বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বারান্দার ওপাশে ॥

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X ॥ পরিশিষ্ট ॥ …নিশির জ্ঞান ফিরল পরদিন সকালে। বাম হাতের কব্জিতে একটা ফ্রাকচার হয়েছিল। সুবর্ণাকে রাতেই মৃত ঘোষনা করেছিল ডাক্তার। হাসাপাতাল থেকেই ওর স্বামীকে ফোন করে মোটামুটি সব খুলে বলতে বললাম দাড়োয়ানকে। দাড়োয়ান ওনাকে চিনতো, তাতে কাজটা আরেকটু সহজ হলো। আমিও কথা বললাম। ফোনের সেই গালিবাজ ভদ্রলোকটিকে আসলেই অতি নিরহ ভদ্রলোক বলেই মনে হলো। তখন যে আমি কল করেছিলাম সেটা আর বললাম না। ওনার কাছে সেটা রাসেল ছিল , তাইই থাক। আসফাক সাহেব শুনেই রওনা দিয়ে দিলেন। ঐ সেই রাতে স্বামী স্ত্রীর ঝগড়ার পরদিন প্রত্যুষে তিনি ব্যবসার কাজে চট্রগ্রাম গিয়েছিলেন। বুঝলাম সেদিন সকালে তাহলে যাকে দেখেছিলাম সেই তাহলে হারামীর বাচ্চা রাসেল। জ্ঞান ফিরে পেয়েই পুলিশের কাছে জবান বন্দী দেয়ার আগেই নিশির হাতদুটো ধরে পাশে বসে শুনলাম সেই রাতের অজানা ঘটনার আদ্যপান্ত। …চ্যাঁচাম্যাচি শুনে সে বারন্দায় ছুটে গিয়েছিল। তখনও বৃষ্টি নামে নি। মেঘ করেছিল। কালো মেঘের সাথে কালো সন্ধ্যাও নেমেছিল সবে। বাবার বাড়ী যাবার জন্য রেডি হচ্ছিল নিশি। নিচে নেম ড্রাইভারকে বলতে যাবে একটা ট্যাক্সি ভাড়া করে আনতে ঠিক তখনই কৌতূহল মেটাতেই তার বারান্দায় যাওয়া আর সেই কৌতূহলই হলো কাল। রাসেল যখন গলা চেপে ধরল সুবর্ণার- নিশি দেখে ফেলল । ঢলে পড়ছিল সুবর্ণার দেহটা। ও পাশে নিশির অবাক চেহারটা এড়ালোনা রাসেলের । সুবর্ণার দেহটা মুহূর্তে ছূড়ে ফেলে ছুটে এলো এই বারান্দার উপর। রাসেলের বারান্দার খাঁজ বেয়ে উপরে ওঠার সময়ই নিশি হতভম্ব হয়ে পড়ে। কণ্ঠ কাঁপছিল, দাড়োয়ানের নাম ধরে ডাকবে অথচ মুখ দিয়ে স্বর বেরোচ্ছিলনা ভয়ে। হারামীটা গায়ে হাত দিতেই জ্ঞান হারায়। চিৎকার করার অবকাশই পায়নি সে। তারপর তো বোঝাই যায়। দুই নারীর দেহদুটো মাটি চাপা দিয়ে পালিয়েছে হারামী টা। দাড়োয়ান তখন নিচে ঘরে বসে ঝিমাচ্ছিল। কিছূই টের পাওয়ার কথাও না। কারন দরজা থেকে বারান্দা তো দেখাই যায়না। নিশিকে জিজ্ঞেস করেও জানা গেলো না হাতটা ভাঙল কেমন করে? সম্ভবত বারান্দা থেকে নিচে নামার সময়ই হাতে আঘাত লেগে থাকতে পারে। দাড়োয়ান সব শুনে খুব লজ্জিত হলো। কেঁদেও উঠলো। নিশির বাবা আর বড় এসে দাড়োয়ানকে খুব বকেছেন। পুলিশকে আমিই ফোন করেছিলাম নিশির জ্ঞান ফেরার পর। বিশ্বাস করাতে দেরী হয়নি। আসফাক সাহেবও চলে এসেছেছিলেন। খুব ভেঙে পড়লেও তার চেহারায় অন্য রকম একটা প্রশান্তি আমি ঠিকই দেখেছিলাম। নিশির বাবার পরিচয় পেয়ে পুলিশের বিশ্বাস খুব সহজেই এসেছিল। এটা পৃথিবীর নিয়ম , ক্ষমতার একটা দাপটতো থাকেই। ঐ দিনই সুবর্ণার মোবাইল সীম থেকে রাসেলের ফোন নম্বর খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। পুলিশ অফিসার কথা দিলেন চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই ব্যাটাকে ধরা যাবে। শুনে অবশ্য আস্বস্ত হবার মত কিছু পেলাম না। নিশির জীবন সান্নিধ্য আর নিজেক অসাধারণ ভাবার সুখেই আমি বিভোর তখন। নিশির ডান হাতটা মুঠোয় নিয়ে হাসপাতালে বসেই মনস্থির করলাম বারান্দার ওপাশে ঐ উপরে ওঠার গোপন পথের খাঁজগুলো আজকেই ভেঙে ফেলব, আজকেই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বারান্দার ওপাশে ॥ তিন
→ বারান্দার ওপাশে ॥ দুই ॥
→ বারান্দার ওপাশে ॥ এক ॥

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now