বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গরীবের ঈদ মার্কেটিং

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X খাওনই জোটেনা আবার ঈদ ‘আমাগো মতোন গরিবদের ঈদেই কি আর পুজায় কি? পোলাপানগোর খাওনই জোটাইবার পারি না, কাপড় কিনুম কি দিয়া। ঈদ আহে আমাগো দুঃহ-কষ্ট বাড়ানের লাই।’ রাজধানীর পল্টন ও স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকার ফুটপাতের বাসিন্দা মর্জিনা বেগমের কাছে তার ঈদের প্রস্তুতি জানতে চাইলে তিনি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে এক নাগাড়ে বললেন এসব কথা। বরিশালের মুলাদী উপজেলার বাসিন্দা মর্জিনা বেগম ১৪ বছর বয়সে প্রেম করে বিয়ে করেন একই গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেনকে। কিন্তু তার সে প্রেম ভাঙতে বেশিদিন সময় লাগেনি। আবুল হোসেনের পরিবার বিয়ে মেনে না নিলে তারা ঢাকায় চলে আসেন। কিছুদিন ভাল কাটলেও ৩ বছর আগে ৪ ছেলে মেয়েসহ তাকে ফেলে স্বামী অন্য মেয়েকে বিয়ে করে। ওই বিয়ের পর আর খোঁজ খবর নেননি তার স্বামী। বস্তির ভাড়া দিতে না পেরে বাধ্য হয়ে ফুটপাতে থাকেন। এখন ওই ফুটপাতেই তার দিন এবং রাতের আবাসস্থল। বৃষ্টি হলে কোথায় যান, এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, কয়ডা দিনের টানা বাদলায় পোলা মাইয়া লইয়া কি যে কষ্টডা গেছে, ভাইবলেই চোহে পানি আহে। তিনি বলেন, টেরাফিক পুলিশের ছাতির নিচে ৫ জনে দলা পাকাইয়া বইয়া রাত পার করচি। সরকারের কাছে আকুতি, অন্তত রাতে নিশ্চিতে ঘুমাতে চান তিনি। জীবন ধারণের জন্য বড় দুই সন্তান হুমায়ুুন (০৮) ও কাদের (০৬) সিগন্যালে দাঁড়ানো গাড়ি পরিস্কার করার কাজে লাগিয়ে দেন। এ দিয়ে দিনে যা আয় হয়, তা দিয়ে অনাহারে অর্ধহারে দিন চলে যায়। তিনি জানান, ঈদে ছেলে মেয়েদের জন্য নতুন জামা কেনা তার কাছে দুঃস্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়। ঈদে কাপড় কেনা হচ্ছে না, সে কারণে পুরনো কাপড়গুলো ধুয়ে দেবেন। সেগুলোই ঈদের দিনে সন্তানদের পরতে দিবেন। খাবারও কিছুই কেনা হয়নি। সেমাই কিনবেন বলে ভেবে রেখেছেন। গত রোববার রাত সাড়ে ১০টায় রোকেয়া সরণী শিশুমেলা লিংক রোডে গেলে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন শিশুর দেখা মেলে। যারা সিগন্যাল পড়লেই দৌড়ে যাচ্ছে গাড়ির কাছে। ভিক্ষা চাইতে নয়। হাতের মোছনি দিয়ে গাড়ি পরিস্কার করতে। কেউ দয়া করে ২/৫ টাকা দিলে তাতেই তারা মহাখুশি। এদের কেউই স্কুলে যায় না এবং প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পরিশ্রম করে। সকাল ৭টা থেকে তাদের এই কাজ শুরু হয়ে চলে গভীর রাত পর্যন্ত। অনেক সময় বাধ্য করা হয় তাদের দীর্ঘ সময় কাজ করার জন্য। ফুটপাতে বসা ওই শিশুদের মা, রাবেয়া, সোনালী বেগম জানায়, তাদের কেউই ঈদে সন্তানদের জন্য নতুন জামা কিনতে পারেননি। দুস্থদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতি বছরের মত এবারেও কাপড় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এমপিদের নামে। সে সব কাপড় কখন কোথায় কিভাবে বিতরণ করা হয় এরা জানে না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now