত ব্যাপারই তো চোখ এড়িয়ে যায়, আর আমার তো একটু বেশীই। সে কারনেই তো আমি এত সাধারণ। একটা সময় ছিল এই সাধারণ হওয়াটাকেই ভাল বাসতাম। এক সময় বলছি কেনো- আজও তো তাই। এবং চরম সত্য হলো আমার এই সরল সাধারণ স্বভাবের কারনেই মানুষ আমাকে ভালবাসে, সেটা আমি বুঝি। যে পাত্রে বিপদের সম্ভাবনা ক্ষীণ, সেখানেই ছড়িয়ে পড়ে মানুষের ভালবাসার কারেন্ট জাল। নিশির বাবা মানে আমার শশুর মশাইতো বিয়েতে মত দিয়েছিল আমার এই সরলতায় মুগ্ধ হয়েই। গোটাকয়েক কাগুজে সনদ ছাড়া আর কিই বা ছিল তখন আমার? শব্দ থেকে কোথায় চলে গেলো ভাবনা। এই একটিই আমার সমস্যা। একা থাকি যখন-একদম একা। চারপাশে সুনশান নিরবতা, হঠাৎ হঠাৎ মন তার স্বাভাবিকতার রূপ পরিবর্তন করে , সরল মনটাও ভাবতে শুরু করে দেয়, সে ভাবনা বিস্তৃত হয় উত্তর থেকে দক্ষিনাবধি। যদিও সে সব ভাবনা কখনও ছুতে পারেনা সরলতা বর্জনের ইচ্ছেকে। বারান্দায় গিয়ে দেখে আসতে ইচ্ছে করছে । সেই সাথে না হয় একটু পরখ করে নেবো বহিঃঅনুপ্রবেশ হতে বারান্দাটার সত্যিকার নিরাপত্তা। যদি খুঁজে পেয়ে যাই উপরে উঠে আসার কোন সহজ উপায়, চেপে যেতে হবে, নিশিকে তো একদমই বলা যাবেনা। ভীষন ভয় ওর। বাসায় থাকলে এই থপ থপ শব্দেই এতক্ষন তোলপাড় শুরু করে দিত। প্রথমেই ডাক পড়ত দাড়োয়ানের এবং তাকে তৎক্ষণাৎ শব্দের উৎসের খোঁজ নিয়ে আসতে হতো । কে হাঁটে , কেনো হাঁটে –সব। কৌতূহল অসীম তার। আমাকে কাছে পেলে জিদ ধরবে দেখে আসার জন্য। অথচ আমার আবার কৌতূহল নিদারুনই কম। দুর শব্দ হচ্ছে হোক। ছন্দময় হোক বা ছন্দহীন -আমার তাতে কি? সেই আমি এই মুহূর্তে নিজেকে বদলাতে চাইছি। একাকীত্ব দূর করার ভালো উপায় স্বাভাবিকতার বিরুদ্ধাচারণ। অন্তত এই মুহূর্তে এই থিউরী গ্রহন করতে ইচ্ছে করছে। থপ, থপ — শব্দটি এখনও শোনা যাচ্ছে সেই একই ছন্দে। নিশ্চিত- কেউ হাঁটাহাঁটিই করছে। কিন্তু এই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মাঝে, রাত ১২টায় কেউ হাঁটতে বেরোবে কেনো? হাঁটুক না, আমার তাতে কি? সুর তুলে, ছন্দ বানিয়ে. গলা ছেড়ে গান গেয়ে, থপ থপ গবগব যেমনে ইচ্ছে শব্দ করে হাঁটুক…আমার কি ? অন্য সময় না হলেও এখন অনেক কিছু। নিশিকে ছাড়া একা রাত কাটবেনা। এই একটাইতো নেশা আমার জীবনে। অফিস, মিটিং সেরে প্রায় প্রতিদিনই একটু দেরীই হয় আমার বাড়ী ফিরতে । তারপর নিশি নিশি আর নিশি , সেই তো সব আমার নিশিথের । তার সান্নিধ্য বিনে আমি যেন নেশাদ্রব্যবিহীন এক পাড় নেশাখোর। উপায় নেই। থপ থপ শব্দ এখন সেই নেশাটাকে ছাইয়ের তলে চাপা রেখে সময়টা পার করার বেশ ভাল একটা পুঁজি । নিশিকেও ফোন করা যায় , তাতে নেশার উদ্রেগ হবে আরও তীব্র তাছাড়া রাগও হচ্ছে, সেই সন্ধ্যার পর একটু ফোন করে কোন খবর জানালাও না। ফোন অবশ্য করব-যখন ঘুম চোখের অধিকার নিয়ে নিতে চাইবে ঠিক তখন। নেশার সাথে ঘুম মিলে যাবে। নিশি হাসবে , আমি ছোট্ট শিশুর মত ঘুমিয়ে যেতে থাকব। ঘুমের ঘোরেই ঝগড়া করতে থাকব। আসলে আমিই হেরে যাব শেষে। ভাবলাম বলি, কালকে তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফিরতে পারবো, কাল ই না হয় একসাথেই দুজন যাব। বলা হলো না । ‘নিষেধ’ বলে একটা শব্দ যে আদরের বউকে আদৌ বলা যায়, আমি সেটা জানিই না। তাই বলে ভাবলে ভুল হবে আমি স্ত্রৈন। আমি হলাম সরল সাধারণ, নির্ঞ্ঝাট। বাপের বাড়ী যাবে , কোন কারন তো আছেই, যাবেই তো, যাক না । নেশা ছাড়া একটা দুটো রাত কাটানোর প্রয়োজনও আছে। মাঝে মাঝে অসাধারণ হতেও আজকাল ইচ্ছে করে। এইতো মাত্র দুদিন আগে, আমরা ঘুমানোর আয়োজন করছি। হঠাৎ সামনের দোতলা বাড়িটার দোতলায় ডান দিকের ঘরটাতে এক জোড়া নরনারীর চ্যাঁচামেচি। ঝড়গড়াঝাটির পর্যায় পেরিয়ে বিষয়টা আরেকটু বেশীই ছিল। তাদের কথা শুনে সেরকমই বোঝা যাচ্ছিল। কিন্তু কি আশ্চর্য , তাদের সকালে সে দু’জনকেই দেখলাম বারান্দায় বসে গলাগলি ভাব, হাসতে হাসতে কুটিকুটি হয়ে পারলে নিচে পড়ে যায় আর কি। দেখে একটু সময়ের জন্য আফসোস হয়েছিল, সত্যি বলছি। আমার নিশির নেশায় যাতনাটার অভাব সাময়িক বোধ হলো। ইস ঝগড়াতো আজকেই একটা করা যেত। নিষেধ শব্দটা শিখে নিয়ে বললেই হতো-আজ ও বাড়ী যাওয়া চলবেনা। হঠাৎ কি এই পরিবর্তন সম্ভব, তাও আমার দ্বারা। সেই কখন যাওয়ার কথা, পৌঁছে এখনো অবধি একটা কলও দিলোনা। না ঝগড়ার মজাটা আজকেই শুরু করতে হবে। (সংগৃহীত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বারান্দার ওপাশে ॥
→ বারান্দার ওপাশে ॥ তিন
→ বারান্দার ওপাশে ॥ দুই ॥

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now