বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পটা আর শেষ করতে পারেনি শেফার্ড।সাতসকালে এভাবে প্রখ্যাত লেখক শেফার্ডকে যে ঘর থেকে পাওয়া যাবে তা বোঝেওনি কেউ।টেবিলের ওপরে খাতাটা পড়েই রয়েছে।
শেফার্ড বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে উদ্ভিদবিদ্যায় ডক্টরেট পাশ করে একটি বোট্যানি ডিপার্টমেন্টে সহযোগী ম্যানেজার হিসাবে নিযুক্ত হয়।উদ্ভিদবিদ্যার ওপরে তার লেখা কিছু বই ইতিমধ্যে আমেরিকায় সাড়া ফেলে দিয়েছিল এবং পরে ঐ বোস্টন ইউনিভার্সিটিতেই উপাচার্য হিসাবে নিযুক্ত হয়।ইতিমধ্যে সে একটি এক্সকার্সানে গিয়ে হঠাৎ নিজস্ব বিষয় ছাড়াও অন্য কিছু বিষয়ের ওপরে লেখার ইচ্ছা জন্মায়।বিষয়টি তেমন কিছুই নয়।এক্সকার্সানে সে গিয়েছিল একটি অরণ্যে সেখানে বিষয়ের বেশ কিছু গাছের প্রজাতি রয়েছে যা হাতে-কলমে ছাত্রদের দেখানোই উদ্দেশ্য ছিল তার।সবাই যখন এক্সকার্সান শেষ করে সেখানে কটেজে বিশ্রাম নিচ্ছে তখন সে আশপাশটা দেখতে একটু বের হল।চোখে পড়ল একটি পাথরের একতলা বাড়ি যেটা অরণ্যের অনেকটা ভিতরে এবং এতটা ভিতরে যে কেউ থাকতে পারে তা দেখেও সে অবাক হল।কৌতূহল বশতঃ সে গেল সেই ঘরের দিকে।জানলায় মুখ রেখে সে দেখল ঘরের ওপরে সিলিং থেকে উল্টো করে ঝুলে রয়েছে শয়ে শয়ে বাদুড়।এত বাদুড় সে জীবনে কখনো দেখেনি তাই এমন দৃশ্য দেখে সে আঁতকে উঠল।তাকে দেখতেই তারা ঘরের মধ্যে এমন দাপাদাপি শুরু করল উড়ে সে আরও ভয় পেল।কাঁচের জানলা,দরজায় এমনভাবে উড়ে এসে তারা পড়ল এবং খানিক ফায়ার প্লেসের চিমনি দিয়ে উড়ে বেরিয়ে এসে আকাশ ভরিয়ে দিল।ততক্ষণে সে মাটিতে মাথা রেখে বসে পড়েছে।সবকটি বাদুড় বেরিয়ে যেতে সে মাথা তুলে আরোও একটি দৃশ্য দেখল।একটা কঙ্কাল ঝুলছে সিলিং থেকে।এমন ভৌতিক দৃশ্য দেখে স্বভাবতই সে ছুট লাগাল কটেজের দিকে এবং ছুটে এসে সে কটেজের দারোয়ানকে সবটা খুলে বলল।দারোয়ান প্রত্যুত্তরে বলল, "এভাবে আপনার ওখানে যাওয়া মোটেই উচিৎ হয়নি।শোনা যায় এর আগে একজন লেখক সাহস করে ভূতের গল্প লিখবে বলে সেখানে রাত কাটাতে গিয়ে পরদিন সকালে ওভাবে ঝুলন্ত অবস্থায় কেউ বা কারা দেখতে পায়।পরে সেই মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বাদুড়ের উপদ্রবে।তারা যেন ঐ মৃতদেহের তীক্ষ্ণ প্রহরী! শোনা যায় যে কেউ যদি ঐ ঘরের সামনে যায় তবে তার মধ্যেও ঐ লেখক ভূতের আত্মা দৃষ্টি ফেললে তারও জীবন সংশয় হয়।আপনি কোনও ফাদারকে দিয়ে পারলে একটু দোষমোচন করিয়ে নেবেন।এর আগেও কিছু মানুষ দুঃসাহস দেখিয়ে বেঘোরে প্রাণ দিয়েছেন।একটু সাবধানে থাকবেন এরপর থেকে"।সবটা শুনে শেফার্ড ভয় পেলেও মনে সাহস রাখল।সে বিজ্ঞানের পূজারী তাই গীর্জায় যাওয়া,এসব মানা বিজ্ঞানের অবমাননা মনে করল সে।শহরে ফিরতেই আমল পরিবর্তিত অচেনা শেফার্ডকে পাওয়া গেল।উদ্ভিদবিদ্যা ছেড়ে সে শুরু করল লিখতে নানা ভয়ঙ্কর ভৌতিক,ড্রাকুলা,পিশাচের গা ছম্-ছমে গল্প এবং এমন গল্প অনেকদিন বাদে আমেরিকাবাসী নতুন স্বাদে পেয়ে স্ফুলিঙ্গের মত খবরটা ছড়িয়ে পড়ল সর্বত্র।শেফার্ড যেন নিজে লিখত না,তার হাত ধরে কেউ ঐসব ভয়ঙ্কর গল্প যেমন লেখাতো তেমন ভয়ঙ্কর ছবিও আঁকাতো,এবং গল্পগুলো বাস্তবে যেন সে চোখের সামনে দেখে তা লিখত- এসব কথা সে তার বন্ধু জোনাথনকে একদিন বলায় সে কাউন্সেলিং করাতে বলে অথচ লাভ কিছুই হয়নি।ততদিনে শহরে তার নাম ভৌতিক ঔপন্যাসিক হিসাবে খ্যাত হয়ে গিয়েছে।শেষবার সে জোনাথনকে ফোন করে রাতে বলেছিল যে তার পরের গল্পের নাম "খোলা খাতা"।বন্ধুর যে মানসিক রোগ হচ্ছে তা বুঝে অত আমল দেয়নি সে।পরদিন সকালে তার বাড়ি জোনাথন গিয়ে উদ্ধার করে শেফার্ডের নিথর দেহ এবং খাতার ওপর আঁকা ছিল ভয়ঙ্কর এক পৈশাচিক ছবি।কতগুলো বাদুড় একটা দেহকে খাচ্ছে আর সেই দেহটি দাঁত বের করে হাসছে।গা হিম করা ছবিটা দেখে চোখ সরিয়ে নিল সে এবং শেফার্ডকে দেখে চমকে গেল জোনাথন এবং দূরে সরে গেল।তার মুখের একপাশে খালি হাড় বেরিয়ে আসছে আস্তে আস্তে,স্পষ্ট কঙ্কালটা দেখা যাচ্ছে এবং তাতে লাল রক্ত লেগে রয়েছে।সাথে সাথে পুলিশে খবর দিল সে এবং শেফার্ডের দেহটি উদ্ধার করল এমনাবস্থায়।টেবিলের ওপর খোলা ছিল ঐ আঁকা সহ খাতাটি।জোনাথন সেই খাতাটি শেফার্ডের কফিনের সাথেই মাটিতে পুঁতে দিলেও আজও ঐ অরণ্যের ভিতরে বাড়িটির সামনে কেউ গেলেও যে কিছু হবেনা তা কিন্তু জোর গলায় কেউই বলতে পারে না।শেফার্ডের মত মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটলেও ঘটতেও পারে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now