বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ল্যাপটপ লাগবে

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "বাপ, কেমন আ...." "আব্বা, আমার একটা ল্যাপটপ লাগবে!" "কি টপ?" "ল্যাপটপ, ল্যাপটপ! আরে কম্পিউটার!" "ও আচ্ছা। কেন বাপ? কম্পুটার লাগবে হঠাৎ?" "পড়াশোনার জন্য। আমাদের স্যারেরা কিনতে বলেছেন!" "কতো লাগবে বাপ? দশহাজার দিলে হবে?" "না, না! পঞ্চাশ হাজার টাকা লাগবে!" "বাপ এতো টাকা তো এখন নাই! এইবার মাছের চালানটা দিয়েই তোকে টাকা পাঠাইয়া দিবোনে!" "আচ্ছা দিও! রাখি!" ... সালাম চাচা চিন্তায় পড়ে গেছেন। ছেলে ফোনে 'আব্বা কেমন আছো?' এইটা বলার সময় পেলো না! এটা সালাম চাচার চিন্তা নয়! সালাম চাচার চিন্তা ছেলের পড়াশোনার জন্য একটা কম্পিউটার লাগবে এবং কেনার জন্য লাগবে পঞ্চাশ হাজার টাকা। সালাম চাচা সবসময় চিন্তা করেন ছেলেকে সোনার ডিম পাড়া হাঁস বানাচ্ছেন! পড়াশোনা শেষে চাকরি পেলেই সালাম চাচার কষ্ট সার্থক হবে। সব পিতার একই চিন্তা। সে লোককে দেখাবে, 'দেখ তোরা, মাছওয়ালার ছেলে আমওয়ালা হয় নি, হয়েছে আফিসের অফিসার!' তখন সালাম চাচার সুখ দেখে কে! পড়াশোনা জন্য কম্পিউটার খুব একটা না লাগলেও সালাম চাচার ছেলের মেসে যে ফ্রি ওয়েফাই জোন চালু হয়েছে এটা সালাম চাচা জানেন না! তিনি আপাতত মাছ বিক্রি করে পঞ্চাশ হাজার টাকা পাঠাবেন এটা জানেন। ... "আব্বা টাকা পাইছি! ল্যাপটপ ও কিনছি! আব্বা, এইবার দুই ক্রেডিট বেশি নিছি! টাকা একটু বেশি পাঠানো লাগবে।" "ক্রেডিট কি বাপ?" "আরে পাগল, এইটাই তো মেইন! সাবজেক্ট বেশি নেওয়া মানেই ক্রেডিট বেশি নেওয়া!" "ও তাই নাকি! আচ্ছা বাপ, কবের মধ্যে টাকা লাগবে?" "দুই তিনদিন পর!" "আইচ্ছা দেখি পাঠাবো! ভালো থাকিস! নিজের শরীরের যত্ন নিস!" "দেখি না! সময়মতো টাকা পাঠাইয়া দিও, রাখি। পাগল বাপ!" ... আসলেই পাগল কিছুটা ব্যাকডেটেড! বুঝতে একটু সময় নিলেও রক্ত পানি করে টাকা পাঠিয়ে দেন সময় মতোই। আসলেই পাগল। যখন ছেলে যা চায় দেওয়ার চেষ্টা করে। কষ্ট হলেও ছেলের সোনার ডিমের অপেক্ষায় হা করে আশায় বুক বাঁধেন! কখনও ক্রেডিট বেশি নেওয়ার মিথ্যা বাহানা, কখনও বা ফরম ফিলআপের অতিরিক্ত টাকা, চাওয়ার সাথে সাথেই সালাম চাচার মতো বাপেরা দিয়ে থাকেন অনেকটা টাকার গায়ে লেখা "চাহিবা মাত্র বাহককে দিতে বাধ্য" থাকার মতোই। আমরা অপদার্থ ছেলেরা। বাপের আশা পূরন করতে পারি না! পারলেও আলাদাভাবে তাদের জন্য কিছু করতে পারি না। ... সালাম চাচার ছেলে একটা সময় চাকরি পাবে! বিয়ে হবে! একটা সময় সালাম চাচার ছেলের সংসার হবে। সালাম চাচা হবে আগাছা। এই সালাম চাচা না হোক, অন্য কোন সালাম চাচা হবে। তখন আর ছেলের মনে থাকবে না তার পজিশন তৈরির ইতিকথা। কত শ্রম, রক্ত পানি করা টাকায় সে পজিশন তৈরি করেছে মনে থাকবে না এসব পুরোনো ইতিহাস!! এগুলো পড়ে যাবে ব্যাকডেটেড এর খাতায়! মনে যদি থাকেই তাহলে, দেশে বৃদ্ধাশ্রম তৈরি হয় কেন? উত্তর একটাই, আমরা উপযুক্ত পিতার অপদার্থ ছেলে!! ....... লিখেছেন : একটি ফালতু ছেলে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now