বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিলীন

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X - আইসক্রিম খাবে? = না। - তাহলে কি? = কিছু না। - কিছু না খেলে হবে নাকি? কিছু তো খাও, প্লিয। আই ইন্সিস্ট ..... আশেপাশেরর সবার দিকে তাকিয়ে মেয়েটা বলল। = তাহলে আমি অই মুরগির ঠ্যাং খাব। - কিহ, হাহাহাহা। আচ্ছা। .....চিকেনের অর্ডার দিলাম। একটু পর চিকেন ফ্রাই দিয়ে যাবে। = আপনি আঁকতে পারেন? - উম, খুব ভাল না। চেস্টা করি আর কি। = তার মানে আপনি আঁকতে পারেন।( চোখে মুখে হাসির ঝিলিক) - হ্যাঁ, ওই আর কি। একটু আধটু। = আমার একটা ছবি এঁকে দিতে পারবেন? - তোমার? = হ্যাঁ, আমার।পারবেন না?? (মুখটা নিচু করে) - আচ্ছা আমি দিব। অনেক সময় লাগবে কিন্তু!! = লাগুক। অনেক সময় আছে। প্লিয . ....মেয়েটাকে আর হতাশ করতে চাইলাম না। - আচ্ছা, তুমি এখানে বসো।আমি কাগজ আর পেন্সিল নিয়ে আসি। = আচ্ছা। . আমি পাশের স্টেশনারির দোকানের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। মেয়েটাকে আমি চিনি না। আজ রেস্টুরেন্টে বসে মুরগির একটা পা চিবাচ্ছিলাম।হঠাৎ আমার টেবিলের সামনের চেয়ার এ একটা মেয়ে এসে বসলো।আমার কোন আপত্তি ছিল না। কিন্তু মেয়েটা কেমন যেন উশখুশ করছিলো।আমি নিজেই আগ বাড়িয়ে বললাম। - কোন সমস্যা? = না মানে, অনেকদিন পর বাইরে বের হলাম। এখানে তখন রেস্টুরেন্ট ছিল না। . ..........এখানে রেস্টুরেন্ট হয়েছে তা প্রায় ৪ বছর হয়েছে। তার মানে মেয়েটা অনেক দিন এখানে আসে না।...... - ওহ, তা কিসে পড়েন আপনি? = আমি ৪ বছর আগে এইচএসসি পাশ করেছিলাম। এরপর আর পড়া হয়নি। - কেন? = এমনি। - ওহ। .......আমি আর বেশি ঘাঁটালাম না।মেয়েটা বকবক করছিলো। = জানেন, আমার বাসায় একটা টিয়া পাখি আছে। এত্ত দুস্টু, কি আর বলবো। একদিন কি হলো জানেন? আমি খাবার দিচ্ছিলাম.... ......আমি খুব ভাল শ্রোতা। মেয়েটার কথায় অসম্ভব মায়া। বাচ্চা বাচ্চা স্বভাব।মেয়েটা এককথায় অনেক কিউট। আজকাল কার মেয়েদের মত মাথায় উঁচু করে ফুলিয়ে স্কার্ফ পরেছে। কিন্তু মেয়েটা কে অসম্ভব মানিয়েছে। মেয়েটা কথা বলেই যাচ্ছে। - তোমার টিয়ার নাম কি? = চিচি। - চিচি?? আর তোমার নাম? = বিলীন। - অদ্ভুত নাম তো!. . . আমি একটা এফোর সাইজ অফসেট, আর একটা 2B আর 6B পেন্সিল কিনলাম। এই দুটোতেই হয়ে যাবে। রেস্টুরেন্ট এ ফিরলাম। দেখলাম মেয়েটা সুন্দর করে সস এর সাথে চিকেন ফ্রাই খাচ্ছে। - স্যরি। একটু দেরী হয়ে গেলো। = না না। ঠিক আছে। ফ্রাই টা কিন্তু অনেক টেস্টি। - ওহ, ধন্যবাদ। = আরে আপনি কেন বলছেন, আপনি তো আর বানান নি। - ও হ্যাঁ তাইতো। ......বোকামি ধরা পড়ায় লজ্জায় মাথা চুল্কাচ্ছি। বিলীন হাসছে। হাসলে ওকে খুব সুন্দর লাগে। . আচ্ছা, বিলীন কে আমি চিনি না জানি না। ২ ঘন্টায় মেয়েটার সাথে এত ভাল বন্ধুত্ব কি করে হল। আবার ওর ছবিও এঁকে দিচ্ছি। কি জানি, এই জাদু মনে হয় বিলীনই পারে। = এই যে মিস্টার, ভাল করে আঁকবেন কিন্তু, পচা হলে আবার আঁকতে হবে। - তোমার চুলটা খোলা থাকলে আরও ভাল হত। = না না না। আমি স্কার্ফ খুলব না। (চেঁচিয়ে) - ওকে ওকে। কাম ডাউন। আমি বলিনি যে খুলতে হবে। বলেছি খোলা হলে ভাল হত। = স্যরি।অনেক জোরে হয়ে গেছে। বুঝতে পারিনি। .....চিৎকার করে আবার বুঝতে পারেনি। কথা শুনেই মেজাজ গরম হয়ে গেলো। যাই হোক, অনেক সময় নিয়ে ওর ছবি আঁকা শেষ করলাম। - দেখো কেমন হয়েছে। ( ভ্রু কুঁচকে দেখছে। না জানি কি খুঁত বের করবে) = অনেক ভাল হয়েছে। - সত্যি, তোমার ভাল লেগেছে? = হুম। তবে আপনিই ঠিক। চুল আঁকলে আরো ভাল লাগত। - আমি তো সেটাই বললাম। তুমিই তো.... = জানেন, আমি এতদিন। প্রায় ৪ বছর বাইরে বের হই না। - কেন? = আমাকে বের হতে দেয় না। আমার লাং ক্যান্সার। কেমো দিতে দিতে আমার মাথার লম্বা চুলগুলো পরে গেছে।আমি ভার্সিটি তেও ভর্তি হতে পারিনি। . .....হঠাৎ যেন পরিবেশটা গুমোট হয়ে গেলো। আমি কি বলব বুঝতে পারছিলাম না। এই মেয়েকে দেখলে কে এটা বিশ্বাস করবে। বাইরের কৃত্তিমতা মেয়েটাকে স্পর্শ করেনি। গাছের সবুজ পাতার মত সজীব দৃষ্টি।মানুষের এত কস্ট কাছ থেকে না দেখলে বুঝা যায় না। = আমাকে সব সময় কেমো নিতে হয়। ৪ বছর ধরে তিতা আর গলা ধরানো ওষুধ খেয়ে আমি আর কিচ্ছু খেতে পারতাম না। তখন আমার নাকে নল ঢুকিয়ে খাবার দেয়া হত।প্রচন্ড কস্ট হত। আমাকে বাইরে নিয়ে যেত না। গেলেও গাড়ির ভেতরে বসে যতটুকু বাহির দেখা যায় ততোটুকু। আমার কোন বন্ধু ছিল না। কলেজের বন্ধুরা আর আমার খবর নেয় না। কাল ডাক্তার বলেছে, আমি আর বেশিদিন বাঁচবো না। আম্মু আব্বু অনেক কান্না করছে। আমি কতবার বললাম আমাকে ঘুরতে নিয়ে যেতে। নিয়েই গেলো না। তাইতো আমি আজকে না বলে বের হয়েছি। আমার এত ভাল লাগছে বোঝাতে পারবো না। আমি খুব খুশি। .......................................... আমি বিলীনের কথাগুলো শুনছিলাম। জোরে জোরে কাঁদতে ইচ্ছা করছিলো।কিন্তু এই মেয়ে একদম নির্বিকার। = আপনার আঁকানো ছবি আমি সারাজীবন, ওহ না না। যতদিন বাঁচবো ততদিন রেখে দিব। আমি এখন যাই। একটু পর সন্ধ্যা হয়ে যাবে। - এখনই যাবে? . অনেক কিছুই বলার ছিল ওকে। কিচ্ছু বলতে পারিনি। কান্নাই আটকাতে পারলাম না, আবার বলবো কি। - সাবধানে যেও বিলীন। শুধু একটা হাসি দিলো। চলেও গেলো।মেয়েটা যেন একটু তাড়াতাড়িই চলে গেল। মনে হল, মাত্রই তো এলো। .......... গোধুলীর আলোটা ওর পিঠে পড়েছে। একা একা একটা মেয়ে চলে যাচ্ছে। নামের সাথে জীবনেরও মিল আছে। একসময় সত্যিই বিলীন হয়ে যাবে। চাইলে ওর সাথে যোগাযোগ রাখতে পারতাম। থাক, কিছু কিছু মানুষের মায়া বাড়িয়ে লাভ নেই। এদের মায়া ত্যাগ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। . . লিখা- এম্পটি ভেসেল


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now