বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
------------------------------
---------------------------
-আজ তোমাকে নতুন একটা কেসের ব্যাপারে
ব্রিফিং দেব। স্কিজোফ্রেনিয়ার পেশেন্ট।
খুবই ভায়োলেন্ট।
আমি নড়েচড়ে বসলাম। ইন্টার্নি শুরু করার পর
প্রথম কেস। গুরুত্ব তাই একটু আলাদা। তার
ওপর আছেন ইব্রাহীম স্যার। সাইকোলজির
গুরু। হেলাফেলা করার উপায় নেই।
-শোন সায়েম এই কেসটা কিন্তু যেমন তেমন
কেস না। তোমাকে এটা গুরুত্বের সাথে
হ্যান্ডেল করতে হবে। আর মেয়েটার ওপর ও
বিশেষ নজর রাখতে হবে। একেতো
সুইসাইডাল টেন্ডেন্সি আছে তারপর
মারাত্মক ভায়োলেন্ট। নার্স নাজমাকেও
আহত করেছিল। এখন তো ওকে বেঁধে রাখতে
হয়। কাজেই বি কেয়ারফুল।
-জী স্যার।
-মেয়েটার ফাইল আজ সন্ধ্যায় নাজমার কাছ
থেকে নিয়ে নিও। ৫২৭ নং রুমে আছে
মেয়েটা।
প্রচন্ড উত্তেজনা ফিল করছি। ইন্টার্নির
দ্বিতীয় দিনেই এধরণের কেস। ভাগ্য
অসাধারণ ভাল বলতেই হবে। পেশেন্টকেও
দেখতে ইচ্ছে করছে। চলে যাব নাকি
ঘরটাতে? দেখেই আসি একবার। ওয়ার্ডবয়কে
বললেই চাবি দিয়ে দেবে। উঠে দাঁড়ালাম
আমি। একবার না দেখলেই নয়।
এই হাসপাতালটা আর দশটা সাধারণ মানসিক
হাসপাতালের মত না এখানে শুধু চরম
মাত্রার বিপদজনক আর ভায়লেন্ট মানসিক
রোগীদের কেই আনা হয়। মেডিক্যাল
কলেজে পড়ার সময় ইব্রাহীম স্যারের প্রিয়
ছাত্র হওয়ার সুবাদে এখানে ঢুকতে
পেরেছি। ওয়ার্ডবয় কাশেম দরজা খুলে
বাইরে দাঁড়িয়ে রইল। যেন বিপদ হলে ছুটে
আসতে পারে। আমি ভেতরে ঢুকলাম।
পেশেন্টের কাছে গিয়ে তাকালাম
পেশেন্টের দিকে। চমকে উঠলাম। ১৯ কি ২০
বছরের এক তরুণী বেডে শুয়ে আছে।
সুবহানআল্লাহ! মানুষ এত সুন্দর হতে পারে?
এই মেয়ে মানুষ না বেহেশতের হুর? এত
রূপবতী মেয়ে জীবনে প্রথম দেখছি আমি।
আমার বুকে চিনচিনে ব্যাথা অনুভব করলাম।
এটাকেই বোধহয় রবি ঠাকুর সুখের মত ব্যাথা
বলেছিলেন। মনটাই খারাপ হয়ে গেলো। এই
মেয়ে এখানে কেন? এর তো এখন উড়ে
বেড়াবার সময়। কিভাবে কি? হায় আল্লাহ!
নার্স নাজমা আপা ৫২৭ নং রুমের ফাইল
দিয়ে গেছেন একটু আগে। চেয়ারে হেলান
দিয়ে পাতা ওলটালাম আমি। ইব্রাহীম
স্যারের বানানো ফাইল। মেয়েটার একটা
ছবি আছে। অসুস্থ হবার আগে তোলা।
মেয়েটা অসাধারণ সুন্দরী। নাম লেখা আছে
ইয়াসমিন জান্নাত রুহি, বয়স ২২।
সিজোফ্রেনিয়ার চরম পর্যায়ে আছে
মেয়েটা। ভিজুয়াল এন্ড অডিটরি
হ্যালুসিনেশন চরম পর্যায়ে পৌঁছে
গিয়েছিল। চারবার আত্মহত্যার চেষ্টা
করেছে। পরের পৃষ্ঠা থেকে মেয়েটার
জবানবন্দী শুরু হয়েছে। সেটাই আগে পড়ি।
দেখে নেই ঘটনা কি?
--------------------------------
২।ইয়াসমিন জান্নাত রুহিঃ
------------------------------
-------------
“আমার নাম রুহি। এই নামটা রেখেছিল
আমার মা। দেশের বাড়ি রাজশাহীতে হলেও
ছোটবেলা থেকে আমি ঢাকায়ই থাকি। ১০
বছর বয়সেই আমি টের পাই আমি আর
দশজনের চাইতে আলাদা। আমি অসাধারণ
রূপবতী। আমার বান্ধবীরা আমাকে দেখে
হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরত। ওপরে ওপরে ভাব
দেখালেও তলে তলে ওরা কেউ আমাকে
দেখতে পারত না। আমি অনেক প্রেমের
প্রস্তাব পেতে শুরু করি। প্রতিদিনই একটা
না একটা প্রেমের প্রস্তাব পেতাম। প্রথম
প্রথম সব বাতিল করলেও পরে আমি মজা
পেয়ে গেলাম। ছেলে গুলোকে নাও বলতাম
না হ্যাঁ ও বলতাম না। ঝুলিয়ে রাখতাম।
ওদের দিয়ে যেকোনো কিছু করাতে
পারতাম আমি। আমি যা বলতাম ওরা তাই
করে দিত। এমনকি আমি আমার হোমওয়ার্কও
জাহিদ নামের এক ছেলেকে দিয়ে করিয়ে
নিতাম। মিশা নামের আমার এক বান্ধবী
ছিল। আমাকে দুচোখে দেখতে পারতো না।
ওর বয়ফ্রেন্ড কেও আমি সরিয়ে দিলাম ওর
কাছ থেকে কারণ সে আমার নামে যাচ্ছে
তাই বলে বেড়াচ্ছিল। ওর বয়ফ্রেন্ডকেও
কিছুদিন নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরানোর পর
ছেড়ে দিলাম আমি। কিন্তু এই ঝুলিয়ে
রাখার ব্যাপারটা আর চালিয়ে যেতে
পারছিলাম না। সবাই অনেক চালাক হয়ে
যাচ্ছিল। নিরুপায় হয়ে কলেজে ওঠার পর
আমি একটা ছেলেকে পছন্দ করলাম। ঠিক
বয়ফ্রেন্ড না চড়নদার হিসেবে। ছেলেটার
নাম ছিল রুহান। বেশ ধনী পরিবারের ছেলে
ছিল। কোন কিছু মুখ ফুটে চাইবার আগেই
আমার সামনে এনে হাজির করত ছেলেটা।
পাগল ছিল আমার জন্য। কিন্তু ওর বাইরেও
আমার আরও কয়েকজন ছেলের সাথে
রিলেশন ছিল। ওরা সবাই আমার জন্য পারলে
বাঘের চোখ নিয়ে আসে। খেলাটাতে মজা
পেয়েছিলাম আমি। কিন্তু রুহান একদিন
জেনে যায় আমার ডাবল ক্রসের কথা।
নীরবে সরে যায় ছেলেটা। ওর সাথে আমার
আর কোনদিনও দেখা হয়নি। আমার সেটা
নিয়ে কোন দুঃখ নেই। যথেষ্ট আদায় করতে
পেরেছিলাম আমি ছেলেটার কাছ থেকে।
এস এস সি এক্সামের পর কলেজে উঠলাম।
কলেজের ফার্স্ট ইয়ারে পড়ার সময় আমার
জীবনে প্রেম এল। প্রথমবার প্রেমে পড়লাম
আমি। নিজের সব কিছু নিয়ে। ফেসবুকে
প্রথম দেখেছিলাম ছেলেটাকে। আমাকে
ফেসবুকে অ্যাড করেছিল। নাম রুদ্র আশফাক।
ইনফো খুব বেশী দেওয়া নেই। তবে ঢাকার
ছেলে। গাড়ি আছে একটা। নিজের গাড়ি
নিজেই চালায়। দেখতেও খুবই হ্যান্ডসাম।
অ্যাথলেটদের মত ফিগার। এক কথায় পুরো
হিরো। এই ছেলেকে যেভাবেই হোক পটাতে
হবে। একে আমার চাইই চাই। কিন্তু কোন
বান্ধবীকে বলা যাবে না। ওরা ঘোট
পাকাতে পারে। কি করা যায়? কিন্তু ওই
পর্যন্তই ওর কোন খবর বের করতে পারলাম
না। কোন মিউচুয়াল ফ্রেন্ড নেই। একদিন নক
করল ছেলেটা আমাকে। কথায় কথায় জানতে
পারলাম ওর পুরো পরিবার স্টেটস এ সেটল্ড।
ওখানেই বিজনেস আছে। ও দেশে এসেছে
এখানে ওদের বিজনেস এক্সপ্যান্ড করতে।
আমরা আরও কিছুদিন কথা বলার পর ও
নিজেই আমার মোবাইল নম্বর চাইল। তারপর
থেকে শুরু হল আমাদের কথাবলা। সারারাত
কথা বলতাম আমরা। একদিন ওর সাথে ঘুরতে
বের হলাম। সত্যিই ও অসাধারণ। একদিনেই
আমাকে পুরোপুরি ইম্প্রেস করে ফেলল।
তারপর প্রতি সপ্তাহেই আমরা বের হতাম
আম্মুর চোখ ফাকি দিয়ে। এভাবে প্রায় সাত
আট মাস চলল। আমাদের প্রেম খুবই গভীর হল।
আসলে ওকে সত্যি সত্যি ভালবেসে
ফেলেছিলাম আমি। এভাবে চলতে চলতে
ব্যাপারটা শারীরিক সম্পর্কের দিকে
গড়াল। পাগলের মত ভালবেসে ফেলেছিলাম
আমি ওকে। ও ও আমাকে। একদিন আমার এক
বান্ধবীর সাথে দেখা করালাম ওকে।
বান্ধবি ওর দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে ছিল
যেন ভূত দেখছে। আমার দিকে এমনভাবে
তাকাল যেন আমি পাগল হয়ে গেছি। আমার
বান্ধবীই আমার বাসায় ব্যাপারটা জানায়।
আমার বাসার সবাই প্রথমে রাগ করলেও পরে
ওর সাথে কথা বলতে চায়। আমি কল দিলাম
ওকে। আশ্চর্য! ওর ফোন বন্ধ পেলাম।
ফেসবুক আইডিও দেখলাম নেই। আরও
আশ্চর্যের ব্যাপার ওর সাথে আমার যে
মেসেজ চালাচালি হয়েছে সেগুলোও আমার
মোবাইলে নেই। ফেসবুকের ইনবক্স ও খালি।
কোন মেসেজই ও আমাকে দেয়নি কিন্তু এটা
কিভাবে সম্ভব? আরও বড় চমক অপেক্ষা
করছিল আমার জন্য। ওর বাসায় গিয়ে
জানলাম ওই ফ্ল্যাট গত ছয়মাস ধরে খালি।
এর আগে যে ছিল তার খোঁজ নিলাম। তারাও
রুদ্র নামের কাউকে চেনেনা। এটা কিভাবে
সম্ভব? ওর বাসায় কোন খবর না পেয়ে ওর
অফিসে গেলাম আমি। একাই। অবাক ব্যাপার
ওই বিল্ডিংয়ে ওর কোন অফিস নেই। ওকে
কেউ চেনেও না। রুদ্র নামের কেউ কখনো এই
ফ্ল্যাটে কোন অফিসের মালিক ছিল না।
আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম আমি। খোঁজ নিয়ে
জানলাম ওর সেলফোন নম্বরটা নাকি কখনো
ইস্যুই হয়নি। তারমানে এই নাম্বারটা নেউ
কোনদিন ব্যাবহারও করেনি। ওর গাড়িটার
নম্বরও তাই। একটা মানুষ এভাবে হাওয়া হয়ে
যেতে পারে না। আমার বান্ধবী বলল, রুদ্র
বলতে কেউ কখনোই ছিল না। সবটাই নাকি
আমার কল্পনা। সেদিন নাকি আমি একাই
ঘুরে বেরাচ্ছিলাম আর পাগলের মত বকবক
করছিলাম। ও আমার মাকে জিজ্ঞেস করে
আমি অসুস্থ কি না? সব দেখেশুনে পাগলের
মত হয়ে গেলাম আমি। আত্মহত্যারও চেষ্টা
করলাম। আমাকে ডাক্তার দেখানো হল। সেই
ডাক্তারই আমাকে আপনার কাছে আসতে
সাজেস্ট করেছিলেন”।
ইব্রাহীম স্যারের চিকিৎসার বিবরণ পড়ে
বুঝলাম যে এই মেয়ে বাস্তবে পছন্দ মত
কোন ছেলেকে পাচ্ছিল না। তাই এর
মস্তিষ্ক এর চাহিদার একটা প্রতিচ্ছবি
তৈরি করেছে। রুদ্র নামের কেউ বাস্তবে
নেই। পুরোটাই ওই মেয়ের কল্পনা। ওই
মেয়ের কথামত সে কুমারী কি না সেটার
পরীক্ষায় দেখা গেছে যে মেয়ে কুমারী না
কিন্তু এটা যেকোনো ভাবেই হতে পারে। এ
থেকে কিছুই প্রমাণিত হয়না। এমনকি
মেয়েটা রুদ্রের কোন ছবিও দেখাতে
পারেনি। ওর ভাষ্যমতে। রুদ্র ওকে কোন ছবি
তুলতে দিতনা। স্যার নিজেও নানা ভাবে
তদন্ত করেছেন এই ব্যাপারে। তারপর উনি
নিশ্চিন্ত হয়েছেন যে রুদ্র নামের আসলেই
কেউ নেই। এর মধ্যে মেয়ে মাদকাসক্ত হয়ে
পরে আর দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
তারপর ওকে মেন্টাল এসাইলামে ভরতি করা
হয়। এখানেও দুএকবার আত্মহত্যার চেষ্টা
করায় তাকে এই হাসপাতালে নিয়ে আসা
হয়। গত চার বছরে মেয়েটির পরিবার শেষ
হয়ে গেছে বলতে গেলে। বাবা মা মারা
গেছেন। মেয়েটিকে কেউ সেভাবে
দেখতেও আসে না। তবে প্রতিমাসে
মেয়েটার এক বন্ধু আসেন। উনি মেয়েটাকে
দেখেই চলে যান।
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম। প্রকৃতির
প্রতিশোধ বড়ই নির্মম। ফাইলের আর সব তথ্য
ওষুধপত্র আর চিকিতসার বিস্তারিত বিবরণ।
ফাইল ছেড়ে উঠে পড়লাম আমি।
৩। ইন্টার্ন সায়েম মোর্শেদঃ
.............................................
..................
একমাস পরের কথা। আজ সকালে অফিসে
কাজ করার সময় হসপিটালের সামনে একটা
গাড়ি থামল। গাড়ি থেকে অসম্ভব সুদর্শন এক
যুবক নেমে এল। এই যুবক ওই মেয়ের ভিজিটর
নার্স নাজমা বললেন আমাকে। যুবকের হাতে
একগুচ্ছ লাল গোলাপ। ওই ৫২৭ নং রুমে ঢুকে
গেল যুবক। আমি কৌতূহল দমন করতে না
পেরে উঁকি দিলাম ঘরে। মেয়েটা জড়িয়ে
ধরে আছে ছেলেটাকে। মৃদু গলায় কথা বলছে
দুজন। আশ্চর্যের ব্যাপার ভায়লেন্ট মেয়েটা
একেবারে শান্ত হয়ে আছে। মাঝে মাঝে
হাসছেও। অবাক ব্যাপার।
বিকেলের দিকে যুবক বেরিয়ে এল ঘরটা
থেকে। মেয়েটা ঘুমিয়ে পড়েছে। আমি
কৌতুহলের কাছে আবারও হার মানলাম।
যুবককে ডাকলাম,” এই যে ভাই শুনছেন”
যুবক ফিরে তাকাল। চোখে প্রশ্ন
-ভাই আমি রুহির ডাক্তার। সায়েম শিকদার।
আপনার পরিচয়টা জানতে পারি?
-আমি আশফাক হায়দার খান।
-আশফাক হায়দার..................। আপনি কি
নেক্সাস গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক
আশফাক হায়দার?
-জী।
-রুহি কি হয় আপনার?
হাসল ছেলেটা। হাসিটা সুন্দর। শিশুর সারল্য
মাখা।
-আমি ওর বন্ধু। শুভাকাঙ্ক্ষীও বলতে পারেন।
আসি ডক্টর। রুহির খেয়াল রাখবেন।
-অবশ্যই আশফাক সাহেব.....................
-আশফাক সাহেব না আমাকে রুদ্র বলে
ডাকবেন। সবাই তাই ডাকে।
আমার শিরদাঁড়া দিয়ে একটা শীতল স্রোত
বয়ে গেল। এতোটাই চমকে গেছি যে পা
নড়ানোর ক্ষমতা নেই। এখন আমার কাছে সব
পরিস্কার। এই সেই রুদ্র। মেয়েটা
সিজোফ্রেনিক না ষড়যন্ত্রের শিকার।
রুদ্রের গাড়িটা ততক্ষনে বেরিয়ে গেছে
হাসপাতালের কম্পাউন্ড থেকে।
------------------------------
------------------------------
------------
৪।আশফাক হায়দার খান রুদ্রঃ
.............................................
...............
হাইওয়েতে ড্রাইভ করতে আমার সবসময়ই
ভাল লাগে। এই আনন্দ ঢাকার রাস্তায়
পাওয়া যাবে না। বাসায় দ্রুত ফিরতে হবে।
মা দুপুরের খাবার খেয়েছে কি না কে
জানে। প্যারালাইজড মানুষ কি করছে কে
জানে। ৫ বছর আগে আমার পুরো পরিবার
একটা দুর্ঘটনায় ধংস হয়ে যায়। আমার ছোট
ভাই রুহান হঠাৎ আত্মহত্যা করে। এক ফাইল
ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে অভিমানী
ছেলেটা। ঘুম আর কোনদিন ভাঙ্গেনি। আমার
মা সেই শোকে স্ট্রোক করে প্যারালাইজড
হয়ে যান। তারপর বছর না ঘুরতেই বাবা মারা
যান। একা হয়ে যাই আমি। পারিবারিক
ব্যাবসার হাল ধরতে হয় আমাকে। এর পিছনে
সম্পূর্ণ দায়ী ছিল আমার ছোট ভাইটার
প্রেমিকা রুহি। আমার ভাইয়ের সাথে
বেইমানী করে মেয়েটা। এত ভাল ছিল
ভাইটা আমার। এত ভাল ছাত্র ছিল।
এমআইটিতে এডমিশন পেয়েছিল। মেয়েটাকে
ভালবাসত পাগলের মত। আমি সবই জানতাম।
আমি খুব আনন্দিত ছিলাম আমার ভাইটার
জন্য। আচমকা এক ঝড় এসে আমার
জীবনটাকে ওলটপালট করে দিল। আমি রুহির
সম্পর্কে সব ইনফরমেশন সংগ্রহ করি। আমার
ভাইয়ের মত ভাল ছেলে আমি ছিলাম না।
অনেক সময় নিয়ে সুন্দর একটা ফাদ পাতি ওর
জন্য। ওই ফ্ল্যাট টা আমারই। অফিসের
ফ্ল্যাটটাও আমারই। ওদুটো সবসময় খালিই
থাকে। ফ্ল্যাটের ম্যানেজার সাহেব আমার
ভাল বন্ধু। উনি খুবই হেল্প করেছেন। রুহির
সেই বান্ধবী ববি আমার কাজিন। চারুকলার
ছাত্রী। ভাল অভিনয় করে মঞ্চনাটকে।
রুহানকে খুব ভালবাসত মেয়েটা। ছোটবেলা
থেকেই ওরা একসাথে বড় হয়েছে। রুহির
ফেসবুকের পাসওয়ার্ড আমি জানতাম। ওই
বলেছিল আমাকে। আমার মেসেজগুলো
ডিলিট করার পর ফেসবুক থেকে নিজের
আইডি রিমুভ করি আমি। সিমটাও ভেঙ্গে
ফেলি। ওর সাথে ডেট করতে গিয়েই ওর
ইনবক্স খালি করি । পৃথিবীর বুক থেকে
নিজের সকল অস্তিত্ব মুছে ফেলি । টাকা
থাকলে বাঘের চোখ পাওয়া যায় কথাটা খুব
সত্যি। ভুয়া গাড়ির লাইসেন্স সংগ্রহ করতে
আমাকে মোটেও বেগ পেতে হয়নি। এছাড়াও
মোবাইল কোম্পানি থেকে নিজের
নাম্বারটার অস্তিত্ব গায়েব করতে হয়
আমাকে। আমি নিজেও ক্রিমিনাল
সাইকোলজির ছাত্র। কোন খুত রাখিনি
কাজে। আমার অস্তিত্ব মিথ্যা প্রমাণিত
হওয়ায় সবাই ওকে পাগল ভাবতে থাকে।
প্রচণ্ড মানসিক চাপে একসময় সত্যি সত্যি
পাগল হয়ে যায় রুহি। এটাই আমি
চেয়েছিলাম। কিন্তু নিজে ওর মোহে পড়ে
গিয়েছিলাম। সেই মোহ আজও কাটাতে
পারিনি আমি । মনে হয় ভালবেসেই
ফেলেছিলাম ওকে। এখনো তাই প্রতি মাসে
একবার হলেও ছুটে যাই। ওকে দেখতে নাকি
ওর করুণ অবস্থা দেখে নোংরা আনন্দ পেতে
সেটা আমি জানিনা।
জানতে চাইও না।
..... সমাপ্ত....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now