বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কল্পনার শক্তিতে আলোকিত দুঃখ-তিমির – জে কে রাউলিং

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X মায়ের আদরে লালিত গ্রেট ব্রিটেনের স্কটল্যান্ডের এক সুন্দরি তরুনির দিন কেটে যাচ্ছিল খুব সহজভাবেই। কিন্তু তিনি যে হবেন ব্রুসের মাকড়শা, দেয়াল বেয়ে উঠবেন বহু প্রচেষ্টায় তার জীবনে কি সুখ নিরবিচ্ছিন্ন থাকতে পারে। এই মেয়েটিরও সুখের দিনের পর্দা নামল, শুরু হল জীবন নাটকের দু:খ অধ্যায়। মারা গেলেন তার একমাত্র আশ্রয় মা। সেটা ১৯৯০ সালের কথা। মায়ের মৃত্যুর পর মন বসল না ইংলান্ডে। চলে গেলেন জার্মানি, পরে পর্তুগাল। নতুন দেশে নতুন প্রেম, পরিণয়। সেই সূত্রে কোল আলো করে এল এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান। কিন্তু সেই সুখও বেশিদিন টিকল না। জীবনে নেমে এল বিবাহ বিচ্ছেদেও অন্ধকার। সেই অন্ধকার থেকে মুক্তি খুঁজতে মেয়েকে নিয়ে চলে এলেন মাতৃভূমি স্কটল্যান্ডে। কিন্তু সেই পূরনো ব্যর্থতা পিছু ছাড়লো না। বরং অভাব যেন আরো বাড়ল। কোনো চাকরি জুটল না তার কপালে। কোনোমতে ভর্তি হতে পারলেন একটি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে। সরকারি বেকার ভাতার টাকায় কোনো রকমে চলে দিন। বাড়ি ভাড়া দেন তো খাবারের টাকা জোটে না, মেয়ের জন্য দুধ কেনেন তো ওষুধের পয়সা নেই। একেবারে গরিবীর চূড়ান্ত দশা। হাত পাতবেন, সাহায্য চাইবেন এমন কেউও নেই। এমন অবস্থা হলে মানুষ স্বাভাবিক প্রবণতায় কী করে? হতাশার সাগরে হাবুডুবু খায় বেশিরভাগ মানুষ। কিন্তু এই মেয়েটি, তখন অবশ্য এক মেয়ের মা অতএব মহিলা বলা যেতে পারে, ডুব দিলেন বটে তবে সেটি হতাশা নয় বরং কল্পনার রাজ্যে। তিনি লিখতে শুরু করলেন। এক অদ্ভুদ ধরনের গল্প। বাস্তবের জগৎ থেকে খুবই ভিন্ন একটি গল্প। একদিকে চাকরি নেই, খাবার পয়সা নেই, ভবিষ্যতের আশা নেই, কিন্তু গল্প লেখায়ও বিরাম নেই। তিনি লিখে চললেন মনের আনন্দে। বেশিরভাগ সময় তিনি আবার লিখতে বসতেন স্থানীয় একটি ক্যাফেটেরিয়ায়। কারন দুটি। এক, মেয়ে ক্যাফেতে যাবার সময় হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে নির্ঝঞ্ঝাট হয়ে লিখতে পারবেন, দুই- এই সময়টা ঘরের বাইরে থাকলে ঘর গরম রাখার পয়সাটাও বেচে যায়। সমস্ত অভাব আর হতাশাকে একপাশে ঠেলে তিনি লিখে শেষ করলেন এক অদ্ভুদ গল্প। এক জাদুর স্কুলের এক কিশোর আর তার বন্ধুদের গল্প। তাতেও ঘিরে ছিল অদ্ভুতুড়ে সব কান্ডকারখানার গল্প। বাস্তবের সঙ্গে যার কোনো মিল নেই। গল্প তো লেখা হল, কিন্তু ছাপবে কে? এখানেও আবার ব্যর্থতার বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হল তাকে। একে একে ফিরিয়ে দিলেন বারো জন প্রকাশক। তাদের অভিমত, এই গল্প খুবই ফালতু টাইপের গল্প, কোনোভাবেই ছাপবার যোগ্যই নয়। অনেক খুঁজে পেতে একজন প্রকাশক পাওয়া গেল যিনি রাজি হলেন বইটি ছাপতে। বই ছাপা হল। এরপর বাকিটুকু ইতিহাস। সাফল্যেও বন্যায় ভেসে যাবার ইতিহাস, বই বিক্রির রেকর্ডেও ইতিহাস, জনপ্রিয়তায় সবাইকে ছাড়িয়ে শীর্ষে ওঠার ইতিহাস। দীর্ঘ ব্যর্থতার সময়কে জয় করে রেকর্ড সৃষ্টি করা এই মহিলার নাম জে কে রাউলিং। আর তার বইয়ের নামটি বোধহয় আর কাউকে বলে দিতে হবে না, হ্যারি পটার সিরিজ। এই বইয়ের প্রথম কিস্তিটি বের হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। আর বইটি লেখার আইডিয়া প্রথম রাউলিংয়ের মাথায় এসেছিল ১৯৯০ এর আগে। ট্রেনে চেপে ম্যানচেস্টার যাওয়ার পথে হঠাৎ গল্পের আইডিয়াটা আসে মাথায়। বাড়ি ফিরেই লিখতে বসে যান। কিন্তু মায়ের মৃত্যু, নিজের জীবনের নানা চড়াই উৎড়াইয়ের কারনে বেশ অনেক দিন লেখা বন্ধ ছিল। তারপর যখন লিখতে বসলেন তখন লেখালেখির চেয়ে অন্নসংস্থানের চিন্তাটাই বড় প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তিনি তার লেখনির শক্তির ওপর আস্থা রেখে লেখাটা বন্ধ করেন নি। শত অভাব অনটনের মধ্যেও লেখাটার কাজ চালিয়ে গেছেন। আর তারই ফলশ্রুতিতে বিশ্ববাসী পেয়েছে হ্যারি পটার সিরিজ। এই সিরিজ লিখে রাউলিংয়ের সাফল্য গগনচুম্বী। এই সিরিজের ৭টি বই সব মিলিয়ে ৪০০ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে। এর সর্বশেষ সংখ্যাটি তো প্রকাশের এক দিনের মাথায়ই প্রথম সংস্করনের সব কপি বিক্রি করে নতুন রেকর্ড করে বসেছে। আর সব মিলিয়েও কোনো সিরিজের বই বিক্রিতে হ্যারি পটার রয়েছে শীর্ষস্থানে। এই সিরিজের ওপর নির্ভর করে বানানো সিনেমাও আয়ের ক্ষেত্রে বহু রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে। জে কে রাউলিং এখন গ্রেট ব্রিটেনের অন্যতম ধনী ব্যক্তি। বিশ্বের প্রভাবশালী নারীদের তালিকা করলেও তার নামটি আসে বেশ ওপরের দিকেই। তিনি বিশ্বাস করেন, তার এই সাফল্যের পেছনে কাজ করেছে তার ব্যর্থতা থেকে নেওয়া শিক্ষা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now