বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জীবন চিত্র

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ,,,জীবন চিত্র,,,, লেখা:জোবাইর খন্দকার(সাদমান শাকিব),,, স্যারের মনটা এরকম কেন?চেহারাটাই বা এরকম দেখাচ্ছে কেন?দেখলে কেন জানি মনে হয় স্যারের জীবনে বড় কিছু ঘটে গেছে যার কারনে স্যারটা সকলের থেকে আলাদা,একাকি চলতে ভালবাসেন,তেমন কথা বলেন না এর রহস্য কি?আমাকে জানতেই। ~ও হ্যা এবার পরিচয়টা দিয়ে নি আমি সাদমান এবার ইন্টার পরিক্ষা দেব আর এতক্ষন যার কথা বললাম তিনি আমার প্রিয় রকি স্যার। তারপর একদিন অনেক অনুরোধের পর স্যার রাজী হয়ে আমাকে বলতে লাগলেন ~~ আমার জন্ম একটা বড় পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৩ভাই ৩বোন আর বাবা মা এই মিলে ৮জন।যখন ছোট ছিলাম তখন পরিবারের অভাবটা ততোখানি বুঝতে পারিনি সারাদিন দৌড়ঝাপ করে বেড়াতাম আর দিনের শেষে মায়ের কোলে ফিরে গমের রুটি খেয়ে রাতে ঘুমাতাম আবার সকালে উঠে কোনদিন রুটি পেতাম কখনো পেতাম না।দুপুরে তেমন খেতে পারতাম না আর এটা নিয়ে মায়ের সাথে অনেক রাগ করতাম যে মা ইচ্ছা করেই আমার জন্য রুটি রাখেনি,আসলে আমি বুঝতে পারিনি যে আমরা গরীব আমাদের ১বেলা খেয়ে ২বেলা উপোস করতে হয়।একদিন আমি দেখতে পাই যে বড় ভাই কান্নাকাটি করতেছে পরে জানতে পারি যে স্কুলের ফিশ দিতে না পারায় মাষ্টারমশাই আসতে বারন করেছে। তখন বুঝিনি ফিশ কি? পরে যখন বুঝলাম যে ফিশ মানে ফরমফিলাপ যার মানে টাকা তখন মনে হয়েছিল যে না পড়াটাই ভাল কারন এই টাকা হলে আমাদের কয়েকবেলা আরামে কেটে যাবে।কিন্তু মা সেটা হতে দেন নি বাড়ির ১মাত্র গাভীটা বিক্রি করে ভাইয়ের ফিশ দিলেন,এরপর আমিও মাধ্যমিকে ভর্তি হই,টাকার অভাবে আমিও পড়ার খাতা কলম কিনতে পারিনা,অন্যদেরমত দামি পোশাক আমার ছিলোনা,একবার শীতের পোশাকে মেলায় গেছিলাম সময়টা ছিল চৈত্রি মাস প্রচন্ড গরম,কেউ কেউ বলেছিল এটা কি পড়ে আসছিস যা চেন্জ করে আয়,আমি তো আসতাম না কারন আমি জানি ১টা পুরাতন তালি দেয়া শার্ট মা পরিস্কার করে রোদে শুকাতে দিছে আর এটা ছাড়া আমার পরিধান করার মত আর কিছুই নেই।মনে মনে ভাবি যাদের কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে ৩ বেলা কেটে যায় তারা আবার এত পোশাক কি করে,২টা হলেই পুরা বছর অনায়াসেই কেটে যায়, অনেকেরই উপহাসের পাত্র ছিলাম।আমাদের সবভাইবোনের মেধাভাল ছিল বলে স্যারেরা একটু ছাড় দিতো।এভাবে মাধ্যমিক শেষ করে যখন উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হই তখন বুঝতে পারি যে সবার লেখা পড়া আর চালানো সম্ভবনা।১দিন দেখি বড় ভাই কাধে ব্যাগ ঝুলিয়ে চলে যাচ্ছে পরে জানতে পারি যে ১ব্যবসায়ীর বাসায় থেকে তার সন্তানকে পড়ানোর বিনিময়ে থাকা খাওয়া এবং লেখাপড়ার খরচ তিনি চালাবেন। তখন আমিও ভাবি যে আমারো যদি এরকম ১টা সুযোগ আসতো।একদিন দেখি বোনটা বাড়িতে এসে কিছু বলতে না পেরে কান্না করতেছে পরে প্রশ্ন করে জানতে পারি যে সামনে এসএসসি পরিক্ষা তার ফরমফিলাপেরটাকা লাগবে,আমি তারপরদিন থেকে টানা চারদিন গাঁয়ে খেটে ওর টাকা সংগ্রহ করে দি।এরপর একদিন ভাইয়ের মত আমারও সুযোগ আসলে আমিও বাড়ি ছেড়ে চলে যাই রংপুর শহরে। যাবারদিন মা এসে আমার হাতে ১০টাকা দিয়ে বলেছিল পথে কিছু খেয়ে নিস বাবা। টাকাটা হাতে নিয়ে বুঝতে পারলাম যে এই টাকাটা দেবার জন্য মা ২দিন রোজা থেকে খাবার টাকা বাচিয়েছে।আমিও একাকি না খেয়ে ছোট ভাই ও বোনদের নিয়ে দোকানে গিয়ে খাবার কিনে খেয়েছিলাম সেদিন ছোট বোনটা আমার গলা জড়িয়ে ধরে বলেছিল জানিস ভাই আমার না ঐটা খেতে ইচ্ছে করে কোনদিন খাইনিরে আমাকে ওটা নিয়ে দে না,দেখলাম বোনটা ক্রিমবল চাচ্ছে ওকে ১টা টাকা দিয়ে সেদিন ঐখাবারটা কিনে দিয়ে ওর মুখে অনেক হাসি আর আনন্দ দেখেছি ও আনন্দে দৌড়ে এসে আমার কপালে আদর করে চুমু খেয়েছিল,সেদিন বোনের হাসিটা এত দামি ছিল যেটা আজ লক্ষ টাকা দিয়েও পাওয়া সম্ভবনা।এরপর আমি রংপুরে চলে যাই,সেখানে যাবার পর ১দিন আমার কাছে চিঠি আসে যে বড় বোনটার বিয়ে,সেদিন আমি আসিনি কারন আমি জানি যে এখানে আসতে ও যেতে যে টাকা লাগবে সেটা হলে বিয়ের কিছু খরচা চলবে,সেইদিন আসিনি বলে অভিমানী বোনটা আমার এতটাই অভিমান করেছে যে এখনো আমার সাথে তেমন কথা বলেনা। রংপুরে থাকাকালিন সময় সুযোগ পেলেই হাফেজ বন্ধুদের সাথে বিভিন্ন জলসা,মজলিস,মিলাদে যাইতাম কারন সেখানে গেলে আমাকেও ২টাকা ৩টাকা করে দিতো।আর ঐ টাকাটা লেখাপড়ার কাজে লাগাতাম।এভাবে ওখানে ২টি বছর কেটে যায় মা প্রায়সময় চিঠি দিয়ে ডাকতো টাকা খরচ হবে বলে আসিনি।এরই মাঝে শুনতে পাই যে বড় ভাইটির কোন ১ কলেজে প্রফেসরের চাকরি হয়েছে,সেদিন ভেবেছিলাম যে আমাদের অভাবটা এবার দুর হবে কিন্তু সেটা হয়নি কারন চাকরির কয়েকদিন পর ভাই বিয়ে করে আর বউ এসে বুদ্ধি দিয়ে শ্বশুড়বাড়িতে নিয়ে যায় ওকে। মাঝে মাঝে মা বাবাকে টাকা পাঠাতো আর সেই টাকা না খেয়ে পেটে পাথর বেধে টাকা জমিয়ে মেজো বোনটার বিয়ে দেয়। এদিকে ছোট ভাইটা সেও ইন্টার পাশ করে ৩ বিষয়ে লেটার পেয়ে যায়,সে ছিল আমাদের সবার থেকে অনেকটা মেধাবি,তাই তো বাবা আমাদের শেষ সম্বল হিসবে থাকা সেই জমিটা যেটাতে শাক সবজি চাষাবাদ করে সংসার চালাতো সেটা বিক্রি করে ডাক্তারি পড়তে পাঠায়।এরই মাঝে আমার লেখাপড়া শেষ হয়ে যায় চাকরির জন্য ছোটাছুটি করতে থাকি কোথাও চাকরি মেলেনা,হঠাৎ একদিন কিছু লোক গেল আমার বাড়িতে আর বললো তারা নাকি চিলমারী কলেজ থেকে এসেছে তাদের একজন শিক্ষক দরকার আমি চাইলে আমাকে নিতে পারে। সেইদিন আমি এতটাই আনন্দিত হয়েছিলাম যে আনন্দে আমার চোখে জল এসে গেছিল আর মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছিলো না। সেদিন বুঝতে পারি যে মানুষ অতি আনন্দে পাগলও হতে পারে।চাকরিটা আমি পেয়ে গেলাম প্রথম মাসের বেতনটা নিয়ে মাকে দিয়ে তারপর মায়ের কাছে এসে বলেছিলাম যে মা আজ কিছু টাকা দাওনা বোনটা বায়না করছে ও নাকি নতুন থ্রীপিচ নিবে,আর গোস্ত কিনে আনি কতদিন হল খাই না,সেদিন মা বলেছিল ওরে পাগলা এটা তো তোরই টাকা তুই আসার পথে আনতে পারলিনা।সেইদিন আমি মাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কেঁদেছিলাম যা আমার আজো মনে পড়ে।আমার চাকরিটা হবার পর থেকে সংসারে ১টু সুখের ছোয়া লাগার মত আর ঠিক তখনি জনম দুখিনী পাগলি মা আমার খোদার ডাকে সাড়া দিতে পরপারে চলে গেলেন।পাগলি মা আমার জীবনে শুধু কষ্ট করেই গেলেন যখন সুখ দুয়ারে উকি দিচ্ছে তখনি তিনি আমাদে কষ্টের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেলেন।এভাবে কয়েকদিন কেটে যাবার পর সবার কথামত আমি বিয়ে করলাম,এদিকে ছোট ভাইটার ডাক্তারি পড়া শেষ হলে সে হয় একজন MBBS ডাক্তার আবার সুখ এসে ধরা দিল গ্রামে জমিজমা কিনতে লাগলাম বাড়ি ঘর ঠিক করলাম সুখ এখন হাতের মুঠোয়। কথায় আছে অভাগা যেদিকে যায় সেদিকে সাগর শুকায় তেমনি আমরাও এত বড় অভাগা যে বাবাকেও হারিয়ে ফেললাম।বাবাকে হারানোর পর মনে হল যে জীবনের যা ছিল সব হারিয়ে গেছে আর হারানোর বাকী নেই। জানো বাবা এখনো প্রায়দিন রুটি খেয়ে থাকি ভাত কম খাই।আগে অভাবে ভাত খেতে পারিনি আর এখন ভাতটা সামনে থেকেও খেতে পারিনা।শুধু হাহাকার। আজ আমার মায়ের ২১তম মৃত্যু বার্ষিকী। মাকে বড্ড মনে পড়ে সেদিন বুঝতে পারিনি যে মা আমার কেন চিঠি দিয়ে রংপুর থেকে ডাকতো,সেদিন মা বলেছিল বাবারে আজ কতদিন হলো তোরে দেখিনা বাপরে আমার তুই মাঝেমাঝে এসে দেখা দিয়ে যাইস তো,বাপ তোরে দেখিবার মনে চায়।সেদিন বুঝিনি সেই ডাকে কতটা ভালবাসা ছিল,আমাকে কতটা কাছে পেতে চেয়েছিল মা আর আমি টাকা খরচ হবে বলে আসিনি। আজ আমার আমার বাড়ি গাড়ি টাকা পয়সা ধন সম্পদ ছেলে মেয়ে সব আছে নেই শুধু আমার মা আমার বাবা।আমি তো এতো টাকা এত সম্পদ কিছুই চাইনি চেয়েছিলাম শুধু ৩ বেলাতেই যেন মায়ের হাতের ডাল ভাত বাবাসহ পেট পুরে খেতে পারি।কিন্তু আমি পারিনি উপরওয়ালা যে আমার জীবনে এত সুখ লিখে রাখেন নি। তাইতো আজ শুধু একটা কথাই বারবার মনে পড়ে বাপ তোরে দেখিবার মনে চায়।,, সমাপ্ত ,,,,,,, বিঃদ্রঃ কারো জীবনের সাথে মিলে গেলে আমি জোবাইরকে ক্ষমা করবেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জীবনের বাস্তব চিত্র
→ শায়খ আলবানী (রহ:)-এর বৈচিত্র্যময় জীবনের কিছু স্মৃতি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now