বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
স্বপ্ন একটি চলমান প্রক্রিয়া, স্বপ্নেরা থামে না – স্টিভেন স্পিলবার্গ
X
সারা দুনিয়ায় মানুষ চেনেন এমন একজন চলচিত্র পরিচালকের নাম করতে বললে এই একবিংশ শতাব্দিতে বেশির ভাগ মানুষের উত্তর হবে স্টিভেন স্পিলবার্গ। চলচ্চিত্র নির্মানে তিনি এমন কিছু আশ্চর্য কারিশমা দেখিয়েছেন এমন দারুন অভিনবত্ব দেখিয়েছেন যে তার নাম চলচিত্রের ইতিহাসেই জড়িয়ে গেছে ভালোভাবেই। চলচ্চিত্রের রঙিন দুনিয়ার মানুষ স্পিলবার্গের শুরুর দিনগুলোর সংগ্রাম, ব্যর্থতা আর সাফল্যের গল্পও যেন এক পূর্নদৈর্ঘ্য চলচিত্র।
সিনেমার জগতে স্পিলবার্গের আগমন যেন এক ভিনিভিডিভিসি, অর্থাৎ এলাম দেখলাম জয় করলাম। মাত্র ১৬ বছরের কিশোর স্পিলবার্গ পুরো একটি পূর্নদৈর্ঘ্য চলচিত্র বানিয়ে ফেলেন। বেশ সাড়া ফেলে মাত্র ৫০০ ডলার বাজেটের এই ছবিটি। এরপর থেকেই তিনি বুঝতে পারলেন চলচ্চিত্র নির্মানে তার সহজাত প্রতিভা সম্পর্কে। বড়সড় আকারে চলচ্চিত্র নির্মানের জন্য প্রস্তুতিও নিতে শুরু করলেন। আশ্চর্যের বিষয় হল, যার প্রথম চলচ্চিত্রটির বাজেট ছিল মাত্র ৫০০ ডলার সেই স্পিলবার্গই তার প্রথম সুপার হিট ছবিতে বাজেট এবং শিডিউল নিয়ে ঝামেলায় পড়লেন। খ্যাপাটে ও প্রতিভাবান এই পরিচালকের প্রথম হিট ছবি
“Jews” বানাতে গিয়ে তিনি প্রথমে এর বাজেট নির্ধারন করেন সাড়ে চার মিলিয়ন ডলার এবং শিডিউল ছিল ৫৫ দিনের। কিন্তু যখন মুভি শেষ করলেন তখন দেখা গেল শুটিংয়েই পেরিয়ে গেছে ১৫৯ দিন আর বাজেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ মিলিয়ন ডলার।
স্বাভাবিকভাবেই পরিচালকের ওপর প্রযোজক, প্রোডাকশন টিম, স্টুডিও সবাই ছিল অখুশি। এদিকে নিজের মনমত না হওয়া পর্যন্ত কাজ চূড়ান্ত করা স্পিলবার্গের স্বভাব বিরুদ্ধ। তিনিও পাগলের মত শুটিং করে গেলেন। এক সময় বাধ্য হয়েই ছবির প্রধান চরিত্র কৃত্তিম হাঙ্গরকে দিয়ে পানির নিচের চেয়ে পানির ওপরই শট নিলেন বেশি। এই ছবির শুটিং এর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি নিজেই বলেছেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে বাজে অভিজ্ঞতা।’ কিন্তু এই ছবিটিই যখন মুক্তি পেল তখন সবার মুখে হাসি ফুটল। সর্বকালের হিট মুভিগুলোর তালিকায় স্থান পেল ছবিটি। আর এই ব্যবসায়ীক সফলতায় চাপা পড়ে যায় শিডিউল এবং বাজেট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্পিলবার্গের ব্যর্থতার গ্লানি। এরপর আবার একটি ছবি বানালেন স্পিলবার্গ।
Close encounters of the Third Kind নামের ছবিটিও ব্যবসা সফল। কিন্তু বাজেট এবং শিডিউল নিয়ে সেই পুরনো সমস্যা রয়েই গেল। কিন্তু স্পিলবার্গ তো তখনো তরুন। সাফল্যের হাওয়ায় আকাশে উড়ছেন। আকাশ থেকে পতন হল এর পরের ছবিতে। দু দুটি বড় ছবির সাফল্যের পর স্পিলবার্গ এক উচ্চাভিলাসি ছবির পরিকল্পনা করলেন। নাম ১৯৪১ । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানিদের পার্ল হারবার আক্রমণে আমেরিকানদের ভীতি নিয়ে একটি প্রহসন সিনেমা ছিল সেটি। যথারীতি বড় বাজেট আর শিডিউলের চেয়ে বেশি সময় নিয়ে বানালেন ছবিটি। ছবি তৈরির সময় তার ঘোষণা ছিল ১২ মিলিয়নের বেশি খরচ করবেন না। কিন্তু ছবি নির্মান শেষে এর বাজেট দাঁড়ায় ৩১ মিলিয়ন ডলার। এবার কিন্তু আর আগের মত ব্যবসায়ীক সাফল্য ধরা দিলনা। নিজেদের নিয়ে প্রহসন দেখতে আগ্রহ দেখালেন না আমেরিকানরা। ফলাফল আমেরিকার সুপারফ্লপ বিশাল বাজেটের এ্ই ছবিটি। তবে আমেরিকার বাইরে ছবিটি কিছু ব্যবসা করায় প্রযোজকের বিনিয়োগ উঠে এসেছিল বলে রক্ষা।
এই ছবির ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিলেন স্পিলবার্গ। এমন শিক্ষাই নিলেন যে অমন নামী পরিচালক তখনকার দিনের আরেক কিংবদন্তী পরিচালক জর্জ লুকাসের শরনাপন্ন হলেন। শুধু পরামর্শ নিয়ে কাজ চালালেও পারতেন। কিন্তু তিনি বনে গেলেন তার সহকারী পরিচালক। আর জর্জ লুকাসও সানন্দে রাজি হয়ে হয়ে গেলেন। জর্জ লুকাসের খ্যাতি ছিল বাজেট এবং শিডিউলের মধ্যেই শৃঙ্খলা বজায় রেখে সিনেমা বানানোতে। Indiana Jones and the Raiders of the Lost Ark অৎশ ছবিতে তার সহকারী পরিচালক থেকে একদম হাতে কলমে শিখলেন সবকিছু। এই ছবিটির শিডিউল ছিল ৮৫ দিনের। কিন্তু মাত্র ৭৩ দিনেই শেষ হয় কাজ। আর ১৯৮১ সালের সবচেয়ে ব্যবসা সফল ছবিও হয় এই চলচ্চিত্রটি। এতে কাজ করে স্পিলবার্গ শেখেন কিভাবে শৃঙ্খলা বজায় রেখেও নিজের নিজের উচ্চাভিলাসী প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
এরপরের বাকি ইতিহাস হয়ত পৃথিবীর কাছে অজানা নয়। স্টিভেন স্পিলবার্গ এরপর দুনিয়ার সিনেমা প্রেমীদের উপহার দিয়েছেন দারুন সব চলচ্চিত্র। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য, Jurassic Park, Lincoln, Munich, Saving Private Ryan, Schindler’s list, Avator, Bridge of Spies এরমত চলচ্চিত্র। এর সবগুলোই ছিল ব্যবসা সফল এবং অস্কারসহ অনেক পুরস্কার জেতে এই ছবিগুলো। আর এসব ছবি বানাতে গিয়ে সব সময় স্পিলবার্গ মনে রেখেছেন তার প্রথম দুটি ছবির ব্যর্থতা থেকে নেওয়া শিক্ষাটা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now